ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য (পাঠ- ৯)

কৃষি উপকরণ - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.1k

আমরা এ পর্যন্ত অনেক বীজ দেখলাম এবং বীজের নাম শনাক্ত করতে পারলাম। এবার আমরা ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব।

১.বীজ বিশুদ্ধতা: কাঙ্ক্ষিত ফসলের বীজের সাথে যেন অন্য ফসলের বীজ, আগাছার বীজ, কাঁকর জাতীয় পদার্থ প্রভৃতি মিশ্রিত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে বীজের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে না।
২. জাত বিশুদ্ধতা: কোনো বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে বীজের বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়। যেমন: নাইজারশাইল ধানের বীজের সাথে বিনাশাইল ধানের মিশ্রণ থাকলে জাত বিশুদ্ধতা থাকে না। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করলে জাত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
৩. গজানোর ক্ষমতা: এ বিষয়টিকে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বলে। কোনো বীজ নমুনায় কতোটি বীজ অঙ্কুরিত হবে সে হিসাব থেকেই বীজের ভালোমন্দ গুণ বিচার করা হয়। উত্তম বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ১০০% পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সবসময় সব বীজ এ হারে গজায় না। কমপক্ষে ৮০% গজানোর হার সম্পন্ন বীজকে উত্তম বীজ বলা যায়।
8. বীজের জীবনীশক্তি তেজ: নমুনা বীজের চারা যদি সতেজ, সজীব ও স্বাস্থ্যবান হয় এবং প্রতিকূল অবস্থায় তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠতে পারে, তবে সে বীজকে তেজস্বী বীজ বলা হয়।
৫. বীজের আর্দ্রতা: নমুনা বীজের মধ্যে শতকরা কতো ভাগ পানি আছে, তাই বীজের আর্দ্রতা। বীজের আর্দ্রতা বীজকে বাঁচিয়ে রাখে। যেমন দানা শস্যের বীজের আর্দ্রতা ৮-১০% রাখা উত্তম।

৬. বীজের বর্ণ: প্রত্যেক জাতের বীজের স্বতন্ত্র রং থাকে। আর তাই ভালো বীজের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক উজ্জ্বল রং থাকতে হবে। ভালো বীজ চেনার প্রথম লক্ষণই হচ্ছে বীজের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...