পৃথিবীতে অনেক পশু বাস করে। এদের মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, উট ইত্যাদি পশুকে গৃহে পোষ মানিয়ে লালন পালন করা যায় এবং এরা গৃহে বাচ্চা প্রসব করে থাকে। তাই এদেরকে গৃহপালিত পশু বলা হয়। এদের মতো কুকুর, বিড়ালও গৃহপালিত পোষা প্রাণী। এরা সবাই আমাদের অনেক উপকারে আসে। বাংলাদেশে প্রায় ২৪ মিলিয়ন গরু ও ২৫ মিলিয়ন ছাগল রয়েছে। আমাদের দেশি গাভি দৈনিক গড়ে ১ লিটার দুধ দেয়। কিন্তু বিদেশি উন্নত জাতের গাভি দৈনিক ১৫-২০ লিটার দুধ দেয়। উন্নত জাতের দুগ্ধ উৎপাদনকারী গরুর মধ্যে হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান ও জার্সি অন্যতম।

শাহীওয়াল এবং রেড সিন্ধি গাভিও দৈনিক ৬-১০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সর্বত্র কালো রঙের যে ছাগল পালন করা হয়, তাকে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বলা হয়। এটি মাংস উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া আমাদের দেশের মানুষ দুধের জন্য লম্বা পা ও ঝুলন্ত কানবিশিষ্ট যে ছাগল পালন করে, তাকে যমুনাপাড়ি বা রাম ছাগল বলা হয়।
গৃহপালিত পশু জন্মের দিন থেকে মানুষের আদর-যত্নে বড় হতে থাকে। এ কারণে গৃহপালিত প্রাণী ও মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গৃহপালিত পশুর ভিন্ন ভিন্ন আচরণ, বৈশিষ্ট্য থাকলেও এদের কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো:
১। গৃহপালিত পশু সহজে পোষ মানে।
২। বাড়ির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে।
৩। গৃহপালিত পশু তার পালনকারীদের সহজে চেনে।
৪। এরা মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে।
৫। এরা বাড়ির মানুষের আচরণে সাড়া দেয়।
৬। গৃহপালিত পশু বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করে।
৭। এরা স্তন্যপায়ী হয়ে থাকে।

গৃহপালিত পশুদের মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া জাবরকাটা প্রাণী। এদের খুর বিভক্ত ও মাথায় শিং রয়েছে। এরা জমিতে চরে ঘাস খায়। ঘোড়া জাবরকাটা প্রাণী নয়। এদের শিং নেই ও খুর বিভক্ত নয়। এরা দাঁড়িয়ে ঘুমায়। এরা দ্রুত দৌড়াতে পারে।
| কাজ: গরু অথবা ছাগলের বৈশিষ্ট্য লিখ। |
নতুন শব্দ: গৃহপালিত, জাবরকাটা।
Read more