পাঙ্গাশের পোনা ছাড়া, চাষকালীন মাছের পরিচর্যা ও মাছ আহরণ (পাঠ-১২)

কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

550

পোনা ছাড়া : পুকুরে পানির গভীরতা ১৫০-১৮০ সেমি হলে একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ৭-১০ সেমি আকারের ১৩০-১৪০টি করে পাঙ্গাশ পোনা ছাড়তে হবে। মিশ্রচাষে শতকে ১২০-১২৫টি করে পোনার সাথে ৪-৫টি সিলভারকার্প বা কাতলার পোনা ছাড়া যেতে পারে। পুকুরে পোনা ছাড়ার পর মাছের যত্ন ও পরিচর্যা করতে হবে।

খাদ্য প্রয়োগ: পাঙ্গাশ একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ। তাই পাঙ্গাশ চাষের পুকুরে নির্দিষ্ট সময় পর পর খাদ্য প্রদান করতে হবে। বাজার থেকে কেনা সুষম খাদ্য পুকুরে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। তাই বাজারজাত খাদ্য না কিনে এটি খামারেও বানানো যেতে পারে। নিচে পাঙ্গাশ মাছের জন্য ১০০ কেজি খাদ্য তৈরির উপকরণ দেওয়া হলো:

ক্রমিক নংখাদ্য উপকরণপরিমাণ (কেজি)
১শুঁটকি মাছের গুঁড়া২৫
২খৈল৩০
৩গমের ভুসি২০
৪চালের কুঁড়া২০
৫আটা৩.৫০
৬লবণ১
৭ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণ০.৫০
মোট =১০০ কেজি

প্রতিদিন পুকুরে মোট মাছের ওজনের শতকরা ৪-৬ ভাগ হিসাবে খাবার দিতে হবে। প্রতিদিনের খাবার ২ ভাগে ভাগ করে সকাল ও বিকালে দিতে হবে। তবে পোনা মাছকে একটু বেশি ও বড় মাছকে কম খাবার দিতে হয়।

মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পুকুরে পোনা ছাড়ার পর মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। প্রতি মাসে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা করতে হবে। রোগবালাই দমনে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের আগে পুকুরে শতকে প্রতি ২৫০ গ্রাম চুন ও ২৫০ গ্রাম লবণ সপ্তাহে একবার করে ৪-৬ সপ্তাহ দিতে হবে।

মাছ আহরণ ও বিক্রয়: পুকুরে পোনা ছাড়ার ৪ থেকে ৫ মাস পর মাছ গড়ে ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়। তখন কিছু মাছ পুকুর থেকে উঠিয়ে বিক্রি করলে পুকুরে মাছের ঘনত্ব কমে যাবে। এতে পুকুরের অন্য মাছগুলো তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে।

কাজ: মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করণীয় সম্পর্কে লেখ।

নতুন শব্দ: মিশ্রচাষ, ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...