গাছপালায় ঢাকা বিস্তৃত এলাকাকে বন বলা হয়। বনে বড় বড় উদ্ভিদের সংখ্যা বেশি থাকে। এ ছাড়া মাঝারি গাছপালা ও লতা-গুল্মও বনে জন্মে থাকে। হরেক রকমের পশু-পাখি এবং কীটপতঙ্গ বনে বাস করে। এসব গাছপালা ও জীবজন্তু এক সাথে মিলেমিশে বনজ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বনের প্রকারভেদ
উৎপত্তি অনুসারে বন প্রধানত তিন প্রকার, যথা- ক) প্রাকৃতিক বন খ) সামাজিক বন ও গ) কৃষি বন
প্রাকৃতিক বন
প্রকৃতিতে আপনা-আপনি যে বিস্তৃত বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়, তাকে প্রাকৃতিক বন বলে। শত শত বছর ধরে এ বনাঞ্চল গড়ে ওঠে। সুন্দরবন এরকম একটি প্রাকৃতিক বন। খুলনা শহরের দক্ষিণ অঞ্চলে এ বন অবস্থিত। বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর ও মধুপুরের শালবনও প্রাকৃতিক বন। আমাদের দেশের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলেও প্রাকৃতিক বন রয়েছে। এসব বনের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ হলো- সুন্দরি, শাল, গর্জন, গেওয়া, কেওড়া, বাইন প্রভৃতি। অঞ্চল ভেদে হাতি, বাঘ, হরিণ, বানর, ভালুক, অজগর এবং বিভিন্ন রকম পাখি ও পোকামাকড় এসব বনে বাস করে। এসব বন থেকে মূল্যবান কাঠ পাওয়া যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রাকৃতিক বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিস্তৃতি অনুসারে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বন তিন প্রকার। এগুলো হলো- পাহাড়ি বন, সমভূমির বন ও উপকূলীয় বন।
| কাজ: ১. সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বন বলা হয় কেন? ২. শালবন কোথায় অবস্থিত? ৩. প্রাকৃতিক বনের পাঁচটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ। ৪. প্রাকৃতিক বন আমাদের কী উপকার করে? |
সামাজিক বন
বাড়িঘর, বিদ্যালয়, পুকুরপাড়, রাস্তা ও বাঁধের দুই পাশে আমরা বিভিন্ন রকম গাছপালা রোপণ করে থাকি। এসব উদ্ভিদের বেশিরভাগই ফল জাতীয় হয়। আবার রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই জাতীয় বনজ গাছও লাগানো হয়। এসব গাছপালা আমাদের চারপাশে ছায়াঘন প্রশান্তিময় সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বন বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ থেকে আমাদের রক্ষা করে, আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিকল্পনা করে যে বন সৃষ্টি করে, তাকে সামাজিক বন বলে। পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা এবং চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে মানব তৈরি উপকূলীয় বন সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ কেওড়া ও বাইন। বিভিন্ন পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদিও মানুষ বিনোদন ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে গড়ে তোলে। এগুলোও সামাজিক বনের অন্তর্ভুক্ত।
কৃষি বন
আমাদের দেশের অনেক বাড়িতে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় বড় গাছপালার সাথে সবজি চাষ করা হয়। ফলের বাগানে ও ফসলি জমির আইল, ক্ষেত-খামারে পৌঁছার পথ, পুকুরের চারপাশ, খাল-সেচনালার পাশে ছোট-বড় গাছ লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাঠ ও উদ্যান ফসলের ক্ষতি করবে না এমন গাছ নির্বাচন করা হয়। এভাবে তৈরি বনকে কৃষি বন বলে।
অর্থাৎ একই জমিতে বহুমুখী ফসল, বৃক্ষ, মাছ ও পশু-পাখির খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে কৃষি বন বলা হয়। কৃষি বনে মাঠ ফসল, তাল, সুপারি, নারিকেল, কলা, আম, কাঁঠাল, ইপিল-ইপিল প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়। কৃষি বন অধিক খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করে।
| কাজ: দলগতভাবে আলোচনা করে নিচের ছকটি পূরণ কর | |||
| প্রাকৃতিক বন | সামাজিক বন | কৃষি বন | |
| কেমন করে সৃষ্টি হয় | |||
| উদ্ভিদের নাম | |||
| প্রাণীর নাম | |||
| উপকারিতা | |||
নতুন শব্দ: প্রাকৃতিক বন, সামাজিক বন, কৃষি বন, আত্মকর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ।
Read more