বাংলাদেশে পানিতে অনেক রকমের মাছ পাওয়া গেলেও সব মাছ পুকুরে চাষ করা যায় না। যে সকল মাছের পোনা সহজলভ্য, তাড়াতাড়ি বাড়ে, বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে, পুষ্টিমান ভালো ও খেতে সুস্বাদু, সে সকল মাছই পুকুরে চাষ করা হয়। তাছাড়া এসব মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক খাবার ও বাইরে থেকে দেওয়া সম্পূরক খাবার দক্ষতার সাথে হজম করতে পারে।

আমাদের দেশি কয়েকটি প্রধান চাষযোগ্য মাছ হলো রুই, কাতলা, মৃগেল। এরা সবাই নদীর মাছ। তবে পুকুরে চাষের জন্য খুব উপযোগী। প্রাকৃতিক খাদ্য ছাড়াও এরা সম্পূরক খাবার খায়। বর্ষাকালে স্রোতশীল নদীতে ডিম পাড়ে। তবে বর্তমানে চাষের উদ্দেশ্যে হ্যাচারিতে পোনা তৈরি করা হচ্ছে। নিচে এদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
রুই: দেহ লম্বা আকৃতির। মাথা তুলনামূলক ছোট। ঠোঁট ফোলা ফোলা ও ঠোঁটের কিনারায় অনেক সূক্ষ্ম খাঁজ আছে। পিঠের দিক কিছুটা বাদামি। পেটের দিক হালকা সোনালি। বছরে ১ কেজি ওজনের হয়ে থাকে।
কাতলা: এদের মাথা বড়, দেহ চওড়া ও একটু চ্যাপটা। পিঠ উঁচু, মুখ উপরের দিকে বাঁকানো। এ মাছ বেশ তাড়াতাড়ি বাড়ে। ঠিকমতো খাবার পেলে দুই বছরে ৪-৫ কেজি পর্যন্ত বড় হয়।
মৃগেল: মাথা দেহের তুলনায় ছোট। মুখ কিছুটা নিচের দিকে। দেহ লম্বাটে, নিচের অংশ লম্বালম্বিভাবে সোজা। মুখের দুই পাশে ছোট দুই জোড়া শুঁড় আছে।
পুকুরে চাষযোগ্য বিদেশি মাছের মধ্যে সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া, থাই সরপুঁটি বর্তমানে ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
সিলভার কার্প: এরা চীন ও রাশিয়ার নদীর মাছ। এদের মাথা ছোট, দেহের মাঝের অংশ চওড়া, সামনের ও পেছনের দিক সরু। আঁশ খুব ছোট। দেহের রং চকচকে রুপালি। এদের মুখ কাতলা মাছের মতো উপরের দিকে বাঁকানো। এ দেশের চাষযোগ্য মাছের সাথে পুকুরে চাষ করা যায়। পুকুরে চাষযোগ্য বিদেশি মাছের মধ্যে সিলভার কার্প সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে।
গ্রাসকার্প: এদেরও চীন এবং রাশিয়ার নদীতে পাওয়া যায়। এদের দেহ বেশ লম্বা, মাথা ছোট। দেহের রং সাদাটে ও পাখনা ছোট। এরা দ্রুত বাড়ে। চাষ অবস্থায় যেকোনো ঘাস বা লতাপাতা খাওয়ানো যায়।
তেলাপিয়া: থাইল্যান্ড থেকে এদের আনা হয়েছে। তেলাপিয়া বেশ খাটো এবং তুলনামূলকভাবে চওড়া আকৃতির। দেহ চ্যাপটা এবং রং ধূসর-নীলাভ। এরা দ্রুত বর্ধনশীল ও খেতে সুস্বাদু। এদের সাধারণত পুকুরে এককভাবে চাষ করা হয়। এরা ৩-৪ মাসেই খাবার উপযোগী হয়।
থাই সরপুঁটি: এ মাছকে রাজপুঁটিও বলা হয়। এ মাছের দেহের রং উজ্জ্বল রুপালি। দেহ বেশ চ্যাপটা। মাথা বেশ ছোট। এদের এককভাবে বা অন্য মাছের সাথে মিশ্রচাষ করা যায়। এরাও ৩-৪ মাসে খাবার উপযোগী হয়।
| কাজ: চাষযোগ্য কিছু মাছের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য পোস্টার পেপারে লিখে উপস্থাপন কর। |
নতুন শব্দ: সম্পূরক খাবার, হ্যাচারি।
Read more