বাংলাদেশের চাষযোগ্য মাছের পরিচিতি (পাঠ- ৮)

কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.2k

আমরা প্রতিদিন কোনো না কোনো মাছ খেয়ে থাকি। মাছ আমাদের খুবই প্রিয় খাদ্য। মাছ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। আমাদের নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর, দিঘির স্বাদু পানিতে প্রাকৃতিকভাবে অনেক মাছ পাওয়া যায়। যেমন: রুই, কাতলা, মৃগেল, শিং, পুঁটি, খলিশা, কই, চিতল, বোয়াল, চিংড়ি প্রভৃতি। অন্যদিকে আমাদের লোনা পানির বিশাল বঙ্গোপসাগরেও আছে অনেক ধরনের মাছ। যেমন: ইলিশ, রূপচাঁদা, লইট্যা, কোরাল, ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের মাছ উৎপাদনের পরিমাণ মানুষের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাছের চাহিদা দিন দিন আরও বাড়ছে। আর তাই বেশি করে মাছ চাষের মাধ্যমে এ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

মাছ মেরুদন্ডী প্রাণী। এরা ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয় এবং লেজ ও পাখনার সাহায্যে চলাফেরা করে। মাছের দেহ মোটা এবং মাথা ও লেজের দিক সরু। তাই এরা সহজে ও দ্রুত পানিতে চলাফেরা করতে পারে। চিংড়ি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। চিংড়ি পানিতে বাস করে ও খেতে সুস্বাদু।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত মাছগুলোর মধ্যে সব মাছ আবার পুকুরে চাষ করা হয় না। দেশি চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, গলদা ও বাগদা চিংড়ি উল্লেখযোগ্য। দেশি মাছ ছাড়াও চাষের উদ্দেশ্যে কিছু বিদেশি মাছও আমাদের দেশে আনা হয়েছে। এসব মাছ এককভাবে বা আমাদের দেশি চাষযোগ্য মাছের সাথে একত্রে পুকুরে মিশ্রচাষ করা যায়। বিদেশি চাষযোগ্য মাছের মধ্যে থাই পাঙ্গাশ, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, থাই সরপুটি, তেলাপিয়া অন্যতম।

কাজ: চাষযোগ্য মাছের তালিকা তৈরি কর এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: স্বাদুপানি, লোনা পানি, ফুলকা, মিশ্র চাষ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...