মাটির প্রকারভেদ (পাঠ-২)

কৃষি উপকরণ - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2.5k

যেসব খনিজ কণার ব্যাস দুই মিলিমিটার বা তার কম, তাকে মাটির কণা বলা হয়। আমরা জানি, এ কণার দ্বারাই মাটির বুনট সৃষ্টি হয়। মাটির বুনট হলো মাটির বালি, পলি, কর্দমকণার তুলনামূলক পরিমাণ বা শতকরা অনুপাত। মাটির এসব কণা বিভিন্ন অনুপাতে বিভিন্ন প্রকার মাটির সৃষ্টি করে। আর মনে রাখব, এসব কণার আকারও ভিন্ন ভিন্ন হয়।

কোন মাটিতে কোন ফসল জন্মায় তা জানার জন্যই মাটির শ্রেণিবিভাগ জানা খুবই দরকার। কৃষিকাজে ব্যবহারের সুবিধার জন্য বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (১) বেলে মাটি (২) দোআঁশ মাটি ও (৩) এঁটেল মাটি।

(১) বেলে মাটি: যে মাটিতে শতকরা ৭০ ভাগ বা তারও বেশি বালিকণা থাকে, তাকে বেলে মাটি বলে। মোটা কণাযুক্ত বেলে মাটিতে ফসলের চাষ করা যায় না। তবে বেলে মাটিতে প্রচুর কম্পোস্ট, গোবর ও সবুজ সার প্রয়োগ করে চিনা, কাউন, ফুটি, আলু, তরমুজ ইত্যাদি চাষ করা সম্ভব।

(২) দোআঁশ মাটি: যে মাটিতে বালিকণার পরিমাণ শতকরা ৭০ ভাগের কম কিন্তু ২০ ভাগের বেশি, তাকে দোআঁশ মাটি বলে। তবে আদর্শ দোআঁশ মাটিতে অর্ধেক বালিকণা এবং বাকি অর্ধেক পলি ও কর্দমকণা থাকা আবশ্যক। চাষাবাদের জন্য এ মাটি উত্তম। এ মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো জন্মে। বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকার মাটি দোআঁশ প্রকৃতির। দোআঁশ মাটিকে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (১) বেলে-দোআঁশ মাটি (২) পলি-দোআঁশ মাটি (৩) এঁটেল-দোআঁশ মাটি।

(৩) এঁটেল মাটি: যে মাটিতে কমপক্ষে শতকরা ৪০ ভাগ কর্দমকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এ মাটিতে পলিকণাও বেশি থাকে। ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ ও ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে এ মাটি দেখা যায়। এ মাটিতে চাষ করা খুব কষ্টকর। জৈব সার প্রয়োগে চাষের উপযোগী করা সম্ভব। ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি এ মাটিতে ভালো জন্মে।

কাজ ১: নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ- (১) মাটির বুনট কী? (২) কীভাবে মাটির বুনট নির্ধারিত হয়? (৩) বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটি কত প্রকার ও কী কী? (৪) চাষাবাদের সবচেয়ে উপযোগী মাটি কোনটি?
কাজ ২: বেলে, দোআঁশ ও এঁটেল মাটিতে জন্মায় এরূপ ফসলের একটি তালিকা তৈরি কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...