পাঙ্গাশ চাষের গুরুত্ব ও চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি (পাঠ- ১১)

কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

713

পাঙ্গাশ মানুষের খুবই প্রিয় ও সুস্বাদু একটি মাছ। একসময় আমাদের নদীতে পর্যাপ্ত পাঙ্গাশ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অন্যান্য মাছের মতো নদীতে পাঙ্গাশ মাছের প্রাপ্যতা কমে গেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে থাইল্যান্ড থেকে আনা পাঙ্গাশ মাছ চাষ করা হচ্ছে। বাজারে এ মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

পাঙ্গাশ মাছের বৈশিষ্ট্য: মাছের উপরের অংশ ধূসর এবং পেটের অংশ সাদা হয়। এদের গায়ে কোনো আঁইশ থাকে না। দেহ চ্যাপটা, লম্বা আকৃতির, মাথা ছোট। পুকুরে চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ মাছে ছোট কাঁটা থাকে না। তাই খেতে খুব সুবিধা।

পাঙ্গাশ চাষের সুবিধা: যেকোনো ধরনের ছোট- বড় পুকুর, দিঘি, ডোবা ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা যায়। এ মাছ এককভাবে বা মিশ্রচাষও করা যায়। এ মাছ সর্বভুক বলে বিভিন্ন সম্পূরক খাবার সরবরাহ করে অধিক উৎপাদন পাওয়া যায়। হ্যাচারি থেকে সহজে এ মাছের পোনা পাওয়া যায়। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেঁচে থাকার হার বেশি। তাই চাষে ঝুঁকি কম। এ মাছ অল্প পানির মধ্যে রেখে জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়।

কাজ: পাঙ্গাশ চাষের গুরুত্ব সম্পর্কে পোস্টার তৈরি কর এবং উপস্থাপন কর।

চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি: পুকুরে পোনা মাছ ছাড়ার আগে পুকুর প্রস্তুত করে নিতে হয়। পুকুর প্রস্তুতির জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করতে হবে-

১) পুকুরের পাড় মেরামত: প্রথমে পুকুরের পাড় মেরামত ও উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে। পুকুর পাড়ে ঝোপ-ঝাড় থাকলে কেটে ফেলতে হবে। বড় গাছ থাকলে তার ডালপালা কেটে দিতে হবে।
২) পুকুর পরিষ্কার: পুকুরে কোনো ধরনের জলজ আগাছা থাকবে না। পুকুরের তলায় বেশি কাদা মাটি থাকলে তা তুলে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে কাদার স্তর শুকিয়ে পুকুরের তলা শক্ত করতে হবে। এতে ক্ষতিকর গ্যাস ও রোগজীবাণু দূর হয়।
৩) রাক্ষুসে ও অপ্রয়োজনীয় মাছ নিধন পুকুরে রাক্ষুসে মাছ ও অপ্রয়োজনীয় মাছ রাখা যাবে না। সেচের মাধ্যমে পুকুর শুকিয়ে বা ঘন ফাঁসের জাল বারবার টেনে এ কাজ করা যেতে পারে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ৩০ সেমি পানির গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ৩০ ৩৫ গ্রাম মাছ মারার বিষ রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে রাক্ষুসে মাছ মেরে ফেলতে হবে। রোটেনন দেওয়ার পর পুকুরের পানি ৭ ১০ দিন ব্যবহার করা যাবে না। রোটেনন ব্যবহারে মৃত মাছ খাওয়া যাবে।

৪) চুন প্রয়োগ: উক্ত কাজগুলো শেষ হলে পুকুরের প্রতি শতকে ১ থেকে ২ কেজি করে চুন দিতে হবে। বালতি বা ড্রামে চুন নিয়ে গুলে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন পুকুরের পানি পরিষ্কার ও রোগজীবাণু দূর করে।
৫) পুকুরে সার প্রয়োগ: চুন দেওয়ার ৭ দিন পর পুকুরে শতক প্রতি ৫-৭ কেজি গোবর অথবা ২-৩ কেজি হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০-১০০ গ্রাম টিএসপি সার পানিতে গুলে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগের ৫-৬ দিন পর পুকুরের পানি সবুজ হলে বোঝা যাবে যে পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়েছে। তখন মাছের পোনা ছাড়তে হবে।
নতুন শব্দ: মিশ্রচাষ, সম্পূরক খাদ্য, রাক্ষুসে মাছ, রোটেনন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...