বসতবাড়ির ছাদে, টবে ও বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা (পাঠ- ৯)

বনায়ন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.1k

বাড়ির ছাদে ও টবে লাগানোর উপযোগী গাছ

লেবু, কমলা, পেয়ারা, বিলিম্বি, কামরাঙ্গা, ডালিম, আম্রপালি, আম প্রভৃতি ফল গাছ। প্রায় সব রকমের ফুল গাছ বাড়ির ছাদে টবে চাষ করা যায়। লাউ, মরিচ, টমেটো, পুঁইশাক, বেগুনসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ বাড়ির ছাদে টবে করা যায়।

কাজ: তোমাদের বিদ্যালয়ে কী কী ফল, ফুল ও কাঠ উৎপাদনকারী গাছ রয়েছে? তালিকা কর।

টবে চাষ পদ্ধতি

গাছ লাগানোর টব বিভিন্ন রকম ও আকারের হয়ে থাকে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, গাছের আকার টবের আকারের উপর নির্ভরশীল।

৪৫ সেমি একটি টবের জন্য মাটি তৈরির নিয়ম

টবে চারা লাগানোর পূর্বে ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার একসাথে মেশাতে হবে। ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালো করে মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। এবার টবের ঠিক মাঝখানে কলম বা চারা রোপণ করতে হবে।

স্থায়ী বেড পদ্ধতি

আমাদের দেশে বাগান করার জন্য বর্তমানে এটি একটি আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ছাদের চারদিকে ২ মিটার প্রস্থের দুই পাশে ৫০ সেমি উঁচু দেয়ালে ১৫ সেমি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করতে হয়। মাঝখানে খালি জায়গার তলায় ৫ সেমি ইটের শুরকির পরে ৫ সেমি গোবর সার দিতে হয়।

এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার মিশিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। ছাদ ঢালাই ও দেয়াল গাঁথুনির প্রতিটি ক্ষেত্রে নেট ফিনিশিং দিতে হয়। এতে ছাদের কোনো রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি ও ১ ভাগ গোবর সার মিশিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। ছাদ ঢালাই ও দেয়াল গাঁথুনির প্রতিটি ক্ষেত্রে নেট ফিনিশিং দিতে হয়। এতে ছাদের কোনো রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

টব বা ছাদের গাছের পরিচর্যা

১ কেজি পঁচানো খইলের সাথে ৩ লিটার পানি মিশিয়ে মধ্যম তরল তৈরি করতে হবে। ৪৫ সেমি টবের জন্য আধা লিটার, ড্রাম বা স্থায়ী বেডের জন্য ১ লিটার পরিমাণ দিতে হবে। ১৫ দিন পরপর নিয়মিত এ সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। তরল সার প্রয়োগের ১ ঘণ্টা আগে ও এক ঘণ্টা পরে পানি দিতে হবে।
টবে লাগানো দীর্ঘজীবী গাছে নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগ করতে হবে। এমনভাবে পানি দিতে হবে, যাতে টবের মাটিতে সর্বদা রস থাকে। সপ্তাহে দুইবার গাছের গোড়ার মাটি খুঁচিয়ে দিতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাগান

আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে ফুল, ফল ও কাঠের গাছ রোপণ করা হয়। এ বাগানে কৃষ্ণচূড়া, কাঁঠালিচাপা, সোনালু, বাগান বিলাস, জারুল, গন্ধরাজ, জবা, টগরসহ নানা রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়। আবার মেহগনি, রেইনট্রি, আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারি প্রভৃতি কাঠ ও ফলের গাছ রোপণ করা হয়।

আমাদের দেশে বিশেষ করে শীতকালীন ফুল বাগান খুব সুন্দর হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি ও সৌন্দর্য বর্ধনে এ ধরনের বাগান করা অপরিহার্য।

কাজ: [দলীয় কাজ]
বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে রোপণ করা যায় এরকম পাঁচটি করে স্থায়ী বনজ, ফলদ ও স্থায়ী ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদের নাম লেখ।
কাজ: সকল বিদ্যালয় ফুলবাগান ও গাছপালা ঘেরা মনোরম পরিবেশ থাকা উচিত কেন? তা দলীয় আলোচনা করে পয়েন্ট আকারে পোস্টার কাগজে লেখ। শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: স্থায়ী বেড, দীর্ঘজীবী গাছ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...