গৃহপালিত পশুর মতো হাঁস, মুরগি, কবুতর ইত্যাদিকে গৃহপালিত পাখি বলা হয়। কারণ, এদের পোষ মানিয়ে গৃহে লালনপালন করা যায়। এরা গৃহে ডিম পাড়ে এবং ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে। শিশু- কিশোররাও বড়দের মতো কবুতর, হাঁস ও মুরগি পালনে খুব আগ্রহ দেখায়। গ্রামবাংলার মানুষ প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন দেশি মোরগ-মুরগিও ৪৬ মিলিয়ন হাঁস লালনপালন করছে। আমাদের দেশি মুরগি বছরে গড়ে ৪৫টি এবং দেশি হাঁস ৭০টি ডিম পাড়ে। কিন্তু উন্নত জাতের লেগহর্ন, ফাওমি, আর আই আর জাতের মুরগি বছরে ২০০-২৫০টি ডিম পাড়ে। বিদেশি জাতের ইন্ডিয়ান রানার, খাকি ক্যাম্বেল ও জেন্ডিং হাঁস বছরে গড়ে ২৫০টি ডিম উৎপাদন করে। পিকিন হাঁস মাংসের জন্য বিখ্যাত।

গৃহপালিত পাখিরা বাড়িতে মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং তাদের জন্য তৈরি করা বিশেষ বাসস্থানে বসবাস করে। সকালে বাসা বা খাঁচা থেকে ছেড়ে দেবার পর এরা সারাদিন বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কবুতর খাদ্যের সন্ধানে অনেক দূর চলে যায় ও সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসে। গৃহপালিত পাখির কয়েকটি সাধারণ
বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১। এরা সহজে পোষ মানে।
২। এরা বাড়ির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়।
৩। এরা তার পালনকারীকে চেনে ও খাবারের জন্য পিছু নেয়।
৪। এরা গৃহে ডিম পাড়ে ও ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়।
৫। এরা বাচ্চা পালনে দক্ষ।
৬। এরা নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করতে পারে।

এদের পায়ে ৪টি আঙ্গুল থাকে। এদের মাথায় লাল ঝুঁটি ও গলায় লাল ফুল থাকে। মুরগি ৫ মাস বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। মুরগি তার সন্তানকে বন্য পশু-পাখির হাত থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে।
হাঁসকে জলজ পাখি বলা হয়। হাঁসের পায়ের আঙ্গুল পর্দা দ্বারা যুক্ত। তাই এরা সহজে পানিতে সাঁতার কাটতে পারে। হাঁসের ডিমে তা দেবার অভ্যাস কম। তাই হাঁসের ডিম মুরগির নিচে রেখে ফুটানো হয়।
| কাজ: মুরগি বা হাঁসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ কর। |
নতুন শব্দ: ঝুঁটি, জলজ পাখি।
Read more