মরিচ উৎপাদন পদ্ধতি (পাঠ-৪)

কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

650

বাংলাদেশে মরিচ একটি মসলা ফসল। ঝালের জন্য কাঁচা ও পাকা মরিচ ব্যবহার করা হয়। কাঁচা মরিচে ভিটামিন 'সি' বেশি থাকে। বর্তমানে ঝালহীন এক ধরনের মরিচও পাওয়া যায়। একে কেপসিকাম মরিচ বলে। এই মরিচ সালাদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

জাত: বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মরিচের অনেক জাত ছড়িয়ে রয়েছে। যেমন: বিন্দু, চল্লিশা, ধানী, উবদা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ইত্যাদি। এ ছাড়া বাংলা লঙ্কা (বারি মরিচ-১) নামের অনুমোদিত জাতটি সারা বছর চাষের উপযোগী।

মাটি: পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে মরিচ ভালো হয়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ বা পলি- দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উত্তম। মরিচগাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।

রোপণ সময়: রবি মৌসুমে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। খরিপ মৌসুমে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলায় বীজ বপন করা যায়। চারায় ৪-৫টি পাতা গজালে মাঠে রোপণের উপযুক্ত হয়।

বীজ হার, বপন ও রোপণ দূরত্ব : সরাসরি মূল জমিতে বীজ বপন করলে প্রতি শতক জমির জন্য ১২-১৬ গ্রাম বীজ লাগে। বীজতলায় চারা তৈরি করে লাগালে এর অর্ধেক বীজ লাগে। রবি মৌসুমে চারা এমনভাবে রাখতে হবে, যেন সারি থেকে সারি ২৫ সেমি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২০ সেমি হয়। খরিপ মৌসুমে মূল জমিতে ৪৫×৪৫ সেমি দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হবে।

বীজতলা তৈরি: সাধারণত রবি মৌসুমে সরাসরি মূল জমিতে বীজ বপন এবং খরিপ মৌসুমে প্রথমে বীজতলায় চারা
তৈরি করে পরে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। বীজতলার আকার ৩ মিটার×১ মিটার (দৈর্ঘ্য প্রস্থ) রাখা হয় এরং ১৫ সেমি উঁচু করা হয়। বীজতলার উপরের মাটি ১:১:১ অনুপাতে বালি, মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। শোধনকৃত বীজ ৫ সেমি দূরে দূরে সারি করে ২-৩ সেমি গভীরে বপন করতে হয়। বীজকে পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য বীজতলার চারধারে সেভিন ডাস্ট ছিটিয়ে দিতে হবে। ৭-১০ দিনের মধ্যে চারা গজায়। বীজ বপনের পর অতিবৃষ্টি বা প্রখর রোদ থেকে রক্ষা পেতে পলিথিন বা খড়ের ছাউনি দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বীজতলায় সকালে বা বিকালে হালকা সেচ দিতে হবে। চারায় ৪-৫টি পাতা গজালে মাঠে রোপণের উপযুক্ত হয়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৪-৬টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। শেষ চাষের সময় শতকপ্রতি ৪০ কেজি গোবর সার, ১২০০ গ্রাম টিএসপি, ৫৪০ গ্রাম এমওপি, ৪৪০ গ্রাম জিপসাম সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। অতঃপর সরাসরি বীজ বপন বা চারা রোপণের জন্য ১ মিটার চওড়া ও লম্বায় জমির আয়তন অনুসারে বেড তৈরি করতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য বেডগুলো ১৫ সেমি উঁচু এবং দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া নালা রাখতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: জমি সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। ইউরিয়া ও এমওপি সার চারা রোপণের ২০, ৪০ ও ৬০ দিন পর ৩ বার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবারে শতক প্রতি ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার গাছের গোড়া থেকে ১০-১৫ সেমি দূরে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। শীত ও খরার সময় সেচের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পর সেচ দেওয়া প্রয়োজন। সেচের কয়েক দিন পর মাটিতে চটা দেখা গেলে ভেঙে দিতে হবে।

কাজ: মরিচের বীজতলা সম্পর্কে একটি পোস্টার তৈরি কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...