ভৌত বিজ্ঞান (Physical Science) হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সেই শাখা যা অ-জীব বা জড় জগতের বস্তু, শক্তি, গঠন এবং তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া নিয়ে অধ্যয়ন করে । এটি মূলত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যোতির্বিদ্যা এবং পৃথিবী বিজ্ঞানের সমন্বয়ে গঠিত, যা আমাদের চারপাশের ভৌত জগতকে বিশ্লেষণ করে ।
ভৌত বিজ্ঞানের মূল দিকসমূহ:
সংজ্ঞা: জড় পদার্থ (matter) এবং শক্তি (energy) সম্পর্কিত জ্ঞানই ভৌত বিজ্ঞান ।
প্রধান শাখা:
পদার্থবিজ্ঞান (Physics): শক্তি, বল, গতি, তাপ, আলো ও শব্দ নিয়ে আলোচনা করে ।
রসায়ন (Chemistry): পদার্থের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পরিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করে।
জ্যোতির্বিদ্যা (Astronomy): নক্ষত্র, গ্রহ, মহাবিশ্ব ও মহাজাগতিক বস্তু নিয়ে গবেষণা ।
পৃথিবী বিজ্ঞান (Earth Science): ভূতত্ত্ব ও আবহাওয়াবিদ্যা ।
লক্ষ্য: প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো কেন এবং কীভাবে ঘটে, তার গাণিতিক ও পর্যবেক্ষণমূলক ব্যাখ্যা প্রদান করা ।
জীববিজ্ঞানের (Biology) বিপরীতে এটি অজৈব বা অ-জীব সিস্টেমের উপর ফোকাস করে ।
পদার্থ (Matter)
যার ভর আছে, যা কোনো স্থান দখল করে অবস্থান করে, তাকে পদার্থ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য | পদার্থ | শক্তি |
| ভর | ভর আছে | ভর নাই |
| স্থান দখল | করে | করে না |
| উদাহরণ | বাতাস, পানি | তাপ, আলোক, বিদ্যুৎ |
পদার্থ ও শক্তি (Matter and Energy) প্রকৃতিতে দুটি ভিন্ন বিষয়ের অস্তিত্ব আমরা বুঝতে পারি একটি জড় বা পদার্থ (matter) এবং অন্যটি হল শক্তি (energy) ।
পদার্থ (Matter) : যা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য, যা কিছুটা স্থান দখল করে, যার ওজন আছে এবং বলপ্রয়োগের সাহায্যে যার স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা যায়, তাকেই পদার্থ বলে । যেমন চেয়ার, টেবিল, ইট, বালি, খাতা, পেন্সিল ইত্যাদি । পদার্থের নির্দিষ্ট পরিমাণকে বস্তু বলে । যেমন প্লাস্টিক দিয়ে জলের বালতি, মগ তৈরি করা হয় সুতরাং জলের বালতি, মগ হল বস্তু কিন্তু এগুলির উপাদান প্লাস্টিক হল পদার্থ অর্থাৎ বস্তু যে উপাদানে তৈরি হয় তাকে জড় বা পদার্থ বলে । পৃথিবীতে জড়বস্তু এবং সজীব বস্তু এই দুই ধরনের বস্তু আমরা দেখতে পাই ।
ভর এবং ভার বা ওজন : বস্তুর ভার বা ওজন নির্ণয় : ভরের নিত্যতা সূত্র বা পদার্থের অবিনাশিতা সূত্র : শক্তির বিভিন্ন রূপ : শক্তির নিত্যতা সূত্র : শক্তির রূপান্তর : সূর্যই পৃথিবীর শক্তির প্রধান উৎস
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পদার্থের অবস্থাভেদ
States of Matter
পদার্থ সাধারণত ৩টি অবস্থায় থাকতে পারে। যথা: কঠিন, তরল এবং বায়বীয়
| কঠিন পদার্থ | কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা আছে। এর অণুসমূহ পরস্পরের অতি সন্নিকটে অবস্থান করে। যেমন: বালু, পাথর, লবণ ইত্যাদি। |
| তরল পদার্থ | তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই। তরল পদার্থের অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকে, তবে তাদের মধ্যকার আকর্ষণ কঠিন পদার্থের মত প্রবল নয়। উদাহরণ: পানি, পেট্রোল, কেরোসিন, ভোজ্য তেল প্রভৃতি। |
| গ্যাসীয় পদার্থ | গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও নির্দিষ্ট আকার নেই। গ্যাসীয় পদার্থের অণুসমূহের দূরত্ব অনেক বেশি, তাই আকর্ষণ শক্তি অনেক কম। ফলে তারা প্রায় সম্পূর্ণ মুক্তভাবে চলাচল করে। উদাহরণ: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, মিথেন ইত্যাদি। |
তাপ পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের প্রধান কারণ। পানি একমাত্র পদার্থ যা প্রকৃতিতে কঠিন (বরফ), তরল (পানি) এবং বায়বীয় (জলীয় বাষ্প) তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়।
কঠিন | তরল | বায়বীয় |
| মেরু অঞ্চল বা পর্বত শীর্ষের বরফ | নদী, সমুদ্রের পানি | বায়ুর জলীয় বাষ্প |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
গলনাংক (Melting point)
যে তাপমাত্রায় কঠিন হতে তরল পদার্থের সৃষ্টি হয়, তাকে সে পদার্থের গলনাংক বলে। পানির গলনাংক ০° সেন্টিগ্রেড।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্ফুটনাংক (Boiling Point)
যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থ ফুটতে থাকে, তাকে সে পদার্থের স্ফুটনাংক বলে। পানির স্ফুটনাংক ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation)
কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলা হয়। যেমন: কপূর, গন্ধক, আয়োডিন, ন্যাপথালিন, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্সেনিক, বেনজোয়িক এসিড ইত্যাদি।
পদার্থের শ্রেণিবিভাগ:

মিশ্রণ (Mixture)
দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোন অনুপাতে একত্রে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়। বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ কারণ বায়ুতে উপাদান মৌলসমূহ যেমন: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।
খাঁটি বস্তু (Pure substance)
মৌল বা মৌলিক পদার্থ (Elements)
| সবচেয়ে হালকা মৌল | হাইড্রোজেন (H) |
| সবচেয়ে হালকা মৌলিক গ্যাস | হাইড্রোজেন (H) |
| সবচেয়ে ভারী মৌলিক গ্যাস | রেডন (Rn) |
যে বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোন সহজ বস্তুতে রূপান্তরিত করা যায় না, তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলা হয়। যেমন: হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সোনা, তামা, লোহা ইত্যাদি। পৃথিবীতে বর্তমানে মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮। এদের মধ্যে ৯৮টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। কৃত্রিম উপায়ে প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ২০।
যৌগ বা যৌগিক পদার্থ (Compound)
যে বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলা হয়। যেমন: হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ দুইটি মৌল নির্দিষ্ট ভর অনুপাতে পরস্পর যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। অতএব পানি একটি যৌগিক পদার্থ।
পদার্থের পরিবর্তন (Changes in matter)
পদার্থের পরিবর্তন দুই ধরনের। যথা: ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন এবং রাসায়নিক পরিবর্তন।
ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন (Physical Change)
যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু নতুন কোনো পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন বলে।
ভৌত পরিবর্তনের উদাহরণ :
➺ পানিকে ঠাণ্ডা করে বরফে এবং তাপ দিয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত করা।
➺ একটি লোহার টুকরাকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করে চুম্বকে পরিণত করা।
➺ তাপ দিয়ে মোম গলানো।
রাসায়নিক পরিবর্তন : যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ :
➺ লোহায় মরিচা ধরা। মরিচা (Rust) হলো আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3. nH2O)। লোহায় মরিচা ধরার জন্য পানি এবং অক্সিজেন প্রয়োজন।
➺ দুধকে ছানায় পরিণত করা
➺ চাল সিদ্ধ করলে ভাতে পরিণত হয়।
➺ দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পদার্থের গঠন মূলত ক্ষুদ্রতম কণা, যেমন—পরমাণু ও অণু দ্বারা গঠিত, যা স্থান দখল করে এবং যার ভর আছে । পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন ও নিউট্রন (নিউক্লিয়াস) এবং বাইরে ইলেকট্রন থাকে । এছাড়া, কোয়ার্ক ও লেপটন নামক অবিভাজ্য মৌলিক কণা দিয়েও পদার্থ গঠিত হতে পারে । পরমাণুসমূহ একত্রে অণু তৈরি করে এবং আন্তঃআণবিক বন্ধনের মাধ্যমে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ডাল্টনের পরমাণুবাদ (Dalton's atomic Theory)
গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এ অভিমত প্রকাশ করেন যে, সকল পার্থিব বস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণার দ্বারা গঠিত। ডেমোক্রিটাস এ অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন atomos। এ শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ হতে উদ্ভূত। a (অর্থাৎ না) এবং tomos (অর্থাৎ ভাগ করা)। তাই atomos শব্দের অর্থ যা ভাগ করা যায় না। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন ১৮০৩ সালে এ মতবাদকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। আধুনিক রসায়নের ভিত্তি হচ্ছে এ পরমাণুবাদ। এ কারণে জন ডাল্টনকে 'আধুনিক রসায়নের জনক' বলা হয়।
পরমাণু (Atoms) | অণু (Molecules) |
| মৌলিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কণা | মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কণা। |
| রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। | রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না |
অধিকাংশ মৌলের পরমাণু খুব সক্রিয়। এরা যেমন ভিন্ন পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে যেমন যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তেমনি একই পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে মৌলিক পদার্থের অণু সৃষ্টি করে। মৌলিক গ্যাসের অণুসমূহ দ্বিপরমাণুক। যেমন- অক্সিজেন (O2), হাইড্রোজেন (H2) প্রভৃতি। নিষ্ক্রিয় গ্যাস [হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Cr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)]-এর অণুসমূহ এক পরমাণুক।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পারমাণবিক ভর ও আণবিক ভর (Atomic mass and molecular mass)
পারমাণবিক ভর হচ্ছে একটি সরল রাশি যা একটি পরমাণু একটি কার্বন-১২ পরমাণুর ভরের ১/১২ অংশের তুলনায় কতগুণ ভারী তা প্রকাশ করে। আর আণবিক ভর হলো কোনো পদার্থের একটি অণুর ভর একটি কার্বন ১২ পরমাণুর ভরের ১/১২ অংশের যতগুণ ভারী, সে সংখ্যাকে আণবিক ভর বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, পানির সংকেত H2O। পানির একটি অণুতে ২টি হাইড্রোজেন ও ১টি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান।
পানির আণবিক ভর = (হাইড্রোজেনের পারমাণবিক ভর ২) + (অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১)
= (১ ২) + (১৬ ১) = ২ + ১৬ = ১৮
একইভাবে, অক্সিজেনের সংকেত O2। অক্সিজেনের একটি অণুতে ২টি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান। অক্সিজেনের আণবিক ভর = অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ২ = ১৬ ২ = ৩২।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অ্যাভোগেড্রোর সূত্র (Avogadro's Law)
একই তাপমাত্রা ও চাপে সমআয়তন বিশিষ্ট সকল গ্যাসে (মৌলিক ও যৌগিক) সমান সংখ্যক অণু থাকে। কোনো বস্তুর এক মোলে যত সংখ্যক অণু বা পরমাণু থাকে সেই সংখ্যাকে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা বলে। অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার মান ৬.০২ ১০২৩। উদাহরণ: এক মোল (অর্থাৎ ১ গ্রাম) হাইড্রোজেনে ৬.০২ ১০২৩ টি হাইড্রোজেন পরমাণু আছে।
মৌলের প্রতীক
কোনো মৌলের ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে। প্রত্যেকটি মৌলকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে তাদের আলাদা আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। মৌলের প্রতীক লিখতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
মৌল | ল্যাটিন নাম | প্রতীক |
| কপার | Cuprum | Au |
| লেড | Plumbum | Pb |
| সোডিয়াম | Natrium | Na |
| টাংস্টেন | Wolfram | W |
| মারকারি | Hydrurgyrum | Hg |
| আয়রন | Ferrum | Fe |
| পটাশিয়াম | Kalium | K |
| সিলভার | Argentum | Ag |
| টিন | Stannum | Sn |
| এন্টিমনি | Stibium | sb |
| গোল্ড | Aurum | Au |
মৌল | ইংরেজি নাম | প্রতীক |
| হাইড্রোজেন | Hydrogen | H |
| অক্সিজেন | Oxygen | O |
| নাইট্রোজেন | Nitrogen | N |
মৌলের নামকরণ
মৌল | ইংরেজি নাম | প্রতীক |
| কার্বন | Carbon | C |
| ক্লোরিন | Chlorine | Cl |
| ক্যালসিয়াম | Calcium | Ca |
মৌলের নামকরণ (প্রথম অক্ষর এক)।
মৌল | ইংরেজি নাম | প্রতীক |
| কোবাল্ট | Cobalt | Co |
| ক্যাডমিয়াম | Cadmium | Cd |
| ক্রোমিয়াম | Chromium | Cr |
a) মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে প্রতীক লেখা হয় এবং তা ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
(b) যদি দুই বা দুইয়ের অধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হয় তবে একটি মৌলকে নামের প্রথম অক্ষর (ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রতীকটি দুই অক্ষরে লেখা হয়। নামের প্রথম অক্ষরটি ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর এবং নামের অন্য একটি অক্ষর ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে লেখা হয়।
(c) কিছু মৌলের প্রতীক তাদের ল্যাটিন নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অণু হলো পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যাতে পদার্থের সকল গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে, যা দুই বা ততোধিক পরমাণুর সমবায়ে গঠিত ।
আর অণুর সংকেত (Chemical Formula) হলো প্রতীকের সাহায্যে অণুর উপাদান ও গঠন সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশের পদ্ধতি, যা মৌল ও যৌগের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন: পানির অণু ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দুই বা ততোধিক মৌলের একাধিক পরমাণু এক সাথে যুক্ত হয়ে যদি একটি মাত্র পরমাণুর মতো আচরণ করে তবে তাকে যৌগমূলক বলে। যৌগমূলকসমূহের যোজনী একটি পরমাণুর মতো হয়ে থাকে। যেমন একটি যৌগমূলক, যার যোজনী ২।
যৌগমূলক ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট হতে পারে। এদের আধান সংখ্যাই মূলত এদের যোজনী নির্দেশ করে। যেমন: একটি N পরমাণুর সাথে তিনটি H পরমাণু ও একটি H+ যুক্ত হয়ে অ্যামোনিয়াম (NH +) আয়ন নামক যৌগমূলকের সৃষ্টি করে। এর আধান সংখ্যা হলো +1 (এক)। সূতরাং এর যোজনীও 1 (এক)। আধান বা চার্জ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে কিন্তু যোজনী শুধু একটি সংখ্যা এর কোনো ধনাত্মক চিহ্ন বা ঋণাত্মক চিহ্ন নেই।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে মৌলটির সমস্ত ধর্ম উপস্থিত থাকে এবং যা রাসয়ানিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে মৌলিক পদার্থটির পরমাণু বলে। সমস্ত কঠিন, তরল, গ্যাস এবং আয়ন -এর গঠনের মূলে রয়েছে নিস্তরিত বা আধানগ্রস্ত পরমাণু। পরমাণুর আকার খুবই ক্ষুদ্র; সাধারনত এরা দৈর্ঘ্যে ১০০ পিকোমিটার (১ মিটারের ১০,০০০,০০০,০০০ ভাগের ১ ভাগ)।
পরমাণুর মাত্রা এই ক্ষুদ্রাকার হওয়ার কারণেই এর আচরনের বৈশিষ্টতা প্রথাগত পদার্থবিদ্যার সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
মৌলিক কণিকা (Fundamental Particles)
যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলে। পরমাণুতে তিন ধরনের মৌলিক কণিকা থাকে। যথা- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন।
| ইলেকট্রন | পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন | |
| প্রকৃত ভর । প্রতীক e- | ||
| চার্জ বা আধান: ঋণাত্মক ( কুলম্ব) | ||
| প্রোটন | একটি হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিয়ে যা থাকে তা একটি প্রোটন। এই কারণে প্রোটনের সংকেত । | |
| প্রকৃত ভর ।প্রতীক P | ||
| চার্জ বা আধান: ধনাত্মক (কুলম্ব) | ||
| নিউট্রন | নিউট্রনের কোনো আধান নাই। Neutral হওয়ার কারণেই এর এই নামকরণ করা হয়েছে। | |
| প্রকৃত ভর । প্রতীক n |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরমাণুর গঠন (Structure of Atoms)
পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস (Necleus)। এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে। পরমাণু বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে, ততটি ইলকট্রনও আছে। অবশ্য পরমাণু হতে সহজেই ইলেকট্রন বের করে আনা যায় এবং বাহির হতে অতিরিক্ত ইলেকট্রন যোগও করা যায়। তখন আর বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ পরমাণু থাকে না, আধানযুক্ত আয়নের সৃষ্টি হয়। ঘর্ষণ, তাপ, রাসায়নিক প্রভৃতি প্রক্রিয়ায় সহজেই পরমাণু থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস (Electronic configuration of atoms)
পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো যেভাবে সজ্জিত বা বিন্যস্ত থাকে তাই ঐ পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস। পরমাণুর প্রতিটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রনের সংখ্যা 2n2।
প্রথম শক্তিস্তরে (n=1) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা =2n2 = 212 = 2 .
দ্বিতীয় শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2n = 2 22 = 8
তৃতীয় শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2n = 2 32 = 18
চতুর্থ শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2n = 2 42 = 32

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number)
নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। একে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যে কোনো মৌলের স্বাতন্ত্র্য এই সংখ্যার উপর নির্ভর করে। এটি যে কোনো মৌলের মৌলিক ধর্ম। যেমন- কার্বনের পরমাণুতে ৬টি প্রোটন আছে। সুতরাং কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬।
ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা (Mass Number)
নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে একটি পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। ভর সংখ্যাকে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কোনো পরমাণুর অন্তর্গত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভর সংখ্যা বলা হয়। ভর সংখ্যা A, প্রোটন সংখ্যা P এবং নিউট্রন সংখ্যা N হলে, পরমাণুর ভর সংখ্যা A = P + N। সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে প্রোটন আছে ১১টি, নিউট্রন আছে ১২টি। সুতরাং সোডিয়ামের এই পরমাণুর ভর সংখ্যা ২৩।
কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা
মৌল | পারমাণবিক সংখ্যা | ভর সংখ্যা | মৌল | পারমাণবিক সংখ্যা | ভর সংখ্যা |
| হাইড্রোজেন | ১ | ১ | সিলিকন | ১৪ | ২৮ |
| হিলিয়াম | ২ | ৪ | ক্যালসিয়াম | ২০ | ৪০.০৮ |
| কার্বন | ৬ | ১২ | আর্সেনিক | ৩৩ | ৭৫ |
| সোডিয়াম | ১১ | ২৩ | পারদ | ৮০ | ২০০.৬ |
| ম্যাগনেসিয়াম | ১২ | ২৪ | ইউরেনিয়াম | ৯২ | ২৩৮ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পর্যায় সারণীর জনক মেন্ডেলিফ। মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণীর ভিত্তি ছিল পারমাণবিক ভর। আধুনিক পর্যায় সারণীর ভিত্তি পারমাণবিক সংখ্যা। আধুনিক পর্যায় সারণীতে ৭ টি পর্যায় পর্যায় এবং ৯টি গ্রুপ রয়েছে।

ক্ষার ধাতু (Alkali metal)
যে সকল ধাতু পানির সঙ্গে সরাসরি বিক্রিয়া করে তীব্র ক্ষার গঠন করে, তাকে ক্ষার ধাতু বলে। ক্ষার ধাতুগুলোর নাম লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, রুবিডিয়াম এবং সিজিয়াম। পর্যায় সারণিতে ক্ষার ধাতুগুলোর অবস্থান IA গ্রুপে।
মৃৎক্ষার ধাতু (Mrtksara metal)
যে সকল ধাতু ভূ-ত্বকের মৃত্তিকার উপাদানরূপে পাওয়া যায় এবং পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষারক গঠন করে, তাকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। উদাহরণ: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। পর্যায় সারণিতে মৃৎক্ষার ধাতুগুলোর অবস্থান IIA গ্রুপে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble gas)
পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়। এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৬টি, যথা- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) এবং রেডন (Rn)। নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে (ব্যতিক্রম: হিলিয়াম)।
হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে। মৌলিক গ্যাস' (হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2)] এর অণুসমূহ দ্বিপরমাণুক। কিন্তু নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অণুসমূহ এক পরমাণুক। যেমন: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne)। মৌলিক গ্যাস র্যাডন সর্বাপেক্ষা ভারি। রেডন তেজস্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন। সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
ব্যবহার
- বেলুনে এবং ডুবুরিদের জন্য হাইড্রোজেনের পরিবর্তে হিলিয়াম ব্যবহার করা। হাইড্রোজেন হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা হলেও হাইড্রোজেন দাহ্য পক্ষান্তরে হিলিয়াম নিষ্ক্রিয়।
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু টিউব লাইটে সাধারণত নিয়ন, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ লাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আইসোটোপ
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। যেমন: হাইড্রোজেনের আইসোটোপগুলো হলো প্রোটিয়াম (1H1), ডিউটেরিয়াম (2H1) ও ট্রিটিয়াম (3H1)। হাইড্রোজেন, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম তিনটিরই পারমাণবিক সংখ্যা 1 কিন্তু ভর সংখ্যা যথাক্রমে 1, 2 এবং 3। লক্ষণীয়, হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনো নিউট্রন থাকে না। ইউরেনিয়ামের তিনটি আইসোটোপ (234U92), (235U92), (238U92) । পারমাণবিক চুল্লীতে বহুল ব্যবহৃত আইসোটোপ (235U92)|

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আইসোটোন (Isotone)
যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। যেমন: সিলিকন (30Si14), ফসফরাস (31P15) এবং সালফার (32S16) পরস্পরের
আইসোটোন কারণ
সিলিকনের নিউট্রন সংখ্যা = 30 - 14 = 16
ফসফরাসের নিউট্রন সংখ্যা = 31 - 15 = 16
সালফারের নিউট্রন সংখ্যা = 32 - 16 = 16
কিন্তু এ সকল মৌলের প্রোটন সংখ্যা এবং ভর সংখ্যা ভিন্ন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। যেমন: কপার (64Cu29) এবং জিংক (64Zn30) পরস্পরের আইসোবার কারণ উভয়ের ভরসংখ্যা 64 কিন্তু প্রোটন সংখ্যা যথাক্রমে 29 এবং 30।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রস্তর যুগের পর আসে ধাতুর ব্যবহারের যুগ। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পর পাথরের পর তামার ব্যবহার শুরু হয়। লোহার আবিষ্কার হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।
ধাতু (Metal)
যে সকল পদার্থ দেখতে চকচকে, তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী, আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়, ঘাতসহ প্রসারণশীল ও নমনীয় তাদেরকে ধাতু বলে। এদের পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়ন উৎপন্ন করে। উদাহরণ: লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা (Zinc), সোনা, রূপা, তামা (Cupper), প্লাটিনাম, পারদ (Mercury), টাংস্টেন প্রভৃতি।
বৈশিষ্ট্য | ধাতু | বৈশিষ্ট্য | ধাতু |
| সবচেয়ে হালকা ধাতু | লিথিয়াম (Li) | সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু | পটাসিয়াম (K) |
| সবচেয়ে ভারী ধাতু | প্লাটিনাম (Pt) | সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় | দস্তা (Zn) |
| সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু | তার বানানো সহজতর | তামা (Cu) | |
| সর্বোচ্চ গলনাঙ্কের ধাতু | টাংস্টেন | সর্বনিম্ন গলনাঙ্কের ধাতু | পারদ (Hg) |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সোডিয়াম (আধুনিক ল্যাটিন ভাষায় ন্যাট্রিয়াম) একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Na এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১১। এটি পর্যায় সারণীর তৃতীয় পর্যায়ে, প্রথম শ্রেণীতে অবস্থিত, যার কারণে এটি ক্ষার ধাতু হিসাবে পরিগণিত। তীব্র সক্রিয়তার কারণে একে প্রকৃতিতে আলাদাভাবে পাওয়া যায় না, সোডালাইট, ফেল্ডস্পার, রকসল্ট ইত্যাদি খনিজ রূপে পাওয়া যায়। মহাবিশ্বে এর উৎপত্তি হয় নক্ষত্রে, ৬০০ মেগাকেলভিন তাপমাত্রায় কার্বন দহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যখন দুটি কার্বন পরমাণুর মধ্যে ফিউশান ঘটে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পটাশিয়াম হলো একটি রাসায়নিক উপাদান যা K প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয় ( নিও-ল্যাটিন ক্যালিয়াম থেকে ) এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ১৯ ৷ পটাশিয়াম হলো একটি রুপালি-সাদা ধাতু যা একটি ছুরির মাধ্যমে সামান্য শক্তি দিয়ে কাটার জন্য যথেষ্ট নরম।
অ্যালুমিনিয়াম একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Al এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১৩। এটি বোরন গ্রুপের সদস্য যার রং ধূসর সাদা; গঠনে কোমল, অচৌম্বকীয় এবং যথেষ্ট সংকোচন-প্রসারণক্ষম। ভর অনুপাতে ভূ-পৃষ্ঠের ৮ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম। অক্সিজেন ও সিলিকনের পর ভূ-পৃষ্ঠের মৌল হিসেবে এর অবস্থান ৩য়, যদিও ভূপৃষ্ঠের গভীরে নগন্য মাত্রায় বিদ্যমান। এর প্রধান আকরিক হল বক্সাইট। রাসায়নিকভাবে অ্যালুমিনিয়াম খুবই সক্রিয় বলে তীব্র বিজারনীয় পরিবেশ ছাড়া একে বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না। একারণে ২৭০ ধরনের ভিন্ন পদার্থে এর উপস্থিতি রয়েছে।
এটি বেশ হালকা ও দীর্ঘদিন ব্যবহারে অক্ষয়িষ্ণু। একারণে এর বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মহাকাশীয় যন্ত্রপাতি, যানবাহন ও নির্মানকাজে (জানালার কাঠামো, আংটা ইত্যাদি) অ্যালুমিনিয়াম ও এর সংকর ধাতুসমূহের বহুল ব্যবহার লক্ষনীয়। এর অক্সাইড ও সালফেটসমূহ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যৌগ। কোন জীবন্ত প্রাণী তাদের জৈবিক কার্যাবলিতে অ্যালুমিনিয়ামের লবণ ব্যবহার না করলেও মাটিতে প্রচুর পরিমাণে থাকায় উদ্ভিদসমূহে তাদের ভূমিকা রয়েছে।উদ্ভিদে এর ক্রিয়াবলি নিয়ে উপর্যুপরি গবেষণা চলছে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অ্যালুমিনিয়াম
দস্তা
লোহা
তামা
ক্যালশিয়াম হচ্ছে Ca প্রতীকযুক্ত একটি মৌলিক পদার্থ, যার পারমাণবিক সংখ্যা ২০। ক্যালসিয়াম একটি ক্ষারীয় ধাতব পদার্থ। এজন্য ক্যালসিয়াম বেশ সক্রিয় ধাতু, যা বায়ুর সংস্পর্শে আসার পরে গাঢ় অক্সাইড-নাইট্রাইড স্তর গঠন করে। এর গাঠনিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলির অধিকাংশই মিলে যায় এর চেয়ে কিছু ভারি ও সদৃশ মৌল স্ট্রনশিয়াম এবং বেরিয়ামের সাথে। পরিমাণের দিক থেকে এটি পৃথিবীর ভূত্বকের উপাদানগুলোর ভেতরে পঞ্চম অবস্থানে আছে। একইসাথে প্রাচুর্যের দিক থেকে পৃথিবীতে প্রাপ্ত ধাতুসমূহের ভেতরে এটি তৃতীয় অবস্থানে আছে, অর্থাৎ লোহা এবং অ্যালুমিনিয়ামের পরই এর অবস্থান। পৃথিবীতে সর্বাধিক পরিমাণে পাওয়া যায় এমন ক্যালসিয়াম যৌগটি হলো ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, যা চুনাপাথর নামে পরিচিত। এটি সমুদ্রে প্রাপ্ত জীবাশ্মের অবশিষ্টাংশে পাওয়া যায়, যে জীবাশ্মগুলো সৃষ্ট হয়েছিলো সমুদ্র সৃষ্টির প্রারম্ভিক সময়ে। এর পাশাপাশি জিপসাম, অ্যানহাইড্রাইট, ফ্লোরাইট এবং অ্যাপাটাইট ক্যালসিয়ামের উৎস। ক্যালসিয়াম নামটি লাতিন শব্দ Calx Lime থেকে এসেছে। তৎকালে চুনাপাথরকে উত্তপ্ত করলে এটি পাওয়া যেত।

দস্তা বা জিংক হলো একটি মৌলিক পদার্থ, যার প্রতীক Zn এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৩০। এর পারমাণবিক ভর ৬৫.৩৮ (সাধারণ কাজে ৬৫ ব্যবহার করা হয়)। এটি পর্যায় সারণীর চতুর্থ পর্যায়ে, দ্বাদশ গ্রুপে অবস্থিত। এটি একটি ডি-ব্লক মৌল হলেও এর d-অরবিটাল পূর্ণ থাকায় এটি সাধারণত অবস্থান্তর ধাতু হিসেবে বিবেচিত হয়না। গ্যালভানাইজিং করতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক ব্যবহৃত হয়।
জিংক বর্ণালী
পিতল, বিভিন্ন অনুপাতে তামা এবং দস্তার মিশ্রণ, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের আগে এজিয়ান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাল্মেকিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জর্জিয়ায় এবং দ্বিতীয় সহস্রাব্দে পশ্চিম ভারত, উজবেকিস্তান, ইরান, সিরিয়া, ইরাক এবং প্যালেস্তাইনে ব্যবহৃত হয়েছে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লোহা বা লৌহ একটি ধাতব মৌলিক পদার্থ। এর রাসায়নিক চিহ্ন Fe, পারমাণবিক সংখ্যা ২৬, পারমাণবিক ভর ৫৫.৮৫, যোজ্যতা ২ ও ৩। লোহার ঘনত্ব ৭.৮৫ গ্রাম/সিসি অর্থাৎ জলের থেকে ৭.৮৫ গুণ ভারি। এর গলনাঙ্ক ১৫৩৮° সেলসিয়াস এবং স্ফুটনাঙ্ক ২৮৬২° সেলসিয়াস। লোহাকে প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না। আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাশন করা হয়। লোহার প্রধান আকরিকগুলি হলো, হেমাটাইট (Hematite, Fe2O3), ম্যাগনেটাইট (Magnetite, Fe3O4), আয়রন পাইরাইটিস (Iron Pyrites, FeS2) ও সিডারাইট (Siderite,FeCO3), লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O)। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রচুর লোহার আকরিক পাওয়া যায়। ভূ-ত্বকে লোহার পরিমাণ শতকরা ৪.১২ ভাগ।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পারদ (Mercury)
সর্বাপেক্ষা নিম্ন গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতু পারদ। এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। তরল পদার্থগুলোর মধ্যে পারদ সর্বাপেক্ষা ভারী। পারদের প্রতীক Hg । থার্মোমিটারে পারদ রহুলভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ অল্প তাপে পারদের আয়তন অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। ফলে তাপমাত্রার সহজে সূক্ষ্মভাবে মাপা যায়।
জেনে রাখা ভাল
১. সোডিয়াম পোড়ালে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের শিখা উৎপন্ন হয়।
২. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টে টাংস্টেন ব্যবহৃত হয়।
৩. বিশুদ্ধ সোনা ২৪ ক্যারেট।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে, সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। যেমন: কাঁসা হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
সংকর ধাতু | মিশ্রণ |
| ঢালাই লোহা বা কাস্ট আয়রন | লোহার সাথে ২-৪.৫৬% কার্বন থাকে। একে পিগ আয়রনও বলে। |
| ইস্পাত (Steel) | লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন থাকে। এতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ ০.১৫ - ১.৫%। |
| স্টেইনলেস স্টিল Stainless Stell | লোহা (Fe)- ৭৩% + ক্রোমিয়াম (Cr) ১৮% + নিকেল (Ni)- ৮% + কার্বন (C)- ১% |
| ব্রোঞ্জ (Bronze) | ৯০% তামা + ১০% টিন |
| পিতল (Brass) | তামা ৮০% + দস্তা (জিঙ্ক) - ২০% |
| গান মেটাল | তামা ৮৮% + ১০% টিন+ দস্তা (জিঙ্ক) - ২% |
| ডুরালামিন | অ্যালুমিনিয়ামের সাথে মেশানো হয় কপার, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ। |
| নাইক্রোম | নিকেল-৬০% + আয়রন-২৫% + ক্রোমিয়াম-১৫% |
| বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে নাইক্রোম তার ব্যবহার করা হয়। | |
| টাইপ মেটাল | সীসা ৭৫% + অ্যান্টিমনি ২০% + টিন ৫% |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুরূপতা
প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, টিন, বোরন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শণ করে।
ক্যাটেনেশন
একই মৌলের পরমাণুসমূহের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের শিকল গঠনের ধর্মকে ক্যাটেনেশন বলা হয়। ক্যাটেনেশন ধর্ম দ্বারা কার্বন পরমাণুসমূহ নিজেদের মধ্যে একক বন্ধন, দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন দ্বারা বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের কার্বন পরমাণু শিকল ও বলয় গঠন করে বিভিন্ন জৈব যৌগ সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য জৈব যৌগের সংখ্যা ২০ লক্ষাধিক। অজৈব যৌগের মধ্যে শুধুমাত্র সিলিকনে কিছুটা ক্যাটেনেশন দেখা যায়।
কার্বন (কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার)
কার্বন অধাতু এবং বিজারক। কাঠ ও কয়লা প্রধানত কার্বন। আবার, হীরক এবং গ্রাফাইট হলো কার্বনের দুটি রূপভেদ। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরক। হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহৃত হয়। হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী কারণ এতে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। গ্রাফাইট অধাতু হলেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম। বিভিন্ন গ্রেডের (2B, HB, 2H, HH) উড পেন্সিলের 'সীস' হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অধাতু সাধারণত ভঙ্গুর, তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী এবং আঘাত করলে কোনো শব্দ উৎপন্ন করে না। এগুলো চকচকে হয় না, কম গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট, এবং কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে । এরা ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে (অ্যানায়ন) পরিণত হয় এবং তাদের অক্সাইডগুলো সাধারণত অম্লীয় প্রকৃতির হয়।
কার্বন (কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার)
কার্বন অধাতু এবং বিজারক। কাঠ ও কয়লা প্রধানত কার্বন। আবার, হীরক এবং গ্রাফাইট হলো কার্বনের দুটি রূপভেদ। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরক। হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহৃত হয়। হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী কারণ এতে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। গ্রাফাইট অধাতু হলেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম। বিভিন্ন গ্রেডের (2B, HB, 2H, HH) উড পেন্সিলের 'সীস' হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)
কার্বন ডাই অক্সাইড একটি এসিডধর্মী গ্যাস। পানিতে কার্বন ডাই অক্সাইডের দ্রবণকে সোডা ওয়াটার বলে। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে অত্যধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়। আবার হিমায়িত কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ (Dry Ice) বলা হয়। অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক অগ্নি নির্বাপক অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
| গ্যাস | নিজে জ্বলে | অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে |
| কার্বন ডাই অক্সাইড | x | x |
| হাইড্রোজেন | ✓ | x |
| অক্সিজেন | x | ✓ |
কার্বন মনোক্সাইড (CO)
গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস থাকে। কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।
গ্যাস | রাসায়নিক নাম | সংকেত |
| ওয়াটার গ্যাস | কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস | CO + H2 |
| প্রোডিউসার গ্যাস | কার্বন মনোক্সাইড ও নাইট্রোজেন গ্যাস | 2CO + N2 |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অক্সিজেন (O)
বৃটিশ যাজক যোসেফ প্রিস্টলি সর্বপ্রথম ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে অক্সিজেন আবিষ্কার করেন। অক্সিজেনের একটি বিশেষ ধর্ম হল ইহা নিজে জ্বলেনা কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। যে পানিতে কঠিন বস্তু (লবণ) বেশি দ্রবীভূত থাকে সে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম। যেমন: সমুদ্রের পানিতে কঠিন বস্তু (লবণ) দ্রবীভূত থাকে কিন্তু নদীর পানিতে থাকে না। ফলে সমুদ্রের পানি, ভূগর্ভস্থ পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি। হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ৯৩ ভাগ। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১.০১%। ওজোন (O3) অক্সিজেনের একটি রূপভেদ। বায়ুমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ ০.০০০১%, ওজোনের রং গাঢ় নীল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাইট্রোজেন (N)
আকাশে বিদ্যুৎ ক্ষরণের ফলে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি হয়, যা পানির সাথে মিশে নাইট্রিক এসিড উৎপন্ন করে। এ নাইট্রিক এসিড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পতিত হয় এবং জমির ক্ষারীয় উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ উৎপন্ন করে। উদ্ভিদ এ নাইট্রেট গ্রহণ করে তাকে প্রোটিনে রূপান্তরিত করে, যা প্রাণিসকল গ্রহণ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণির জীবন অবসানের পর পচন ক্রিয়ায় প্রোটিনের কিছু অংশ নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত হয়। এভাবে প্রকৃতিতে "নাইট্রোজেন চক্র" চলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ফসফরাস (P)
ফসফরাসের দুটি রূপভেদ আছে। যথা- লোহিত ফসফরাস ও শ্বেত ফসফরাস। শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয়। শ্বেত ফসফরাসের গন্ধ রসুনের মত। দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়। দিয়াশলাইয়ের বক্সের দু-ধারে কাগজের উপর যে বারুদ থাকে তা আসলে কাঁচচূর্ণ মিশ্রিত ফসফরাস। ফসফরাস পেন্টাক্সাইড (P2O5) নিরুদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান ফসফরাস পেন্টাক্সাইড।
সিলিকন (Si)
সিলিকার রাসায়নিক নাম সিলিকন ডাই অক্সাইড (SiO2)। সিলিকার বিশুদ্ধ রূপ কোয়ার্টজ। কোয়ার্টজ ঘড়িতে সিলিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি। বালির প্রধান উপাদান হলো সিলিকা। কাচ রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। কাঁচ বহুদিন রোদে বা পানিতে থাকলে নষ্ট, ক্ষয় বা বৃদ্ধি হয় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হ্যালোজেন শব্দের অর্থ 'সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক'। হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন (F2), ক্লোরিন (Cl2), ব্রোমিন (Br2) এবং আয়োডিন (I2) এ চারটি মৌলকেই বোঝায়। সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়। পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় কারণ ক্লোরিন পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে। হ্যালোজেন এসিড শক্তির ক্রম: HI > HBr > HCI > HF পর্যায় সারণিতে হ্যালোজেনগুলোর VIIA গ্রুপে অবস্থান করে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas): পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়। এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৭টি যথা- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) এবং রেডন (Rn) এবং ওগানেসন । নিষ্ক্রিয় গ্যাসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। ব্যতিক্রম হিলিয়াম। হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে। সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। রেডন তেজষ্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সংখ্যা সাত। এগুলো হল: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, র্যাডন এবং ওগানেসন। একে নোবেল গ্যাস বলা হয় ।
ব্যবহার
(১) হাইড্রোজেন হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা হলেও হাইড্রোজেন দাহ্য পক্ষান্তরে হিলিয়াম নিষ্ক্রিয়। এজন্য বেলুনে এবং ডুবুরিদের জন্য হাইড্রোজেনের পরিবর্তে হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়।
(২) ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ লাইটে জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
সালফিউরিক এসিডের একটি অণুতে মোট ৭টি (২টি হাইড্রোজেন, ১টি সালফার, ৪টি অক্সিজেন) পরমাণু থাকে। ১০০% বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিডকে সালফান এবং ধূমায়মান সালফিউরিক এসিডকে ওলিয়াম (H2S2O7) বলে। সালফিউরিক এসিড রাসায়নিক পদার্থসমূহের রাজা বলা হয় কারণ প্রায় প্রত্যেক শিল্পে কোনো না কোনো স্তরে H2SO4 এসিড ব্যবহৃত হয়।
হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S)
হাইড্রোজেন সালফাইড বর্ণহীন, পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত একটি গ্যাস। এটি পানিতে খুব সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়। ১৭৭৭ সালে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাইট্রিক এসিড (HNO3)
স্বর্ণ থেকে খাদ বের করতে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCI) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ-অম্ল বলে। স্বর্ণ, প্লাটিনাম প্রভৃতি অভিজাত ধাতুসমূহ যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 96-98% ঘনমাত্রার নাইট্রিক এসিডে অধিক নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2) দ্রবীভূত থাকে। NO2 গ্যাস বের হয়ে বায়ুতে ধোয়া উৎপন্ন করে। তাই এই ঘনমাত্রার নাইট্রিক এসিডকে ধূমায়মান নাইট্রিক এসিড বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাইট্রোজেন অক্সাইড
নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এর মৃদু মিষ্টি গন্ধ আছে। নিশ্বাসের সাথে এটি অল্প পরিমাণ গ্রহণ করলে হাসির উদ্রেক করে। এজন্য একে লাফিং গ্যাস বলে। মৃদু চেতনানাশকরূপে N₂O ব্যবহার করা হয়।
এসিড বৃষ্টি (Acid Rain)
শিল্প সমৃদ্ধ এলাকায় সাধারণত এসিড বৃষ্টি দেখা যায়। বায়ুতে শিল্প কারখানা হতে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড (প্রধানত), নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড এবং সালফিউরিক এসিড বাষ্প বেশি থাকলে বৃষ্টির সময় ঐ এসিড বাষ্প পানির সাথে যুক্ত হয়ে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এসিড বৃষ্টির ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Actions)
যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়।
রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্ম বিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়াকে রাসায়নিক সমীকরণ আকারে লেখার জন্য কতোগুলো নিয়ম মানা হয় সেগুলো হচ্ছে:
1. গণিতে যেমন সমীকরণের মাঝে একটি সমান চিহ্ন (=) ব্যবহার করা হয় তেমনি কোনো বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক বাম পাশে এবং উৎপাদ ডান পাশে লিখে তাদের মাঝে একটি সমান চিহ্ন (=) বা তীর চিহ্ন (→) বসাতে হয়।
2. বিক্রিয়কসমূহ এবং উৎপাদসমূহকে রাসায়নিক প্রতীক বা সংকেতের মাধমে লেখা হয়। বিক্রিয়ায় একাধিক বিক্রিয়ক থাকলে বিক্রিয়কসমূহের মাঝে যোগ চিহ্ন দিতে হয়। এবং একাধিক উৎপাদ থাকলে উৎপাদসমূহের মাঝে যোগ চিহ্ন দিতে হয়।
3. যে প্রক্রিয়ায় সমীকরণের বাম পাশের বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সংখ্যা এবং ডান পাশের ঐ একই মৌলের পরস্পর সংখ্যা সমান করা হয়। সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক সমীকরণের সমতা বলা হয়।
2H2 + O2→ 2H2O
2H2 + O2 = 2H2O
4. কখনো কখনো বিক্রিয়ার সমতা না করেও বিক্রিয়া দেখানো হয়, তখন সমান চিহ্ন (=) না দিয়ে তীর চিহ্ন (→) ব্যবহার করতে হয়।
H2 + O2 → H2O
5. অনেক সময় বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের ভৌত অবস্থা উল্লেখ করেও রাসায়নিক সমীকরণ লেখা হয়। বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের ভৌত অবস্থা পদার্থের ডান পাশে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে প্রকাশ করা হয় । এক্ষেত্রে কোনো পদার্থ কঠিন হলে তার ইংরেজি নাম (Solid) এর প্রথম বর্ণ (s) লিখতে হয়, কোনো পদার্থ তরল (liquid) হলে তার ইংরেজি নামের প্রথম বর্ণ লিখতে হয়, কোনো পদার্থ গ্যাসীয় তার ইংরেজি নাম (gas) এর প্রথম বর্ণ (g) লিখতে হয়। কোনো পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হলে সেই দ্রবণকে বলা হয় জলীয় দ্রবণ। জলীয় দ্রবণের ইংরেজি নাম (aquas solution ) এর প্রথম 2টি বর্ণ (aq) লিখতে হয়। উপরের বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস এবং উৎপন্ন পদার্থ পানি তরল তাই তাকে লিখতে হবে।
2H2(g) + O2(g) → 2H2O(1)
রাসায়নিক সমীকরণ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন কোন পদার্থ বিক্রিয়া করে কোন কোন পদার্থ হয়েছে সেটি দেখানো। অনেক সময় সমতা না করেও সেটি দেখানো যেতে পারে।
6. তবে যদি কোনো বিক্রিয়ায় কতটুকু তাপ উৎপন্ন হয় বা কতটুকু তাপ শোষিত হয় তা সমীকরণে দেখাতে হয় তবে সেক্ষেত্রে রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমতা করতে হবে এবং বিক্রিয়ক এবং উৎপাদের ভৌত অবস্থা (যেমন কঠিন, তরল, গ্যাসীয় অবস্থা, জলীয় অবস্থা ইত্যাদি) লিখতে হবে।
একই পদার্থের অসংখ্য অণু বা একাধিক পদার্থের অসংখ্য অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করার প্রক্রিয়াকে পলিমারকরণ বলে। এই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন বৃহৎ অণুকে পলিমার এবং বিক্রিয়ক অসংখ্য ক্ষুদ্র অণুর প্রত্যেকটিকে মনোমার বলে। একই বিক্রিয়কের অসংখ্য অণু যুক্ত হয়ে পলিমার গঠন করার প্রক্রিয়াকে যুত পলিমারকরণ (Addition Polymerisation) বলে।
যুত পলিমারকরণ বিক্রিয়া-
যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমার অণুসমূহ পরস্পরের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু যেমন- ইত্যাদি অপসারণ করে সেই পলিমারকরণ বিক্রিয়াকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পলিইথিলিন
ব্যাকেলাইট
পলিভিভিনাইল অ্যাসিটেট
পলিভিনাইল ক্লোরোইড
জারণ ও বিজারণ (Oxidation & Reduction)
জারণ (Oxidation)
যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌল বা যৌগে তড়িৎ ঋণাত্মাক পরমাণু বা মূলক সংযুক্ত হয় বা তাদের অনুপাত বৃদ্ধি পায় অথবা কোনো তড়িৎ ধনাত্মক পরমাণু বা মূলকের অপসারণ হয় বা তাদের অনুপাত হ্রাস পায়, সেই বিক্রিয়াকে জারণ বলে।
ইলেকট্রনীয় ধারণা: যে বিক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে, তাকে জারণ বলে।
যেমন: Na → Na+ + e- (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
বিজারণ (Reduction)
যে বিক্রিয়ার কোনো মৌল বা যৌগে তড়িৎ ধনাত্মক পরমাণু বা মূলক সংযুক্ত হয় বা তাদের অনুপাত বৃদ্ধি পায় অথবা কোনো তড়িৎ ঋণাত্মক পরমাণু বা মূলকের অপসারণ হয় বা তাদের অনুপাত হ্রাস পায়, সেই বিক্রিয়াকে বিজারণ বলে।
ইলেকট্রনীয় ধারণা: যে বিক্রিয়ায় কোন রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাকে বিজারণ বলে।
যেমন: Cl + e- → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)
যে বস্তু অন্য কোনো বস্তুর বিজারণ ঘটায় এবং নিজে জারিত হয়, তাকে বিজারক বলে। যেমন: সকল ধাতু, হাইড্রোজেন, কার্বন প্রভৃতি। বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন বর্জন করে।
যে বস্তু অন্য কোনো বস্তুর জারণ ঘটায় 'এবং নিজে বিজারিত হয়, তাকে জারক বলা হয়। যেমন: অক্সিজেন, ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়েডিন, পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট, পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, HNO3, উত্তপ্ত গাঢ় H2SO4, পার অক্সাইডসমূহ, পার অক্সি এসিডসমূহ এবং তাদের লবণসমূহ।। জারক পদার্থসমূহ ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে তাকে এসিড বলে।
উদাহরণ- সালফিউরিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, কার্বলিক এসিড।
যে সকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাকে ক্ষার বলে।
যেমনঃ ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)2], সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড [NaOH]
এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় যে নিরপেক্ষ পদার্থ উৎপন্ন হয় তাকে লবন বলে।
উদাহরণ- সোডিয়াম ক্লোরাইড [NaCl], ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড [CaCl2]
এসিড (Acid)
যদি কোনো যৌগের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং ঐ প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল কোনো যৌগমূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপিত করা যায় এবং যা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে অম্ল (Acid) বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যে যৌগ বা আয়ন অন্য পদার্থকে প্রোটন দান করতে পারে, তাকে অম্ল (Acid) বলে। এসিডের স্বাদ টক। উদাহরণ: সালফিউরিক এসিড (H2SO4), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ফরমিক এসিড
অক্সালিক এসিড
নাইট্রিক এসিড
এসিটিক এসিড
ক্ষারক ও ক্ষার (Base & Alkali)
ধাতুর অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইডকে ক্ষারক বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যে যৌগ বা আয়ন অম্ল হতে প্রোটন গ্রহণ করতে পারে, তাই ক্ষারক। উদাহরণ: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (MgOH)। অধিকাংশ ক্ষারকই পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যে সকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাকে ক্ষার বলে। উদাহরণ: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH). পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) ইত্যাদি।
| PH | দ্রবণ |
| =7 | নিরপেক্ষ |
| <7 | অম্লীয় |
| >7 | ক্ষারীয় |
PH
কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের (H+) মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের PH বলে অর্থ্যাৎ PH = -log[H+] । PH হলো এসিডীয় মাত্রা, ক্ষারকীয় মাত্রা এবং নিরপেক্ষতা নিদের্শক। PH স্কেলের রেঞ্জ ০-১৪।
বিভিন্ন পদার্থের PH এর মান
পদার্থ | PH এর মান | পদার্থ | PH এর মান |
| বিশুদ্ধ পানি | ৭ | চোখের পানি | ৪.৮০~৭.৫০ |
| মানুষের রক্ত | ৭.৩৫- ৭.৪৫ | মূত্র | ৪.৮০~৭.৫০ |
বাফার
যে দ্রবণ নিজস্ব PH স্থির রাখার ক্ষমতা রাখে, তাকে বাফার দ্রবণ বলে। হেন্ডারসন সমীকরণের দ্বারা বাফারের PH এর মান গণনা করা হয়।
নির্দেশক
যে সব যৌগ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের কোন দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা নির্দেশ করে, তাদের নির্দেশক বলে।
| নির্দেশক | অম্লীয় মাধ্যমে বর্ণ | ক্ষারীয় মাধ্যমে বর্ণ |
| লিটমাস | লাল | নীল |
| ব্রোমোফেনল | হলুদ | নীল |
| মিথাইল অরেঞ্জ | লাল | হলুদ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লবণ (Salt)
"লবণ" শব্দটি সাধারণত রসায়নে একটি আয়নিক যৌগ বা খাদ্য লবণ (যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড) কে বোঝায়। রসায়নে, লবণ হল অ্যাসিড এবং ক্ষারকের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন একটি পদার্থ। খাদ্য লবণ, যা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত, এটি সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এটি খাবারকে লবণাক্ত করতে এবং খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পানির খরতা
যে পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, অনেক সাবান খরচ করার পর ফেনা উৎপন্ন করে, তাকে খর পানি বলে। খর পানিতে সাবান ফেনা না দিলেও ডিটারজেন্ট উত্তম ফেনা দেয়। পানির খরতা দুই প্রকার। যথা: অস্থায়ী খরতা এবং স্থায়ী খরতা।
খরতা | কারণ |
| অস্থায়ী | ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বনেট (HCO3-) লবণ |
| স্থায়ী | ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের সালফেট (SO4-) বা ক্লোরাইড (Cl-) লবণ |
দূরীকরণ পদ্ধতি | বৈশিষ্ট্য |
| ফুটানো | শুধু অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়। |
| পারমুটিট পদ্ধতি | স্থায়ী ও অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়। |
| সোডা পদ্ধতি | স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় প্রকার খরতা কাপড় কাচা সোডা (Na2 CO3) এর সাহায্যে দূর করা যায়। |
খর পানি ব্যবহার করলে কারখানার বয়লারে, মোটর গাড়ির শীতক প্রকোষ্ঠে ও কেতলীর তলায় অদ্রবণীয় ও তাপ অপরিবাহী ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম সালফেট প্রভৃতি লবণের আবরণ পড়ে। বয়লারের গায়ে অদ্রবণীয় লবণের স্তর পড়ার কারণে বয়লারের তাপ পরিবাহিতা কমে যায়। ফলে জ্বালানি অপচয় ঘটে।
মৃদু পানি (Soft Water)
যে পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে, তাকে মৃদু পানি বলে। প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে বৃষ্টি থেকে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তড়িৎ কোষ (Electric Cell)
যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তড়িৎ শক্তি পাওয়া যায় তাকে তড়িৎ কোষ বলে। তড়িৎ কোষ দুই প্রকার। যথা:
(ক) তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বা গ্যালভানিক সেল: যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। তড়িৎ রাসায়নিক কোষ আলেকসান্দ্রো ভোল্টা আবিষ্কার করেন।
(খ) তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ: যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ চালানো হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষে ধনাত্মক তড়িৎদ্বারকে অ্যানোড এবং ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারকে কে ক্যাথোড বলে।
শুষ্ক কোষ (Dry Cell)
শুষ্ক কোষ একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল। সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসাবে কার্বন দণ্ড (+) এবং দস্তার কৌটা (-) ব্যবহৃত হয়। শুষ্ক কোষে কার্বন দণ্ড ইলেকট্রন দান করে। কার্বন দণ্ডের চারপার্শ্বে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) এবং কার্বন গুড়ার মিশ্রণ থাকে। এর চারপার্শ্বে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের (NH4CI) এর পেস্ট থাকে। NH4CI বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসাবে এবং MnO2 ছদন নিবারক হিসাবে কাজ করে। বাজারে এটি ব্যাটারি নামে পরিচিত। ব্যাটারি থেকে আমরা D.C বিদ্যুৎ পাই। শুষ্ক কোষ একমুখী (DC) তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করে। এর তড়িচ্চালক বল ১.৫ ভোল্ট।

স্টোরেজ ব্যাটারি (Storage Battery)
গাড়িতে ব্যবহৃত এ সকল ব্যাটারিতে সীসার ইলেকট্রোডের সঙ্গে তড়িৎ বিশ্লেষ্য রূপে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জৈব রসায়ন (Organic Chemistry)
কার্বন শিকল দ্বারা গঠিত বিভিন্ন যৌগের রসায়নকে জৈব রসায়ন বলে। অন্যভাবে বলা যায় যে, রসায়নের যে শাখায় হাইড্রোকার্বন ও হাইড্রোকার্বনের বিভিন্ন জাতক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তাকে জৈব রসায়ন বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জৈব যৌগ (Organic Compounds)
হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত দ্বিমৌল যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে। জৈব যৌগ বলতে হাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বন থেকে উদ্ভুত যৌগসমূহকে বুঝায়। যেমন: মিথেন (CH4), ইথেন (C2H6), প্রোপেন (C3H8) প্রভৃতি। ফ্রেডারিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়। জৈব যৌগে কার্বন মৌলটি অবশ্যই থাকবে। বাজারে সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তা মূলত বিউটেন। জৈব বস্তুর সম্পূর্ণ দহনে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অ্যালিফেটিক যৌগসমূহকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় যথা-
ক) অ্যালকেন: হাইড্রোজেন ও কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত একক বন্ধনে আবদ্ধ যৌগসমূহকে অ্যালকেন বলে। অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n+2। যেমন- মিথেন (CH4), ইথেন (CH3-CH3), প্রোপেন (CH3-CH2- CH3) ইত্যাদি।
খ) অ্যালকিন: হাইড্রোজেন ও কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত দ্বি বন্ধনে আবদ্ধ যৌগসমূহকে অ্যালকিন বলে। অ্যালকেনসমূহের সাধারণ সংকেত CnH2n। যেমন- ইথিন (CH2=CH2), প্রোপিন (CH2= CH- CH2) ইত্যাদি।
গ) অ্যালকাইন: হাইড্রোজেন ও কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত ত্রি বন্ধনে আবদ্ধ যৌগসমূহকে অ্যালকাইন বলে। অ্যালকাইনসমূহের সাধারণ সংকেত CnH2n+2। যেমন- ইথাইন (CH = CH), প্রোপাইন (CH = C-CH3) ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিভিন্ন খাদ্যে উপস্থিত জৈব এসিড।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য ও ফলে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড (Organic Acid) পাওয়া যায়, যা খাদ্যের স্বাদ, গন্ধ ও সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। প্রধান জৈব এসিডগুলোর মধ্যে লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আপেলে ম্যালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড, এবং দুধে ল্যাকটিক এসিড) অন্যতম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যে সব চাক্রিক বা হেটারোচাক্রিক যৌগে (4n + 2) সংখ্যক সঞ্চারণশীল পাই ইলেকট্রন বিদ্যমান, তাদেরকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে। 4n + 2 সূত্রে n = 1, 2, 3 হলে সঞ্চারণশীল পাই
ইলেকট্রন দাঁড়ায় যথাক্রমে 6, 10, 14। বেনজিন, ফেনল ও টলুইনে 6টি করে সঞ্চারণশীল পাই ইলেকট্রন বিদ্যমান। ন্যাপথালিন যৌগে 10টি পাই ইলেকট্রন বিদ্যমান। তাই এরা সবাই অ্যারোমেটিক যৌগ।

অধিকাংশ অ্যারোমেটিক যৌগই সুগন্ধযুক্ত ও এদের বেনজিন বলয় প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া দেয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাত্যহিক জীবনে রসায়ন
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সকল ক্ষেত্রে রসায়ন এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে | আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই তাতে রসায়ন রয়েছে, যে বাতাসে আমরা নিশ্বাস নিই তাতে রসায়ন রয়েছে, আমাদের সাবান, আমাদের আবেগ এক কথায় যে সমস্ত বস্তু আমরা দেখতে ও স্পর্শ করতে পারি সকল কিছুতেই রসায়ন বিদ্যমান। আজ আমি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কিসু মজার রসায়ন নিয়ে আলোচনা করব।
মানব দেহের উপাদান: মানব দেহের বেশির ভাগ হচ্ছে পানি । যেসমস্ত উপাদান দ্বারা তৈরী সেগুলো নিম্নরূপ:
১. অক্সিজেন (৬৫% )
২. কার্বন (১৮%)
৩. হাইধ্রজেন (১০%)
৪. নাইট্রজেন (৩%)
৫. কালসিয়াম (১.৫%)
৬. ফসফরাস (১.০%)
৭. পটাসিয়াম (০.৩৫%)
৮. সালফার (০.2৫%)
৯. সোডিয়াম (০.১৫%)
১০. ম্যাগনেসিয়াম (০.০৫%)
১১. কপার, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, মলিবডেনাম, ফ্লুরিন, ক্লোরিন, আয়োডিন, মান্গানিজ, কোবাল্ট, এবং আইরন (০.৭০%)
১২. লিথিয়াম, সট্রনিয়াম, এলুমিনিয়াম, সিলিকন, লীড ভানাদিয়াম, আর্সেনিক, ব্রোমিন ইত্যাদি ।
নির্মাণ সামগ্রী
নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ইট এবং সিমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বালি ও পানির সাথে সিমেন্ট মিশিয়ে ‘মর্টার’ এবং ইট বা পাথরের টুকরা, সিমেন্ট, বালি ও পানি মিশিয়ে কংক্রিট তৈরি করা হয়।
সিমেন্ট
নির্মাণ কাজের অপরিহার্য উপাদান সিমেন্ট। সিমেন্টের প্রধান উপাদান চুন (৬২%), সিলিকা (২২%), অ্যালুমিনা, লৌহ প্রভৃতি। সিমেন্ট দুই ধরনের। যথা- পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট এবং অ্যালুমিনাস সিমেন্ট। সিমেন্টে দ্রুত জমাট বাঁধা রোধ করার জন্য জিপসাম যোগ করা হয়।
পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। চুনাপাথর (Limestone) এর সাথে। সামান্য কাদা বা এ্যালুমিনো সিলিকেট (Al2SiO5) মিশিয়ে বিশেষায়িত চুল্লীর মাধ্যমে ক্লিঙ্কার তৈরি করা হয়। ক্লিঙ্কার চূর্ণ (>= ৯৭%) করে তার সাথে সামান্য জিপসাম (=<৩%) মিশিয়ে আধুনিক পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট তৈরি করা হয়।
ইট (Brick): তৈরির পদ্ধতি অনুসারে ইটকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। বাংলা ইট, সিরামিক ইট এবং কংক্রিটের তৈরি ইট। সাধারণ ইটকে বাংলা ইট বলে। মেশিনে বানানো ইটকে সিরামিক ইট বলে। সিরামিক ইটে সিলিকা (৫৫%), অ্যালুমিনা (৩০%), লৌহ অক্সাইড (৮%), ম্যাগনেসিয়া (৫%), জৈব পদার্থ (১%) থাকতে পারে।
কাঁচ (Glass): কাঁচ রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। কাঁচ বহুদিন রোদে বা পানিতে থাকলে নষ্ট, ক্ষয় বা বৃদ্ধি হয় না। কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি। বালির প্রধান উপাদান হলো সিলিকা। সিলিকার রাসায়নিক নাম সিলিকন ডাই অক্সাইড (SiO2)। সিলিকার বিশুদ্ধ রূপ কোয়ার্টজ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সারিন (Sarin): সারিন (C4H10FO2P) অত্যন্ত বিষাক্ত এক ধরনের বর্ণ ও গন্ধহীন তরল পদার্থ যা রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে অকার্যকর করে দেয়।
নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitroglycerin): নাইট্রোগ্লিসারিন বিস্ফোরক পদার্থটি সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিডের সংমিশ্রণে প্রস্তুত করা হয়। পাহাড় ভাঙ্গা, টানেল তৈরি ও খনিজ শিল্পে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ ডিনামাইট প্রস্তুতিতে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহৃত হয়।
টি.এন.টি (TNT): 2, 4, 6 ট্রাই নাইট্রো টলুইনকে সংক্ষেপে টি.এন.টি বলে। এটি প্রধানত বিস্ফোরক পদার্থ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের বোমায় ব্যবহৃত হয়।
পিকরিক এসিড (Picric Acid): পিকরিক এসিডে রাসায়নিক নাম ২,৪,৬ এটাইনাইট্রোফেনল। এটি বিস্ফোরক যৌগ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পোড়া ক্ষতের জ্বালা ও পচন নিবারণে
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ডিডিটি (DDT): ডিডিটি এর রাসায়নিক নাম প্যারা প্যারা ডাইক্লোরো ডাই ফিনাইল ট্রাই ক্লোরো ইথেন। শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও কীটনাশক হিসেবে ডি.ডি.টি প্রচুর ব্যবহৃত হয়।
গ্যামেক্সিন বা লিনডেন: গ্যামেক্সিন পাউডার বা লিনডেন এর রাসায়নিক নাম বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড (C6H6Cl6)। এটি শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ (The Development of Physical Science)
আবিষ্কার | আবিষ্কারক | দেশ | সময়কাল (খ্রি.) |
| প্লবতা | আর্কিমিডিস | সিসিলি | ২৮৭ খ্রিস্টপূর্ব |
| বিদ্যুৎ | উইলিয়াম গিলবার্ট | যুক্তরাজ্য | ১৫৭০ |
| রাডার | এ এইচ টেলর এবং লিও সি ইয়ং | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯২২ |
| উড়োজাহাজ | অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯০৩ |
| রকেট | ডব্লিউ কনগ্রিড | যুক্তরাজ্য | ১৮০০ |
| টেলিস্কোপ | গ্যালিলিও | ইতালি | ১৬১০ |
| টেলিগ্রাম | এফ. বি. মোর্স | ইতালি | ১৮৩২ |
| টেলিভিশন | জন এল বেয়ার্ড | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯২৬ |
| টেলিফোন | আলেকজোন্ডার গ্রাহাম বেল | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯২৬ |
| মাইক্রোফোন | আলেকজোন্ডার গ্রাহাম বেল | যুক্তরাষ্ট্র | ১৮৭৬ |
| রেডিও | জি. মার্কনি | ইতালি | ১৮৯৪ |
| ফলোগ্রাফ | টমাস আলফা এডিসন | যুক্তরাষ্ট্র | ১৮৭৭ |
| বৈদ্যুতিক বাতি | টমাস আলফা এডিসন | যুক্তরাষ্ট্র | ১৮৭৮ |
| থার্মোমিটার | গ্যালিলিও গ্যালিলি | ইতালি | ১৫৯৩ |
| রেফ্রিজারেটর | জেমস হ্যারিসন | যুক্তরাষ্ট্র | ১৮৫১ |
| বাষ্পচালিত ইঞ্জিন | জেমসওয়াট | স্কটল্যান্ড | ১৭৭১ |
| রেলওয়ে ইঞ্জিন | স্টিফেনসন | যুক্তরাজ্য | ১৮২৫ |
| পেট্রোল ইঞ্জিন | নিকোলাস অটো | জার্মানি | ১৮৭৬ |
| ডিজেল ইঞ্জিন | রুডলফ ডিজেল | জার্মানি | ১৮৯৫ |
| ডায়নামো | মাইকেল ফ্যারাডে | যুক্তরাজ্য | ১৮৩১ |
| এক্সরে | উলহহেলম রন্টজেন | রন্টজেন | ১৮৯৫ |
| লেজার | টি এইচ মাইম্যান | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯৬০ |
| ডিনামাইট | আলফ্রেড নোবেল | সুইডেন | ১৮৬৭ |
| তেজষ্ক্রিয়তা | হেনরি বেকরেল | ফ্রান্স | ১৮৯৬ |
| ফিশন | অটোহ্যান | জার্মানি | ১৯৩৮ |
| পারমাণবিক বোমা | ওপেনহেইমার | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯৪৫ |
| রেডিয়াম, পোলেনিয়াম | মাদাম কুরি | পোল্যান্ড | |
| পলিগ্রাফ | জন এ লারসন | - | ১৯২০ |
| ব্যারোমিটার | টরেসিলি | ইতালি | ১৬৪৩ |
| ছাপাযন্ত্র | জোহানেস গুটেনবার্গ | জার্মানি | |
| হেলিকপ্টার | ইগর সিকরস্কি | - | ১৯৩৯ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিমাপ (Measurement)
কোন কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করাকে পরিমাপ বলে। পরিমাপের আদর্শ পরিমাণকে পরিমাপের একক বলা হয়। যেমন; সময়ের পরিমাপ হচ্ছে সেকেন্ড, দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক হচ্ছে মিটার ইত্যাদি।
রাশি (Star)
ভৌতজগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকেই রাশি বলে। রাশি দুই প্রকার। যথা- মৌলিক রাশি এবং লব্ধ রাশি।
মৌলিক রাশি: যে সকল রাশি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের উপর নির্ভর করে তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে। মৌলিক রাশি সাতটি। যথা: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন ক্ষমতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
লব্ধ রাশি: যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভর করে বা মৌলিক রাশি থেকে লাভ করা যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। মৌলিক রাশি সাতটি ছাড়া বাকি সবই লব্ধ রাশি। যথা: বেগ, ত্বরণ, বল, কাজ ইত্যাদি।
স্কেলার ও ভেক্টর রাশি
দিকের বিবেচনায় বস্তু জগতের সকল রাশিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- স্কেলার রাশি এবং ভেক্টর রাশি। যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে। উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, দ্রুতি, কাজ, শক্তি, সময়, তাপমাত্রা ইত্যাদি।
যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে। উদাহরণ: সরণ, ওজন, বেগ, ভরবেগ, ত্বরণ, বল, তড়িৎ তীব্রতা, চৌম্বক তীব্রতা ইত্যাদি।
বিভিন্ন যন্ত্রপাতি
যন্ত্রের নাম | যন্ত্রের ব্যবহার |
| মিটার স্কেল | দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে সরল যন্ত্র |
| ভার্নিয়ার স্কেল | দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র (মিলিমিটারের ভগ্নাংশ পর্যন্ত) |
| ক্রু গজ | তারের ব্যাসার্ধ, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ও ছোট দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্র |
| স্লাইড ক্যালিপার্স | বস্তুর দৈর্ঘ্য, চোঙ বা বেলনের উচ্চতা, ফাঁপা নলের অন্তঃব্যাস ও বহির্ব্যাস, গোলকের ব্যাস নির্ণয় করা যায় |
| স্প্রিং নিক্তি | সরাসরি বস্তুর ওজন নির্ণায়ক |
| তুলা যন্ত্র | খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করার যন্ত্র |
| জাইরোকম্পাস | জাহাজের দিক নির্ণায়ক |
| অডিওমিটার | শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক |
| অডিও ফোন | কানে দিয়ে শোনার যন্ত্র |
| ফনোগ্রাফ | শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত |
| সিসমোগ্রাফ | ভূমিকম্প নির্ণায়ক |
| রেইনগেজ | বৃষ্টি পরিমাপক |
| সেক্সট্যান্ট | সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক |
| ক্রোনোমিটার | দ্রাঘিমা নির্ণয়/ সূক্ষ্ম সময় পরিমাপক |
| স্পিডোমিটার | দ্রুতি পরিমাপক |
| অ্যাক্সিলারোমিটার | ত্বরণ পরিমাপক |
| ভেলাটোমিটার | বেগ পরিমাপক |
| অ্যানিমোমিটার | বাতাসের গতিবেগ ও শক্তি পরিমাপক |
| ওডোমিটার | মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক |
| ট্যাকোমিটার | উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক |
| অলটিমিটার | উচ্চতা নির্ণায়ক |
| ফ্যাদেমিটার | সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়াক |
| ম্যানোমিটার | গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক |
| ব্যারোমিটার | বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric pressure) নির্ণায়ক |
| এনোমোমিটার | বায়ুর গতিবেগ পরিমাপক |
| হাইগ্রোমিটার | বায়ুতে আর্দ্রতা (Humidity) পরিমাপক |
| হাইড্রোমিটার | তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific gravity) বা ঘনত্ব নির্ণায়ক |
| হাইড্রোফোন | পানির তলায় শব্দ নিরূপক |
| ল্যাক্টোমিটার | দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক |
| ক্যালরিমিটার | তাপ পরিমাপক |
| থার্মোমিটার | উষ্ণতা পরিমাপক |
| থার্মোস্ট্যাট | ফ্রিজ, ইস্ত্রি, ওভেন ইত্যাদিতে স্থির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র |
| পাইরোমিটার | তারকাসমূহের (সূর্যের) উত্তাপ নির্ণায়ক |
| টেনসিওমিটার | তরলের পৃষ্ঠটান পরিমাপক |
| অ্যামিটার | বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক |
| গ্যালভানোমিটার | ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহ নির্ণায়ক |
| ওহম মিটার | পরিবাহীর রোধ নির্ণায়ক |
| ভোল্ট মিটার | বৈদ্যুতিক বিভব বা চাপ পরিমাপক |
| ইলেক্ট্রফেরাস | বৈদ্যুতিক আবেশ দ্বারা চার্জ উৎপাদনের সরল যন্ত্র |
| ভ্যানডিগ্রাফ | বৈদ্যুতিক আবেশ দ্বারা চার্জ উৎপাদনের আধুনিক যন্ত্র |
| তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র/ ইলেক্ট্রোস্কোপ | কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণায়ক |
| স্ফিগমোম্যানোমিটার | মানবেদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক |
| স্টেথোস্কোপ | হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ নিরূপক |
| কার্ডিওগ্রাফ | হৃৎপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক |
| ক্রেস্কোগ্রাফ | উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক |
| ইনকিউবেটর | ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্র |
| ড্রেজার | পানির নিচে মাটি কাটার যন্ত্র |
| পাওয়ার থ্রেসার | ধান মাড়াইয়ের মেশিন |
| গাইগার মুলার কাউন্টার | রেডিওঅ্যাকটিভ মৌল অনুসন্ধানের যন্ত্র |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাশি পরিমাপের পদ্ধতি
রাশি | C.G.S পদ্ধতিতে একক | M.K.S পদ্ধতিতে একক | F.P.S পদ্ধতিতে একক |
| দৈর্ঘ্য | Centimeter | Gram | Foot |
| ভর | Gram | Kilogram | Pound |
| সময় | Second | Second | Second |
S.I. পদ্ধতি
১৯৬০ সাল থেকে দুনিয়া জোড়া বিভিন্ন রাশির একই রকম একক চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। এককের এই পদ্ধতিকে বলা হয় আন্তর্জাতিক পদ্ধতি (International Systems of Units) বা সংক্ষেপে এস.আই (S.I)। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে M.K.S পদ্ধতিকে আত্মীয়করণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে সাতটি মৌলিক রাশির জন্য সাতটি মৌলিক একক ধরা হয়েছে এবং বাকী সকল একক এক বা একাধিক মৌলিক এককের গুণফল বা ভাগফল থেকে প্রতিপাদন করা হয়েছে।
সাতটি মৌলিক একক হলো-
মৌলিক রাশি | একক | মৌলিক রাশি | একক |
| দৈর্ঘ্য | মিটার | তড়িৎ প্রবাহ | অ্যাম্পিয়ার |
| ভর | কিলোগ্রাম | দীপন ক্ষমতা | ক্যান্ডেলা |
| সময় | সেকেন্ড | পদার্থের পরিমাণ | মোল |
| তাপমাত্রা | কেলভিন | - | - |
এস আই পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ একক
রাশি | একক | রাশি | একক |
| ক্ষেত্রফল | মিটার২ | প্রসারণ সহগ | প্রতি কেলভিন |
| আয়তন | মিটার২ | তাপ ধারণ ক্ষমতা | জুল/ কেলভিন |
| সরণ | মিটার | আপেক্ষিক সুপ্ততাপ | জুল/ কিলোগ্রাম |
| বেগ বা দ্রুতি | মিটার/সেকেন্ড | Viscosity | Poise |
| ত্বরণ | মিটার/সেকেন্ড২ | চৌম্বক ফ্লাক্স | ওয়েবার |
| কৌণিক ত্বরণ | রেডিয়ান/সেকেন্ড২ | চৌম্বক আবেশ | (Tesla) টেসলা |
| ভরবেগ | কিলোগ্রাম-মিটার/ সে২ | আলোক ফ্লাক্স | লুমেন |
| বল বা ওজন | নিউটন | দীপন তীব্রতা | লাক্স |
| কাজ/ শক্তি/তাপ | জুল | লেন্সের ক্ষমতা | ডায়অপ্টার |
| ক্ষমতা | ওয়াট | আধান | কুলম্ব |
| ঘনত্ব | কিলোগ্রাম-মিটার৩ | বিভব পার্থক্য/ তড়িচ্চালক বল | ভোল্ট |
| চাপ | প্যাসকেল | তড়িৎ প্রাবল্য | নিউটন/কলম্ব |
| Stress | নিউটন/মিটার২ | রোধ | ওহম |
| দোলনকাল | সেকেন্ড | পরিবাহিতা | সিমেন্স |
| তরঙ্গ দৈর্ঘ্য | মিটার | তেজস্ক্রিয়তা | বেকরেল |
| কম্পাঙ্ক | হার্জ | এক্সরে | রন্টজেন |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বলবিদ্যা (Mechanics)
সরণ (Displacement)
নির্দিষ্ট দিকে পরিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। সরণের একক হল দৈর্ঘ্যের একক অর্থাৎ মিটার।
দ্রুতি (Speed)
সময়ের সাথে কোন বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের হারকে দ্রুতি বলে। দ্রুতির একক মি./সে.।
বেগ (Velocity)
সময়ের সাথে কোন বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে অর্থাৎ বস্তু নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই বেগ। বেগের একক মিটার/সেকেন্ড বা (ms-1)।
ত্বরণ (Acceleration)
সময়ের সাথে বস্তুর অসম বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। একটি বস্তু সুষম বেগে না চলে এর বেগের বা মানের যে পরিবর্তন হয় তাই ত্বরণ। ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। ত্বরণের একক মিটার/সেকেন্ড২ (m/s2) বা (ms-2)। কৌণিক ত্বরণের একক রেডিয়ান/সেকেন্ড২ (rd/s2) বা (rds-2)।
নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র (Newton's Law of Motion)
১৬৮৭ সালে বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ফিলোসোফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা'তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের 'গতি বিষয়ক সূত্র' নামে পরিচিত।
প্রথম সূত্র: বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থ াকবে। (Every body continues in its state of rest, or of uniform motion in a straight line until an external force is applied to the body)
দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার এর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। (The rate of change of momentum of a body is proportional to the applied force and takes place in the direction of the straight line along which the force acts).
তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। (To every action there is an equal and opposite reaction)।

ক) প্রথম সূত্র থেকে জড়তা ও বলের ধারণা পাওয়া যায়।
খ) দ্বিতীয় সূত্র হতে পাই, বল = ভর ত্বরণ (F = ma)
গ) নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের প্রয়োগ:
- মহাকাশযান (রকেট) উৎক্ষেপণ গতির তৃতীয় সূত্রেরএকটি ব্যবহারিক প্রয়োগ। রকেটে জ্বালানি পুড়িয়ে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন করা হয়। রকেটের পিছনের অংশ থেকে গ্যাস প্রচণ্ড বেগে নির্গত হওয়ায় গতির বিপরীত ক্রিয়ায় রকেটকে বিপরীত দিকে ধাক্কা দেয়। ফলে রকেট প্রচণ্ড বেগে উপরের দিকে এগিয়ে যায়।
- ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। রকেট ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে।
- জেট ইঞ্জিন রি-অ্যাকশন ইঞ্জিন।
- বিমান ও রকেট চলার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো রকেট চলার জন্য বাতাসের দরকার হয় না কিন্তু বিমান সম্পূর্ণভাবে বাতাস নির্ভর।
- মাঝির নৌকা চালানো গতির তৃতীয় সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাস্তার ব্যাংকিং (Banking of Roads)
বক্রপথে মোটর বা রেলগাড়ি চলার সময় একটি কেন্দ্রমুখী বলের প্রয়োজন হয়। কেন্দ্রমুখী বলের অভাবে গতি জড়তার কারণে যানবাহন উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই জড়তাকে প্রশমিত করার জন্য বক্রপথে বাইরের রাস্তা ভিতরের দিকের চেয়ে কিছুটা উচু করে কেন্দ্রমুখী বল সৃষ্টি করা হয়। এ ব্যবস্থাকে রাস্তার ব্যাংকিং বলে।

ভরবেগ (Momentum)
বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে। ভরবেগের একক Kgm/sec এবং মাত্রা সমীকরণ MLT-1 । ভরবেগ = ভর বেগ।
ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র: "একাধিক বস্তুর মধ্যে শুধু ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো বল কাজ না করলে কোন নির্দিষ্ট দিকে তাদের মোট ভরবেগের কোনো পরিবর্তন হয় না"।
উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোড়া হলে বন্দুক পেছনের দিকে আসে। কারণ গুলি ও বন্দুকের ভরবেগ সমান কিন্তু বিপরীতমুখী। বন্দুকের ভর বেশি বলে বেগ কম হয় কিন্তু গুলির ভর কম বলে বেগ বেশি হয়।
- নৌকা থেকে আরোহীরা নামার সময় নৌকা পেছনের দিকে আসে কারণ নৌকা ও আরোহীর ভরবেগ পরস্পর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী
স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity)
বস্তুর যে ধর্ম উহার উপর প্রযুক্ত বলের ক্রিয়ায় তার আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং প্রযুক্ত বল অপসারণ করলে তার পূর্বের আকার বা আয়তন ফেরত পায়, তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। যার স্থিতিস্থাপকতা যত বেশি তার আকার বা আয়তন পরিবর্তনে তত অধিক বল প্রয়োগ করতে হয়।
ইস্পাত (বা লোহা) রাবার অপেক্ষা অধিক স্থিতিস্থাপক। একই পরিমাণ আকার বা আয়তন পরিবর্তনের জন্য ইস্পাতে রাবার অপেক্ষা অনেক বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়। রাবার শক্ত ও স্থিতিস্থাপক বলে গাড়ির টায়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কাজ (Work)
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে, তাহলে বল এবং বলের দিকে বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে।
ক্ষমতা (Power)
কাজ সম্পাদনকারী কোনো ব্যক্তি বা উৎস এর কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে।
১ অশ্ব শক্তি (H.P) = ৭৪৬ ওয়াট = ০.৭৪৬ কিলোওয়াট
কাজ (Work)
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে, তাহলে বল এবং বলের দিকে বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে। কাজের মাত্রা সমীকরণ ML2T-2।
কাজ = বল ⤫ বলের দিকে সরণের উপাংশ।
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে কাজের একক জুল। সিজিএস পদ্ধতিতে কাজের একক আর্গ। 1 জুল= 107 আর্গ। পাহাড়ে ওঠা বা সিঁড়ি ভাঙ্গায় অভিকর্ষ বলের বিপরীতে কাজ করতে হয় বলে পরিশ্রম বেশি হয়। পক্ষান্তরে পাহাড় থেকে বা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অভিকর্ষ বলের দিকে কাজ করতে হয় বলে পরিশ্রম কম হয়। পাহাড়ে ওঠার সময় শরীরকে স্থির রাখার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকতে হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্ষমতা (Power)
কাজ সম্পাদনকারী কোনো ব্যক্তি বা উৎস এর কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে।
ক্ষমতা = কাজ/সময়
ক্ষমতার একক ওয়াট।
অশ্ব ক্ষমতা (Horse power)
ইঞ্জিনের ক্ষমতা কে প্রকাশ করার জন্য অশ্বক্ষমতা একক ব্যবহৃত হয়। ১ অশ্ব ক্ষমতা (H.P) = ৭৪৬ ওয়াট = ০.৭৪৬ কিলোওয়াট। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৭৪৬ জুল কাজ করার ক্ষমতাকে এক অশ্ব ক্ষমতা বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শক্তি (Energy)
কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে(energy)। বস্তু সর্বমোট যতটুকু কাজ করতে পারে তা দিয়েই বস্তুর শক্তির পরিমাপ করা হয়।
যেহেতু কোনো বস্তুর শক্তির পরিমাপ করা হয় তার দ্বারা সম্পন্ন কাজের পরিমাণ থেকে; সুতরাং শক্তি ও কাজের পরিমাণ অভিন্ন। কাজের মতো শক্তিও স্কেলার রাশি।
মাত্রা ও একক : শক্তির মাত্রা ও কাজের মাত্রা একই অর্থাৎ ML2T-2।
শক্তির একক ও কাজের একক একই অর্থাৎ জুল (J)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শক্তির রূপান্তর (Transformation of Energy)
তড়িৎ শক্তির রূপান্তর: বৈদ্যুতিক মোটরে তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক বাল্বে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা ও লাউড স্পিকারের মাধ্যমে তড়িৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
আলোক শক্তির রূপান্তর: ফটো-ইলেকট্রিক কোষের উপর আলোক পড়লে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। হেরিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: দুই হাতের তালু পরস্পরের সাথে ঘষলে গরম অনুভূতি হয়। এখানে যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। জেনারেটরের সাহায্যে যন্ত্র শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ (Hydroelectricity) উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়। পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়। পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
শব্দ শক্তির রূপান্তর: টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরকযন্ত্র এবং মাইক্রোফোনে শব্দশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। টেলিফোন লাইনের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ শক্তি প্রবাহিত হয়। এখানে উল্লেখ্য, টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে তড়িৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
তাপ শক্তির রূপান্তর: রেলগাড়ির স্টীম ইঞ্জিনে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বাল্বের ফিলামেন্টে তাপ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: কাঠ, কয়লা, পেট্রোল, কেরোসিন, গ্যাস ইত্যাদি পোড়ালে রাসায়নিক শক্তি তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
কর্মদক্ষতা (Efficiency)
ইঞ্জিনে যতটুকু শক্তি পাওয়া যায় তাকে কার্যকর শক্তি বলে। কোনো যন্ত্রের কর্মদক্ষতা বলতে যন্ত্র থেকে মোট যে কার্যকর শক্তি পাওয়া যায় এবং মোট যে শক্তি দেওয়া হয়েছে তার অনুপাতকে বুঝায়।
কর্মদক্ষতা = কার্যকর শক্তি/মোট প্রদত্ত শক্তি
কর্মদক্ষতাকে (গ্রীক-ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কর্মদক্ষতাকে সাধারণ শতকরা হিসাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কোনো যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 90% বলতে কি বোঝায়, এই যন্ত্রে 100J শক্তি দেওয়া হলে যন্ত্র থেকে 90J কার্যকর শক্তি পাওয়া যাবে। বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন সর্বাপেক্ষা বেশি দক্ষতাসম্পন্ন ইঞ্জিন।
মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ (Gravitation & Gravity)
এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে। দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে তাকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে। অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ। অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল। মাধ্যাকর্ষণ বলের বা অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না। পৃথিবীর কেন্দ্রীয় আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র (Newton's Law of Gravitation)
বিজ্ঞানী নিউটন মহাকর্ষ সম্পর্কে একটি সূত্র প্রদান করেছেন। সূত্রটি হল " মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু কণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে”। মহাকর্ষ বল শুধুমাত্র দুরত্ব এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। G কে মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। এর একটি নির্দিষ্ট মান আছে। এই মান হল 6.673 10-11 Nm2Kg-2 ।

চিত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউটন
রাদারফোর্ড
আইনস্টাইন
বোর
মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বা অভিকর্ষজ ত্বরণ (Acceleration due to Gravity)
অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g এর মান বিভিন্ন। ভূ-পৃষ্ঠে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের মান সর্বোচ্চ। 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g এর মান আদর্শ ধরা হয়। g এর আদর্শ মান হচ্ছে 9.8 মিটার/সে২ বা (m/s2) বা (ms2)। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে বা ভিতরে গেলে মাধ্যাকর্ষণ বল কমে যায়, অর্থ্যাৎ g মান এর মান কমতে থাকে। পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of falling bodies)
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। এগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলে। সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১) স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে।
২) স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
৩) স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা হতে একটি পালক ও একটি হাতুড়ি একই সাথে ফেলে দিলে তা একই সাথে মাটিতে পড়বে। কিন্তু বাতাসের বাধার কারণে এমনটি হয় না। তবে বাতাসের বাধা না থাকলে পালক ও হাতুড়ি একই সাথে মাটিতে পড়বে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভর ও ওজন (Mass & Weight)
কোনো বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণকে ঐ বস্তুর ভর বলে। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম (Kg)। স্থানভেদে বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। পৃথিবী পৃষ্ঠে কোনো বস্তুর ভর ৪৯ কেজি হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে ঐ বস্তুটির ভর হবে ৪৯ কেজি। পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো বস্তুর ভর ৫০ কেজি হলে ভূ-কেন্দ্রে ঐ বস্তুটির ভর হবে ৫০ কেজি।
কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে পরিমাণ বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুটির ওজন বলে। ওজনের একক নিউটন। বস্তুর ওজন = বস্তুর ভর ঐ স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ
বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিভিন্ন হওয়ায় স্থানভেদে বস্তুর ওজন পরিবর্তিত হয়। এজন্য কোনো বস্তুকে পৃথিবী থেকে চাঁদে বা অন্য কোনো স্থানে নিলে বস্তুর ভর একই থাকে কিন্তু ওজন পরিবর্তিত হয়। যেমন: চাঁদে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের মানের ৬ ভাগের ১ ভাগ। এজন্য চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ৬ ভাগের ১ ভাগ হবে।
বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান (মাধ্যাকর্ষণ বল) ও ওজনের পরিবর্তন
বস্তুর অবস্থান | অভিকর্ষজ ত্বরণের মান (মাধ্যাকর্ষণ বল | বস্তুর ওজন |
| মেরু অঞ্চল | সর্ব্বোচ | |
| নিরক্ষীয় অঞ্চল | সর্বনিম্ন | |
| চন্দ্রপৃষ্ঠ | পৃথিবীর ৬ ভাগের ১ ভাগ | |
| ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে | হ্রাস পায় | |
| ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে | ||
| পৃথিবীর কেন্দ্র | শূন্য | |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লিফটে ও মহাশূন্যে ওজনের তারতম্য: ওজনহীনতা
Variation of weight in Lift and Space: Weightlessness
ব্যক্তির ভর m এবং ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণ ৪ হলে, ব্যক্তি ওজন হবে, W = mg। এক ব্যক্তি লিফটে সমবেগে উপরে উঠলে বা নিচে নামলে তার ওজনের কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু লিফটে a ত্বরণে উপরে উঠলে ব্যক্তি ওজন অনুভব করবে, W = m (g+a) অর্থাৎ বেশি ওজন অনুভব। করবে। আবার, ও ত্বরণে নিচে নামলে ব্যক্তি ওজন অনুভব করবে, W = m(g-a) অর্থ্যাৎ কম ওজন অনুভব করবে।
এক ব্যক্তি দালানের দশতলায় একটি লিফটে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে কোনো স্প্রিং নিক্তি থেকে ঝুলানো একটি বস্তু 10 নিউটন ওজন নির্দেশ করছে। হঠাৎ লিফটের তার ছিড়ে লিফটটি মুক্তভাবে নিচে পড়তে থাকলে স্প্রিং নিক্তিতে বস্তুটির ওজন ০ নিউটন নির্দেশ করবে। কারণ মুক্তভাবে পড়ন্ত লিফটটির ত্বরণ হবে ৪ এবং সেক্ষেত্রে বস্তুর ত্বরণ হবে (g - g) = 0 সুতরাং বস্তুর ওজন হবে W = mx0=0 নিউটন। মহাশূন্যচারী মহাশূন্যযানে পৃথিবী প্রদক্ষিণরত থাকার সময় নিজেকে ওজনহীন মনে করেন কারণ মহাশূন্যচারীরা মহাশূন্যযানে করে পৃথিবীকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় বৃত্তকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে থাকেন। এই বৃত্তাকার গতির জন্য মহাশূন্যযানের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ঐ উচ্চতায় ৪ এর মানের সমান মানের একটি ত্বরণ হয়। এই অবস্থায় মহাশূন্যযানের দেয়ালের সাপেক্ষে মহাশূন্যচারীর ত্বরণ (g - g) = 0 হয় এবং মহাশূন্যচারী মহাশূন্যযানের দেয়াল বা মেঝেতে কোনো বল প্রয়োগ করে না। ফলে তিনি তাঁর ওজনের বিপরীত কোন প্রতিক্রিয়া বলও অনুভব করেন না। তাই তিনি ওজনহীনতা অনুভব করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সরল দোলক (Simple Pendulum)
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে, তবে তাকে সরল দোলক বলে।
দোলকের দোলনকাল তার কার্যকরী দৈর্ঘ্য এবং ঐ স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
ক) কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো সরল দোলকের দোলনকাল (T) এর কার্যকরী দৈর্ঘ্যের (L) বর্গমূলের সমানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
যখন L ধ্রুব।
সরল দোলকের সুতার দৈর্ঘ্য কমলে, দোলনকাল কমে। শীতকালে দোলক ঘড়ির কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে যায় বলে দোলনকাল হ্রাস পায়। ফলে ঘড়িটি দ্রুত চলে। গ্রীষ্মকালে অধিক তাপমাত্রার কারণে দোলক ঘড়ির কার্যকরি দৈর্ঘ্য বাড়ে। ফলে দোলনকাল বাড়ে এবং ঘড়িটি ধীরে চলে।
খ) সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে এর দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
যখন L ধ্রুব।
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বাড়লে, সরলদোলকের দোলনকাল কমে। বিষুবরেখা অপেক্ষা মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি হয়। এজন্য একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে এর দোলনকাল হ্রাস পায়। ফলে ঘড়িটি দ্রুত চলে।
গ) দোলনকাল ববের ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। যেমন: একজন বালিকা দোলনায় দোল খাচ্ছে। সে উঠে দাড়ালে দোলনকালের কোনো পরিবর্তন হবে না।
সরল দোলকের দোলন কাল T, কার্যকরি দৈর্ঘ্য L এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলে -
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কেপলারের সূত্র (Kepler's Law)
জ্যোর্তিবিজ্ঞানে কেপলারের গ্রহীয় গতিসূত্র সূর্যের চারিদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে। বিখ্যাত জার্মান জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র প্রদান করেছেন, যা পরবর্তীতে কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। সূত্রগুলো হল:
১. প্রতিটি গ্রহের কক্ষপথ একটি উপবৃত্ত, সূর্য যার একটি ফোকাসে অবস্থিত।
২. সূর্য এবং একটি গ্রহকে সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
৩. একটি গ্রহের পর্যায়কালের বর্গ সূর্য হতে ঐ গ্রহের গড় দুরত্বের ঘনফলের সমানুপাতিক। অর্থ্যাৎ।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তরল: পদার্থ যখন তরল অবস্থায় থাকে তখন কণাগুলো তুলনামূলকভাবে কাছে হলেও একটা কণা অন্য কণার সাপেক্ষে নড়তে পারে, তাই সেগুলোর নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও কোনো নিয়মিত আকার নেই এবং তরল সহজেই প্রবাহিত হয়। তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। তরল পদার্থের কণাগুলো কাছাকাছি থাকায় সেগুলোর মধ্যে ফাঁকা জায়গা নেই বলে চাপ দিয়ে সংকুচিত করা যায় না।
বায়বীয় পদার্থ: নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, পাত্রকে সম্পূর্ণ পূর্ণ করে ।
ঘনত্ব (Density)
বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। কোন বস্তুর ঘনত্ব বস্তুর উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলের মানকে চাপ বলে। চাপের একক প্যাসকেল।
1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = 101325 প্যাসকল।
চাপ = বল/ক্ষেত্রফল
প্যাসকেলের সূত্র: "পাত্রে আবদ্ধ তরল বা বায়বীয় পদার্থের কোন অংশের উপর বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ কিছুমাত্র না কমে তরল বা বায়বীয় পদার্থের সব দিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয় এবং তরল বা বায়বীয় পদার্থের সংলগ্ন পাত্রের গায়ে লম্বভাবে ক্রিয়া করে।" প্যাসকেলের সূত্রের উপর ভিত্তি করে হাইড্রোলিক প্রেস তৈরি করা হয়েছে।
কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো ব্যক্তির ওজন (বল) অপরিবর্তিত থাকে। শোয়া অবস্থায় শরীরের অধিক অংশ (ক্ষেত্রফল) পৃথিবীর সংস্পর্শে থাকে। ফলে বল অধিক ক্ষেত্রফলের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রযুক্ত হয়। এজন্য শোয়া অবস্থায় মানুষ সবচেয়ে কম চাপ দেয়। আবার দৌড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি পা পৃথিবীর সংস্পর্শে থাকে। এখানে ব্যক্তির ওজন (বল) শুধু একটি পায়ের (স্বল্প ক্ষেত্রফলের) মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রযুক্ত হয়। এজন্য দৌড়ানো অবস্থায় মানুষ পৃথিবীকে সবচেয়ে বেশি চাপ দেয়। বিভিন্ন অবস্থায় মানুষের চাপ প্রয়োগের ক্রম: দৌড়ানো > দাড়ানো > বসা > শোয়া।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্লবতা (Buoyancy)
কোনো বস্তু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে নিমজ্জিত করলে তরল বা বায়বীয় পদার্থের চাপের জন্য বস্তু উপরের দিকে যে লব্ধি বল অনুভব করে, তাকে প্লবতা বলে। লবণাক্ত পানি সুস্বাদু পানি অপেক্ষা ভারী। এজন্য সাগরের পানির ঘনত্ব পুকুর, বিল, নদী বা সুইমিং পুলের পানির ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি হয় এবং সাগরের পানি অপেক্ষাকৃত অধিক উর্ধ্বমুখী চাপ দেয়। সাগরের পানির প্লবতা অপেক্ষাকৃত বেশি বলে-

১. সাগরে সাঁতার কাটা পুকুর, বিল, নদী বা সুইমিং পুল অপেক্ষা সহজ।

২. একটি জাহাজ সমুদ্র হতে নদীতে প্রবেশ করলে জাহাজের তল আরও ডুববে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পুকুরে
বিলে
নদীতে
সাগরে
আর্কিমিডিস এর নীতি (Archimedes' Principle)
আর্কিমিডিস একজন গ্রিক গণিতবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। তিনি আনুমানিক ২৮৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিসের সিসিলি দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, “বস্তুকে কোনো স্থির তরল অথবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ ডুবালে বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। এই হারানো ওজন বস্তুটির দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান।"
| বস্তুর ওজন > বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন | বস্তুটি ডুবে যাবে |
| বস্তুর ঘনত্ব > তরলের ঘনত্ব | |
| বস্তুর ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন | বস্তুটি সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে |
| বস্তুর ঘনত্ব = তরলের ঘনত্ব | |
| বস্তুর ওজন < বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন | বস্তুটি ভাসবে |
| বস্তুর ঘনত্ব < তরলের ঘনত্ব |
আর্কিমিডিসের নীতির প্রয়োগের উদাহরণ
১. পানি বরফে পরিণত হলে এর আয়তন বেড়ে যায়। সুতরাং বরফের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম আর তাই বরফ পানিতে ভাসে।
২. লোহা পানিতে ভাসে না কিন্তু লোহার তৈরি জাহাজ পানিতে ভাসে। আর্কিমিডিসের সূত্র দ্বারা জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। লোহার টুকরা পানিতে ভাসে না কারণ লোহার খণ্ড দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লোহা খণ্ডের ওজনের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু লোহার তৈরি হলেও জাহাজ পানিতে ভাসে কারণ জাহাজের ভিতরটা ফাঁপা। ফলে জাহাজ যে আয়তনের পানি অপসারণ করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে বেশি হয়। এতে জাহাজ পানিতে নামালে প্রথমে ডুবতে শুরু করে। খানিকটা ডুবার পর যখন অপসারিত পানির ওজন জাহাজের ওজনের সমান হয় তখন জাহাজটি ভাসতে থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্লিমসল লাইন (Plimsoll line)
প্লিমসল লাইন অতিরিক্ত মাল বোঝাই এড়ানোর জন্য জাহাজের গায়ে চিহ্নিত রেখাকে প্লিমসল লাইন বলে।
পৃষ্ঠটান (Surface Tension)
তরল মাত্রই একটি ধর্ম আছে - তরল পৃষ্ঠ সর্বদা সংকুচিত হয়ে সর্বনিম্ন ক্ষেত্রফলে আসতে চায়। তরলের মধ্যে যে বলের প্রভাবে এই বিশেষ ধর্ম প্রকাশ পায়, সেই বলকেই পৃষ্ঠটান বলে। তাপমাত্রা বাড়লে তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে পৃষ্ঠটানের একক নিউটন/মিটার। তলীয় টানের জন্য পানির ছোট ফোঁটা বা বৃষ্টির ফোঁটা গোলাকৃতি হয়। পৃষ্ঠটানের জন্যই নদীর তীরে ভিজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে পদচিহ্ন মুছে যায়।
জেনে রাখা ভাল
১. কৈশিক চাপের কারণে কুপি হতে সলিতায় তেল আসে।
২. ডিম বক্র বহিরাবরণের কারণে ডিমকে দুই হাতে চেপে ভাঙ্গা যায় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কৈশিক ক্রিয়া (Capillary action)
কৈশিক নল এর মধ্য দিয়ে তরলের উঠা বা নামা হল কৈশিক ক্রিয়া। কৌশিকী এর মাধ্যমে তরলের(যেমন পানি,তৈল ইত্যাদি) একটি অনুর উপর উঠে আসার সময় সংসক্তি বলের কারণে তার সাথে লেগে থাকা অন্য অনুটিয় উপরেও উঠে আসে। এ প্রক্রিয়ায় কুপি হতে সলিতায় তেল আসে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সান্দ্রতা (Viscosity)
তরল পদার্থের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণের ফলে প্রবাহে (বয়ে যেতে) বাধা দেবার প্রবণতাকে সান্দ্রতা বলে। সান্দ্রতার একক Poise.
তাপ ও তাপগতিবিদ্যা
তাপ ও তাপগতিবিদ্যা পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা তাপশক্তি, তাপমাত্রা, কার্য এবং শক্তির স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা করে। তাপ এক প্রকার শক্তি যা তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে প্রবাহিত হয় (SI একক জুল, J) ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তাপ (Heat)
তাপ এক প্রকার শক্তি যা ঠাণ্ডা বা গরমের অনুভূতি জাগায়।
একক: তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই আন্তর্জাতিক (S.I) পদ্ধতিতে তাপের একক জুল (J)। সিজিএস পদ্ধতিতে তাপের একক ক্যালরি। এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° সেলসিয়াস বৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন, তাকে 1 ক্যালরি তাপ বলে।
1 ক্যালরি (cal) =4.2 জুল (j)
তাপমাত্রা বা উষ্ণতা ( Temperature)
তাপমাত্রা হচ্ছে কোন বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা নির্ধারণ করে ঐ বস্তুটি অন্য বস্তুর তাপীয় সংস্পর্শে এসে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে।
একক: আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে (SI) তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)। সিজিএস পদ্ধতিতে উষ্ণতার একক হলো ডিগ্রি সেলসিয়াস (C)।
সেলসিয়াস, ফারেনহাইট এবং কেলভিন স্কেলের মধ্য সম্পর্ক
সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রার পরিবর্তন = কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রার পরিবর্তন। উদাহরণ: সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রা 15° পরিবর্তিত হলে কেলভিন স্কেলে 15° তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়।
তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেলের তুলনামূলক চিত্র
স্কেলের নাম | সংকেত | নিম্ন স্থিরাঙ্ক | উর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক |
বরফের গলনাংক | পানির স্ফুটনাংক | ||
| সেলসিয়াস/সেন্টিগ্রেড | C | 0° | 100° |
| ফারেনহাইট | F | 32° | 212° |
| কেলভিন | K | 273° | 373° |

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরম শূন্য তাপমাত্রা ( Absolute zero temperature)
যে তাপমাত্রায় কোনো গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়ে যায়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। - ২৭৩০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলা হয়। পরমশূন্য তাপমাত্রাকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বা চরম শূন্য তাপমাত্রা বা চরম শীতলতাও বলা হয়।
0° সেলসিয়াস = - 273° কেলভিন = 459.4° ফারেনহাইট
তাপমাত্রার কেলভিন স্কেলে 'শূন্য' ডিগ্রি সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা।
প্রমাণ তাপমাত্রা এবং চাপ (Standard Temperature and Pressure)
০°C তাপমাত্রা বা ২৭৩K তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা বলে। ৭৬৯ মিলিমিটার বা ৭৬ সেন্টিমিটার পারদচাপকে প্রমাণ চাপ বলে।
NTP = Normal Temperature & Pressure
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার (Clinical Thermometer)
যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে। এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট (F) স্কেল ব্যবহার করা হয়। ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে 95 - 110° ফা. পর্যন্ত দাগ কাঁটা থাকে। মানব দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা 98.4° ফারেনহাইট বা 36.9° সেলসিয়াস।

পদার্থের তাপজনিত প্রসারণ (Thermal Expantion of Material)
কঠিন পদার্থের পদার্থের প্রসারণ তিন প্রকার হয়; যথা- দৈর্ঘ্য প্রসারণ, ক্ষেত্র প্রসারণ এবং আয়তন প্রসারণ। কিন্তু তরল এবং বায়বীয় পদার্থের প্রসারণ বলতে এদের আয়তন প্রসারণকে বুঝায়। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সকল পদার্থই তাপ প্রয়োগে প্রসারিত এবং তাপ অপসারণ করলে সংকুচিত হয়। গ্যাসীয় পদার্থের চেয়ে তরল পদার্থের প্রসারণ অপেক্ষাকৃত কম এবং কঠিন পদার্থের প্রসারণ হয় সবচেয়ে কম। তাপ প্রয়োগে পদার্থের প্রসারণের ক্রম: বায়বীয় পদার্থ > তরল পদার্থ > কঠিন পদার্থ ।
প্রসারণের কয়েকটি উদাহরণ
১. মাঝখানে গোলাকার ছিদ্রবিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে প্লেটের প্রসারণের ফলে মাঝখানের ছিদ্রটির ব্যাস কমবে।
২. পুরু কাচের গ্লাসে গরম পানীয় ঢাললে গ্লাসটি ফেটে যায়। গ্লাসে গরম পানীয় ঢালার ফলে ঐ গ্লাসের ভিতরের অংশ গরম পানির সংস্পর্শে প্রসারিত হয়। কিন্তু কাচ তাপর কুপরিবাহক বলে ঐ তাপ বাহিরের অংশে সঞ্চালিত হতে পারে না। তাই ভিতরের অংশ প্রসারিত হলেও বাহিরের অংশ প্রসারিত হতে পারে না। ফলে গ্লাসের ভিতর ও বাহিরে অসম আয়তন প্রসারণের জন্য গ্লাসটি ফেটে যায়।
৩. সূর্যের তাপে বা যখন ট্রেন চলে তখন চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেললাইন প্রসারিত হয়। ফিসপ্লেট দ্বারা রেললাইনের দুইটি রেলকে সংযুক্ত করা হলেও দুটি রেলের সংযোগস্থলে ফাঁক রাখা হয়, যাতে রেললাইন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। এরূপ ফাঁক না রাখলে এই প্রসারণের ফলে লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
৪. বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ঝুলিয়ে টানা হয়। কারণ তাপমাত্রা হ্রাস পেলে ধাতব তার সঙ্কুচিত হয়। তারগুলো যদি টান টান থাকে তাহলে শীতকালে সঙ্কোচনের ফলে ছিড়ে যেতে বা পোস্ট ভেঙ্গে যেতে পারে, তাই তারগুলো ঢিলা রাখা হয় যেন ছিঁড়ে না যায়।
৫. একখণ্ড পাথরকে উত্তপ্ত করলে পাথরের ভেতরের অংশ থেকে বাহিরের আবরণ বেশি উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়, তাই ফেটে যায়।
পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion of water)
তরল পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তার আয়তন বাড়ে, তাপ অপসারণ করলে আয়তন কমে। কিন্তু ০° সে. তাপমাত্রার পানিকে উত্তপ্ত করলে এর আয়তন বাড়ে না বরং কমে। ৪° সে. তাপমাত্রা পর্যন্ত এরূপ ঘটে। ৪° সে. তাপমাত্রার পানিতে গরম বা ঠাণ্ডা যাই করা হোক না কেন তা প্রসারিত হয়। এটি তরল পদার্থের প্রসারণের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। তাই পানির এ প্রসারণকে ব্যতিক্রমী প্রসারণ বলে। ৪° সেলসিয়াল উষ্ণতায় পানির ঘনত্ব তাই সবচেয়ে বেশি। পানির এ ব্যতিক্রমী প্রসারণের জন্য শীতপ্রধান দেশে পুকুর, নদী বা সাগরের জলজ জীবেরা বেচে থাকতে পারে। পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণের জন্য পুকুর, নদী বা সাগরের সমস্ত পানি জমে বরফ হয়ে যায় না। উপরে বরফ জমে গেলেও নিচে ৪° সে. তাপমাত্রার পানি থেকে যায় বলে জলজ জীবের পক্ষে বেচে থাকা সম্ভব হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
গলনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব (Effect of pressure on Melting point)
তাপ প্রয়োগে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হওয়াকে গলন বলে। কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে প্রথমে তার উষ্ণতা বাড়তে থাকে। একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ উষ্ণতা স্থির থাকে। এ নির্দিষ্ট উষ্ণতাকে কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। যেমন: স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস বা ৩২° ফারেনহাইট।
অধিকাংশ পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন কমে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা যায়। যেমন: বরফ ( পানি), ঢালাই,লোহা,পিতল,বিসমাথ,অ্যান্টিমনি ইত্যাদি। এসব পদার্থ কঠিন থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হলে আয়তন কমে যায় আর তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বেড়ে যায়। কঠিন হতে তরলে রপান্তরের সময় যেসব পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়, চাপ বাড়লে ঐই সকল পদার্থ গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। আর যেসব পদার্থ কঠিন হতে তরলে রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায়,চাপ বাড়ালে ঐই সকল পদার্থ গলনাঙ্ক কমে যায়।
পুন:শিলীভবন (REGELATION)
দুই টুকরো বরফে একত্রে ধীরে চাপ দিলে ওরা জোড়া লেগে যায়। যখন বরফ টুকরো দুইটির উপর চাপ দেয়া হয়, তখন তাদের সংযোগস্থলে গলনাঙ্ক ০° সে. এর নিচে নেমে আসে। কিন্তু সংযোগস্থলের তাপমাত্রা ০° থাকায় ঐ জায়গায় বরফ গলে যায়। এখন যেই চাপ অসাধারণ করা হয়, তখন গলনাঙ্ক আবার ০° সে. এ চলে আসে; ফলে সংযোগস্থলের বরফ গলা পানি জমাট বেধে টুকরো দুটিকে জুড়ে দেয়। এভাবে চাপ দিয়ে কঠিন বস্তকে তরলে পরিণত করে ও চাপ হ্রাস করে আবার কঠিন অবস্থায় আনাকে পুনঃশিলীভবন বলে।
স্ফুটনাঙ্কের উপর চাপের প্রভাব (Effect of pressure on Boiling point)
তাপ দিলে তরল পদার্থের উষ্ণতা বাড়তে শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে পরিণত হতে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ তরল বাষ্পে পরিণত না হয় ততক্ষণ ঐ উষ্ণতা স্থির থাকে। ঐ নির্দিষ্ট উষ্ণতাকে তরল পদার্থের স্ফুটনাংক বলে। যেমন: স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস বা ২১২° ফারেনহাইট। স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ৩০ মিনিট ধরে স্ফুটন করলে পানি জীবাণুমুক্ত হয়।
খোলা পাত্রে রাখা তরলের ওপরে কিছু বাষ্প থাকে । পাত্রটি যদি শূন্যস্থানে থাকত তাহলে তরলের উপরিস্থিতি বাষ্পকে ঠেকিয়ে রাখার মতো কোনো চাপ থাকত না, ফলে সমস্ত তরল বাষ্প হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে বায়ুচাপ তরলের বাষ্প অনুগুলোকে ছড়িয়ে পড়তে দেয়না। কক্ষ তাপমাত্রা পানির বাষ্পচাপ বায়ুর চাপের তুলনায় কম হয়, এই কারণে পানির বাষ্প বায়ুর অনুগুলোকে সরিয়ে মুক্ত হতে পারে না কিন্তু তাপমাত্রা যতই বাড়ানো হয়, পানির গড়গতি শক্তি বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ আরও বেশি সংখ্যক অনু বাষ্পে যেতে পারে। এইভাবে যতই তরলের বাষ্প মুক্ত হতে থাকে, তরলস্থিত বাতাসের অনুগুলোকে সরিয়ে মুক্ত হতে পারে। এইভাবে যতই তরলের বাষ্প মুক্ত হতে থাকে, তরলস্থিত অনুও একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়। সেই তাপমাত্রাকে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বলে। এজন্য চাপ বাড়ালে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় এবং চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়। স্বাভাবিক বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সে.। কিন্তু বায়ুর চাপ কম থাকায় এভারেস্ট পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কম বলে কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে, কিন্তু মাছ,মাংস,ডিম প্রভৃতি দ্রুত সিদ্ধ হয়না। এজন্য সুউচ্চপাহাড় বা পরবর্তের চূড়ায় রান্না করা দূরহ হয়ে পড়ে। ঢাকনা দেয়া পাত্র বা প্রেসার কুকার ব্যবহার করে এই অসুবিধা কাটানো যায়। প্রেসার কুকার উচ্চটাপে পানি স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। ফলে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমতে থাকে । কাজেই উপরে উঠলে দেহের ভেতরের চাপ বাহিরের বায়ুর চাপ অপেক্ষা অধিক হলে দেহের রক্তনালীতে প্রচন্ড চাপ পড়ে। এ চাপে নাক – মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। এ জন্য পর্বত আরোহীকে আটসাট পোশাক পরিধান করতে হয়।
সমুদ্রতলে এবং ভূ-পৃষ্ঠ হতে ২ মাইল উঁচুতে (যেমন- পাহাড়ে) বায়ুতে অক্সিজেনের শতকরা সঙযুক্তি প্রায় সমান (২১%)। কিন্তু ভূ-পৃষ্ঠ হতে ২ মাইল বায়ুমন্ডলীয় চাপ সমুদ্রতলের বায়ুমন্ডলীয় চাপ অপেক্ষা ৩০% কম অর্থাৎ উঁচু স্থানে বায়ুর অণুসমূহ পরস্পর হতে দূরে অবস্থান করে চাপ কম হওয়ায় বায়ু হতে কম অক্সিজেন শরীরের রক্তনালীতে প্রবেশ করে। ফলে শ্বাস কষ্ট হয়। এজন্য পর্বত আরোহীরা উঁচু পর্বতে উঠতে গেলে সিলিন্ডারে করে অক্সিজেন নিয়ে যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাষ্পীভবন (Vaporization)
কোনো পদার্থের তরল অবস্থা থেকে বায়বীয় অবস্থায় পরিবর্তনকে বাষ্পীভবন বলে। সাধারণত দুভাবে বাষ্পীভবন সংঘটিত হয়। যথা- (ক) স্বতঃবাষ্পীভবন (Evaporation) (খ) স্ফুটন (Boiling)
বাষ্পীভবনের কয়েকটি উদাহরণ
১. মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে পানি কলসীর উপরিতলে এসে পৌঁছে এবং পানি বাষ্পায়ন ঘটে। বাষ্পায়নের প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ কলসীর পানি হতে গৃহীত হয়। ফলে তাপ হারিয়ে কলসীর পানি শীতল হয়।
২. ফ্যান চালালে আমরা ঠাণ্ডা অনুভব করি কারণ ফ্যান শরীর থেকে বাষ্পীভবনের হার বাড়িয়ে দেয়।
৩. ভিজাকাপড় গায়ে রাখলে কাপড়ের পানি ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হতে থাকে। এ বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ শরীর হতে গৃহীত হয়। ফলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। বেশিক্ষণ শরীরে বাষ্পীভবন হলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং সর্দি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তাপ সঞ্চালন (Transmission of Heat)
তাপ সঞ্চালন হল তাপের স্থান পরিবর্তন, যা সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থান হতে নিম্ন তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থানে প্রবাহিত হয়।- তাপ তিন পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে। যথা: পরিবহন, পরিচলন এবং বিকিরণ।
পরিবহন (Conduction)
যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন না করে শুধু স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে পদার্থের উষ্ণতর অংশ হতে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত করে সেই পদ্ধতিকে পরিবহন পদ্ধতি বলে।
তাপের পরিবহনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো-
১. জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাই শূন্যস্থানের তাপের কোনো পরিবহন হয় না। এ পদ্ধতিতে মাধ্যম উত্তপ্ত হয় কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে না।
২. পরিবহন তাপ সঞ্চালনের ধীরতম পদ্ধতি।
৩. সাধারণত কঠিন পদার্থে এ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়। কঠিন পদার্থের মধ্যে দিয়ে তাপের পরিবহন সবচেয়ে বেশি হয়, তরলে তার চেয়ে কম, বায়বীয় পদার্থে অত্যন্ত কম। তাপ পরিবাহকত্বের মান পরিবাহকের উপাদান উপর নির্ভর করে। তামা সর্বোত্তম তাপ পরিবাহক। সাধারণত তাপ সুপরিবাহী পদার্থ বিদ্যুৎ সুরিবাহী হয়। মিকা এর ব্যতিক্রম। মিকা উত্তম তাপ পরিবাহক হলেও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী।
পরিচলন (Convection)
যে পদ্ধতিতে তাপ কোন পদার্থের অনুগুলোর চলাচল দ্বারা উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হয় তাকে পরিচলন পদ্ধতি বলে।
তাপের পরিচলনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো-
১. জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। মাধ্যম উত্তপ্ত হয় এবং মাধ্যমের কণাগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে।
২. এটি পরিবহনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দ্রুত পদ্ধতি।
৩. তরল ও বায়বীয় পদার্থে তাপ সঞ্চালিত হয়।
বিকিরণ (Radiation)
যে পদ্ধতিতে তাপ জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই তাড়িত চৌম্বক তরঙ্গের আকারে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে।
তাপের বিকিরণের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো-
১. জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
২. তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া বিকিরণ। তাপ তাড়িত চৌম্বক তরঙ্গ আকারে সরলরেখায় আলোর বেগে সঞ্চালিত হয়।

৩. বায়বীয় ও শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়। শূন্যস্থান (Vaccum) এ তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চারিত হয়।
তাপের সঞ্চালনের উদাহরণ-
১. তাপের পরিবহনের জন্য চুলার উপর রাখলে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কেটলির হাতল গরম হয়।
২. রান্না করার হাড়ি-পাতিল সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
৩. শীতকালে সুতোর কাপড়ের চেয়ে পশমের কাপড় পরলে বেশি গরম অনুভূত হয়। কারণ পশম তাপের কুপরিবাহী। পশমের মধ্যে অনেক আঁশ আলগাভাবে থাকে। তাই পশমের ফাঁকে ফাঁকে অনেক বেশি পরিমাণ বাতাস আটকে থাকতে পারে। আবার বাতাসও তাপের কুপরিবাহী। তাই পশমের পোশাক পরলে পশম এবং এর মধ্যে আটকে থাকা বায়ু আমাদের শরীরের তাপ বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। এ জন্য শরীর গরম থাকে। সুতোর কাপড়ের আঁশগুলো আলগাভাবে থাকে না। তাই সুতোর ফাঁকে বায়ুস্তর, আটকে থাকতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। এ জন্য শীতকালে সুতোর কাপড় পরলে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।
৪. শীতে শরীর কাঁপে কারণ শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম।
৫. সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
৬. আগুনের পাশের কোনো স্থান থেকে একই দূরত্বে ঠিক উপরে বেশি গরম লাগে কারণ আগুনের পাশের কোনো স্থানে তাপ শুধু বিকিরণ পদ্ধতিতেই সঞ্চালিত হয়। কিন্তু একই দুরত্বে উপরের কোনো স্থানে তাপ বিকিরণ পদ্ধতি ছাড়াও পরিচলন পদ্ধতিতেও সঞ্চালিত হয়। কাজেই একই দূরত্বে পাশের কোন স্থান থেকে উপরের কোনো স্থানে দুই পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হওয়ায় বেশি তাপ সঞ্চালিত হয়। ফলে পাশের কোন স্থান থেকে একই দূরত্বে ঠিক উপরে বেশি গরম লাগে।
৭. একটি জ্বলন্ত বৈদুতিক বাতি গরম থাকে, কারণ ভিতরের ফিলামেন্ট থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে বাতির গায়ে তাপ যায়।
৮. মেঘলারাত্রি অপেক্ষা মেঘহীন রাত্রি শিশির জমার জন্য অধিক অনুকূল। কারণ দিবাভাগে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ শোষণ করে এবং রাত্রিকালে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। মেঘ তাপরোধী পদার্থ। তাই মেঘলারাত্রিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপ মেঘের মধ্যে দিয়ে উর্ধ্বাকাশে যেতে পারে না উপরন্তু মেঘ দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে। ফলে ভূ-পৃষ্ঠ ঠাণ্ডা থাকে না এবং শিশির জমে না।
পক্ষান্তরে মেঘহীন রাত্রিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপ উর্ধ্বাকাশে চলে যায়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠ শীতল হয় এবং শিশির জমার জন্য অধিক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
৯. টিন বেশি মাত্রায় তাপ বিকিরণ করে বলে টিনের ঘরে বেশি গরম লাগে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তাপের শোষণ এবং বিকিরণ ( Heat absorption and radiation)
কালো রঙের বস্তুর তাপ বিকিরণ এবং শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এজন্য গ্রীষ্মকালে কালো কাপড় পরিধান করা কষ্টদায়ক। কালো রঙ অধিক তাপ শোষণ করে বলে ছাতার কাপড়ের রঙ সাধারণত কালো হয়্ তাপ বিকিরণ ক্ষমতা অধিক বলে কালো রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়। সাদা রঙের বস্তু রতাপ বিকিরণ এবং শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম। এজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় পরিধান করা আরামদায়ক। তাপের বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য শহরের রাষ্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ সাদা ছাতা ও জামা ব্যবহার করে। তাপ বিকিরণ ক্ষমতা কম বলে সাদা রঙের কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat)
কোনো বস্তুর 1 কেজি (Kg) ভরের তাপমাত্রা 1 কেলভিন (K) বাড়াতে যে তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। আপেক্ষিক তাপের একক জুল/ কেজি-কেলভিন (JKg-1K-1)। যেমন: পানির আপেক্ষিক তাপ 4200 JKg-1K-1, দুধের আপেক্ষিক তাপ 3930 JKg-1K-1। অন্যান্য পদার্থের তুলনায় পানির আপেক্ষিক তাপ অনেক বেশি। অনেক তাপ শোষণ করলেও পানির উষ্ণতা অল্প বৃদ্ধি পায়। পানির উচ্চ আপেক্ষিক তাপের জন্যই মোটরগাড়ির ইঞ্জিনকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য পানি ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তাপধারণ ক্ষমতা (Heat Capacity)
কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বলে। তাপধারণ ক্ষমতার একক জুল/ কেলভিন। (Jk-1)।
তাপধারণ ক্ষমতা = ভর আপেক্ষিত তাপ।
তাপ ইঞ্জিন ( Heat Engine)
যে যন্ত্র তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তাপ ইঞ্জিন বলে। যেমন: বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি ।
এক নজরে তাপীয় ইঞ্জিনসমূহ
তাপ ইঞ্জিন | আবিষ্কারক | দেশ | সময়কাল |
| বাষ্পীয় ইঞ্জিন | জেমসওয়াট | স্কটল্যান্ড | ১৭৮১ |
| রেলওয়ে ইঞ্জিন | ষ্টিফেনসন | যুক্তরাজ্য | ১৮২৫ |
| পেট্রোল ইঞ্জিন | ড. অটো | জার্মানি | ১৮৭৬ |
| ডিজেল ইঞ্জিন | রুডলফ ডিজেল | জার্মানি | ১৮৯২ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পেট্রোল ইঞ্জিন (Petrol Engine)

পেট্রোল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে। কারবুরেটরে পেট্রোলকে বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয়। এই পেট্রোল বাষ্পকে যথাযথ অনুপাতে বায়ুর সাথে মিশিয়ে বিস্ফোরক গ্যাসে পরিণত করা হয়। এই মিশ্রণ ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। পেট্রোল ইঞ্জিন একটি চতুর্ঘাত ইঞ্জিন। এ ইঞ্জিনে পিস্টনের দু'বার সামনে এবং দু'বার পিছনে এই চারবার গতির সময়ে মাত্র একবার জ্বালানি সরবরাহ করা হয় বলে এই ইঞ্জিনটিকে চতুর্ঘাত ইঞ্জিন বলে। ১৮৮৬ সালে ড. অটো সর্বপ্রথম সফলতার সাথে এই ইঞ্জিন চালু করেন বলে চক্রের পরপর চারটি ঘাতের ক্রিয়াকে অটোচক্র বলে। পেট্রোল ইঞ্জিনের দক্ষতা প্রায় ৩০%। মোটরগাড়ি, লঞ্চ, এরোপ্লেনে এ ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। সি.এন.জি চালিত গাড়িগুলোও অটো চক্রে চলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রেফ্রিজারেটর বা হিমায়ক (Refrigerator)
রেফ্রিজারেটরে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে বাষ্পীভবন কুণ্ডলী। এই কুণ্ডলীতে থাকে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন (বা অ্যামোনিয়া)। বাষ্পীভবন কুণ্ডলীতে নিম্নচাপে ফ্রেয়ন বাষ্পীভূত হয়। বাষ্পীভবনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ ফ্রেয়ন শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে। বাষ্পীভূত ফ্রেয়নকে ঘনীভবন কুণ্ডলীর (Condenser) মধ্যে এনে কমপ্রেসরের সাহায্যে ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করে। এ সময় ফ্রেয়ন গ্যাস সুপ্ততাপ বর্জন করে পুনরায় তরলে পরিণত করা হয়। ঘনীভবন কুণ্ডলীর সাথে সংযুক্ত তামার জালিতে এ তাপ পরিবহন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয় এবং সেখান থেকে পরিচলন এবং বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। শীতলীকরণ ফ্রেয়নকে পুনরায় বাষ্পীভবন কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে চালনা করে সমস্ত প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করা হয়। একটি বদ্ধ ঘরে একটি চালু ফ্রিজের দরজা খুলে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে কারণ ঘরটি বদ্ধ বলে ফ্রেয়ন সুপ্ততাপ ঘর থেকে গ্রহণ করবে আবার ঘরেই সুপ্ততাপ বর্জন করবে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Air Conditioning)
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বাতাসে (indoor air) আর্দ্রতার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি। বিশদ অর্থে শীতলীকরণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বাতাসের গতি নিয়ন্ত্রণ ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণই হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
থার্মোফ্লাষ্ক (Thermo Flask)
থার্মোফ্লাস্ক দুই দেয়াল বিশিষ্ট কাচের পাত্র। এর দেয়াল কাচের তৈরি এবং মুখ কর্ক দিয়ে বন্ধ করা থাকে। তাই তাপ পরিবহন হয় খুব কম। দুই দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থান বায়ুশূন্য বলে তাপ পরিবহন বা পরিচলন পদ্ধতিতে ভেতর থেকে বাহিরে বা বাহির থেকে ভিতরে যেতে পারে না। দুই দেয়ালই রূপার প্রলেপ দিয়ে চকচক করা থাকে বলে বিকিরণ পদ্ধতিতেও ভিতরের তাপ বাহিরে বা বাহিরের তাপ ভিতরে যেতে পারে না।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এক প্রকার শক্তি। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের প্রয়োগ দেখা যায়। তড়িৎ বা বিদ্যুৎ হল পদার্থের একটি ধর্ম যা কোনো তড়িৎ পরিবাহকের (Conductor) মধ্যে দিয়ে তড়িৎ আধানের বা ইলেকট্রন প্রবাহের (Flow of electrons) ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়। তড়িৎ দুই প্রকার: স্থির তড়িৎ (Statical Electricity) এবং চল তড়িৎ (Current Electricity)। চল তড়িৎ দুই প্রকার- যথা: সমপ্রবাহ (Direct current বা D.C) এবং পর্যাবৃত্ত প্রবাহ (Alternating current বা A.C)। তড়িৎ প্রবাহ যদি সর্বদা একই দিকে প্রবাহিত হয় বা সময়ের সাথে তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না হয় তাহলে সেই প্রবাহকে সমপ্রবাহ বলে। তড়িৎকোষ (ব্যাটারি) থেকে আমরা সমপ্রবাহ পাই। যে তড়িৎ প্রবাহ নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে অথ্যাৎ যে তড়িৎ প্রবাহের দিক পর্যাবৃত্তভাবে পরিবর্তিত হয় তাকে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ বলে। আমাদের দেশে বাসাবাড়িতে যে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ ব্যবহার করা হয় তা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ (পঞ্চাশ) বার দিক পরিবর্তন করে। তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। যে চালিকা শক্তি বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে তড়িচ্চালক শক্তি বলে। তড়িচ্চালক শক্তির একক ভোল্ট। বৈদ্যুতিক চাপের পরিমাণকে 'Voltage' বলে। বাংলাদেশের বাসা-বাড়িতে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ২২০ ভোল্ট এ.সি।
তড়িৎ পরিবাহিতা (Electric Conductance)
তড়িৎ পরিবাহী ধর্মের উপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহ ৩ প্রকার। যথা:
১) পরিবাহক (Conductor)
২) অন্তরক (Insulator)
৩) অর্ধপরিবাহী (Semiconductor)
পরিবাহক (Conductor)
যেসব বস্তুর ভিতর তড়িৎ আধান সহজে চলাচল করতে পারে, তাদের বলা হয় পরিবাহক। সকল ধাতু, মানবদেহ, আর্দ্র বায়ু, পানি, মাটি প্রভৃতি বিদ্যুৎ পরিবহন করে। গ্রাফাইট অধাতু হলেও তড়িৎ পরিবাহী। রূপা সর্বোত্তম তড়িৎ পরিবাহক। আর্দ্র বায়ু বা মেঘযুক্ত তড়িৎ পরিবাহী বলে এর মধ্যে দিয়ে বিমান চালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্তরক বা অপরিবাহক (Insulator)
যেসব বস্তুর ভিতর দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না তাদের বলা হয় অন্তরক। অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম, শুষ্ক বাতাস প্রভৃতি অন্তরক পদার্থ।
অর্ধপরিবাহী (Semiconductor)
যেসব পদার্থের তড়িৎ পরিবাহীতা পরিবাহী পদার্থের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অন্তরক পদার্থের চেয়ে অনেক বেশী, তাদের অর্ধপরিবাহী, (Semiconductor) বলে। যেমন: সিলিকন (Silicon), জার্মেনিয়াম (Germenium) ক্যাডমিয়াম সালফাইড, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড প্রভৃতি।
বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রপাত (Shining Power & Lightning)
বাতাসে রয়েছে পানির কণা, ধূলিকণা এবং বিভিন্ন রকম গ্যাসের কণা। এইসব কণার মধ্যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন হয় স্থির বিদ্যুৎ অর্থাৎ কণাগুলো চার্জিত হয়। এরূপ কোটি কোটি চার্জিত পানি কণা মিলে সৃষ্টি হয় মেঘ। এই মেঘ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চার্জে চার্জিত হতে পারে। ধনাত্মক চার্জযুক্ত মেঘ এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত মেঘের মধ্যে আকর্ষণের ফলে পরস্পরের সাথে প্রবল বেগে ঘর্ষণ হয় এবং এই সাথে তাপ, আলো এবং শব্দের সৃষ্টি হয়। আলোর বেগ শব্দের বেগের চাইতে বহুগুণ বেশি বলে আমরা আলো আগে দেখি এবং শব্দ পরে শুনি। এই আলোর ঝমকানিকে বিদ্যুৎ চমকানো বলে। অনেক সময় তীব্র চার্জযুক্ত মেঘ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। তখন বিদ্যুৎক্ষরণ ঘটে বায়ুমণ্ডলকে ভেদ করে মেঘ এবং মাটির মধ্যে। একে বলা হয় বজ্রপাত। বজ্রপাতের সময় যে শব্দ শোনা যায়, তাকে বলে বজ্রনাদ। মাটির উপর যে জিনিস যত উঁচু সেই জিনিস মেঘের তত কাছাকাছি থাকে। তাই বজ্রপাত সাধারণত হয় উঁচু দালান বা গাছের মাথায়। এমনকি মাঠের মধ্যে দাড়িয়ে থাকা কোনো মানুষের মাথায়ও বজ্রপাত হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির সময় তাই গাছের নিচে বা খোলা স্থানে দাড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। বজ্রপাতের সময় থাকা উচিত গুহার ভিতর বা মাটিতে শুয়ে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচার কয়েকটি উপায় হলো:
১. দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নেওয়া।
২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন বা খুঁটি থেকে দূরে থাকা।
৩. বজ্রপাতের সময় গাড়ীর ভিতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়ীটিকে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া। গাড়ীর ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন; এমনকি গাড়ীর কাঁচেও হাত দিবেন না।
৪. বজ্রপাতের সময় খোলা ও উঁচু জায়গা হতে সাবধান। ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যাওয়া উচিত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রোধ (Resistance)
পরিবাহকের যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হয়, তাকে রোধ (Resistance) বলে। রোধের একক ওহম (Ohm)।
ও'মের সূত্র (Law's of Ohm)
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চলে, তা ঐ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। বিভব পার্থক্য = রোধ বিদ্যুৎ প্রবাহ (V = RI)
রোধের সূত্র (Law's of Resistance)
কোনো পরিবাহকের রোধ চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যথা: পরিবাহকের দৈর্ঘ্য, পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, পরিবাহকের উপাদান এবং পরিবাহকের তাপমাত্রা। একই উপাদানের তৈরি সুষম প্রস্থচ্ছেদের লম্বা তারের রোধ ছোট তার অপেক্ষা বেশি হয়। একই উপাদান এবং একই দৈর্ঘ্যের মোটা তারের চেয়ে চিকন তারের রোধ বেশি হয়।
১. অধিক দূরত্বে তড়িৎ প্রেরণে ভোল্টেজ বাড়ানো হয় এবং তড়িৎ প্রবাহ কমানো হয়, কারণ এতে তাপ শক্তি উৎপাদন কম হয় বলে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়।
২. বৈদ্যুতিক পাখার ঘূর্ণনের গতি রেগুলেটরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। রেগুলেটরে থাকে পরিবর্তনশীল রোধ। রেগুলেটরের রোধ বাড়িয়ে দিলে বিদ্যুৎ প্রবাহ কমে যায়, ফলে পাখা ধীরে ঘোরে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় না কারণ রেগুলেটরে সাশ্রয়কৃত বিদ্যুৎ তাপশক্তি হিসেবে অপচয় হয়।
৩. সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির ফিলামেন্টে রোধের কারণে তাপ সৃষ্টি হয়। ফলে তাপশক্তি হিসেবে কারণে বিদ্যুতের অপচয় হয়।
জেনে রাখা ভালো
১. PN-ডায়াডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে রোধ কমে।
২. PN-ডায়াডকে রিভার্স বায়াস করলে রোধ বাড়ে।
তড়িৎ পরিবাহিতা (Electric Conductance)
তড়িৎ পরিবাহিতা তড়িৎ মাধ্যমের একটি ধর্ম যা এর মধ্য যে তড়িৎ প্রবাহিত করতে সহায়তা করে। তড়িৎ পরিবাহিতার একক সিমেন্স। তড়িৎ পরিবাহী ধর্মের উপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী এবং অন্তরক।
(ক) পরিবাহক (Conductor): যে সব বস্তুর ভিতর তড়িৎ আধান সহজে চলাচল করতে পারে, তাদের বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে। সকল ধাতু, মানবদেহ, আর্দ্র বায়ু, পানি, মাটি প্রভৃতি বিদ্যুৎ পরিবর্তন করে। গ্রাফাইট অধাতু হলেও তড়িৎ পরিবাহী। রূপা সর্বোত্তম তড়িৎ পরিবাহক। আর্দ্র বায়ু বা মেঘযুক্ত তড়িৎ পরিবাহী বলে এর মধ্যে দিয়ে বিমান চালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
(খ) অন্তরক বা অপরিবাহক (Insulator): যেসব বস্তুর ভিতর দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না তাদের বলা হয় অন্তরক। যেমন; অধাতু,প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম, শুষ্ক বাতাস প্রভৃতি অন্তরক পদার্থ।
(গ) অর্ধপরিবাহী (Semiconductor): যেসব পদার্থের তড়িৎ পরিবাহীতা পরিবাহী পদার্থের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অন্তরক পদার্থের চেয়ে অনেক বেশী, তাদের অর্ধপরিবাহী বলে। যেমন : সিলিকন, জার্মেনিয়াম, ক্যাডমিয়াম সালফাইড, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড, ইনডিয়াম এবং অ্যানটিমোনাইড। তাপমাত্রা বাড়লে প্রায় সকল পরিবাহকেরই পরিবাহিতা হ্রাস পায়। তবে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। সিলিকন, জার্মেনিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী ধাতুর তাপমাত্রা বাড়লে এদের পরিবাহীতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। কার্বন অর্ধপরিবাহী না হলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তড়িৎ ক্ষমতা (Electrical Power)
কোন পরিবাহক বা তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক সেকেন্ড ধরে তড়িৎ প্রবাহের ফলে যে কাজ সম্পন্ন হয় বা যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে (আলো, তাপ, যান্ত্রিক শক্তি ইত্যাদি) রূপান্তরিত হয়, তাকে তাড়িৎক্ষমতা বা বৈদ্যুতিক ক্ষমতা বলে। বৈদ্যুতিক ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
P = VI = I2R = V2/R
তড়িৎ ক্ষমতার একক ওয়াট (watt)। ১ ওয়াট = ১ ভোল্ট ১ অ্যাম্পিয়ার। বৈদ্যুতিক বিল কিলোওয়াট-ঘন্টা (Kilowatt-hour) বা B.O.T এককে হিসাব করা হয়।
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ কিলোজুল (kj).
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তড়িৎ শক্তি (Electric Energy)
কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক 'কিলোওয়াট-ঘণ্টা'। এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র এক ঘণ্টা কাজ করলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, তাকে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বলে। সারা বিশ্বের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো এই একক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল প্রণয়ন করে। এ একককে বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট বা সংক্ষেপে শুধু ইউনিটও বলে। অর্থাৎ এক কিলোওয়াট ঘণ্টাকে এক ইউনিট ধরা হয়।
১ ইউনিট = ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ কিলোজুল = ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩.৬ ১০৬ জুল।
ফিউজ (Fuse)
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াবার জন্য ফিউজ তার ব্যবহার করা হয়। ফিউজ হচ্ছে নিম্ন গলনাঙ্কবিশিষ্ট ছোট সরু তার যা টিন (২৫%) ও সীসা (৭৫%) এর মিশ্রণে তৈরি একটি সংকর ধাতু।
সার্কিট ব্রেকার (Circuit Breaker)
সার্কিট ব্রেকার এক ধরনের ফিউজ যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তনী ভেঙ্গে দেয় আবার জোড়া লাগায়। বর্তনীতে কোনো কারণে হঠাৎ প্রবাহ বেড়ে সার্কিট ব্রেকার অফ হয়ে যায়। আবার বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বাভাবিক হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন হয়ে যায়। এভাবে সার্কিট ব্রেকার অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা পথকে উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে।
তাড়িত চৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction)
কোন তার বা তার কুন্ডলীর কাছে আমরা যদি কোন চুম্বককে নাড়াচাড়া করি বা আনা নেওয়া করি বা কোন চুম্বকের নিকট কোন তার কুন্ডলীকে আনা নেওয়া করি, তাহলে তার কুন্ডলীতে তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন করে। একে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডেকে তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কর্তা বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দূর-দূরান্তে তড়িৎ প্রেরণ
পাওয়ার স্টেশনে তড়িৎ উৎপাদন করা হয়। তড়িৎকে পাওয়ার স্টেশন থেকে একটি প্রেরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো হয়। এই ব্যবস্থায় পাওয়ার স্টেশনগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই ব্যবস্থার নাম জাতীয় গ্রীড। তড়িৎ প্রেরণ করা হয় তারের মাধ্যমে। এ সব তার উচু টাওয়ারের মাধ্যমে টানানো থাকে। প্রেরক তারে যে রোধ থাকে তা খুব সামান্য কিন্তু এই রোধ তাৎপর্যপূর্ণ রোধের কারণে তড়িৎ প্রবাহের সময় তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তি হিসাবে অপচয় হয়। দূরত্ব যত বেশি হয়, অপচয়ও তত বেশি হয়। এজন্য অধিক দূরত্বে তড়িৎ প্রেরণের সময় অপচয় রোধকল্পে আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে তড়িৎ প্রবাহ কমিয়ে ভোল্টেজ বাড়ানো হয়। এজন্য টাওয়ারের তারে উচ্চভোল্টেজের তড়িৎ থাকে, কিন্তু তড়িৎ প্রবাহের মান কম থাকে।
উচ্চ ভোল্টেজ এবং কম মানের তড়িৎ প্রবাহ গ্রাহকের ব্যবহার উপযোগী নয়। তাই এই ভোল্টেজ আবার অনেকগুলো অবরোহী বা নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মারের মধ্য দিয়ে চালনা করা হয়। এতে ভোল্টেজ কমে যায় এবং তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি পায়। ফলে তড়িৎ গ্রাহকের উপযোগী হয়। বাংলাদেশে উচ্চ ভোল্টেজকে কমিয়ে ২২০ V নিয়ে আসা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চৌম্বকবিদ্যা
চৌম্বকবিদ্যা (Magnetism) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা চুম্বকের আকর্ষণ, বিকর্ষণ, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চৌম্বক পদার্থের ভৌত ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে । এটি লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি পদার্থকে আকর্ষণ করে এবং এর উত্তর-দক্ষিণ মেরু থাকে । চলমান বৈদ্যুতিক চার্জ বা বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে এই ক্ষেত্র তৈরি হয় ।
চৌম্বক এবং চুম্বকত্ত্ব (Magnetism and Magnetism)
যে বস্তু চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে ফলে অন্য একটি চুম্বক বা চৌম্বক পদার্থের উপর বল প্রয়োগ করে তাকে চুম্বক বলে। চুম্বকের দুইটি বিশেষ ধর্ম রয়েছে। যথা:
১) আকর্ষণী ধর্ম (Property of attraction)
২) দিক নির্দেশক ধর্ম (Property of direction): চুম্বক মুক্ত অবস্থায় সবসময় উত্তর-দক্ষিণ (North-South) দিক বরাবর থাকে। চুষ্কীয় কম্পাসের সাহায্যে সহজেই দিক নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক
১৬০০ খি. ড. গিলবার্ট প্রথম বলেন, পৃথিবীও একটি বিরাট চুম্বক। ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু হতে ২২০০ কিমি. পশ্চিমে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে এবং ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগোলিক উত্তর মেরু হতে ২৫০০ কিমি. দূরে কানাডার বুথিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চৌম্বক পদার্থ (Magnetic material)
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন: লোহা, লোহার যৌগ, লোহার সংকর ধাতু (যেমন- ইস্পাত), নিকেল এবং কোবাল্ট ইত্যাদি। যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, ইস্পাত, নিকেল ও কোবাল্ট বাদে প্রায় সব অচৌম্বক পদার্থ। যেমনঃ সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন ইত্যাদি।
ক্যাসেট প্লেয়ারের টেপে চৌম্বক পদার্থ (যেমন- CrO2) ব্যবহার করা হয়। ক্যাসেটের ফিতায় শব্দ চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে রক্ষিত থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চুম্বকের প্রকারভেদ (Types of magnets)
অস্থায়ী চুম্বক: চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হওয়ার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয়, তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। সাধারণত কাঁচা লোহা, নিকেল ও লোহার সংকর ধাতু পারমালয় অস্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
স্থায়ী চুম্বক: চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত, এলনিকো সংকর, ফেরাইট নামক যৌগিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়।

কলিং বেলে নরম লোহা ব্যবহার করা হয়, কারণ বিদ্যুৎ প্রবাহে নরম লোহা দ্রুত অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হতে পারে। টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক ব্যবহৃত হয়।
শব্দ
পদার্থবিজ্ঞানে শব্দ হলো একধরনের কম্পন যা গ্যাস, তরল বা কঠিন মাধ্যমের সাহায্যে শব্দ তরঙ্গ হিসাবে সঞ্চালিত হয়।মানব শারীরতত্ত্ব এবং মনোবিজ্ঞানে শব্দ হলো একধরনের তরঙ্গের শ্রবণ এবং মস্তিষ্ক কর্তৃক এগুলো উপলব্ধি করা। যেসকল শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ Hz থেকে ২০ kHz কম্পাঙ্ক সীমার মধ্যে অবস্থিত, কেবল সেই শব্দই মানুষের মধ্যে শ্রবণ অনুভূতি প্রকাশ করে। সাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ও বায়ু মাধ্যমে এই শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১৭ মিটার (৫৬ ফু) থেকে ১.৭ সেন্টিমিটার (০.৬৭ ইঞ্চি)। ২০ k Hz উপরের শব্দ তরঙ্গগুলি আল্ট্রাসাউন্ড বা শ্রবণাতীত শব্দ হিসাবে পরিচিত এবং এগুলো মানুষের কাছে শ্রবণীয় নয়। ২০ Hz নিচে শব্দ তরঙ্গগুলি ইনফ্রাসাউন্ড বা অবশ্রাব্য শব্দ হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির শ্রবণসীমা বিভিন্ন হয়ে থাকে
তরঙ্গ হচ্ছে - যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন বা আলোড়নের সঞ্চালনের ফলে শক্তি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তরিত হয়। কিছু তরঙ্গ আছে যেগুলি সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন। আবার কিছু তরঙ্গ আছে যেগুলি সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়না। এমনি দুইটি উদাহরণ হচ্ছে - শব্দ ও সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা শক্তি। শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হলেও সূর্য থেকে যে শক্তি পৃথিবীতে আসে তা মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হতে পারে। কেননা সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসার সময় এই শক্তিকে এক বিশাল মাধ্যমহীন পথ অতিক্রম করে আসতে হয়।
তরঙ্গ (Sound)
কোন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের বিভিন্ন কণার সমষ্টিগত পর্যায়বৃত্ত কম্পনের ফলে মাধ্যমে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তাকে তরঙ্গ বলে। তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা: লম্বিক বা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং আড় বা অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। শব্দ এক ধরনের অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
তরঙ্গ বেগ (V) = তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (V) কম্পাঙ্ক (f)

চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই। তাই যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কোনো প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে তা পৃথিবীতে কখনও শোনা যাবে না। ভ্যাকুয়াম বা শূন্যের মধ্য দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
শব্দ (Sound)
শব্দ শক্তির একটি বিশেষ তরঙ্গ রূপ যা আমাদের কানে শ্রবণের অনুভূতি জাগায়। বস্তুর কম্পনের ফলেই শব্দের উৎপত্তির হয়। কোনো একটি কম্পমান বস্তু বা কণা এক সেকেণ্ডে যতগুলো পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে, তাকে তার কম্পাঙ্ক বলে। বস্তুর কম্পন হার্টস (Hz) এককে পরিমাপ করা হয়। মানবদেহে স্বরযন্ত্র শব্দ উৎপন্ন করে।

শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোন সুর চড়া ও কোন সুর মোটা তা বোঝা যায়, তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। শব্দের তীক্ষ্মতা বেল (Bel) বা ডেসিবেল (Decibel) এককে পরিমাপ করা হয়। শব্দের তীক্ষ্মতা ১০৫ ডিবি এর ওপরে মানুষ বধির হতে পারে। শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ তরঙ্গের বিস্তার (Wave amplitude) উপর নির্ভর করে। একটি শূন্য পাত্রকে আঘাত করলে ভরা পাত্রের চেয়ে বেশি শব্দ হয়, কারণ শূন্য পাত্রে বাতাসে শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হয়।
লোকভর্তি হল ঘরে শূন্যঘরের চেয়ে শব্দ ক্ষীণ হয় কারণ শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়। বাদ্যযন্ত্রসমূহ ফাঁকা থাকে কারণ ফাঁপা বাক্সের বায়ুতে অনুনাদ সৃষ্টি হয়ে শব্দের প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোন সুর চড়া ও কোন সুর মোটা বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বলে। শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্ক ও দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে তীক্ষ্ণতা কমে এবং দৈর্ঘ্য কমলে তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 'কাজেই বাঁশের বাঁশির দৈর্ঘ্য কম হলে শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে।
শব্দ সঞ্চারণ (Propagation of Sound)
শব্দ বিস্তারের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। শব্দের উৎস এবং আমাদের কানের মধ্যবর্তী স্থানে যদি কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম না থাকে তাহলে শব্দ আমাদের কানে পৌছাতে পারে না। চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই। তাই যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কোনো প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে তা পৃথিবীতে কখনও শোনা যাবে না। ভ্যাকুয়াম বা শূন্যর মধ্য দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শব্দের দ্রুতি (Speed of Sound)
শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে। বাতাসে শব্দের দ্রুতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার বা ঘণ্টায়। কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা প্রভৃতি) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে, তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে। বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম আর ভ্যাকুয়াম বা শূন্যে শব্দের দ্রুতি শূন্য। বিভিন্ন মাধ্যম শব্দের বেগের ক্রম -
কঠিন > তরল > বায়বীয়
লোহার মধ্য শব্দ বাতাসের চেয়ে ১৫গুণ দ্রুত চলে। পানির মধ্যে শব্দ বাতাসের চেয়ে চারগুণ দ্রুত চলে। তাই কেউ পানিতে ডুব দিয়ে হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি জোরে শুনতে পাবে। অনুরূপভাবে, সমুদ্রের তীরে একটা বিস্ফোরণ ঘটলে এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের পানির নিচে অবস্থানকারী ব্যক্তি একই দূরত্বে সমুদ্রে বা ভূমিতে অবস্থানকারী ব্যক্তি অপেক্ষা আগে শুনতে পাবে।
0°C তাপমাত্রায় এবং স্বাভাবিক চাপে-
মাধ্যম | শব্দের দ্রুতি |
| লোহা | ৫২২১ মি./সে |
| ৭৫৭ মাইল/ঘণ্টা | |
| পানি | ১৪৫০ মি./সে |
| শুষ্ক বায়ু | ৩৩২ মি./সে |
শব্দের দ্রুতি নিম্নোক্ত নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল। যথা-
ক) তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। ১ সে. বা ১ কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ০.৬ মি./সে. বৃদ্ধি পায়। শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে বায়ুর উষ্ণতা বেশি থাকে বলে শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে বায়ুতে শব্দের বেগ বেশি হয়।
খ) আর্দ্রতা: বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে শব্দের বেগ বেড়ে যায়। বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে বর্ষাকালে শব্দ দ্রুততর চলে।
বজ্রপাতের সময় আলোর ঝলক দেখার বেশ কিছু সময় পরে মেঘের গর্জন শোনা যায়। গর্জন এবং আলোর ঝলক একই সাথে ঘটে কিন্তু শব্দের চাইতে আলোর গতি অনেক বেশি। মধ্যকার দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর চেয়ে শব্দের বেশি সময় লাগে। ফলে আলোর ঝলক দেখার বেশ কিছু সময় পরে মেঘের গর্জন শোনা যায়। যে বিমান শব্দের চেয়ে বেশি দ্রুতগতিতে চলে, তাকে বলা হয় সুপারসনিক বিমান। যেমন: কনকর্ড একটি যাত্রীবাহী সুপারসনিক বিমান।

চিত্র: বিদুৎ চমকানোর সময় আলোর এবং শব্দের তুলনামূলক গতি
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রতিধ্বনি (Echo)
কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ যখন দূরবর্তী কোন মাধ্যমে বাধা পেয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে তখন মূল ধ্বনির যে পুনরাবৃত্তি হয় তাকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে। এককথায়, প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় প্রতিধ্বনি। কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব ন্যূনতম ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন। শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্র ও কুয়ার গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

শ্রাব্যতার পাল্লা এবং শব্দোত্তর ও শব্দেতর তরঙ্গ
Audibility range and Ultrasonic & Infrasonic waves
উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz এর মধ্যে সীমিত থাকলেই কেবল মানুষ তা শুনতে পায়। এক শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ Hz এর চেয়ে বেশি, তাকে শব্দোত্তর (আল্ট্রাসনিক) তরঙ্গ বলে। আর কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম তাকে শব্দেতর (ইনফ্রাসনিক) তরঙ্গ বলে। কোনো কোনো জীবজন্তু আল্ট্রাসনিক শব্দ শুনতে পায়। যেমন: কুকুরের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা প্রায় ৩৫,০০০ Hz এবং বাদুড়ের প্রায় ১,০০,০০০ Hz। বাদুড় চোখে দেখতে পারেনা। বাদুড় চলার সময় বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে। বাদুড় তার সৃষ্ট শব্দোত্তর তরঙ্গের প্রতিধ্বনি শুনে প্রতিবন্ধকের অবস্থান এবং প্রকৃতি সম্বন্ধে ধারণা লাভ করে এবং পথ চলার সময় সেই প্রতিবন্ধকপরিহার করে। কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল অসিলেটরের মাধ্যমে শব্দোত্তর তরঙ্গ উৎপন্ন করা যায়।
শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহার
১. রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে শব্দোত্তর তরঙ্গ। আলট্রাসনোগ্রাফি হলো ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ ব্যবহার করে ইমেজিং।
২. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, হিমশৈল, ডুবোজাহাজ ইত্যাদির অবস্থান নির্ণয়।
৩. সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ডপলার ক্রিয়া বা প্রভাব (Doppler Effect)
শব্দের উৎস ও শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতি বিদ্যমান থাকলে শ্রোতার নিকট উৎস হতে নিঃসৃত শব্দের তীক্ষ্ণতা বা কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, তাকে ডপলার ক্রিয়া বা প্রভাব বলে। ডপলার ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়-
ক) উৎস গতিশীল কিন্তু শ্রোতা স্থির
- উৎস শ্রোতার দিকে অগ্রসর হলে শব্দের কম্পাঙ্ক প্রকৃত কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি হবে।
- উৎস শ্রোতার থেকে দূরে সরে গেলে শব্দের আপাত কম্পাঙ্ক প্রকৃত কম্পাঙ্কের চেয়ে কম হবে।
খ) উৎস স্থির কিন্তু শ্রোতা গতিশীল
- শ্রোতা উৎসের দিকে অগ্রসর হলে শব্দের আপাত কম্পাঙ্ক প্রকৃত কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি হবে।
- শ্রোতা উৎসের থেকে দূরে সরে গেলে শব্দের আপাত কম্পাঙ্ক প্রকৃত কম্পাঙ্কের চেয়ে কম হবে।
গ) উৎস ও শ্রোতা উভয়ই গতিশীল
উৎস ও শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতিবেগ না থাকলে কম্পাঙ্কের কোন পরিবর্তন হয়না। রেলওয়ে স্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফর্মে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে।

আলো (Light)
আলো এক প্রকার শক্তি (energy) বা বাহ্যিক কারণ (external cause) যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
আলোকবর্ষ (Light-year)
আলো শূন্যস্থানে এক বৎসর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে আলোক বর্ষ বলে।
এক আলোকবর্ষ = ৯.৪৬১ ১০১২ কিমি
= ৫.৮৭৯ ১০১২ মাইল
শূন্য মাধ্যমে আলোর গতি |
৩ ১০৬ (৩ লক্ষ) কিলোমিটার/সে. |
৩ ১০৮ মিটার/ সে. |
৩ ১০১০ সেমি./সে. |
১,৮৬,০০০ মাইল/ সে. |
আলোর প্রকৃতি (Nature of Light)
আলো কণা না তরঙ্গ সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের বিতর্কের অবসান এখনও হয় নি। এখন মনে করা হয় অবস্থা বিশেষ আলোক কণা অথবা তরঙ্গরূপে আচরণ করে। তবে কখনই একসঙ্গে কণা বা তরঙ্গ নয়। দীপ্তিমান বস্তু থেকে আলো কিভাবে আমাদের চোখে আসে তা ব্যাখ্যার জন্য বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত চারটি তত্ত্ব প্রদান করেছেন। যথা-
তত্ত্ব | প্রবক্তা |
| কণাতত্ত্ব | স্যার আইজ্যাক নিউটন |
| তাড়িত চৌম্বক তত্ত্ব | ম্যাক্সওয়েল |
| তরঙ্গ তত্ত্ব | হাইগেন |
| কোয়ান্টাম তত্ত্ব | ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব (Quantum theory of light)
আলোকশক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। প্রত্যেক রং এর আলোর জন্য এই শক্তি প্যাকেটের শক্তির একটা সর্বনিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্নমানের শক্তি সম্পন্ন কণিকাকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
Plank's Constant - এর মান ৬.৬৫ ১০-২৭ erg sec |
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, এর জন্য ১৯২১ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তাড়িত চৌম্বক বর্ণালী (Electromagnetic Spectrum)
কোনো পদার্থের পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে বিভিন্ন খোলকে অবস্থান করে। পরমাণুতে কোনো শক্তি সরবরাহ করা হলে ইলেকট্রন এক খোলক থেকে লাফিয়ে অন্য খোলকে চলে যায়। পরে যখন ইলেকট্রনগুলো নিজ খোলকে ফিরে আসে তখন ইলেকট্রনের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি বিকিরণ হয়। এই বিকিরিত শক্তিই আলো। শক্তি বিকিরণ তরঙ্গ আকারে ঘটে যা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। গামা রশ্মি, এক্সরে, দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি এবং বেতার তরঙ্গ সবই তাড়িত চৌম্বক তরঙ্গ। সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ শূন্য মাধ্যমে একই এবং তা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের বেগ সমান হলেও এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বা কম্পাঙ্ক বিভিন্ন। আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অ্যাংস্ট্রম এককে পরিমাপ করা হয়।
বিভিন্ন তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের তুলনামূলক চিত্র (তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উর্ধ্বক্রম অনুসারে)
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ Name Of Ray | তরঙ্গ দৈর্ঘ্য | মন্তব্য |
গামা রশ্মি Gamma-ray | <10-11m ক্ষুদ্রতম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ | পারমাণবিক বিস্ফোরণের তেজস্ক্রিয় গামা রশ্মি উৎপন্ন হয়। এ রশ্মি জীব বিশেষ করে মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। |
এক্সরে Х-гау | 10-11m থেকে 10-8m | ভাঙ্গা হাড়ের অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর এক্সরে বের হয়। |
অতিবেগুণী রশ্মি Ultra violet-ray | 10-9m থেকে 3.510-7m | এই রশ্মি ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরিতে সাহায্য করে। |
দৃশ্যমান আলো Visible light | 410-7m থেকে 710-7m (400 - 700 ন্যানোমিটার) | তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির সেই অংশ যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলে। |
অবলোহিত রশ্মি Infrared-ray | 10-6 m থেকে 10-3m | যে সকল তাড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সীমা ১ মাইক্রোমিটার থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের অবলোহিত রশি বলা হয়। সূর্য থেকে যে বিকীণ তাপ আসে তা অবলোহিত রশ্মি। উইলিয়াম হার্শেল ১৮০০ সালে এই বিকিরণ আবিষ্কার করেন। সাধারণত রিমোট কন্ট্রোল সমূহে অবলোহিত বা ইনফ্রারেড রে (Ray) ব্যবহৃত হয়। |
মাইক্রোওয়েভ Microwave | 10-3m থেকে 1m | RADAR (= Radio Detection And Ranging), টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে অডিও সিগনাল ফ্রিকুয়েন্সী মডুলেশন করে পাঠানো হয়। |
বেতার তরঙ্গ Radio wave | 1m হতে 104m. সর্বাপেক্ষা বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ | বেতার তরঙ্গ বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে প্রতিফলিত হয়। |
কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: যে চৌম্বক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম তার কম্পাঙ্ক তত বেশি। গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি এবং বেতার তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দৃশ্যমান আলো (Visible light)
তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির সেই অংশ যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলে। আলোকের বর্ণ নির্ধারণ করে তার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উর্দ্ধক্রম-
Violet (বেগুনী) < Indigo (আসমানী) < Blue (নীল) < Green (সবুজ) < Yellow (হলুদ) < Orange (কমলা) < Red (লাল)
দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে -
আলোর বর্ণ | তরঙ্গ দৈর্ঘ্য | প্রতিসরণ | বিচ্যুতি | বিক্ষেপণ |
| লাল | সবচেয়ে বেশি | সবচেয়ে কম | ||
| বেগুনী | সবচেয়ে কম | সবচেয়ে বেশি | ||
লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে এটি বেশি দূর থেকে দেখা যায়। বিপদ সংকেতের জন্যে তাই লাল আলো ব্যবহার করা হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অধিক বলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর প্রতিফলন (Reflection of light)
আলো যখন বায়ু বা অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোন মাধ্যমে বাধা পায় তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে কিছু পরিমাণ আলো প্রথম মাধ্যমে আসে। একে আলোর প্রতিফলন বলে।

দর্পণ (Mirror)
যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। সাধারণত কাচের একদিকে ধাতুর (সাধারণত রূপা অথবা মার্কারির) প্রলেপ দিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়। কাচের উপর ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে পারা লাগান বা সিলভারিং বলে।

সমতল দর্পণ (Plane Mirror)
একটি সমতল দর্পন হতে বস্তুর দুরত্ব যত, দর্পণ হতে বিশ্বের দূরত্বও তত হয়। সমতল দর্পণে নিজের পূর্ণ বিম্ব দেখতে হলে দর্পণের দৈর্ঘ্য দর্শকের উচ্চতার কমপক্ষে অর্ধেক হওয়া প্রয়োজন। যেমন: একজন লোকের উচ্চতা ৬ ফুট। লোকটি আয়নায় নিজের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে আয়নার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে (৬ ২) = ৩ ফুট হতে হবে। সরল পেরিস্কোপ তৈরিতে সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
সরল পেরিস্কোপ (Simple Periscope): প্রতিফলন ও ব্যতিচার নীতির উপর ভিত্তি করে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। কোনো দূরের জিনিস সোজাসুজি দেখতে বাধা থাকলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভীড় এড়িয়ে খেলা দেখা, শত্রু সৈন্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিনের নাবিকেরা পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখে।
গোলীয় দর্পণ (Spherical Mirror)
উত্তল দর্পণ (Convex Mirror): পিছনের যানবাহন বা পথচারী দেখার জন্য বিভিন্ন গাড়িতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। আলোকরশ্মি চারদিকে ছড়িয়ে দেয় বলে মোটর গাড়ির হেডলাইট এবং রাস্তার লাইটে প্রতিফলক হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
অবতল দর্পণ (Concave Mirror): বিবর্ধিত বিম্ব তৈরি করা যায় বলে রূপ চর্চা ও দাঁড়ি কাঁটার সময় ব্যবহৃত হয়। ডাক্তাররা চোখ, নাক, কান ও গলা পর্যবেক্ষণ করার সময় এই দর্পণ ব্যবহার করেন। স্টীমারের সার্চ লাইচের প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নভো দূরবীক্ষণে অবতল দর্পণের ব্যবহার দেখা যায়।
বিম্ব (Image)
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোন বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর বিম্ব বলে। বিম্ব দুই রকমের হয়। যথা- সদ বিম্ব এবং অসদ বিম্ব।
বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন (Lateral Inversion of Image)
সমতল দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের ডান হাতকে বাম হাত এবং বাম হাতকে ডান হাত বলে মনে হয়। মনে হয় যেন সমগ্র দেহের পার্শ্ব পরিবর্তন হয়েছে। একে বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন বলে। যেমনঃ একটি কাগজে 'F' অক্ষর লিখে একটি সমতল দর্পণের সামনে ধরলে দেখা যাবে প্রতিবিম্ব উল্টে গেছে। তবে প্রতিসম বস্তুর ক্ষেত্রে পার্শ্ব পরিবর্তন বুঝা যায় না। যেমন: ইংরেজি 'O' বা 'T' এর পার্শ্ব পরিবর্তন বুঝা যায় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light)

আলোকরশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। আলোর প্রতিসরণ জন্য পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। বায়ুমণ্ডলীয় আলোর প্রতিসরণের জন্য সূর্যোদয়ের খানিকটা পূর্বে ও পরে সূর্যকে দেখা যায়, চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় এবং রাতের আকাশে তারাগুলো ঝিকমিক করে বলে মনে হয়।
প্রতিসরণাঙ্ক: আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন নির্দিষ্ট রঙের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইন-এর অনুপাত যে ধ্রুব হয় তাকে প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক বলে।
ক্রান্তি কোণ: আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রতিসরিত হওয়ার সময় আপতন কোণের যে মানের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয়, অর্থাৎ প্রতিসরিত রশ্মি বিভেদ তল ঘেষে চলে যায় তাকে হালকা মাধ্যমের সাপেক্ষে ঘন মাধ্যমর ক্রান্তি কোণ বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection)
আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। আলোর এই ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবল তৈরি করা হয়েছে।
আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য -
- হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- পদ্ম পাতার উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে চকচক করে।
- গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রে উত্তপ্ত পিচঢালা মসৃন রাজপথকে বৃষ্টির অব্যবহিত পরবর্তী সময়ের মত ভেজা ও চকচকে মনে হয়।
- মরুভূমির মরীচিকার (Mirage) সৃষ্টি হয়।
লেন্স (Lens)
দুই গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে। লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা- উত্তল লেন্স এবং অবতল লেন্স। লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক ডাইঅপ্টার। উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক এবং অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋনাত্মক।
উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
- আতশী কাচ হিসাবে এবং আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
- চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি আলোক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
অবতল লেন্সের ব্যবহার:
- প্রধানত চশমায় ব্যবহার করা হয়।
- গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টারে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
প্রিজম (Prism)
দুইটি হেলানো সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ প্রতিসারক মাধ্যমকে প্রিজম বলা হয়। প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত প্রতিসরিত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রঙধনু বা রামধনু (Rainbow)
রঙধনু একটি আলোকীয় ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর আবার যখন সূর্য উঠে তখন কখনও কখনও সূর্যের বিপরীত দিকে আকাশে উজ্জ্বল রঙের অর্ধবৃত্ত দেখা যায়। একে বলা হয় রঙধনু। রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে। রংধনুতে বর্নালীর ৭টি রঙ থাকে। সূর্যের বিপরীতে গঠিত হয় বলে সকালে পশ্চিমাকাশে এবং বিকালে পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায়।
আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion of light)
সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্যে দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয়, তাহলে পর্দায় ৭টি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী (Spectrum) বলে। কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। বর্ণালীতে বেগুনি (Violet), আসমানী (Indigo), নীল (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red) এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। রঙগুলোর নাম এবং এদের ক্রম মনে রাখার জন্য এদের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে ইংরেজিতে VIBGYOR ও বাংলায় বেনীআসহকলা শব্দ গঠন করা হয়। বর্ণালীর লাল আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম এবং বেগুনী আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। হলুদ রঙের আলোর বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি আলোর মাঝামাঝি বলে এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি এবং হলুদ রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলে। বর্ণালীতে হলুদ রঙের পাশের দুটি রঙ হলো সবুজ ও কমলা। বিজ্ঞানী নিউটন প্রমাণ করেন যে, সাদা আলোর প্রকৃতি যৌগিক এবং এই সাদা আলো সাতটি মূল রঙের আলোর সমষ্টি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মৌলিক বর্ণ (Primary Colour)
সাতটি মূল বর্ণের সমন্বয়ে বর্ণালী গঠিত হয়। তবে এই সাতটি রঙের মধ্যে তিনটি রঙ আছে যাদেরকে পরিমাণ মতো মিশিয়ে অপর যে কোন রঙ তৈরি করা যেতে পারে। এদেরকে মৌলিক বর্ণ বলে। এই তিনটি রঙ হচ্ছে - লাল (Red), সবুজ (Green), ও নীল (Blue)।
মনে রাখার সহজ উপায়ঃ 'আসল' রঙ - আ ঃ নীল (আসমানী), স ঃ সবুজ, ল ঃ লাল।
মৌলিক বর্ণগুলো মিশিয়ে বিভিন্ন বর্ণ তৈরি করা যায়। যথা-
লাল + নীল = বেগুনি,
লাল + হলুদ = কমলা
নীল + হলুদ = সবুজ
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিপূরক বর্ণ (Complementary Colour)
একটি লাল কাচকে উত্তপ্ত করলে সবুজ রঙ বের হয়। আর সবুজ কাচকে উত্তপ্ত করলে লাল রঙ বের হয়। একটি নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে হলুদ রঙ বের হয়। আর হলুদ কাচকে উত্তপ্ত করলে নীল রঙ বের হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আলোর শোষণ, প্রতিফলন ও বস্তুর বর্ণ
Absorption and reflection of light and colour of a body
কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়। যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। যেমন: আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়।
দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়। দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়। একইভাবে, লাল আলোতে নীল রঙের ফুল কালো দেখা যায়; সবুজ আলোতে একটি হলুদ রঙের বস্তু কালো দেখায়; সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলোতে রাতে লাল কাপড় কালো দেখায়। নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায় কারণ একটি সাদা ফুল সূর্যের সাতটি আলোই প্রতিফলিত করে বলে তা সাদা দেখায়। সাদা ফুল থেকে প্রতিফলিত আলোক রশ্মি যখন নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে আসে তখন ঐ কাঁচ নীল বাদে অন্য সব বর্ণের আলো শোষণ করে নেয় তাই আমাদের চোখে শুধু নীল আলো পৌছে। ফলে ফুলটি নীল দেখায়। নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে হলুদ ফুল কালো দেখায় কারণ হলুদ ফুল শুধু হলুদ বর্ণের আলো প্রতিফলিত করে বলে তা হলুদ দেখায়। কিন্তু হলুদ বর্ণের আলোক নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে আসার সময় শোষিত হয় তাই হলুদ ফুলকে নীল কাঁচের মধ্যে দিয়ে দেখলে কালো দেখায়।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মানুষের চোখ (Human Eye)
মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো। মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল। চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা। কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের-লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিশ্ব গঠন করে। রেটিনায় গঠিত বিশ্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত। রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে পরিণত করে। মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। রেটিনাতে দুই ধরনের আলোক সংবেদী কোষ থাকে। যথা-রডস এবং কোনস। রডস অন্ধকারে এবং কোনস আলোতে দেখতে সহায়তা করে। পেঁচা দিনে দেখতে পায়না কিন্তু রাতে দেখতে পায় কারণ পেঁচার চোখের রেটিনাতে রডস এর সংখ্যা বেশি কিন্তু কোনস এর সংখ্যা কম। রাতের বেলা বিড়াল ও কুকুরের চোখ জ্বলজ্বল করে, কারণ কুকুর ও বিড়ালের চোখে টেপেটাম নামক রঞ্জক কোষ থাকে। যদি কোনো বস্তুকে চোখের সামনে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে সরিয়ে নেওয়ার ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর অনুভূতি আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। এই সময়কে দর্শনানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। সবুজ-হলুদ আলোতে মানুষের দর্শনানুভূতি সুবচেয়ে বেশি পক্ষান্তরে লাল-বেগুনি আলোতে মানুষের দর্শনানুভূতি সর্বনিম্ন। স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টির পাল্লা ২৫ সেমি থেকে অসীম পর্যন্ত। যদি কোনো চোখ এই পাল্লার মধ্যে কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে না পায়, তাহলে সে চোখ ত্রুটিপূর্ণ বলে ধরা হয়। চোখের ত্রুটি প্রধানত দুই প্রকার। যথা-হ্রস্বদৃষ্টি (Myopia) এবং দীর্ঘদৃষ্টি (Hypermetropia)।
| চোখের ত্রুটি | নিকট বস্তু দর্শণ | দূরের বস্তু দর্শণ | চিকিৎসায় প্রয়োজন |
| দীর্ঘদৃষ্টি (Hypermetropia) | X | √ | উত্তল লেন্স |
| হ্রস্বদৃষ্টি (Myopia) | √ | X | অবতল লেন্স |
বিষম দৃষ্টি (Astigmatism): চোখের এই ত্রুটির কারণে একই দূরত্বে অবস্থিত আনুভূমিক ও উলম্ব রেখাকে সমান স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। বিষমদৃষ্টি ত্রুটি চিকিৎসায় সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে 'টরিক কন্ট্যাক্ট লেন্স' এর ব্যবহারও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ কন্ট্যাক্ট লেন্সসমূহ Polyvinyl chloride (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) দিয়ে তৈরি। কিন্তু টরিক কনট্যাক্ট লেন্স সিলিকন হাইড্রোজেল দিয়ে তৈরি।
চোখের ছানি (Cataract): চোখের লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। একে চোখের ছানি পড়া বলে। চিকিৎসা -অপারেশনের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্স অপসারণ করে স্বচ্ছ লেন্স সংযোজন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্যামেরা (Camera)
ক্যামেরা এবং মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যপ্রণালীর অনেক মিল আছে। ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড (AgBr বা Agl) এর আবরণ থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দৃষ্টি সহায়ক যন্ত্র (Vision Aid Instruments)
যে সকল যন্ত্র কোন বস্তু দেখার ব্যাপারে আমাদের চোখকে সাহায্য করে তাদেরকে দৃষ্টি সহায়ক যন্ত্র বলে। যেমন: অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ, দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার ইত্যাদি।
যন্ত্র বা অঙ্গ | সৃষ্ট প্রতিবিম্বের ধরন |
| চোখ | সদ, উল্টো ও খর্বিত |
| ক্যামেরা | সদ, উল্টো ও খর্বিত |
| সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা অতশী কাঁচ | সোজা, বিবর্ধিত ও অসদ বিম্ব |
| জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র | উল্টো ও বিবর্ধিত |
বিবিধ
- অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন পোলারয়েড পদ্ধতিতে কাজ করে। ফটোস্ট্যাট মেশিনে সেলেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থায় ধাতু নির্মিত অক্ষরের প্রয়োজন ফুরাবার বড় কারণ ফটো লিথোগ্রাফি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ইলেক্ট্রনিক্স (Electronics)
P টাইপ ও n টাইপ অধৃপরিবাহী
সিলিকনের বহির্খোলকে থাকে চারটি ইলেকট্রন যা যোজন ইলেক্ট্রন রূপে কাজ করে। সিলিকনের সবচেয়ে স্থিত গঠনের জন্য এর চারটি ইলেক্ট্রন লাভ করা অর্থাৎ ভাগাভাগি বা শেয়ার করার প্রবণতা থাকে। বিশুদ্ধ সিলিকন পরমাণুর বহিঃস্থ যোজন ইলেকট্রন সহযোগী অনুবন্ধের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়, ফলে সিলিকনে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। বিশুদ্ধ সিলিকন তাই উত্তম অন্তরক। সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে সিলিকনের কিছু কিছু অনুবন্ধ ভেঙ্গে যায় এবং ইলেকট্রন চলাচলের জন্য মুক্ত হতে থাকে, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়। সিলিকনকে আরেক ভাবে তড়িৎ পরিবাহী করা যায়। এই কাজটি করা হয় বিশুদ্ধ সিলিকনের সাথে খুব সামান্য ভেজাল নিয়ন্ত্রিতভাবে মিশিয়ে। একে বলা হয় ডোপায়ন (Doping)। ডোপিত মৌলের প্রকৃতি থেকে নির্ধারিত হয় সিলিকন p-টাইপ (ধনাত্মক টাইপ) হবে না n-টাইপ (ঋণাত্মক টাইপ) হবে। যে সব মৌলের (যেমন: অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম বা ইনডিয়াম) তিনটি যোজন ইলেকট্রন থাকে, তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম p-টাইপ বস্তুতে p-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। যে সকল মৌলের (যেমন; ফসফরাস, আর্সেনিক বা অ্যান্টিমনি) বহির্খোলকে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকে, তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম n-টাইপ বস্তুতে বা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়।
অর্ধপরিবাহী ডায়োড (Semiconductor Diode)
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রেকটিফায়ার এসি (পরিবর্তী) প্রবাহকে ডিসি (একমুখী) প্রবাহে রূপান্তর করে।
ক) সন্মুখী ঝোঁক (Forward Bias) অবস্থায় থাকলে p-n জংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলবে।
খ) বিমুখী ঝোঁক (Reverse Bias) অবস্থায় থাকলে p-n জংশন দিয়ে কোন তড়িৎ প্রবাহ চলে না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অ্যাডাপ্টার (Adapter)
একটি বৈদ্যুতিক সিস্টেম বা ডিভাইসের জন্য বেমানান কোন বৈশিষ্ট্যকে এডাপ্টারের সাহায্যে সিস্টেমটির জন্য গ্রহণযোগ্য বৈশিষ্ট্যকে এডাপ্টারের সাহায্যে সিস্টেমটির জন্য গ্রহণযোগ্য বৈশিষ্টে রূপান্তর করা হয়। যেমন: মোবাইলের চার্জার এক ধরণের অ্যাডাপ্টার কারণ এটি বাসা-বাড়ীর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ২২০ ভোল্ট এসি প্রবাহ মোবাইলের জন্য গ্রহণযোগ্য নিম্ন ভোল্টেজ ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
ট্রানজিস্টর
১৯৪৮ সালে তার ট্রানজিস্টর (Trasistor) আবিষ্কৃত হবার পর কম্পিউটারে ভাল্বের বদ্লে ট্রানজিস্ট্ররের ব্যবহার শুরু হয়। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত কম্পিউটার ছোট হয়ে যেতে শুরু করে। কম্পিউটার গুলো আগের কম্পিউটার অপেক্ষা উন্নত ছিল। দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়োড কি পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড তৈরি করা হয়। একে ট্রানজিস্টর বলা হয়। আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরিতে ১৯৪৮ সালে জন বারডিন (Jhon Bardeen), উইলিয়াম শকলে (William Shocley) এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন (Walter Brattain) ট্রানজিস্টর উদ্ভাবন করেন। ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনিক্স বিপ্লব শুরু হয়। ট্রানজিস্টর তৈরিতে অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) এর প্রয়োজন হয়। এতে অর্ধপরিবাহী হিসাবে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।
অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier)
যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে (Input) প্রদত্ত সংকেতকে বর্হিগামীতে বিবর্ধিত (Amplify) করে, তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে। কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে তিন শ্রেণীর অ্যামপ্লিফায়ার আছে। যথা- এ ম্রেণী, বি শ্রেণী, সি শ্রেণী। এ ক্লাস বা শ্রেণী অ্যামপ্লিফায়ার কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯০%।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সমন্বিত বর্তনী (Integrated Circuit or I.C)
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি (Jack Kilby) নামক একজন বিজ্ঞানী Transistor, Registor এবং Capacitor সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা IC নামে পরিচিতি লাভ করে। আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়- সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে কম্পিউটারের মূল্য এবং হিসাব-নিকাশের সময়।
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, হাঁটা থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ব্যবহার পর্যন্ত, পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র কার্যকর থাকে। ঘর্ষণ, মহাকর্ষ, আলোকবিজ্ঞান, তাপগতিবিদ্যা এবং বিদ্যুৎ—এসবই আমাদের সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতের লাইট বন্ধ করা পর্যন্ত প্রতিটা কাজকে সহজ ও আধুনিক করে তোলে।
দৈনন্দিন জীবনে পদার্থবিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ:
চলন ও ঘর্ষণ: মেঝেতে হাঁটা, সাইকেল চালানো বা গাড়ির ব্রেক করা—সবই ঘর্ষণ এবং গতির (Newton's Laws) ওপর নির্ভরশীল ।
গৃহস্থালি সরঞ্জাম: পানির কেটলি ফুটানো (তাপগতিবিদ্যা), খাবার গরম করার মাইক্রোওয়েভ (তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ), এবং রেফ্রিজারেটর (তাপ স্থানান্তর) পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়োগ ।
স্মার্টফোন ও যোগাযোগ: টাচস্ক্রিন, ওয়াইফাই, এবং ব্লুটুথ—এগুলো তড়িৎচৌম্বক ক্ষেত্র ও তরঙ্গ প্রযুক্তির উদাহরণ ।
আলো ও দৃষ্টি: আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখা, চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার—সবই আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের (Optics) নিয়ম মেনে চলে ।
মহাকর্ষ: কলম হাত থেকে নিচে পড়া, বা সাইকেলের ভারসাম্য বজায় রাখা—মহাকর্ষ এবং জড়তার (Inertia) উদাহরণ।
এছাড়াও, বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিভিশন, উড়োজাহাজ ও জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি—সবকিছুর মূলেই রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মাবলি ।
বৈদ্যুতিক বাতি (Electric Bulb)
কোনো পরিবাহী তারের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তারটি গরম হয়। তার যত সরু হয়, তত বেশি গরম হয়অ আর যত বেশি গরম হয়, তত বেশি লাল হয়ে শেষে সাদা ও উজ্জ্বল হয়ে যায়। ফলে তারটি থেকে আলো বের হয়। বৈদ্যুতিক বাল্বে এই ঘটনাই ঘটে। বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে খুব সরু তারের একটি কুন্ডলী থাকে। এ কুন্ডলীকে ফিলামেন্ট বলে। ফিলামেন্টটি টাংস্টেনের তার দিয়ে তৈরি। এর গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩৪১০০ সে.) ফলে অধিক তাপে এটি জারিত হয় না। বৈদ্যুতিক বাল্বটি সম্পূর্ণরূপে বায়ুশূন্য থাকে তবে সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস (আর্গন) থাকে। নাইট্রোজেন গ্যাস সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে এবং নিয়ন, আর্গন প্রভৃতি নিষ্ক্রিয় গ্যাস টিউব লাইটে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস এডিসন ১৮৭৯ সালে সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি (Electric Iron)
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে একটি অভ্রের প্লেটের গায়ে সংকর ধাতু নাইক্রোমের (নিকেল-৬০% + আয়রন-২৫% + ক্রোমিয়াম-১৫%) সরুতার জড়ানো থাকে। এই প্লেটের উপরে ও নিচে দুটি অভ্রের পাত দিয়ে ঢেকে লোহার পাত দিয়ে চেপে রাখা হয়। অভ্র বিদ্যুৎ অপরিবাহী কিন্তু তাপ পরিবাহী। তাই তারের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তা লোহাকে স্পর্শ করে না কিন্তু তার উত্তপ্ত হলে তা লোহাকে উত্তপ্ত করে। ইস্ত্রির বাহিরের আবরণটি স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি, ত্রিভুজাকৃতি এবং ভারী। কুন্ডলীর ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে বাহিরের আবরণটি উত্তপ্ত হয়।
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন জেরোগ্রাফি (Xerography) বা স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। ফটোকপি মেশিনের ভেতরে একটি ড্রাম ও একটি টোনার থাকে। প্রথমে ড্রামটিকে স্থির বিদ্যুৎ দ্বারা চার্জিত করা হয়। এই চার্জিত ড্রামটি বিপরীত চার্জের মাধ্যমে টোনারের (গুঁড়ো কালি) কণাগুলোকে আকর্ষণ করে। ফলে কাগজের লেখা বা ছবি অবিকল কপি হয়ে যায়। বর্তমানে এই মেশিনের ড্রামে সেলেনিয়াম নামক আলোক-সংবেদনশীল মৌলটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
টেলিগ্রাফ (Telegraph)
টেলিগ্রাফি হচ্ছে দূর দূরান্তে লিখিত বার্তা বা পত্র প্রেরণের এমন একটি পদ্ধতি যা মূল লিখিত পত্রটিকে প্রেরণ না করে সাধারণত তারের মাধ্যমে প্রেরিত মোর্স কোডে লিখিত টেলিগ্রাফি বার্তাকে টেলিগ্রাম বলা হতো। মোর্স কোড কোন ভাষার বর্ণকে কোডে রূপান্তরের এক ধরণের পদ্ধতি। স্যামুয়েল মোর্স ১৮৪০ সালে এ কোড তৈরি করেন। মোর্স কোড কোন উপাদানের ‘সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘ’ এ দুটি আবশ্যকীয় ্েুপাদান নিয়ে গঠিত। এতে ডট (.) ‘টরে’ এবং ড্যাশ (-) কে ‘টক্কা’ বলে।
টেলিফোন, টেলেক্স ও ফ্যাক্স (Telephone-Telex-Fax)
টেলিফোন বা দুরালাপনি একটি যোগাযোগের মাধ্যম। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। টেলিফোনে যেমন নম্বর আছে, টেলেক্স এবং ফ্যাক্সে তেমন নম্বর আছে। টেলেক্স এক ধরণের টেলিপ্রিন্টার। এতে একটি টাইপরাইটার থাকে। যে তথ্য, সংবাদ বা চিঠি প্রেরণ করতে হবে তা এ টাইপ রাইটারে টাইপ করতে হয়। প্রেরিত শব্দ বা কথাবর্তা টেলিপ্রিন্টারের সাহায্যে টাইপ হয়ে প্রাপকের নিকট পৌঁছে যায়। ফ্যাক্স মেশিন একটি টেলিফোনের সাথে যুক্ত থাকে। যে তথ্য প্রেরণ করতে হবে তা একটি কাগজে টাইপ করে বা লিখে রাখতে হয়। যে নাম্বারে ফ্যাক্স প্রেরণ করতে হবে সেই নম্বর ডায়াল করে কাগজটি মেশিনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অপর প্রান্তে তার হুবহু নকল বেরিয়ে আসে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
টেলিফোন, টেলেক্স ও ফ্যাক্স (Telephone-Telex-Fax)
টেলিফোন বা দুরালাপনি একটি যোগাযোগের মাধ্যম। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। টেলিফোনে যেমন নম্বর আছে, টেলেক্স এবং ফ্যাক্সে তেমন নম্বর আছে। টেলেক্স এক ধরণের টেলিপ্রিন্টার। এতে একটি টাইপরাইটার থাকে। যে তথ্য, সংবাদ বা চিঠি প্রেরণ করতে হবে তা এ টাইপ রাইটারে টাইপ করতে হয়। প্রেরিত শব্দ বা কথাবর্তা টেলিপ্রিন্টারের সাহায্যে টাইপ হয়ে প্রাপকের নিকট পৌঁছে যায়। ফ্যাক্স মেশিন একটি টেলিফোনের সাথে যুক্ত থাকে। যে তথ্য প্রেরণ করতে হবে তা একটি কাগজে টাইপ করে বা লিখে রাখতে হয়। যে নাম্বারে ফ্যাক্স প্রেরণ করতে হবে সেই নম্বর ডায়াল করে কাগজটি মেশিনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অপর প্রান্তে তার হুবহু নকল বেরিয়ে আসে।
রেডিও (Radio)
বেতার হল তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। ১৮৯৬ সালে ইতালীয় প্রকৌশলী গুলিয়েলমো মার্কোনি বেতার যন্ত্রের সম্প্রচার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। রেডিও, রেডিও টেলিস্কোপ ইত্যাদি তারবিহীন যে কোনো যোগাযোগের মূলনীতিই হলো বেতার। মার্কোনির আগেই স্যার জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন বলে বাঙালি মহলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। মার্কোনি আধুনিক ছোট বা শর্ট তরঙ্গ মাপের বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরে বেতার সংকেত পাঠাতে সফল হয়েছিলেন যার ফলশ্রুতি হলো রেডিও। কিন্তু জগদীশচন্দ্র কাজ করেছিলেন অতি ক্ষুদ্র তথা মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ নিয়ে যার প্রয়োগ ঘটে আধুনিক টেলিভিশন, রাডার এবং মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে।
টেলিভিশন (Television)
টেলিভিশন হলো এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে আমরা দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে শব্দ এবং ছবি দেখতে পাই। স্কটিশ বিজ্ঞানী জন লজি বেয়ার্ড (John Logie Baird) ১৯২৬ সালে টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। টেলিভিশনে ছবি প্রেরণের সময় ছবিকে যে পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা হয়, তাকে স্ক্যানিং বলা হয়। বাংলাদেশে টিভি সম্প্রচারে বা বেতার কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে অডিও সিগন্যালের ফ্রিকুয়েন্সি মডুলেশন করে পাঠানো হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কসমিক রশ্মি
বিটা রশ্মি
রঞ্জন রশ্মি
গামা রশ্মি
১৯০১
১৯০২
১৯০৪
১৯২৭
রাডার (Radar)
RADAR (Radio Detection And Ranging) এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। রাডার হল এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ১৯২২ সালে এ এইট টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার (Aeroplane & Helecopter)
রেনেসাঁ যুগে উন্নত উড্ডয়ন যন্ত্রের চিত্র অঙ্কন করেন শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। তিনি সর্বপ্রথম আকাশে উড়ার একটি তাত্ত্বিক ধারণাও দেন। তাঁর ডিজাইন করা উড্ডয়ন যন্ত্রের নাম দিয়েছিলেন ‘ওরিনিথপ্টার’। ১৪৯৬ সালে তিনি এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের চেষ্টা করলেও তা সফল হয় নি। প্রথম উড়োজাহাজ বা এরোপ্লেন বানিয়েছিলেন অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট ভ্রাতৃদ্বয়। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার কিল ডেভিল হিলস ১৯০৩ সালে ১৮ ডিসেম্বর তাঁরা Flyer-1 এর সফল উড্ডয়ন করান। কোন স্থানে খাড়া ভাবে উড়তে (take off) ও নামতে (landing) হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। হেলিকপ্টারের জন্ম মানুষের ওড়াউড়ির প্রথম অর্ধশতাব্দীর মধ্যে হলেও ১৯৪২ সালে ইগর সিকোরস্কির তৈরি করা নকশার হেলিকপ্টারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়। কোন বিমান বিধ্বস্ত হলে দুর্ঘটনাটির কারণ উদঘাটনের জন্য বিমানের ব্ল্যাক বক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বিমানের উড্য়ন কালের যাবতীয় তথ্য রেকর্ডের ডিভাইস হলো flight data recorder এবং উড্ডয়নকালে ককপিটের সবরকম কথাবার্তা ও শব্দ রেকর্ডের ডিভাইস হচ্ছে cockpit voice recorder। এই ডিভাইসগুলোর আরেক নাম ব্ল্যাক বক্স। এই ব্ল্যাক বক্সগুলো সাধারণত লাল বা কমলা রংয়ের হয় যাতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে বক্সগুলো সহজে সনাক্ত করা যায়। বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে black box একটি টেকনিক্যাল টার্ম, যার থেকে এই নামকরণ। ব্ল্যাক বক্সগুলো এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে উচ্চমাত্রার তাপ ও চাপ এর কোন ক্ষতি করতে পারে না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পলিগ্রাফ (Polygraph)
মিথ্যা ধরার যন্ত্রকে পলিগ্রাফ বলে। ১৯২১ সালে জন এ লারসন পলিগ্রাফ আবিষ্কার করেন। মিথ্যা ধরার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মিথ্যাবাদীর শরীর। একজন মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে তখন সাধারণত তার শ্বাস-প্রশ্বাস হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ঘাম প্রভৃতির কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পলিগ্রাফ এই পরিবর্তনগুলোকেই পর্যালোচনা করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান হলো পদার্থবিজ্ঞানের সেই শাখা যা বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিকশিত হয়েছে এবং মূলত অতি ক্ষুদ্র (পারমাণবিক ও উপ-পারমাণবিক) বা অতি দ্রুত (আলোর গতির কাছাকাছি) গতির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে এই যুগের সূচনা হয় ।
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রধান শাখা ও ধারণা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:
আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Theory of Relativity): বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন প্রবর্তিত এই তত্ত্ব স্থান, সময় এবং ভরের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে। এটি মূলত মহাজাগতিক স্কেলে কাজ করে ।
কোয়ান্টাম বলবিদ্যা (Quantum Mechanics): এটি পরমাণু এবং এর ভেতরের অতি ক্ষুদ্র কণিকাগুলোর (যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন) আচরণ ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বে সম্ভাব্যতা নীতির গুরুত্ব বেশি।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ক্ষেত্র
পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান (Atomic Physics): পরমাণুর গঠন ও ইলেকট্রনের বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করে।
নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান (Nuclear Physics): পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস এবং তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করে ।
কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics): মহাবিশ্বের মৌলিক কণিকাগুলো (যেমন- হিগস বোসন) নিয়ে গবেষণা করে।
কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics): কঠিন পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি ।
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাব
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানের লেজার, কম্পিউটার, স্মার্টফোন, এমআরআই (MRI) মেশিন এবং পারমাণবিক শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে । আলবার্ট আইনস্টাইনকে প্রায়ই "আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক" বলা হয় ।
রঞ্জন রশ্মি বা অজানা রশ্মি (X-ray)
ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন। বিজ্ঞানী উলহহেলম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়। এক্সরে হলো ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। এক্সরে হীরকের ভিতর দিয়ে যেতে পারে কিন্তু গ্রাফাইটের ভিতর দিয়ে যেতে পারে না। স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড়, শরীরের ভিতরের কোনো বস্তুর বা ফুসফুসে কোনো ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়ে, গোয়েন্দা বিভাগে যেমন; কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity)
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। যে সকল মৌল হতে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়, তাকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে। যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, সাধারণত সে সকল মৌল তেজস্ক্রিয় হয়। যেমন: ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। আন্তর্জাতিক (SI) পদ্ধতিতে তেজস্ক্রিয়তার একক পরিমাপের একক বেকেরেল (Bq)। হেরি বেকরেল ১৯০৩ সালে তেজষ্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (Radioactive Isotopes)
অস্থিত আইসোটোপগুলো স্বতঃস্ফুর্তভাবে বিভিন্ন ধরনের রশ্মি বিকিরণ করে নিজের নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে অন্য মৌলের স্থিত আইসোটোপে পরিণত হয়, এই ধরনের আইসোটোপ গুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে। যেমন; Carbon-14, ইউরেনিয়াম-২৩৬, আয়োডিন-১৩০ ইত্যাদি রেডিও আইসোটোপ। Carbon-14 এর অর্ধায়ু ৫৭৩০ বছর। গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। রেডিও আইসোটোপ থেকে নির্গত গামা রশ্মি টিউমার, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি (Alfa, Beta and Gamma rays)
আলফা (): এটি একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস বা দ্বি-আয়নিত হিলিয়াম পরমাণু। আলফা রশ্মি ধনাত্মক আধানযুক্ত। এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
বিটা (): এই রশ্মি অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেকট্রনের প্রবাহ। বিটা রশ্মির ঋণাত্মক আধানযুক্ত। এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
গামা (): গামা রশ্মি অত্যন্ত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর কোনো চার্জ বা ভর নেই এবং ইহা চৌম্বক ক্ষে দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। এটি জীবজগতের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তবে টিউমার, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এ রশ্মি ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো -আইসোটোপ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাকৃতিক সম্পদ (Natural resource)
প্রকৃতি থেকে আমরা যা কিছু পাই, তাই প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক সম্পদকে নবায়নযোগ্য (Renewable) ও নবায়ন অযোগ্য (Non Renewable) এই দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable energy):
যে শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায়, ব্যবহার ফলে যা নিঃশেষ হয়ে যায়না তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। যেমন- সৌরশক্তি (Solar energy), বায়ুশক্তি (Wind energy), সমুদ্রস্রোত (Sea current), পরমাণুশক্তি (Atomic energy) প্রভৃতি। সূর্য সকল শক্তির উৎস। সূর্যে হাল্কা পরমাণুর ফিউশনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। সৌরকোষের (Solar cell) বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে স্টোরেজ ব্যাটারি। সৌর কোষে ব্যবহৃত হয় ক্যাডমিয়াম (Cadmium)। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সৌরশক্তি কেন্দ্র (Solar power plant) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
সৌরশক্তি চালিত বিশ্বের প্রথম রেলওয়ে সুড়ঙ্গ (Tunnel) বেলজিয়াম অবস্থিত।
পানি শক্তির অন্যতম উৎস। পানির প্রবাহকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, এই বিদ্যুৎকে জলবিদ্যুৎ বা পানি বিদ্যুৎ (Hydroelectricity) বলা হয়।
নবায়ন অযোগ্য জ্বালানি (Unrenewable energy)
যে শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায় না, এবং ব্যবহারে এক সময় শেষ হয়ে যায় তাকে নবায়ন অযোগ্য সম্পদ বলে। যেমন: গ্যাস, তেল, কয়লা ইত্যাদি।
জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuel)
জীবদেহ (প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়ই) মাটির নীচে চাপা পড়ে লক্ষ লক্ষ বছর পর তা রূপান্তরিত হয় কয়লা, তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসে। এজন্য কয়লা (Coal), খনিজ তেল (Petrolium) ও প্রাকৃতিক গ্যাসকে (Natural gas) জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নবায়ন অযোগ্য জ্বালানি যেমন: ডিজেল পোড়ালে বাতাসে SO2 এর আধিক্য দেখা যায়। -কাঠ ও কয়লার প্রধান উপাদান কার্বন (Carbon)।
তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ও কার্বনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে কয়লা তিন প্রকার। যথা:
১) অ্যানথ্রাসাইট ২) বিটুমিনাস ৩) পিট কয়লা।
নিম্নে কিছু কয়লার নাম ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হল:-
কয়লার নাম | বৈশিষ্ট্য |
| অ্যানথ্রাসাইট | কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি |
| বিটুমিনাস | লিগানাইট কয়লার পরিবর্তিত রূপ |
| পিট কয়লা | ভিজা ও নরম। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আপেক্ষিকতাবাদ (Theory of Relativity)
১৯০৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। m ভর বিশিষ্ট কোনো পদার্থকে সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তরিত করলে প্রাপ্ত শক্তির পরিমাণ হবে E = mc2, এখানে হলো আলোর বেগ। একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়।'থি ওরি অব রিলেটিভিটি'র প্রণেতা আলবার্ট আইনস্টাইন। প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইনের নামের সাথে বাংলাদেশি বৈজ্ঞানিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বোস (Prof. M.N Bosh) এর নাম জড়িত।
বোস - আইনস্টাইন পরিসংখ্যান
সত্যন্দ্রনাথ বসু ছিলেন এক ভারতীয় বাঙালি পদার্থ বিজ্ঞানী। তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে যৌথভাবে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান প্রদান করেন, যা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। সত্যেন্দ্রনাথ বসু বৃহত্তর বাংলার তিন শিক্ষায়তন ঢাকা, কলকাতা এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হিগস-বোসন (Higgs Boson)
মহাবিশ্বে দুই ধরণের মৌলিক কণিকা আছে। যথা- বোসন ও ফার্মিয়ন। মহাবিশ্বে চার ধরনের বল রয়েছে। যথা- মহাকর্ষ, তাড়িৎচৌম্বকীয়, দুর্বল নিউক্লিয়ার বল এবং শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বল। এ বল বা মিথষ্ক্রিয়াগুলো কার্যকর হয় বলবাহক কণাগুলোর আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে। বলবাহক এ কণাগুলো হচ্ছে গ্রাভিট্রন, ফোটন, ডব্লিউজেড ও গ্লুয়ন। কণাগুলোর সাধারণ নাম বোসন কণা। বোসনের একটি সাধারণ ধর্ম হচ্ছে স্পিন বা ঘূর্ণনবেগ পূর্ণ সংখ্যার। এই বোসন কণাগুলো বোস-আইনাস্টাইন পরিসংখ্যান মেনে চলে। ভারতীয় বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু (Prof. M.N Bosh) আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে যৌথভাবে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান প্রদান করেন। অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু বৃহত্তর বাংলার তিন শিক্ষায়তন ঢাকা, কলকাতা এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যৗালয়ের সাথে সম্পৃত্ত ছিলেন। ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটি হল হিগের কণা। হিগস কণাকে বিজ্ঞানে হিগস বোসন বলেই উল্লেখ করা হয়। কারণ হিগস কণা একটি বোসন কণা। এ কণিকাকে অনেকে মজা করে ঈশ্বরের কণিকাও বলে খ থাকেন। হিগস বোসন কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি বিষয়। মহাবিশ্বে আরেক ধরণের কণা হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এগুলোকে বলা হয় ফার্মিয়ন। ফার্মিয়নের স্পিন ভগ্নাংশ সংখ্যার। এ কণাগুলো ফার্মি-ডিরাক-ডিরাক পরিসংখ্যান মেনে চলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউক্লিয় শক্তি (Nuclear Energy)
নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে বা বিভাজন করে অথবা দুটি হাল্কা নিউক্লিয়াসকে একত্রিত করে যে শক্তি পাওয়া যায়, এই শক্তিকে বলা হয় নিউক্লিয় শক্তি (Nuclear energy)। একে পারমাণবিক শক্তি (Atomic energy) নামেও অভিহিত করা হয়। পরমাণু হতে দুটি পদ্ধতিতে নিউক্লিয় শক্তি উৎপন্ন করা যায়-
ক) নিউক্লিয় ফিউশান (Nuclear Fusion)
খ) নিউক্লিয় ফিশান (Nuclear Fission)
যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশান বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশান বিক্রিয়া। নিউক্লিয় ফিউশান নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রাইটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরী করা হয়।
পারমাণবিক চুল্লি (Nuclear Reactor)
যে যান্ত্রিক ব্যবস্থার সাহায্যে নিউক্লিয়াসের নিয়ন্ত্রিত বিভাজন দ্বারা বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি অর্জন করা যায় তাকে পারমাণবিক চুল্লি বলে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, ইউরেনিয়াম পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে নিম্নতর ভর বিশিষ্ট পরমাণু সৃষ্টি হয়ে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয় এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন নিউট্রন নির্গত হয়। এই অতিরিক্ত নিউট্রনকে শোষণ করার জন্য চুল্লীতে ক্যাডমিয়াম ও বোরন দণ্ড ব্যবহার করা হয়, যা অতিরিক্ত নিউট্রনকে শোষণ করে নেয়। পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ব্যবহৃত হয়।
জেনে রাখা ভালো
১. PCR-এর পরিপূর্ণ অর্থ পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন।
২. ফিশন আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী অটোহ্যান; ১৯৩৯ সালে।
৩. মানবকল্যাণে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার প্রথম শুরু হয়- ১৯৫৪ সালে। ঐ সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রথম নিউক্লিয় তড়িৎ কেন্দ্রে তড়িৎ উৎপাদন শুরু করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান (Biology) হলো জীবনের বিজ্ঞান, যা জীবন্ত প্রাণী, তাদের গঠন, কার্যকারিতা, বৃদ্ধি, বিবর্তন, উৎপত্তি এবং পরিবেশের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে । গ্রিক শব্দ bios (জীবন) এবং logos (জ্ঞান) থেকে আসা এই বিজ্ঞানটি কোষকে জীবনের মূল একক এবং জিনকে বংশগতির ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে । আধুনিক জীববিজ্ঞানের জনক কার্ল লিনিয়াস ।
জীববিজ্ঞানের মূল ক্ষেত্র ও শাখা
ভৌত জীববিজ্ঞান (Physical Biology): জীবদেহের গঠন ও আকার নিয়ে কাজ করে (যেমন- অঙ্গসংস্থান, কোষবিদ্যা, বংশগতিবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা)।
ফলিত জীববিজ্ঞান (Applied Biology): জীববিদ্যার জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে ব্যবহার করে (যেমন- অণুজীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, বনায়ন)।
প্রধান জীববিদ্যা: উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany - উদ্ভিদ নিয়ে) এবং প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology - প্রাণী নিয়ে)।
মূল ধারণা ও বৈশিষ্ট্য
কোষ তত্ত্ব: কোষই জীবনের মৌলিক একক ।
বিবর্তন: জীবের বৈচিত্র্য ও ঐক্যের মূল ব্যাখ্যা ।
বংশগতি (Genetics): DNA বা RNA এর মাধ্যমে বংশানুক্রমে বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণ ।
শক্তি সঞ্চালন (Energy Transfer): জীবজগতে শক্তির রূপান্তর ।
জীববিজ্ঞান মানব কল্যাণ, রোগ নিরাময়, এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জীববিজ্ঞান (Biology)
Biology শব্দটি এসেছে দটি গ্রীক শব্দ (Bios যার অর্থ জীবন এবং logos অর্থ জ্ঞান) থেকে। ফরাসি প্রকৃতিবিদ জঁ বাতিস্ত লামার্ক জীবিত বস্তু সংক্রান্ত অনেকগুলো শাস্ত্রের ধারক নাম হিসেবে ‘Biology’ শব্দের প্রচলন করেন। জীবের ধরন অনুযায়ী জীববিজ্ঞানকে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যথা- উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany) এবং প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জীববিজ্ঞানের বিকাশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা প্রাচীনকালে পর্যবেক্ষণভিত্তিক জ্ঞান থেকে শুরু হয়ে আধুনিক আণবিক জীববিদ্যা ও জিনতত্ত্বে রূপ নিয়েছে। অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে ডারউইনের বিবর্তনবাদ, মেন্ডেলের বংশগতি, এবং বর্তমানে CRISPR প্রযুক্তির মাধ্যমে জিন এডিটিং, এই বিজ্ঞান জীবনের গঠন, কার্যকারিতা ও বিবর্তনের রহস্য উন্মোচন করে চিকিৎসা ও কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে
জীববিজ্ঞানের বিকাশের প্রধান পর্যায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রাচীন ও ধ্রুপদী পর্যায়: অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিদ্যার জনক বলা হয়, যিনি প্রথম জীবের শ্রেণিবিন্যাস করেন। প্রাচীনকালে চিকিৎসা ও উদ্ভিদের ব্যবহারিক জ্ঞান ছিল বিকাশের সূচনা ।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কার (১৭-১৮ শতাব্দী): রবার্ট হুক কর্তৃক কোষ (Cell) আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের ধারাই পাল্টে দেয় ।
বিবর্তনবাদ ও বংশগতি (১৯ শতাব্দী): চার্লস ডারউইন 'প্রাকৃতিক নির্বাচন' (Natural Selection) মতবাদের মাধ্যমে জীবনের বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করেন। গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির সূত্রাবলি আবিষ্কার করেন, যা জেনেটিক্সের ভিত্তি স্থাপন করে।
আধুনিক ও আণবিক পর্যায় (২০-২১ শতাব্দী): ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক কর্তৃক DNA-এর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের বিকাশে নতুন যুগের সূচনা করে।
বর্তমান যুগ (সংশ্লেষিত জীববিজ্ঞান): বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, স্টেম সেল গবেষণা, এবং AI-এর ব্যবহারে চিকিৎসাবিজ্ঞান (রোগ নিরাময়) ও কৃষি (উন্নত জাতের ফসল) দ্রুত উন্নত হচ্ছে ।
জীববিজ্ঞানের বিকাশের মূল ক্ষেত্রসমূহ:
১. আণবিক জীববিজ্ঞান: জীবের মৌলিক অণু (DNA, RNA, প্রোটিন) নিয়ে গবেষণা ।
২. উন্নয়নমূলক জীববিজ্ঞান (Developmental Biology): জাইগোট থেকে পূর্ণাঙ্গ জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রক্রিয়া অধ্যয়ন ।
৩. ইভোলিউশনারি বায়োলজি (Evo-devo): বিবর্তনের সাথে বিকাশের সম্পর্ক স্থাপন ।
একবিংশ শতাব্দীতে জীববিজ্ঞানের বিকাশ মানবজাতির স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জীবের নামকরণ (Nomenclature)
কোনো বিশেষ জীব বা জীবকুলের নির্দিষ্ট নামে সনাক্তকরণের পদ্ধতিকে বলা হয় নামকরণ। প্রতিটি জীবই কোনো বিশেষ অঞ্চলে আঞ্চলিক ভাষা অনুসারে। বিশেষ বিশেষ নামে পরিচিত। এরূপ আঞ্চলিক নামকরণ প্রথা বিশেষ জীবটির সনাক্তকরণের ব্যাপারে সমস্যা সৃষ্টি করে। সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন। এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে। পরিচিত ক্যারোলাস লিনিয়াসকে ‘শ্রেণিবিদ্যা’ এর জনক বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Systema Naturae Species Plantarum, Genera Plantarum Philosophia Botanica প্রভৃতি।
নামকরণের নিয়মাবলি-
- প্রত্যেক জীবের একটি বৈজ্ঞানিক নাম থাকবে এবং তার দুটি অংশ থাকবে। দ্বিপদ নামের প্রথম অংশ ঐ জীবের গণ (Genus) এর নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species) নামের নির্দেশক।
- বৈজ্ঞানিক নামটি অবশ্যই ল্যাটিন বা ল্যাটিনকৃত হতে হবে।
- দ্বিপদ নামকরণ ছাপা অক্ষরে হলে সর্বদা ইতালিক হরফে (ডান দিকে বাঁকা করে) হবে (Bufo melanostictus, কুনোব্যাঙ)।
- দ্বিপদ নামকরণ হাতে লিখলে ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি অংশের নিচে (একটি গণ, অপরটি প্রজাতির) আলাদা আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। (Homo sapiens - মানুষ)।
- গণ নামটি বিশেষ্য ও এর আদ্যক্ষর অবশ্যই বড় হরফে লিখতে হবে এবং প্রজাতি নামটি বিশেষণ যার আদ্যক্ষরটি ছোট হরফে লিখতে হবে। (শাপলা ফুল - Nymphaea nouchali)
- আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নামই স্বীকৃতি পাবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোনো জীবের বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনা দিবেন, তার নাম উক্ত জীবের দ্বিপদ নামের শেষে সংযোজিত হবে।
বিভিন্ন শাখার জনক
শাস্ত্র | জনক | শাস্ত্র | জনক |
| বিজ্ঞান | থেলিস | রসায়ন | জাবির ইবনে হাইয়ান |
| শ্রেণিবিদ্যা | ক্যারোলাস লিনিয়াস | মনোবিজ্ঞান | উইলহেম উন্ড |
| জীবাণুবিদ্যা | লুই পাস্তুর | আধুনিক মনোবিজ্ঞান | সিগমন্ড ফ্রয়েড |
| অ্যানাটমি | আদ্রে ভেসালিয়াস | ভূগোল | ইরাতেস্থিনিস |
| চিকিৎসাবিজ্ঞান | হিপোক্রেটিস | আধুনিক জ্যোর্তিবিজ্ঞান | কোপার্নিকাস |
| হোমিওপ্যাথি | স্যামুয়েল হ্যানিম্যান | দর্শনশাস্ত্র | সক্রেটিস |
শাখা | আলোচ্য বিষয় | শাখা | আলোচ্য বিষয় |
| Morphology | বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কিত বিদ্যা বা অঙ্গ সংস্থানবিদ্যা | Anthropology | মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান |
| Anatomy | শারীরস্থান বিদ্যা | Entomology | কীটপতঙ্গ সম্পর্কিতবিদ্যা |
| Physiology | শারীরবিদ্যা | Microbiology | অণুজীব বিষয়ক বিজ্ঞান |
| Embryology | ভ্রূণ সম্পর্কিত বিদ্যা | Virology | ভাইরাস সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
| Genetics | বংশগতি বিদ্যা | Bacteriology | ব্যাক্টেরিয়া সম্পর্কিতবিজ্ঞান |
| Cytology | কলাস্থানবিদ্যা | Faicology | শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
| Histology | টিস্যু তত্ত্ব | Mycology | ছত্রাক সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
| Ecology | বাস্তুসংস্থানবিদ্য | Parasitology | পরজীবী সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
| Evolution | বিবর্তনবিদ্যা | Helminthology | কৃমি সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
| Taxonomy | শ্রেণীবদ্ধবিদ্যা | Toxicology | বিষ সম্পর্কিত বিদ্যা |
| Herpetology | উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক | Ornithology | পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা |
| Palynology | পরাগরেণু বিদ্যা | Paleontology | জীবাশ্ম বিদ্যা |
| Geology | ভূতত্ত্ববিদ্যা | Ichthyology | মাছ সম্পর্কিত বিদ্যা |
চিকিৎসা বিজ্ঞান (Medical Science)
বিজ্ঞানের শাখা | আলোচ্য বিষয় |
| Osteology | হাড় বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Opthalmology | চোখ বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Oncology | টিউমার সংক্রান্ত বিজ্ঞান |
| Paediatrics | শিশুদের (Children) চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Psychology | মনোবিজ্ঞান। 'অবসেশন' শব্দটি এই শাখার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত |
| Neurology | স্নায়ু সম্পর্কিত চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Dermatology | চর্ম বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Radiology | রঞ্জন রশ্মি সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ফলিত প্রাণিবিজ্ঞান (Applied Zoology)
বিজ্ঞানের শাখা | আলোচ্য বিষয় |
| এপিকালচার (Apiculture) | মৌমাছি পালন বিজ্ঞান |
| এভিকালচার (Aviculture) | পাখি পালন বিজ্ঞান |
| পিসিকালচার (Pisciculture) | মৎস্যচাষ বিজ্ঞান |
| প্রনকালচার (Prawn cultue) | চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান |
| পার্ল কালচার (Pearl cullure) | মুক্তা চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান |
| ফ্রগ কালচার (Frog culture) | ব্যাঙ চাষ বিষয়ক বিজ্ঞান |
| অ্যানিম্যাল হাজবেনড্রি (Animal husbandry) | গবাদি পশুপালন বিদ্যা |
| পোলট্রি ফার্মিং (Paultry Farming) | হাসমুরগি পালন বিদ্যা |
| হর্টিকালচার (Horticulture) | উদ্যান পালন বিদ্যা |
| সেরিকালচার (Sericulture) | রেশম চাষ বিজ্ঞান |
| লাক কালচার (Lac Culture) | লাক্ষা চাষ বিজ্ঞান |
মৌমাছি (Bee)
উপকারী পতঙ্গের মধ্যে মৌমাছি অন্যতম। একটি রাণী মৌমাছি ১০০০ বার ডিম পাড়ে। প্রতি চাকে একটি রাণী মৌমাছি এবং কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি থাকে। কর্মী মৌমাছি এরা প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী মৌমাছি কিন্তু এরা বন্ধ্যা। কর্মী মৌমাছি ফুল থেকে পুষ্পসার বা নেষ্টার সংগ্রহ করে। মৌমাছিদের পাকস্থলীতে এ রস থেকে পানি অপসারিত হয়ে মধুতে পরিণত হয়। কর্মী মৌমাছির দেহে অবস্থিত মোম গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থ থেকে মোম তৈরি হয়। মৌমাছি মূলত বসন্তকালে ফুল হতে মধু আহরণ করে।
রেশম পোকা (Silk Worm)
উপকারী পতঙ্গের মধ্যে রেশম পোকা অন্যতম। রেশম পোকার গুটি থেকে উন্নত মানের সুতা তৈরি হয় যা বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত হয়। বিপুল ও সোনালী উন্নত জাতের রেশম পোকা।
পেস্ট (Paste)
ক্ষতিকারক পতঙ্গকে পেস্ট বলে। যেমন: ধান হলুদ মাজরা পোকা ও পামরী পোকা, পাটের বিছাপোকা ও চেলে পোকা, আখের ডগার মাজরা পোকা প্রভৃতি। পামরী পোকা (শুককীট ও পূর্ণাঙ্গ পোকা) ধানপাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে পাতা শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের অভাবে ধানের ফলন কমে যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
এইচ. এম. জাহিদ
ডা মইনউদ্দিন সরকার
জি. এম . তারেক
জি. এম. আনোয়ার
বিজ্ঞানীদের পরিচয়
এরিস্টটল (Aristotle)
গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি সর্বপ্রথম প্রাণিবিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের একটা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি লেছবছ নামে একটা দ্বীপে একাধারে পাঁচ বছর অবস্থান করে প্রাণিদের উপর গবেষণা করেন। প্রাণিদের সম্বন্ধে তিনি 'Historia animalium' নামে একখানা জ্ঞানগর্ভ ও তথ্যবহুল পুস্তক রচনা করেন।
থিওফ্রাসটাস (Theophrastus)
গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাসটাকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটলের ছাত্র ছিলেন। তিনি সমস্ত উদ্ভিদকে Tress (বৃক্ষ), Shrubs (গুল্য), Undershrubs (উপগুল্ম), Herbs (বীরুৎ) এই চারভাগে ভাগ করেন। 'On the History of Plants' এবং 'On the Causes of Plants' গ্রন্থগুলো তাঁর উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থ।
আল বিরুনী (AL Biruni)
বিশ্বখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত আল বিরুনী ছিলেন একজন আরব বিজ্ঞানী। তাঁর প্রকৃত নাম আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহমদ আল বিরুনী। গজনীর সুলতান মাহমুদের সময়ে তিনি ভারতবর্ষে বেড়াতে আসেন। তিনি 'কিতাবুল তারিকিল হিন্দ' নামে বিশ্ববিখ্যাত একখানা গ্রন্থ রচনা করেন।
ইবনে সিনা (Ibn Sina)
তিনি একজন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী ছিলেন। রসায়নবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যায় এবং ভাষা বিদ্যায় তার অসামান্য পারদর্শিতা ছিল। তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর 'আলকানুন' নামক ১৪ খণ্ডাংশের একটি বই লিখেন। এছাড়াও ইবনে সিনা কিতাব আশ শিফা, কিতাব আল ইশারাৎ নামক গ্রন্থ গুলো রচনা করেন।
এনথনি ফন লিউয়েনহুক (Anthony Von Leeuwenhoek)
ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েনহুক ১৬৮৩ সালে সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে তিনি ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
আন নাফীস (An Nafis)
আন নাফীস একজন আরব বিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম মানুষের রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি সম্বন্ধে সঠিক বর্ণনা প্রদান করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবু হাসান আলী ইবনে আন নাফীস।
উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey)
উইলিয়াম হার্ভে ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। তিনি ১৬২৮ সালে রক্ত সঞ্চালন প্রকিয়া আবিষ্কার করেন। তিনি প্রাণিদের রক্ত সঞ্চালন এবং রেচন প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করেন, এজন্য তাকে শারীরবিদ্যার জনক বলা হয়। `On the motion of the heart and blood in animals' গ্রন্থটি তাঁর লিখা।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming)
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছিলেন একজন অণুজীববিদ। আলোকজেন্ডার ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে Penicillium নামক ছত্রাক হতে Penicillin অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন। অতিশক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা রোগ নিরাময় ব্যবস্থাকে কেমোথেরাপি বলে।
ডেভিড প্রেইন (David Prain)
ডেভিন প্রেইন ছিলেন একজন ইংরেজ চিকিৎসক। বাংলাদেশ ও এর আশেপাশের অঞ্চলের গাছপালার বিবরণ সংক্রান্ত তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়, প্রথম খণ্ডটি 'Bengal Plants' এবং ২য় খণ্ডটি Flora of Sundribans'.
সালিম আলী (Salim Ali)
সালিম আলী ভারতের 'The Birdman of India' নামে পরিচিত বিশিষ্ট পক্ষীবিদ। তিনি ভারতের সকল পাখিকে বিজ্ঞান ভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে 'The Indian Birds' নামে একখানা তথ্যবহুল গ্রন্থ রচনা করেন। পাখিদের সম্বন্ধে আরোও অনেক গ্রন্থ রচনার জন্য ১৯৮৩ সালে ভারত সরকার সালিম আলীকে গবেষণার স্বীকৃতি স্বরুপ পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্যার আইজ্যাক নিউটন
মেরি কুরি
আলবার্ট আইনস্টাইন
গ্রাহাম বেল
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোষ (Cell)
জীব দেহের গঠন ও কাজের এককের নাম হচ্ছে কোষ। ১৬৬৫ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কার করেন। কার্যপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা: দেহকোষ এবং জনন কোষ (উদাহরণ- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু)। নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা: আদিকোষ এবং প্রকৃত কোষ। কোনো কোনো জীব একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। এদেরকে বলা হয় এককোষী বা আদিকোষ জীব। যেমন: অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমোডিয়াম প্রভৃতি। কোনো কোনো জীব একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত। এদেরকে বলা হয় বহুকোষী জীব। যেমন: মানুষ, আম, জাম ইত্যাদি। প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ নিউরন। সবচেয়ে বড় কোষ উট পাখির ডিম। সবচেয়ে ছোট কোষ Mycoplasma golisepticum-নামক ব্যাকটেরিয়ার কোষ।

প্রাণিকোষ ও উদ্ভিদ কোষের পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য | প্রাণিকোষ (Animal Cell) | উদ্ভিদ কোষ (Plant Cell) |
| কোষ প্রাচীর | নেই। | সেলুলোজ নির্মিত |
| প্লাস্টিড | নেই। | থাকে |
| কোষ গহবর | নিম্নশ্রেণীর প্রাণী ব্যতীত থাকে না। | এক বা একাধিক |
| সেন্ট্রোসোম | সর্বদা থাকে। | সাধারণত থাকে না। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোষের শ্রেণিবিভাগ
- কার্যপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা-
(১) দেহকোষ
(২) জনন কোষ : উদাহরণ- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা-
(১) আদিকোষ : উদাহরণ- ব্যাকটেরিয়া।
(২) প্রকৃত কোষ : উদাহরণ- অ্যামিবা, মানবদেহের কোষসমূহ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোষপ্রাচীর (Cell wall)
জড় ও শক্ত যে প্রাচীর দিয়ে উদ্ভিদ কোষ পরিবেষ্টিত থাকে তাকে কোষপ্রাচীর বলে। প্রাণীকোষে কোষ প্রাচীর নেই। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক কার্বোহাইড্রেট দিয়ে গঠিত। প্রোটিন, লিপিড ও পলিমার দিয়ে ব্যাক্টেরিয়ার কোষপ্রাচীর গঠিত। উদ্ভিদ কোষে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেক্টোজ, লিগনিন, সুবেরিন প্রভৃতি কার্বহাইড্রেট দিয়ে কোষ প্রাচীর গঠিত।
সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
প্লাজমা মেমব্রেন থেকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন পর্যন্ত বিস্তৃত সঞ্জীব, দানাদার অর্ধতরল প্রোটপ্লাজমীয় পদার্থকে সাইটোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, প্লাস্টিড, গলজি বডি ইত্যাদি। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত অঙ্গাণুগুলোর মধ্যে প্লাস্টিড সবচেয়ে বড়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitocondria)
মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। আদিকোষ (যেমন- ব্যাকটেরিয়া)- তে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত। শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর অভ্যন্তরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে পাওয়ার হাউস বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রাইবোসোম (Ribosome)
অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার গায়ে, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়ানো অঙ্গাণুগুলোকে রাইবোসোম বলে। ১৯৫৫ সালে প্যালাডে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম এর প্রধান কাজ হল প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোসোম কে প্রোটিন ফ্যাক্টরী বলা হয়।
নিউক্লিয়াস (Nucleus)
১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। পেশী কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। প্রাণীর বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে বলা হয় সিনসাইড্রিয়াম। লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা ইত্যাদি কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক ও প্রাণশক্তি বলা হয়।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্লাস্টিড (Plastid)
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে প্লাস্টিড থাকে। প্রাণিকোষ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিড দুই প্রকার। যথা: লিউকোপ্লাস্ট এবং ক্রোমাটোপ্লাস্ট।
ক) লিউকোপ্লাস্ট: বর্ণহীন কারণ এতে রঞ্জক পদার্থ থাকে না। মূল, ভূমিম্নস্থ কাণ্ড যেসব অঙ্গে সূর্যালোক পৌঁছায় না, সেসব অঙ্গে লিউকোপ্লাস্ট থাকে।
খ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট: ক্রোমাটোপ্লাস্ট সবুজ বা অন্যান্য বর্ণের হয়। ক্রোমাটোপ্লাস্ট দুই প্রকার। যথা-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট: ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অণুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট: এর ভিতর সবুজ বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল থাকে না তবে অন্য বর্ণ থাকে। এটির জন্য পুষ্প রঙিন ও সুন্দর হয়। পাকা ফলের রং জ্যান্থোফিলের আধিক্যের কারণে হলুদ, ক্যারোটিন জন্য কমলা, লাইকোপিনের জন্য লাল হয়। এসব বর্ণকণিকার কোনটিই না থাকলে ফুলের বর্ণ সাদা হয়। টমেটো বা যে কোনো ফল বা সবজি প্রথম দিকে সবুজ থাকে ক্লোরোফিলের কারণে। এ সময় সামান্য পরিমাণে ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, লাইকোপিনও থাকে। ধীরে ধীরে নতুন করে ক্লোরোফিল তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, আর পূর্বেরগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে রঙিন ক্যারোটিন এবং জ্যান্থোফিল ইত্যাদির পরিমাণ বাড়তে থাকে। টমেটোতে বিদ্যমান ক্রমবর্ধিষ্ণু লাইকোপিন টমেটোকে ধীরে ধীরে লাল করে ফেলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোষ বিভাজন (Cell Division)
যে প্রক্রিয়ায় একটি সজীব কোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে। যে কোষ বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ উৎপন্ন করে তাকে মাতৃকোষ বলে। মাতৃকোষ বিভাজনের ফলে যে নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে অপত্য কোষ বলে। শরীরে কোনো স্থানে কোষের দ্রুত, অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন হলে তাকে ক্যান্সার বলে। জীবদেহে তিন প্রকার কোষ বিভাজন ঘটে। যথা:
ক) অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-বিভাজন: নিউক্লিয়াসটির নিউক্লিয় সামগ্রী প্রথমে সরাসরি দুইটি অংশে বিভক্ত হয় এবং কোষটিও মধ্যভাগ বরাবর দুইভাগে বিভক্ত হয়। প্রোক্যারিওটিক কোষ যেমনঃ ব্যাকটেরিয়া, ঈস্টে এ বিভাজন দেখা যায়।
খ) মাইটোসিস: অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান। প্রতি বিভাজনে একটি মাতৃকোষ হতে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। দেহকোষে এ বিভাজন হয়।
গ) মিয়োসিস: অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক। প্রতি বিভাজন একটি মাতৃ কোষ হতে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। শুধুমাত্র জনন মাতৃকোষে এ বিভাজন হয়।

নিষেক: পুরুষ ও স্ত্রী জননকোষ একীভবনের পর এগুলোর নিউক্লিয়াসের পরস্পর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে উৎপন্ন কোষকে গ্যামেট বলে। জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ব্লাস্টোসিস্টে প্রথিত হওয়াকে ইমপ্লানটেশন বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কলা বা টিস্যু (Tissue)
একই উৎস থেকে উদ্ভূত এবং একই আকৃতির বা ভিন্ন আকৃতির কোষগুলো যখন মিলিতভাবে কোন নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে তখন এমনি সমষ্টিগত কোষকে একত্রে কলা বা টিস্যু বলে।
উদ্ভিদ টিস্যু
উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের কলা দেখা যায়। যথা- ভাজক কলা এবং স্থায়ী কলা।
ক) ভাজক কলা: যে কলার কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম, তাকে ভাজক কলা বলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে এ কলা অবস্থান করে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়।
খ) স্থায়ী কলা: যে কলার কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম, তাকে স্থায়ী কলা বলে। খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সঞ্চয়, খাদ্য- পানি - খনিজ লবণ পরিবহন, বিভিন্ন অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান ইত্যাদি স্থায়ী কলার কাজ। উদ্ভিদ জাইলেম কলার মাধ্যমে মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।

চিত্রঃ ভাজক কলা , স্থায়ী কলা
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাণী টিস্যু
প্রাণীটিস্যু( Animal Tissue) প্রধানত চার ধরণের হয়- আবরণী টিস্যু,যোজক টিস্যু,পেশি টিস্যু এবং স্নায়ু টিস্যু।
কলা গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি, অনুপস্থিতির ভিত্তিতে কলা প্রধানত চার প্রকার হয়। যথা- আবরণী কলা, যোজক কলা, পেশি কলা এবং স্নায়ু কলা।
ক) আবরণী কলা (Epithelial Tissue)
এই কলার কোষগুলো সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এই কলার মাতৃকা থাকে না। কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান ও কাজের প্রকৃতি ভেদে এ কলা তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
১) আঁইশাকার (Squamous)
২) ঘনাকার (Cuboidal)
৩) স্তম্ভাকৃতি (Columnar)
খ) যোজক কলা (Connective Tissue)
যোজক কলায় মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম। গঠন ও কাজের ভিত্তিতে যোজক কলা প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা- ফাইব্রাস, স্কেলেটাল এবং তরল যোজক কলা।
গ) পেশি কলা (Muscular Tissue)
ভ্রুণীয় মেসোডার্ম হতে উৎপন্ন সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের কলাকে পেশি কলা বলে। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ও চলন নিয়ন্ত্রণ করে এই কলা। অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি কলা তিন ধরনের। যথা- ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক এবং হৃদপেশি (Cardiac Tissue)।
১) ঐচ্ছিক পেশি টিস্যু: ঐচ্ছিক পেশি প্রাণির ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। এই পেশি অস্থিতন্ত্রে সংলগ্ন থাকে। যেমন- মানুষের হাড় ও পায়ের পেশিসমূহ।
২) অনৈচ্ছিক পেশি টিস্যু: এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণির ইচ্ছাধীন নয়। অনৈচ্ছিক পেশি প্রধানত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সঞ্চালনে অংশ নেয়। যেমন- অন্ত্রের ক্রমসংকোচন।।
৩) হৃদপেশি: মেরুদণ্ডী প্রাণিদের হৃৎপিণ্ড যে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত, তাকে কার্ডিয়াক পেশি বলে। হৃৎপিণ্ডের সকল হৃৎপেশি একত্রে সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
ঘ) স্নায়ু কলা (Nervous Tissue)
যে বিশেষ কলা দিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত তাকে স্নায়ু কলা বলে। স্নায়ু কলা যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
উদ্ভিদ বৈচিত্র্য বা Plant Diversity হলো পৃথিবীতে বিদ্যমান উদ্ভিদের জিনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের সমাহার । এটি উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি, তাদের অভিযোজন এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। পৃথিবীতে প্রায় ৩৫০,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যা খাদ্য, অক্সিজেন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
উদ্ভিদজগৎ
বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সমস্ত উদ্ভিদ জগতকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- বৃক্ষ, গুল্ম, উপগুল্ম এবং বীরুৎ।
বৃক্ষ (Trees)
কাণ্ডবিশিষ্ট উচু কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। এদের কাণ্ড মোটা, দীর্ঘ ও শক্ত। জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে শাখা-প্রশাখা এবং পাতা বের হয়।এদের শেকড় মাটির বেশি গভীরে যায়। যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, বেল ইত্যাদি উদ্ভিদ। প্রতি বছর ভাস্কুলার টিস্যুতে একটি নতুন লেয়ার জাইলেম সষ্টির কারণে গাছের গুড়ির মধ্যে যে গোল দাগ পড়ে তাকেই বর্ষ বলয় বলে। এটি মূলত পত্র পতনশীল বৃক্ষ হয়ে থাকে।
গুল্ম (Shrubs)
যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কাণ্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিনত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে। এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। যেমন- জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।
উপস্তুল (Undershurbs)
গুল্ম অপেক্ষা ছাটো আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে উপগুলা উদ্ভিদ বলে। যেমন- কাল্কাসুন্দা, আঁশশেওড়া ইত্যাদি।
বীরুৎ (Herbs)
নরম কান্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদকে বীরুৎ বা হার্ব উদ্ভিদ বলে। এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। যেমন- ধান, গম, সরিষা, কচুরীপানা, লাউ, কুমড়া ইত্যাদি বীরুৎ উদ্ভিদ। আয়ুষ্কাল অনুসারে বীরুৎউদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বর্ষজীবী বা একবর্ষজীবী উদ্ভিদ, দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ, এবং বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
(১) বর্ষজীবী বা একবর্ষজীবী উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদ বছরে কোনো একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে জন্মে ওনির্দিষ্ট সময়ে একবার ফল দিয়ে গাছগুলো মারা যায় তবে এই ধরনের উদ্ভিদকে একবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
(২) দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদ সাধারণত দু’বছর বেঁচে থাকে তাদেরকে দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে। যেমন- মুলা, বাধাকপি ইত্যাদি।
(৩) বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদ দুই বছরের অধিক সময় বেঁচে থাকে তাদেরকে বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে। যেমন- দুর্বা ঘাস, আদা, হলুদ ইত্যাদি।
ফুল ও ফল ধারণ অনুযায়ী উদ্ভিদ জগতকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
| অপুষ্পক উদ্ভিদ, সপুষ্পক উদ্ভিদ |
| নগ্নবীজী উদ্ভিদ, আবৃতবীজী উদ্ভিদ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ঝোপঝাড়
ঘাস
গুল্মজাতীয়
কোনটিই নয়?
অপুষ্পক উদ্ভিদ
যে সকল উদ্ভিদে কখনও ফুল ও ফল হয় না, তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। যেমন- ক্লোরেলা, নস্টক, মস, ফার্ন প্রভৃতি। অধিকাংশ উদ্ভিদের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ। যে সকল উদ্ভিদ নিচের খাদ্য নিজেই প্রস্তুত করতে পারে, তাকে স্বভোজী বা অটোফাইট বলা হয়। ছত্রাক ছাড়া পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ অটোফাইট।।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সপুষ্পক উদ্ভিদ
যে সকল উদ্ভিদে ফুল হয় এদের সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। যেমন- আম, জাম, ধান, মরিচ, পেয়াজ, শিমুল, অর্কিড প্রভৃতি।
সপুষ্পক উদ্ভিদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত পরিবহন কলা উপস্থিত। আবার সকল সপুষ্পক উদ্ভিদের ফল হয় না। সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperm)
যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয়, বীজ হয় কিন্তু ফল হয় না তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। এদের ফুল হয় কিন্তু ফল হয় না কারণ ফুলের গর্ভাশয় থাকে না। দেহ মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভক্ত করা যায়। দেহে পরিবহন টিস্যু আছে। যেমন: Cycus, Pinus, Gnetum ইত্যাদি।
আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)
যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয়, বীজ হয়, ফল হয় তাদেরকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। দেহে পরিবহন টিস্যু আছে। আবৃতজীবী উদ্ভিদ দুই প্রকার: (ক) একবীজপত্রী, (খ) দ্বিবীজপত্রী।
একবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে একটি বীজপত্র থাকে। যেমন: ধান, গম, ইক্ষু, তাল, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, ভুট্টা ইত্যাদি। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে। যেমনঃ আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, ছোলা, শিম, মটর ইত্যাদি।
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাদের একবীজপত্রী বলে। যেমন- ধান, গম, ইক্ষু, তাল, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, ভুট্টা ইত্যাদি
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: যে সব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন- কাঁঠাল, লিচু, ছোলা, শিম, মটর, মেহগনি, সুন্দরী ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায়। উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে, তাদের একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবর্তিত কাণ্ড
প্রধানমূলের সাথে লাগান মাটির উপরের উদ্ভিদের অংশটি কাণ্ড। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সাধার কাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটে। এ ধরনের পরিবর্তনকে কাণ্ডের রূপান্তর বলে। অবস্থান অনুযায়ী এদের তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ক) ভূ-নিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড, খ) অর্ধ-বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড এবং গ) বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড।
ক) ভূ-নিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড: সাধারণত উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির উপরে থাকে। কিন্তু যে সমস্ত কাণ্ড মাটির নিচে থাকে, এদের ভূ-নিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড বলে। যেমন- আদা, হলুদ, সটি, গোলআলু, ওলকচু, পেয়াজ, রসুন, লিলি, টিউলিপ প্রভৃতি।
খ) অর্ধ-বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড: কোনো কোনো কাণ্ডের কিছু অংশ মাটিতে এবং কিছু অংশ বায়ুতে থাকে। এদের অর্ধ-বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড বলে। যেমন- থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুলী, কচু, কচুরিপানা, টোপাপানা, পুদিনা, চন্দ্রমল্লিকা, বাঁশ প্রভৃতি।
কচুরীপানা: কচুরীপানাসহ অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের। কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। তাই এরা সহজে পানিতে ভাসে। উনিশ শতকের শেষার্ধে জনৈক পর্যটক কচুরিপানার অর্কিডসদৃশ ফুলে মুগ্ধ হয়ে ব্রাজিল থেকে এ উদ্ভিদ বাংলাদেশে আনেন।
গ) বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড: কতগুলো গাছের কাণ্ড বা কাণ্ডের অংশবিশেষ কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য পরিবর্তিত হয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে এদের কাণ্ড বলে মনে হয় না। এদেরকে বায়বীয় পরিবর্তিত কাণ্ড বলে। যেমন- ফণিমনসা, শতমূলী, বেল, ময়না কাটা, মেহেদী, হাড়জোড়া, ঝুমকোলতা, বুলবিল প্রভৃতি। ফণিমনসার কাণ্ড পরিবর্তিত হয়ে পাতার মতো চ্যাপ্টা ও সবুজ হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবর্তিত পাতা
কিছু কিছু উদ্ভিদের কতগুলো জৈবিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য পরিবর্তিত হয়। যেমন-
ক) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসি উদ্ভিদ, ঝাঁঝি, সূর্যশিশির প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতা আমিষ খাদ্যের জন্য পতঙ্গ ধরার ফাদ হিসেবে কলসি, থলি প্রভৃতিতে বিবর্তিত হয়। এ ধরনের উদ্ভিদকে পতঙ্গভুক উদ্ভিদ বলে।
খ) প্রজনন: পাথরকুচির পাতার কিনারায় কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছমূলও গজায়।
গ) কণ্টকপত্র: পাতা কখনও কাটায় পরিণত হয়। যেমন- লেবু।
ঘ) সঞ্চয় খাদ্য: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী পাতা পুরু ও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবর্তিত মূল
ক) প্রধান মূলের রূপান্তর
মূল কখনো বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। যথা-
- মূলাকৃতি মূল : মূলা।
- গাজরাকৃতি মূল : গাজর।
- শালগমাকৃতি মূল : শালগম।
- কান্দাকৃতি মূল : সন্ধ্যামালতি।
খ) অস্থানিক মূলের রূপান্তর
- খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য রূপান্তর : মিষ্টি আলুর কন্দাল মূল, শতমূলী ও ডালিয়ার গুচ্ছিত কন্দ মূল এবং করলার মালাকৃতির মূল ইত্যাদি।
- যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার্থে রূপান্তর : বটের স্তম্ভমূল, কেয়ার ঠেস মূল, পানের আরোহী মূল।
- শরীরবৃত্তীয় কার্য সাধনের জন্য রূপান্তর : রাস্নার পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল, স্বর্ণলতার শোষক মূল, সুন্দরী ও গরান গাছের শ্বাসমূল, মিষ্টি আলুর জনন মূল।
উদ্ভিদেরর প্রজনন (Reproduction of Plants)
একটি গাছের তারই অনুরূপ তারই অনুরূপ আর একটি গাছ জন্ম দেয়ার এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রজনন।
উদ্ভিদের প্রজনন দুই প্রকার। যথা: অযৌন প্রজনন এবং যৌন প্রজনন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক) অযৌন প্রজনন
যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটো ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই সম্পন্ন হয় তাই অযৌন প্রজনন। অযৌন প্রধানত দুই প্রকার। যথা- স্পোর উৎপাদন এবং অঙ্গজ প্রজনন।
(১) স্পোর উৎপাদন: নিম্ন শ্রেণীর অপুষ্পক উদ্ভিদ যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস এবং ফার্ন স্পোর বা অণবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করে।
(২) অঙ্গজ প্রজনন: কোনো ধরনের অযৌন জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খণ্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে। অঙ্গজ প্রজননকে স্বাভাবিক ও কৃত্রিম এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন: বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। যথা
- দেহের খণ্ডায়ন : Spirogyra, Mucor ইত্যাদি।
- মূলের মাধ্যমে : মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
- রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে : আলু, আদা, হলুদ, সটি, পিঁয়াজ, রসুন, কচু, পুদিনা, কচুরি পানা, কলা, আনারস, চুপড়ি আলু।
- পাতার মাধ্যমে : পাথরকুচি।
কত্রিম অঙ্গজ প্রজনন: কৃত্রিম উপায়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন বলে। কলম, কাটিং, লেয়ারিং, বাডিং ইত্যাদি পদ্ধতিতে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন ঘটানো যায়।
১) কলম (Grafting): কলম করার জন্য প্রথমে একটি সুস্থ গাছের কচি ও সতেজ শাখা নির্বাচন করা হয়। উপযুক্ত স্থানে বাকল সামান্য কেটে নিতে হয়। এবার ঐ ক্ষতস্থানটি মাটি ও গোবর মিশিয়ে ভালোভাবে আবৃত করে দিতে হয়। এবার সেলোফেন টেপ বা পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিতে হবে যাতে পানি লেগে মাটি খসে না পড়ে। এভাবে কিছুদিন রেখে দিলে এ স্থানে মূল গজাবে। এর পরে মূলসহ শাখার এ অংশটি মাতউদ্ভিদ থেকে কেটে নিয়ে মাটিতে রোপন করে দিলে নতুন একটি উদ্ভিদ হিসেবে গড়ে উঠবে।
২) কাটিং: গোলাপের একটি ডাল নিয়ে ভেজা মাটিতে পুঁতে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই তা থেকে নতুন কুড়ি উৎপন্ন হয়। এ সব কুড়ি বড় হয়ে একটি নতুন গোলাপ গাছ উৎপন্ন করে।
কোন গাছের শিকড়, ডাল বা পাতা থেকে যে নতুন চারা গাছ গজায়, তাকে দাবা কলম বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খ) যৌন প্রজনন
ফুল এবং ফল থেকে বীজ হয়। বীজ থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। এভাবে একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। তাই ফুল উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনন অঙ্গ।
ফটোপিরিওডিজম (Photoperiodism)
উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১) ছোট দিনের উদ্ভিদ: দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হলে ছোট দিনের উদ্ভিদে ফুল ফোটে। যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট। এদের দীর্ঘরাত্রির উদ্ভিদও বলা হয়।
২) বড়দিনের উদ্ভিদ: দিনের দৈর্ঘ্য বড় হলে এ জাতীয় ফুল ফোটে। যেমন- ঝিঙ্গা, লেটুস, পালংশাক, আফিম, যব প্রভৃতি। এদের ছোট রাত্রির উদ্ভিদও বলা হয়।
পরাগায়ণ (Pollination)
ফুলের প্রতিটি উর্বর পুংকেশরের মাথায় একটি পরাগধানী থাকে। পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ণ বলে। পরাগায়ণ দুই প্রকার। যথা- স্বপরাগায়ণ এবং পরপরাগায়ণ।
(ক) স্বপরাগায়ণ (Self Pollination): পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুলের গর্ভমুণ্ডে বা একই গাছের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে স্ব- পরাগায়ণ বলে। যেমন- শিম, টমেটো, কানশিরা, তুলা প্রভৃতি।
(খ) পরপরাগায়ণ (Cross - Pollination): পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে পর-পরাগায়ন বলে। অধিকাংশ উদ্ভিদে পরপরাগায়ন হয়। পরপরাগায়ণ সাধারণত বায়ু, কীটপতঙ্গ, প্রাণী এবং পানির মাধ্যমে ঘটে থাকে। যেমন-
১) বায়ু পরাগায়ণ (Anemophily): যেসব ফুলের পরাগায়ণ বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাদের বায়ু পরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
২) পতঙ্গ পরাগায়ণ (Entomophily): সূর্যমুখী, জুই, সরিষা, গোলাপ, পদ্ম, শালুক, জবা কুমড়া প্রভৃতি ফুলে পতঙ্গ পরাগায়ণ হয়। কালো পিঁপড়া ডুমুরের পুংরেণুর সাথে স্ত্রী রেণুর সংযোগ ঘটায়। ফুলের বর্ণ, গন্ধ ও মধুর লোভে পতঙ্গ যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন পরাগরেণু পতঙ্গের মাধ্যমে এক ফুল থেকে অন্য ফলে স্থানান্তরিত হয়। রাতে ফোটা পতঙ্গপরাগী ফুল তীব্র গন্ধযুক্ত এবং সাদা পাপড়ি বিশিষ্ট হয়।
৩) প্রাণী পরাগায়ণ (Omithophily): যে সকল ফুলের পরাগায়ণ পশু পাখির (কাঠবিড়াল, বাদুর, পাখি) মাধ্যমে সংঘটিত হয় সে সকল ফুলকে প্রাণীপরাগী ফুল বলে। যেমন- কদম, কলা, কচু, শিমুল, পলাশ প্রভৃতি।
৪) পানি পরাগায়ণ: যে সব ফুলের পরাগয়ণ পানির মাধ্যমে ঘটে, সে সব ফুলকে পানি পরাগী ফুল বলে। যথা- পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা প্রভৃতি।
ফল (Fruit)
ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- সরল ফল, গুচ্ছ ফল ও যৌগিক ফল। সাধারণত ফলের অংশ ৩ অংশ থাকে। যথা- বহিঃত্বক (Exocarp), মধ্যত্বক (Mesocarp) এবং অন্তঃত্বক (Endocarp)।
সরল ফল: যে ফল একটি ফুলের একটি মাত্র গর্ভপত্র বা একাধিক যুক্ত গর্ভপত্রবিশিষ্ট ডিম্বাশয় থেকে সৃষ্টি হয়, তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম, জাম, কলা, মটর, শিম, তেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি।
গুচ্ছফল: যে ফল একটি ফুলের একাধিক মুক্ত গর্ভপত্রবিশিষ্ট ডিম্বাশয় হতে উৎপন্ন হয় তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- আতা, পদ্ম, চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা প্রভৃতি।
যৌগিক ফল: যখন একটি পুষ্পমঞ্জুরির সব ফুল মিলে একটি ফলে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। যৌগিক ফলের ভিতরে অসংখ্য বীজ থাকে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বীজের বিস্তরণ
মাতৃ উদ্ভিদ হতে ফল ও বীজ বিভিন্ন উপায়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়াকে বীজের বিস্তরণ বলা হয়। যেমন- বটের বীজের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে।
অঙ্কুরোদগম (Germination)
বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে। যথাযথভাবে অঙ্কুরোদগম হওয়ার জন্য পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন। বীজের অঙ্কুরোদগম প্রধানত তিন প্রকার। যথা- মৃৎগত, মৃৎভেদী এবং জরায়ুজ। সংক্ষেপে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ক) মৃৎগত অঙ্কুরোদগম: যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাদি কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে মুকুল মাটির উপরে উঠে আসে কিন্তু বীজপত্র মাটির ভিতরে থেকে যায় তখন তাকে মৃগত অঙ্কুরোদগম বলে। যেমন- নাম ছোলা, মটরশুটি, ধান, গম, ছোলা ইত্যাদি উদ্ভিদে এই ধরনের অঙ্কুরোদগম ঘটে।
খ) মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম: যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাদি কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বীজপত্রসহ ভ্রুণ মুকুল মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে তাকে মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশন বলে। যেমন- তেঁতুল, লাউ, পেঁয়াজ, কুমড়া, শিম, রেডী ইত্যাদি।
গ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: লোনা পানির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে বিশেষ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়, তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। যেমন- কেওড়া, গরান, সুন্দরী ইত্যাদি।
উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি
উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি হলো জীবনের টিকে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মধ্যে প্রধান হলো সালোকসংশ্লেষণ (খাদ্য তৈরি), শ্বসন (শক্তি উৎপাদন), প্রস্বেদন (পানি বাষ্পমোচন), এবং খনিজ লবণ শোষণ। এগুলো ছাড়াও অভিস্রবণ, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও হরমোনের নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রজনন প্রক্রিয়া সামগ্রিক জীবনচক্র সচল রাখে, যা মূলরোমের মাধ্যমে পানি ও মাটি থেকে পুষ্টির শোষণের ওপর নির্ভরশীল।
ব্যাপন
সব পদার্থ কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু নিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো সবসময় গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল বা গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্বের সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হওয়া মাত্রই পদার্থের ব্যাপন বন্ধ হয়ে যায়।
অভিস্রবণ (Osmosis)
যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লীর মধ্য দিয়ে হাল্কা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে অভিস্রবণ (Osmosis) বলে। দুটো দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। পানিতে কিচমিচ ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে ফুলে উঠে।
প্রস্বেদন (Transpiration)
উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন। বায়বীয় অংশ থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়। প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না। শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝড়ে যায়। কলার চারা লাগানোর সময় প্রস্বেদন রোধ করার জন্য পাতা কেটে ফেলা হয়। প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (৯০-৯৫%)
খ) কিউটিকুলার প্রস্বেদন
গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন: উদ্ভিদের পরিণত কাণ্ডে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে স্থানে স্থানে ফেটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এ ছিদ্রকে বলে লেন্টিসেল। লেন্টিসেলের মধ্যে দিয়ে প্রস্বেদনকে বলা হয় লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় যে টান সৃষ্টি হয়, তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে সাহায্য করে।
পানি ও খনিজ লবণের পরিবহন
উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে পানি অভিস্রবন প্রক্রিয়ায় এবং পানিতে দ্রবীভত খনিজ লবণ নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে শোষিত হয়ে জাইলেম টিস্যুতে পৌঁছায়। উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। জাইলেমেরে মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় যায় এবং ফ্লোয়েমের দ্বারা পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারাদেহে পরিবাহিত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সালোক সংশ্লেষণ (Photosynthesis)
সালোক সংশ্লেষণ এমন একটি জৈবনিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যরশ্মির ফোটন থেকে শোষণকৃত শক্তি কাজে লাগিয়ে বায়ুমণ্ডলস্থিত CO2 এবং কোষস্থ পানি ও অন্যান্য জৈব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হলো আলো। লাল আলোতে সবচেয়ে বেশি সালোক সংশ্লেষণ হয়। সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস পানি। উদ্ভিদের সবুজ অংশে বিশেষ করে পাতায়, কচি সবুজ কাণ্ডে এবং সবুজ বীজপত্রে সালোক সংশ্লেষণ হয়। কিন্তু উদ্ভিদের মূলে সালোক সংশ্লেষণ হয় না। সালোক সংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা 22-35° C। পাতার প্যালিসেড প্যারেনকাইমা কোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। সালোকসংশ্লেষণের পর্যায় দুটি (ক) আলোক পর্যায় (খ) অন্ধকার পর্যায়। সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার পর্যায়ে বায়ুমণ্ডলের CO2 ব্যবহার করে শর্করা তৈরির চক্রকে ক্যালভিন ও ব্যাশাম চক্র বলে। ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এ সময় গাছ হতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শ্বসন (Respiration)
অক্সিজেন সহযোগে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে শক্তি ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় শ্বসন। শ্বসন প্রক্রিয়ায় শর্করা, আমিষ, চর্বি, জৈব এসিড ইত্যাদি জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়। সজীব কোষের সাইটোপ্লাজমে ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে শ্বসন প্রকিয়া সম্পন্ন হয়। উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে শ্বসন ক্রিয়া সবচেয়ে বেশি হয়।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উদ্ভিদের পুষ্টি (Plant Nutrition)
উদ্ভিদের দেহের স্বাস্থ্যপ্রদ বৃদ্ধি, শারীরিক পরিপূর্ণতা ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ পরিশোষণ প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলা হয়, অর্থাৎ উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি বলে। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংখ্যা ১৬টি। উদ্ভিদের পুষ্টির উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত।
ক) ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য পুষ্টি: উদ্ভিদের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোমৌল বলা হয়। উদ্ভিদের মুখ্য পুষ্টি উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, কার্বন, হাইড্রেজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার।
মনে রাখার উপায়- Mg K CaFe for Nice CHOPS = এমজিকে কাফে ভাল চপের জন্যই ম্যাগনেশিয়াম (Mg), পটাশিয়াম (K), ক্যালশিয়াম, লৌহ (CaFe), নাইট্রোজেন (Nice), কার্বন হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার (CHOPS)।
খ) মাইক্রোমৌল বা গৌণ পুষ্টি উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো মৌল বলা হয়। উদ্ভিদের গৌণ পুষ্টি উপাদান ৬টি যথা- দস্তা (জিঙ্ক), ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, বোরন, তামা এবং ক্লোরিন।
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র কার্বন ও অক্সিজেন মাটি হতে গ্রহণ করে। অন্য উপাদান মাটি হতে মূলের সাহায্যে শোষণ করে।
বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব নিম্নরূপ-
১. নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে পাতা হলুদ (পীতবর্ণ) হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে।
২. ফসফরাসের অভাবে গাছের পাতা বেগুনি রং ধারণ করে এবং গাছের পাতা ও ফল ঝরে পড়ে।
৩. ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহের অভাবে গাছের পাতা ফ্যাকাশে রঙের হতে পারে।
৪. সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।
৫. পটাশিয়ামের অভাব হলে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চলের সষ্টি হয়।
৬. বোরনের অভাবে মূলের বৃদ্ধি কমে যায়, শাখার শীর্ষ মরে যায়, ফুলের কুড়ি জন্ম ব্যাহত হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাইট্রোজেন চক্র হলো ভূজৈবরাসায়নিক চক্র, যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুমণ্ডল, স্থলজগৎ এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রএর মধ্যে আবর্তিত হয়ে একাধিক রাসায়নিকে রূপান্তরিত হয়। নাইট্রোজেনের রূপান্তর জৈবিক এবং ভৌত উভয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে পারে। নাইট্রোজেন চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি হল- স্থিতিকরণ বা সংবদ্ধকরণ, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন এবং ডিনাইট্রিফিকেশন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৮% বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন নাইট্রোজেনের বৃহত্তম উৎস। তবে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে সরাসরি জীবেরা ব্যবহার করতে না পারায় অনেক বাস্তুতন্ত্রে জীবের ব্যবহারযোগ্য নাইট্রোজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।
নাইট্রোজেন চক্র পরিবেশবিদদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়, কারণ নাইট্রোজেনের প্রাপ্যতা প্রাথমিক উৎপাদন এবং বিয়োজন সহ বাস্তুতন্ত্রের মূল প্রক্রিয়াগুলির হারকে প্রভাবিত করতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, কৃত্রিম নাইট্রোজেন সার ব্যবহার এবং বর্জ্য জলে নাইট্রোজেনের মুক্তির মতো মানবিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্বব্যাপী নাইট্রোজেন চক্রকে ভীষণভাবে পরিবর্তন করেছে। বিশ্বব্যাপী নাইট্রোজেন চক্রের পরিবর্তন প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবস্থা এবং মানব স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব বিস্তার করে।


জৈব নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়াম (NH+4) সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক আকারে নাইট্রোজেন পরিবেশে উপস্থিত রয়েছে। নাইট্রাইট (), নাইট্রেট (NO2−), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO) বা অজৈব নাইট্রোজেন গ্যাস (N2)। জৈব নাইট্রোজেন জীবের রূপে, হিউমাস রূপে বা জৈব পদার্থের পচনের মধ্যবর্তী ধাপ রূপে থাকতে পারে। নাইট্রোজেনকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হওয়াই হল নাইট্রোজেন চক্রের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াগুলির বেশিরভাগই জীবাণু দ্বারা সংঘটিত হয়। এগুলি হয় তারা শক্তি সংগ্রহের জন্য করে, কিংবা তাদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় রূপে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করতে এই প্রক্রিয়াগুলি ঘটায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাণীর মূত্রে থাকা নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যগুলিকে মাটিতে থাকা নাইট্রাইফাইং ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদের ব্যবহারের জন্য ভেঙে দেয়। পাশের চিত্রটি দেখায় যে কীভাবে এই প্রক্রিয়াগুলি একসাথে নাইট্রোজেন চক্র গঠন করে।
সবুজ বিপ্লব (Green Revolution)
বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশক থেকে ষাট এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত কৃষি বিষয়ক গবেষণা, উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। উচ্চফলনশীল জাতের বীজের ব্যবহার, কৃত্রিম সার ও কীটনাশক প্রয়োগ প্রভৃতি কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কৃষির এই আমূল পরিবর্তন ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে পরিচিত। বিখ্যাত মার্কিন কৃষি বিজ্ঞানী নরম্যান বোরলাউগকে সবুজ বিপ্লবের জনক বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
(১) ধান, গম, যব, ছন, ইক্ষু, বাঁশ প্রভৃতি সবই ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ বাঁশ। বাঁশ পৃথিবীর দ্রুততম বৃদ্ধিসম্পন্ন গাছ। নেপিয়ার এক ধরনের ঘাস।
(২) সরিষা, সয়াবিন, তিল, বাদাম, তিসি, সূর্যমুখী, নারিকেল ইত্যাদি তৈল উৎপাদনকারী উভদ। এ সকল উদ্ভিদ হতে যে তেল পাওয়া যায় তাকে উদ্ভিজ্জ তেল বলে।
(৩) অর্জুন, নিম, মুক্তাঝুড়ি, বাসক বেল, রসুন, ছাতিম, কালোমেঘ শতমূলী, নয়নতারা, থানকুনি, কালো ধুতরা, অশ্বগন্ধা, আদা ইত্যাদি উদ্ভিদকে ঔষধ তথা ভেষজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ বলে।
(৪) তুলা, পাট, মেস্তাপাট, বেত ইত্যাদি উদ্ভিদকে তন্তু উৎপাদকারী উদ্ভিদ বলা হয়। বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান তুলা। তুলা গাছকে ‘সূর্যের কন্যা’ বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশ বিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণী প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও আন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদির প্রয়োজনীয় পরিবর্তিত সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণিদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটেছে তাকে প্রাণি বৈচিত্র্য বলে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। প্রাণিজগতের প্রধান পর্ব ১০ টি। প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ পর্ব Arthropoda (আর্থোপোডা)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস
মেরুদণ্ডী এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী
যে সকল প্রাণির মেরুদণ্ড আছে তাদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণি বলে। যেমন: মানুষ, গরু, বেজি প্রভৃতি। যে সকল প্রাণির মেরুদণ্ড নাই তাদেরকে অমেরুদণ্ডী প্রাণি বলে। যেমন: অ্যামিবা, কেঁচো, হাইড্রা, তেলাপোকা, মাছি, স্পঞ্জ প্রভৃতি।
স্তন্যপায়ী প্রাণী (ম্যামাল)
হাতী, তিমি, বাদুড়, মানুষ প্রভৃতি স্তন্যপায়ী প্রাণী। সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী নীলতিমি। প্লাটিপাস স্তন্যপায়ী জীব হলেও ডিম দেয়। মানুষ কর্ডাটা (Chordata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। মানুষের আবির্ভাব ঘটে ক্রিটেসাস যুগে।
অ্যানিম্যালিয়া বা প্রাণিজগতের প্রাণীদেরকে দশটি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) প্রোটোজোয়া (Protozoa) : এককোষী জীব। যেমন-অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু।
২) পরিফেরা (Porifera) : সরলতম বহুকোষী প্রানী। যেমন- স্পনজিলা, সাকাইফা।
৩) সিলেন্টারেটা (Coellenterata) : হাইড্রা, জেলী ফিস ইত্যাদি।
৪) প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes) : ফিতাকৃমি, যকৃতকৃমি প্রভৃতি। ফিতাকৃমি অন্তঃপরজীবী।
৫) নেমাটোডা (Nematoda) : যেমন- গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি।
৬) অ্যানিলিডা (Annelida) : যেমন- কেঁচো, জোঁক ইত্যাদি।
৭) আর্থোপোডা (Arthopoda) : প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব। যেমন -চিংড়ি, আরশোলা, প্রজাপতি, ফড়িং, কাঁকড়া, মাকড়সা, মাছি, পিঁপড়া, মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি।
৮) মলাস্কা (Mollusca) : যেমন – শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস ইত্যাদি।
৯) একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) : তারা মাছ, সমুদ্র শশা, একাইনাস ইত্যাদি।
১০) কর্ডাটা (Chordata) : মানুষ, নীলতিমি, গরু, ছাগল, ব্যাঙ প্রভৃতি।
পর্ব : সিলেন্টারেটা
হাইড্রার দুটি স্বতন্ত্র চলন পদ্ধতি আছে। যথা- লুপিং বা হামাগুড়ি এবং সমারসল্টিং বা ডিগবাজি। এদের মধ্যে হামাগুড়ি ধীরে এবং ডিগবাজি দ্রুত চলনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে।
জেলিফিস সামনের দিকে সাঁতার কাটতে পারে না।
পর্ব : নেমাটোডা
ফাইলেরিয়া কৃমি গোদ রোগের জন্য দায়ী। কিউলেক্স মশার কামড়ে এ রোগের জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে ফাইলেরিয়া রোগের প্রকোপ বেশি।
পর্ব : অ্যানিলিডা
কেঁচো (Earthworm) ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে। এরা মাটির নিচে বাস করে। কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ। এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে ওপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি ওপরে তুলে আনে। তাই কেঁচোকে ‘প্রকুতির লাঙ্গল’ বলে।
পর্ব : আর্থোপোডা
আর্থোপোডা পর্বের প্রাণীদের পাগুলো সন্ধিযুক্ত হয়। দেহে হিমোসিল থাকে।
পিঁপড়া নিজের ওজনের ৫০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। মাকড়সা ৪ জোড়া এবং প্রজাপতি ও মাছির ৩ জোড়া পা থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাছ (Chondrichthyes + Osteichthyes)
মাছ পানিতে বাস করে। ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে মাছ অক্সিজেন নেয়। এদের পাখনা আছে। পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। অধিকাংশ স্বাদু পানির অসটিকথিস শ্রেণিভুক্ত। যেমন- রুই, কাতলা, তেলাপিয়া প্রভৃতি।
সবচেয়ে দ্রুতগামী মাছ সেইল ফিশ (Sailfish)।
হাঙ্গর (Shark) কনড্রিকথিস শ্রেণিভূক্ত তরুণাস্থি এক ধরণের শিকারী সামুদ্রিক মাছ।
তেলাপিয়া মাছ মুখে ডিম রেখে বাচ্চা ফুটায়।
ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃদপিন্ড থাকে।
পিরানহা রাক্ষুসে মাছ। পিরানহার চোয়াল ছোট হলেও ত্রিভূজাকৃতির ক্ষুরের মত দুই পাটি দাঁত থাকে যা দ্বারা শিকারকে সহজেই মেরে ফেলতে পারে।
লাংফিস অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় পাওয়া যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কৃষি
মাছ
বাগান
ফুল
উভচর প্রাণী (Amphibia)
ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভূক্ত প্রাণী। এরা জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। ব্যাঙাচি ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। ব্যাঙাচির ফুলকা ৩ জোড়া। পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। ব্যাঙের হৃদপিন্ড ৩টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (উপরে ডান ও বাম অলিন্দ বলে এবং নিচে নিলয়। ব্যাঙ শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। শরীরের তাপামাত্রা পরিবেশের সাথে উঠানামা করে, বলে। এজন্য ব্যাঙ (শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীরা) শীতকালে নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করে। একে শীতনিদ্রা (Hibernation) বলে। শীতনিদ্রায় যাওয়া প্রাণীর বিপাক, শ্বসন এবং রক্ত সঞ্চালন অত্রন্ত নিম্ন পর্যায়ে থাকে। এ সময় এরা খাদ্য গ্রহণ না করে প্রয়োজনীয় শক্তি দেহে সঞ্চিত স্নেহ জাতীয় পদার্থ থেকে পেয়ে থাকে। যে প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের সাথে উঠানামা করে না, তাদের উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সরীসৃপ প্রাণী (Reptilia)
সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি রেপটিলিয়া (সরীসৃপ) শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
সাপ: সাপ জিহবার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
কচ্ছপ: কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
গিরগিটি: গিরগিটি গায়ের রঙ পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
ঘড়িয়াল: ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠাজলের কুমির বর্গের সরীসৃপ। বাংলাদেশে পদ্মা, যমুনা ও ব্রক্ষ্মপুত্রে এবং সেগুলোর শাখাপ্রশাখায় এক সময় প্রচুর ঘড়িয়াল দেখা যেত।
ডায়নোসর: ডায়নোসর ছিল মেসোজোয়িক (Mesozoic) মহাযুগের প্রাণী। কোনো কোনো বিজ্ঞানীর ধারণা, ডাইনোসর যখন পৃথিবীতে ছিল তখন পৃথিবী অনেক গরম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। ঠান্ডা সইতে না পেরে তারা সবাই মারা যায়। আবার কারো কারো মতে, যখন পৃথিবীতে অন্য প্রাণীর আবির্ভাব ঘটে, তখন তারা খাদ্য হিসেবে ডাইনোসরের ডিম খাওয়া শুরু করে। ডাইনোসর তাদের ডিম সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়। ফলে আজ থেকে ৬.৫ কোটি বছর পূর্বে তাদের বিলুপ্তি ঘটে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পাখি (Aves)
পাখি ভার্টিব্রাটার উপপর্ব এভিস শ্রেণির প্রাণী। দেহ পালক দ্বারা আবৃত। যেমন-বাজপাখি (hawk/Falcon), ঈগল (Eagle), অ্যালবাট্রস (Albatross), শকুন (Vulture), হাঁস, মুরগি, কবুতর।
- সবচেয়ে দ্রুততম পাখি পেরেগ্রিন শাহিন ।
- সবচেয়ে ছোট পাখি হামিং বার্ড।
- সবচেয়ে বড় পাখি উটপাখি।
- সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক পাখি আলবাট্রস। এরা সাধারণ পাখির তুলনায় আকারে অনেকটা বড় হয়। এদের দুই ডানার মাঝের বিস্তার ৩ মিটার এর বেশি হতে পারে যা এদের দৈহিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক বেশি।
- গাঙচিল আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে এবং এরা পাখিদের মধ্যে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দিতে পারে।
- কিউই (Kiwi), পেঙ্গুইন (Penguin), উটপাখি (Ostrich), এমু (Emus) প্রভৃতি পাখি উড়তে পারে না। উটপাখি ভূচর পাখিদের মধ্যে দ্রুততম।
- পেঙ্গুইন পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুবলয়ের আশেপাশে বাস করে। পেঙ্গুইন পানিতে খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে বিধায় দারুণভাবে শিকার করতে পারে।
- কিউই নিউজিল্যান্ডে পাওয়া যায়।
- কাঠঠোকরা পাখির জীব কন্টকময়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্তন্যপায়ী প্রাণী (Mammalia)
স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহ লোম দ্বারা আবৃত। স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। যেমন- তিমি (Whale), বাদুড় (Bat), শুশুক (Dolphin), গরু, হাতী, মানুষ, কুকুর, বানর, গরিলা, শিম্পাঞ্জী, ঘোড়া, জিরাফ, ইঁদুর প্রভৃতি স্তন্যপায়ী প্রাণী।
- প্লাটিপাস স্তন্যপায়ী জীব হলেও ডিম দেয়।
- সবচেয়ে বড় প্রাণী নীলতিমি।
- সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী আফ্রিকান হাতি।
- পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা প্রাণী জিরাফ। এর উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জিরাফ যে শব্দ উৎপন্ন করে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের নিচে। ফলে তা মানুষ শ্রুতিগোচর হয় না। এদের ‘আফ্রিকার বোবা প্রাণী’ বলা হয়।
- ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমায়।
- ক্যাঙ্গারু র্যাট এক ধরণের ইঁদুর। এরা জীবনেও একবারও পানি পান করে না। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম মরু অঞ্চলে এদের দেখা যায়।
- বানরের দুটি পা ও দুটি হাত আছে।
- পূর্ণ বয়স্ক কুকুরের মুখের দাঁতের সংখ্য ৪২।
- গরুর গড় আয়ু ১৮-২২ বছর।
- শুশুক, তিমি প্রভৃতি মাছ নয়। মাছের মতো এদের ফুলকা থাকে না। এরা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। জলজ জীব হলেও এরা বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পেস্ট (Paste)
ক্ষতিকারক পতঙ্গকে পেস্ট বলে। যেমন- ধান ও হলুদের মাজরা পোকা ও পামরী পোকা, পাটের বিছাপোকা ও চেলে পোকা, আখের ডগার মাজরা পোকা প্রভৃতি। পামরী পোকা (শুককীট ও পূর্ণাঙ্গ পোকা) ধানপাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে পাতা শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের অভাবে ধানের ফলন কমে যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মানব দেহ কোটি কোটি কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত জটিল ও সুসংগঠিত জৈবিক কাঠামো । এটি মূলত মাথা, ঘাড়, ধড় (বক্ষ ও পেট), বাহু এবং পা নিয়ে গঠিত, যা ১০টি প্রধান তন্ত্রের (যেমন: কঙ্কাল, পেশী, স্নায়ু, সংবহন, পরিপাক, শ্বসন) মাধ্যমে সামগ্রিক কাজ সম্পন্ন করে । মানবদেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্ত সংবহনতন্ত্র (Blood Circulatory System)
যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে। রক্ত, হৃৎপিন্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত। যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে। হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।
রক্ত (Blood)
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। রক্তের উপাদান দুইটি। যথা- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে। রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অনুচক্রিকা। মানুষের শরীরের ওজনের ৭% রক্ত থাকে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর PH ৭.৩৫-৭.৪৫।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্তের কাজ
রক্তরসের কাজ + রক্তকণিকার কাজ = রক্তের কাজ
ক) রক্তকণিকার কাজ
লোহিত রক্ত কণিকা (Erythrocyte or Red Blood Cell) : লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং বয়ঃপ্রাপ্ত হলে প্লীহায় সঞ্চিত হয় ও এক পর্যায়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। লোহিত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন (৪ মাস)। হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্ঝক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রঙ লাল হয়। মানুষের রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে। কেঁচোর রক্তরসে হিমোগ্লোবিন থাকে। আরশোলার রক্ত সাদা বা বর্ণহীন। হিমোগ্লোবিন এর কাজ-
ক) প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। খ) বাফার হিসাবে কাজ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা (Anaemia) বলে। ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক এসিড লোহিত কণিকার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজন হয় আমিষ এবং লৌহ। ভিটামিন বি১২ ফোলিক এসিড, আমিষ এবং লৌহ স্বল্পতা হলে রক্তশূন্যতা হয়।
শ্বেত কণিকা (White Blood Cell): শ্বেত কণিকা দুই প্রকার। যথা- দানাদার (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) এবং অদানাদার (লিস্ফোসাইট, মনোসাইট)। শ্বেত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কয়েক ঘন্ট থেকে কয়েক দিন। মানুষের শরীরে শ্বেতকণিকা এবং লোহিত কণিকার অনুপাত ১:৭০০। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। ব্লাড ক্যান্সারে (Leukemia) রক্তের শ্বেত কণিকা অস্বভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এইডস রোগে রক্তের শ্বেত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
অনুচক্রিকা (Platelets): দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর: (Easy Tec: ফুল পড়ে টুপ করে)
ক) ফিব্রিনোজেন - ফুল
খ) প্রোথ্রোম্বিন - পড়ে
গ) টিস্যু থ্রোম্বোপ্লাস্টিন - টুপ
ঘ) ক্যালসিয়াম আয়ন - করে
রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
খ) রক্তরসের কাজ
ক. ক্ষুদ্রান্ত হতে খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড) রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কলায় পৌছে।
খ. কলা হতে উৎপন্ন CO2 রক্তরসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌছায়।
গ. কলা হতে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) রেচনের জন্য বৃক্কে নিয়ে যায়।
ঘ. রক্তরসের বাইকার্বনেট, ফসফটে বাফার অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ঙ. অন্তক্ষরা গ্রন্থি হতে উৎপন্ন হরমোন রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌছায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্তের গ্রুপ (Blood group)
মানুষের রক্তের গ্রুপ ৪টি। যথা- A, B, AB, O। O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal Donar)। O গ্রুপের রক্ত যে কোন ব্যক্তির শরীরে দেওয়া যায়। অর্থাৎ ০ গ্রুপের রক্ত O, A, B, AB যে কোন গ্রুপধারী ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং AB গ্রুপকে সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Receiver) বলে। AB গ্রুপধারী ব্যক্তি যে কোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। ব্লাড গ্রুপ কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার আবিষ্কার করেন।
Rh ফ্যাক্টর: লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকার ঝিলির মত একটি এন্টিজেন থাকে। ঐ অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে। Rh ফ্যাক্টর বিশিষ্ট রক্তকে Rh +ve রক্ত এবং Rh বিহীন রক্তকে Rh -ve রক্ত বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হৃদপিণ্ড (Heart)
মানুষসহ অধিকাংশ প্রাণির একটি হৃদপিণ্ড থাকে কিন্তু ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে। হৃদপিণ্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা ঢাকা থাকে, একে পেরিকার্ডিয়াম বলে। হৃদপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। মানুষের হৃদপিণ্ড ৪টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট [উপরে ডান ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচে ডান ও বাম নিলয় (Ventricle)]। ব্যাঙের হৃদপিণ্ড ৩টি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (উপরে ডান ও বাম অলিন্দ বলে এবং নিচে নিলয়)। হৃত্পিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে সিস্টোল বলে। সিস্টোলিক চাপ বলতে হৃদপিণ্ডের সংকোচন চাপকে বুঝায় এবং হৃদপিণ্ডের প্রসারণ চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। হার্ট সাউন্ড চার ধরনের।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রক্তবাহিকা তিন প্রকার। যথা: ধমনী, শিরা, কৈশিক জালিকা। ধমনী অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। শিরা কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃদপিণ্ডে পরিবহন করে। ধমনীর ভিতর দিয়ে নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়। ডাক্তার রোগীর নাড়ী দেখার সময় প্রকৃতপক্ষে ধমনীর স্পন্দন দেখেন। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন (Pulse rate) ৭২/ মিনিট।
প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ দুই প্রকার।
যথা-
ক) সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
খ) ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

হৃদরোগ (Cardiac Diseases)
করোনারী ধমনী হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে। করোনারী ধমনীতে চর্বি জমাট বেধে গেলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃদপিণ্ডের কিছু টিস্যু মরে যায়। এ ঘটনাকে হার্ট এটাক (Myocardial Infarction) বলে। হৃদরোগ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন: ধূমপান, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি।
হৃদরোগের পরীক্ষা
(a) Coronary Angiography
(b) Echo Cardiography: Cardiograph হলো হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃদপিণ্ডের গতি পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে Echo Cardiography বলে।
(c) E.T.T (Exercise Tolerance Test): হৃদপিণ্ডের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসা
(a) Coronary angioplasty: যা হল হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো পদ্ধতির নাম হল করোনারী এনজিওপ্লাস্টি।
(b) Coronary bypass: এ পদ্ধতিতে করোনারী ধমনীর সরু অংশে ইনটারনাল ম্যামারী ধমনী বা সেপনাস শিরার দ্বারা bypass পথ তৈরি করা হয় যাতে হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
এইডস একটি সংক্রামক রোগ
রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে গেলে ডায়াবেটিস হয়
হৃদরোগ একটি সংক্রামক রোগ
নিউমোনিয়া ফুসফুসে আক্রান্ত করে
লসিকা (Lymph)
লসিকা এক ধরনের ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা বাহিকার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দেহের প্রতিটি কোষকে সিক্ত রাখে। এটি ঈষৎ ক্ষারীয় এবং এর আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১৫১। এতে লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু প্রচুর পরিমাণে শ্বেতকণিকা বিদ্যমান। লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। লসিকা নালীর মাধ্যমে লসিকা রক্ততন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শ্বসনতন্ত্র (Respiratory System)
শ্বসন (Respiration)
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু (শর্করা) অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ স্থিতি শক্তি গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং উপজাত হিসাবে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে।
শ্বসন (Respiration)
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু (শর্করা) অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ স্থিতি শক্তি গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং উপজাত হিসাবে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে।
শ্বসনের প্রকারভেদ
শ্বসন দুই প্রকার। যথা- (ক) সবাত শ্বসন ও (খ) অবাত শ্বসন। যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের অংশগ্রহণ অপরিহার্য, তাকে সবাত শ্বসন বলে। সবাত শ্বসনে ১ অণু গ্লুকোজ হতে শক্তি এবং ৬ অণু পানি পাওয়া যায়। কতিপয় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ছাড়া মানুষসহ সকল জীবে সবাত শ্বসন হয়। মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস শ্বসন। মানবকোষের অভ্যন্তরে মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসন হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শ্বসন অঙ্গানু বলা হয়। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলা হয়। মানুষ ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য সম্পন্ন হয়। ফুসফুসে বায়ুর প্রবেশকে প্রশ্বাস এবং ফুসফুসে বায়ু ত্যাগকে নিঃশ্বাস বলা হয়। মানুষ প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এং নিঃশ্বাসের সাথে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ২৫% এর বেশি হলে কোনো প্রাণি বাঁচতে পারে না।
শ্বসনতন্ত্রের অংশ
১) নাসা গহবর (Nsal Cavity)
২) গলবিল (Pharynx)
৩) স্বরযন্ত্র (Larynx)
৪) ট্রাকিয়া (Trachea)
৫) ব্রঙ্কাস (Bronchus)
৬) ফুসফুস (Lungs)
ফুসফুস: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি ২০ মিনিটে ১০০০ ঘনফুট নির্মল বায়ু প্রয়োজন হয়। মানুষের ডান ফুসফুসে ১০টি এবং বাম ফুসফুসে ১০টি ব্রঙ্কোপালমোনারি সেগমেন্ট থাকে। ফুসফুস হৃদপিন্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, একে প্লিউরা বলে।
রোগ
ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে।
শ্বসনতন্ত্রের অংশ
১) নাসা গহবর (Nsal Cavity)
২) গলবিল (Pharynx)
৩) স্বরযন্ত্র (Larynx)
৪) ট্রাকিয়া (Trachea)
৫) ব্রঙ্কাস (Bronchus)
৬) ফুসফুস (Lungs)
ফুসফুস: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি ২০ মিনিটে ১০০০ ঘনফুট নির্মল বায়ু প্রয়োজন হয়। মানুষের ডান ফুসফুসে ১০টি এবং বাম ফুসফুসে ১০টি ব্রঙ্কোপালমোনারি সেগমেন্ট থাকে। ফুসফুস হৃদপিন্ড দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, একে প্লিউরা বলে।
রোগ
ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System)
স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) হলো প্রাণীদের দেহের একটি জটিল ও সমন্বিত ব্যবস্থা, যা মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং স্নায়ুর সমন্বয়ে গঠিত । এটি বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ও বাইরের উদ্দীপনা গ্রহণ, বিশ্লেষণ এবং প্রতিক্রিয়া (যেমন- নড়াচড়া, অনুভূতি) নিয়ন্ত্রণ করে । এর মূল গঠনমূলক একক হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউরন (Neuron)
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে। মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ুকোষ। মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে। নিউরন সমন্বিত যে তন্ত্রের সাহায্যে দেহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দিপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন দৈহিক ও শারীরবৃত্তিক কাজের সামঞ্জস্য রক্ষা করে দেহকে পরিচালিত করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
মস্তিষ্ক (Brain)
স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হল মস্তিষ্ক। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি। মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনমেস। মস্তিষ্কের সেরিব্রাম (সেরিব্রাল কর্টেক্স) মানুষের চিন্তাশক্তি, শীত-গ্রীষ্ম, লজ্জা-ক্রোধ প্রভৃতি অনুভূতিবোধ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথ্যালামাস মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ২৪ বছরে মানুষের বুদ্ধির বিকাশ সম্পন্ন হয়। স্নায়ু কোষের এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে। স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যার একটি বিস্তৃত রূপ হলো অটিজম। নিদ্রাহীনতাকে ইনসমনিয়া বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সুষুম্নাকান্ড (Spinal Cord)
সুষুম্নাকাণ্ডের ওজন ৩০ গ্রাম। মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য ছেলেদের ৪৫ সেমি. বা ১৭.৭২ ইঞ্চি এবং মেয়েদের ৪৩ সেমি. বা ১৬.৯৩ ইঞ্চি। মানুষের সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া। মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
স্নায়ু (Nurve)
স্নায়ু (Nerve) হলো শরীরের সুতার মতো দীর্ঘ তন্তু বা অ্যাক্সনের বান্ডিল, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র) থেকে সংকেত শরীরের বাকি অংশে এবং উল্টোভাবে বহন করে । এগুলি বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে অনুভূতি, পেশি সঞ্চালন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে । নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক কার্যকরী একক ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্নায়ুতন্ত্রের রোগ
ক) স্ট্রোক (Stroke) : স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। স্ট্রোকের কারণ দুইটি। যথা- মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়া অথবা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহজনিত বাঁধা। এতে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্থ (Paralysis) এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। এমনকি এতে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
পারকিনসন রোগ (Parkinson’s disease)
পারকিনসন রোগ হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের এক প্রকার দীর্ঘমেযাদী অধঃপতনজনিত রোগ। এর ফলে রোগীর নড়াচড়ার ক্ষমতা শ্লথ হয়ে যায় (Bradykinesia), পেশিসমূহ অনড় (Regid) ও দুর্বল হয় এবং বিশ্রামরত অবস্থায়ও হাত-পা কাঁপতে (Tremor) থাকে। এই রোগের কারণ অজ্ঞাত। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কৃষ্ণ অংশের (Substantia Nigra) ডোপামিন নিঃসারী স্নায়ু ব্যবস্থা রঞ্জকের পরিমাণ কসে যায়, বর্ণহীন বস্তু (Hyaline bodies) জমা হয় এবং ঐ অংশের স্নায়ুসমূহ বিনষ্ট হয়ে যায়।
গ) অটিজম
স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যার একটি বিস্তৃত রূপ হলো অটিজম।
ঘ) ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পৌষ্টিকতন্ত্র (Digestive System)
মানুষের পৌষ্টিকনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত ৮-১০ মিটার লম্বা। ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine) এর দৈর্ঘ্য ৬-৭ মিটার। বৃহদ্রান্ত্র (Large intestine) এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার।
দাঁত (Teeth)
মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। কুকুরের মুখের দাঁতের সংখ্যা ৪৪। দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল।
উৎসেচক (Enzyme)
এনজাইম আমিষ জাতীয় পদার্থ। এক ধরনের প্রোটিন যা জীবদেহে অল্প পরিমাণ বিদ্যমান থেকে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু বিক্রিয়ার পর নিজেরা অপরিবর্তিত থাকে। মানুষের লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম থাকে।
মুখবিবর (Mouth Cavity)
মুখবিবর বা মুখগহ্বর (Mouth Cavity/Oral Cavity) হলো মানুষের পরিপাকনালীর প্রথম অংশ, যা ঠোঁট থেকে শুরু করে গলার ওরোফ্যারিনক্স পর্যন্ত বিস্তৃত । এটি যান্ত্রিক (চিবানো) ও রাসায়নিক (লালা) পরিপাক শুরু করে, কথা বলা, স্বাদ গ্রহণ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে । এর প্রধান উপাদানগুলো হলো দাঁত, জিহ্বা, তালু (শক্ত ও কোমল) এবং লালা গ্রন্থি ।
দাঁত, জিহ্বা, তালু প্রভৃতি মুখবিবরে থাকে। মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। দাঁতের এনামেল দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পাকস্থলী (Stomach)
পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত রসের পাচক রস। পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে, যা খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। প্যারাইটাল কোষ থেকে HCL নিঃসৃত হয়। পেপটিক আলসার হলো মানবদেহের পাচনতন্ত্রের অম্ল পরিবেশযুক্ত (অর্থাৎ পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তের ডিওডেনাম) অংশের ক্ষতজনিত একটি রোগ। পেপটিক আলসার রোগ নির্ণয়ে এন্ডোসকপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জারক রস রেনিন পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। প্রোটিন পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলিতে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine)
ক্ষুদ্রান্তের দৈর্ঘ্য ৬-৭ মিটার। ক্ষুদ্রান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- ডিওডেনাম. জেজুনাম এবং ইলিয়াম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বৃহদান্ত্র (Large intestine)
বৃহদান্ত্র এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার। বৃহদান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন এবং মলাশয়। সিকাম থেকে বহির্বৃদ্ধি রূপে উত্থিত, বদ্ধভাবে সমাপ্ত কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ন্যায় সরু থলের নাম অ্যাপেনডিক্স (Appendix)। অ্যাপেনডিক্স থাকে তলপেটে ডানদিকে। লম্বায় এটি ২-২০ সেমি. পর্যন্ত হতে পারে। অ্যপেনডিক্সের প্রদাহকে অ্যাপেনডিসাইটস (Appendicitis) বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
যকৃত (Liver)
যকৃৎ বা লিভার (Liver) মেরুদণ্ডী ও অন্যান্য কিছু প্রাণীদেহে অবস্থিত একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। মানবদেহে মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এর রং লালচে খয়েরি। একে চলতি বাংলায় কলিজা বলে সচরাচর উল্লেখ করা হয়। যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এর ওজন দেহের মোট ওজনের (৩-৫%)। এটি ২টি খণ্ডে বিভক্ত: ডান এবং বাম। প্রাণীদেহে বিপাক ও অন্যান্য কিছু শারীরবৃত্তীয় কাজে যকৃত প্রধান ভূমিকা পালন করে। গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ওষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্বিষকরণে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎগ্রন্থি হল যকৃত (Liver)। যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস (Hepatitis) বলে। যকৃতের প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ভাইরাস। এই ভাইরাস পাঁচ ধরণের। যথা- Hepatitis A,B,C,D,E ।
ভাইরাসের নাম | ধরন | সংক্রমণের মাধ্যম | যকৃতের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি |
| Hepatitis A | RNA | দূষিত খাবার, পানি | x |
| Hepatitis B | DNA | যৌন, রক্ত | ✓ |
| Hepatitis C | RNA | যৌন, রক্ত | ✓ |
| Hepatitis D | যৌন, রক্ত | ✓ | |
| Hepatitis E | দূষিত খাবার, পানি | x |
রক্তের লোহিত কণিকা যকৃতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। যকৃতে বিলিরুবিনের কনজুগেশন হয়। যকৃতে প্রদাহ হলে বিলিরুনের কনজুগেশন বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। একে জন্ডিস বলে। জন্ডিস কোনো রোগ নয় এটি রোগের উপসর্গ মাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মি.গ্রা./ডেসিলিটার। পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী বিলিরুবিন। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস থাকলে নবজাতকের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়-
ক) Hepatitis B Immunoglobulin – HBIG (১ ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে
খ) Hepatitis B ভ্যাকসিন (৩টি ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে, ১ মাস এবং ৬ মাস বয়সে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পুষ্টি ও পরিপাক (Nutrition & Digestive)
অধিকাংশ খাদ্যবস্তু বৃহৎ অণু হিসেবে গৃহীত হয়। এসব বৃহত্তর ও জটিল খাদ্যাণু পরিপাকতন্ত্রের উৎসেচক বা এনজাইম (এক ধরণের আমিষ জাতীয় পদার্থ) এর সহায়তায় দ্রবণীয়, ক্ষুদ্রতর, সরল ক্ষুদ্রাণুতে পরিণত হয়ে দেহে শোষিত ও আত্তীকরণের উপযোগী হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অম্ল
প্রোটিন
অনুঘটক
নিউক্লীয় প্রোটিন
ডায়রিয়া (Diarrhoea)
বন্যার পর ডায়রিয়া অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডয়রিয়ার মূল সমস্যা হল ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারনে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবন বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়। খাবার স্যালাইন (ORal Saline ORS) শরীরে পানি ও লবনের ঘাটতি পূরণ করে। ওর স্যালাইন হলো মুখে গ্রহনযোগ্য লবন ও গ্লোকোজ মিশ্রিত পানি। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি লবণ থাকে। আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট ওর স্যালাইন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করা হয়। এবং এই দ্রবণ ফ্রিজে না রাখলেও প্রায় ১২ ঘন্টা নিরাপদ থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোডিয়াম ক্লোরাইডের ০.৯% জলীয় দ্রবণকে নরমাল স্যালাইন (Normal Saline) বলে।
হরমোন (Hormone)
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহের দূরবর্তী স্থানে পৌছে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করে এবং ক্রিয়া শেষে নিজে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে হরমোন বলে। হরমোন (প্রাণরস) মানবদেহে রাসায়নিক দূত হিসেবে কাজ করে। এদের রাসায়নিক প্রকৃতি স্টেরয়েড, প্রোটিন বা ফেনলধর্মী।
হরমোন | উৎস | কাজ |
| গ্রোথ হরমোন | পিটুইটারী | বায়োটেকনোলজীর মাধ্যমে এই হরমোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। |
| থাইরোক্যালসিটোনিন | রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে। | |
| ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন | ডিম্বাশয় | মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। |
| টেসটোস্টেরন | শুক্রাশয় | দাড়িগোফ গজায়। |
| গ্লুকাগন | অগ্ন্যাশয়ের অভ্যন্তরের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স | যকৃতের গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। |
| ইনসুলিন | ১৯২২ সালে জার্মানিতে ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়। ইনসুলিন এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেন রূপে জমা থাকে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে যকৃতে জমা রাখে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পায়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। | |
| অ্যাডরিনালিন | অ্যাডরেনাল | ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। একে আপদকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলা হয়। |
বহুমূত্র (Diabetes)
ইনসুলিন হরমোনের অভাব জনিত রোগ ডায়াবেটিস। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি না হয় (ইনসুলিন এর অভাব হয়) তখন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজের) পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা বা গ্লুকোজ প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত হওয়ার দরুণ যে রোগ হয় তাকে বহুমূত্র (Diabetes) বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। ঘন ঘন প্রসাব হওয়া এ রোগের লক্ষণগুলোর একটি। বহুমূত্র রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে। এ রোগের চিকিৎসায় ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়- কথাটি সত্য নয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
গ্রন্হি (Gland)
গঠনগত ও কার্যগতভাবে বিশেষিত যে কোষ বা কোষগুচ্ছ দেহের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, তাকে গ্রন্থি বলে। গ্রন্থি এক ধরনের রূপান্তরিত আবরণী কলা বা টিস্যু। গ্রন্থি দুই প্রকার। যথা- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন- পিটুইটারি, থাইরয়েড, থাইমাস, অ্যাড্রেনাল, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি। পিটুইটারী গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বা গ্রন্থিরাজ বলা হয়। কারণ পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা বেশি এবং অন্যান্য গ্রন্থির উপর এর প্রভাব বেশি।
বহিঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন-সিবেসিয়াস, সেরুমিনাস, স্তনগ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি। মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থির হল যকৃত (Liver)। চোখের পানির উৎস ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রেচনতন্ত্র (Excretory System)
যে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণিকোষে বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন) দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয়, তাকে রেচন বলে। বৃক্ক (Kidney), ইউরেটার (Ureter), মুত্রথলি (Bladder), মুত্রনালী (Urethra) নিয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত। মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক বা কিডনি। বৃক্কে মুত্র তৈরি হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষের কিডনির ওজন ১৫০ গ্রাম। বৃক্কের কার্যকরী একক বলা হয় নেফ্রন। একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন ১৫০০ মিলি. মূত্র ত্যাগ করে।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রজননতন্ত্র (Reproductive System)
প্রজননতন্ত্র (Reproductive System) হলো মানবদেহের একটি জৈবিক অঙ্গসংস্থানিক সিস্টেম যা যৌন প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টিতে সরাসরি কাজ করে । এটি নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন (স্ত্রী ও পুরুষ প্রজননতন্ত্র) এবং উভয়েরই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গ, হরমোন ও তরল পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিষেক (Fertilization)
পুরুষ ও স্ত্রী জননকোষ একীভবনের পর এগুলোর নিউক্লিয়াসের পরস্পর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয়, তাকে ইমপ্লেনটেশন বল।
পুরুষ্যত্বহীনতা (Erectile dysfjunction)
পুরুষত্বহীনতা হলো একজন পুরুষের যৌন মিলন করতে তার পুরুষাঙ্গের উত্থান রাখতে অসমর্থতা। পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসায় একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ঔষধ’ ভায়াগ্রাম। এর মূল উপাদান সিলডেনাফিল সাইট্রেট। ভায়াগ্রায় রয়েছে এক বিশেষ রাসায়নিক উপাদান যা পুরুষাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এর ফলে পুরুষত্বহীন রোগী যৌন উত্তেজনা অনুভব করে এবং তাদের পুরুষাঙ্গ উত্থিত হয়। পুরুষত্বহীনতায় ঔষধটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলেও এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। হার্ট ফেইলর, হার্ট অ্যাটাক, উচ্ছ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ঔষধটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।
টেস্ট টিউব শিশু (Test Tube Baby)
যে সকল দম্পতি কোন কারনে সন্তান জন্ম দিতে পারে না, সেই দম্পতির স্ত্রীর ডিম্বাণু শরীর থেকে বের করে এনে স্বামীর শুক্রাণুর সাথে টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে নিষিক্ত করে ২/৩ দিন পর নিষিক্ত ডিম্বাণু ও শুক্রাণু স্ত্রীর জরায়ুতে স্থান করা হলে যে শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে। বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউন ইংল্যান্ডের ওল্ডহেম শহরের কারশো নামক হাসপাতালে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহন করে। টেস্ট টিউব বেবি’ পদ্ধতির জনা রবার্ট এডওয়ার্ডস। বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব শিশু জন্ম হয় ৩০মে, ২০০১ রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে।বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রথম টেস্ট টিউব শিশু তিনটির নাম হিরা, মনি ও মুক্তা। টেস্ট টিউব শিশুত্রয়ের পিতা মাতা মো. আবু হানিফ ও ফিরোজা বেগম। টেস্ট টিউবের শিশুত্রয়ের জন্মদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ডা. পারভন ফাতেমা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হিমায়িত ভ্রুণ শিশু
বাংলাদেশের প্রথম হিমায়িত ভ্রুণ শিশু অপ্সরা। অপ্সরা জন্ম হয় ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাজধানীর মডার্ন হাসপাতালে। হিমায়িত ভ্রুণ শিশু অপ্সরার রূপকার ডা. রাশিদা বেগম। ভ্রণ শিশু অপ্সরার বাবা ও মা যথাক্রমে আফজাল হোসেন এবং সালমা বেগম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জন্ম নিয়ন্ত্রণ
জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিবার পরিকল্পনার একটি অন্যতম বিভাগ। জন্ম বা গর্ভ ব্যাহত করার উপায়গুলোকে মূলত তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা- শুক্রানু ও ডিম্বানুর মিলন ব্যাহত করা, ভ্রুণ সঞ্চারণ ব্যাহত করা এবং ঔষধ অথবা অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ভ্রুণ অপসারণ করা। ধারণা করা হয় যে, যৌন মিলন ও গর্ভ ধরনের সরাসরি সংযোগ উপলব্ধির পরই জন্ম নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কার হয়। প্রাচীনকালে বিঘ্নিত যৌন মিলন ও বিবিধ প্রকার প্রাকৃতিক ঔষধি (যা গর্ভনিরোধক হিসেবে প্রচলিত ছিল) সেবনের মাধ্যমে জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা করা হত। মিশরীয় সভ্যতায় সর্বপ্রথম গর্ভনিরোধক ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।
গর্ভবর্তী মায়ের পরিচর্যা
বিশ্বস্বাস্হ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, গর্ভকালীন সময়ে প্রত্যেক মায়ের কমপক্ষে ৪ বার প্রসূতিকালীন পরিচর্যা (Antenatal Care – ANC) গ্রহণ করা উচিত। যথা: প্রথমবার গর্ভধারণের ১৬ সপ্তাহে, দ্বিতীয়বার ২৪-২৮ সপ্তাহের মধ্যে, তৃতীয়বার ৩২ সপ্তাহে এবং চতুর্থবার ৩৬ সপ্তাহে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য
মা ও শিশুর বিদ্যালয় পূর্ব বয়স পর্যন্ত প্রদেয় উন্নয়নমূলক, প্রতিরোধমূলক, আরোগ্য সহায়ক এবং পুনর্বাসনমূলক স্বাস্থ্য সেবাকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা বলে। মা ও শিশুর বিদ্যালয় পূর্ব বয়স পর্যন্ত শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগজনিত সুস্থতা রক্ষার জন্য প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবাকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা বলে।
উদ্দেশ্যঃ
> মাতৃ মৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু হার হ্রাস করা;
> প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়ন;
> পরিবারে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ।
> মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উপাদান সমূহঃ
> মাতৃ স্বাস্থ্য;
> পরিবার পরিকল্পনা;
> শিশু স্বাস্থ্য;
> স্কুল স্বাস্থ্য;
> প্রতিবন্ধী শিশুর যত্ন;
> বিশেষ স্থানে শিশুর যত্ন যেমন, ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর যত্ন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কঙ্কালতন্ত্র (SKeletal System)
বিশেষ ধরনের যোজক কলা বা টিস্যু নির্মিত অস্থি ও তরুনাস্থির সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো নির্মাণ করে, নরম অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে, দেহের ভার বহন করে এবং পেশী সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে। মানবদেহ (মানুষের কঙ্কাল) ২০৬ খানা হাড় বা অস্থি নিয়ে গঠিত। মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। যথা- (১) অক্ষীয় কঙ্কাল, (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল। অক্ষীয় কঙ্কালে দুটি অংশ আছে, যথা- (ক) করোটি, (খ) দেহকান্ড। করোটি ২৯টি অস্থির নিয়ে গঠিত। মেরুদন্ড ও বক্ষপিঞ্জর এই দুটির সমন্বয়ে দেহকান্ড গঠিত হয়। ৩৩ টি অনিয়ত আকৃতির অস্থিখণ্ড বা কশেরুকা নিয়ে মানুষের মেরুদণ্ড গঠিত। কঙ্কালের সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ফিমার (উরুর অস্থি) যা মানুষের উর্দ্ধ পা এর অস্থি। ফিমার এবং টিবিয়া মাঝখানে প্যাটেলা নামে একটি প্রায় ত্রিকোণকৃতি অস্থি অবস্থিত। যা হাটুর হাড়ের একটি অংশ। মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট হলো কানের ভেতরের অস্থি স্টেপিস (কানের অস্থি)।
অস্থি (Bone)
বিশেষ ধরনের যোজক কলা বা টিস্যু নির্মিত অস্থি ও তরুনাস্থির সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো নির্মাণ করে, নরম অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে, দেহের ভার বহন করে এবং পেশী সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে কঙ্কালের সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ফিমার (উরুর অস্থি)। মেরুদণ্ডের প্রত্যেকটি অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা বলে। প্যাটেলা হাঁটুতে অবস্থিত একটি ত্রিকোণকৃতি
মানুষের চলনে পেশি এবং অস্থি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবদেহে কঙ্কালতন্ত্রের কাঠামোর উপরে আচ্ছাদন হিসেবে পেশীতন্ত্র থাকে।
টেন্ডন: পেশীকে অস্থির সাথে দিয়ে যুক্ত রাখে।
লিগামেন্ট: এক অস্থিকে অন্য অস্থির সাথে সংযুক্ত রাখে।
কারোটির অস্থির সংখ্যা ২২টি হলেও মধ্যকর্ণে ৬টি এবং মুখমগুলের ১টি এথময়েড অস্থি অতিরিক্তি গণনা করে অনেকে করোটির আস্থি সংক্ষা ২৯টি বলে থাকেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অস্থিসন্ধি (Bone joints)
দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। অস্থিগুলো পরস্পরের সাথে যোজক কলা দিয়ে এমনভাবে যুক্ত থাকে যাতে সংলগ্ন অস্থিগুলো বিভিন্ন মাত্রায় সঞ্চালিত হতে পারে অস্থিসন্ধি সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- তন্ত্তময় সন্ধি, তরুণাস্থিময় সন্ধি এবং সাইনোডিয়াল সন্ধি।
পঞ্চইন্দ্রিয় (5 Senses)
যে অঙ্গের সাহায্যে আমরা বাহিরের জগতকে অনুভব করতে পারি, তাকে সংবেদী অঙ্গ বলে। চোখ, কান, নাক, জিহবা ও ত্বক- এ পাঁচটি হচ্ছে মানুষের সংবেদী অঙ্গ। সাধারণ ভাসায় এদের পঞ্চ-ইন্দ্রিয় বলে।
ত্বক: মানব দেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। মেলানিন নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে। মানুষের গায়ের রঙ মেলানিনের উপর রির্ভর করে।
কান: শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা কানের কাজ। মানুষের কান ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা-
ক) বহিঃকর্ণ: কানে শব্দ তরঙ্গ প্রবেশ করলে প্রথম কানপর্দা কেঁপে উঠে।
খ) মধ্যকর্ণ: তিনটি হাড় থাকে। যথা- ম্যালিয়াস, ইনকাম এবং স্টেপিস। ‘স্টেপিস’ মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট অস্থি।
গ) অন্তঃকর্ণ: পাতলা পর্দা জাতীয় মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্হ নামক জটিল অঙ্গ দ্বারা অন্তঃকর্ন গঠিত। মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্হ দুটো প্রধান অংশের সমন্বয়ে গঠিত-
(১) ইউট্রিকুলাস (ভেরসাম্য অঙ্গ)
(২) স্রাকুলাস (শ্রবণ অঙঙ্গ): এর অঙ্কীয় দেশ হতে প্রলম্বিত এবং শামুকের ন্যায় প্যাঁচানো ‘ককলিয়া’ নামক নালী বের হয়। ককলিয়ার অন্তঃপ্রাচিরে থাকে শ্রবণ সংবেদী কোষ ‘অর্গান অফ কর্টি’।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System)
মানবদেহে রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিদ্যমান। যথা-
ক) প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তর (First line of defense): ত্বক, মিউকাস মেমব্রেন, সিলিয়া, লালারস, পাকস্থলী রস (Gastric Juice), আশ্রু, মূত্র প্রবাহ, Friendly ব্যাকটেরিয়া এবং নিউট্রোফিল। ত্বক দেহের অভ্যন্তরে রোগ জীবাণু ঢুকতে বাধা দেয়। ত্বকগ্রন্হি ও ঘর্মগ্রন্হি হতে নিঃসৃত ফ্যাটি এসিড, ল্যাকটিক এসিড ভিবিন্ন রোগ জীবাণু মেরে ফেলে। মিউকাস মেমব্রেন থেকে নিঃসৃত হয় পিচ্ছিল মিউকাস। রোগ জীবাণু মিউকাসের পিচ্ছিল রসে আটকে যায়। পরবর্তীতে দেহ এসব রোগ জীবাণু বিশেষ পদ্ধতিতে বের করে দেয়। প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাহির থেকে অগনিত রোগ জীবাণু নাকে ঢোকে। নাকের ভিতর অনেক ছোট ছোট লোম থাকে। যাদের বলা হয় সিলিয়া। এরা এসব রোগ জীবাণুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয়। নাকের মতো শ্বাসনালীতে অনেক সিলিয়া থাকে যারা বাহিরের রোগ জীবাণু ফুসফুসে যেতে বাধাঁ দেয়। লালারসে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা ক্ষতিকর অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া এর কোষপ্রাচীর ভাঙ্গতে সাহায্য করে। পাকস্থলী রসে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে যা খাদ্যদ্রব্যে থাকা ব্যকটেরিয়া ও পরজীবী ধ্বংস করে।
খ) দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাস্তর (Second line of defense): লিম্ফোসাইট (T কোষ & B কোষ), মনোসাইট-ম্যাক্রোফেজ সিস্টেম।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid)
প্রাথমিক প্রতিবিধান হলো চিকিৎসা শাস্ত্রের অন্তর্গত একটি প্রাথমিক বিভাগ। এই বিদ্যায় অবিজ্ঞ একজন প্রতিবিধানকারী কেউ দুর্ঘটনা বা অসুস্থ হলে তাকে সঠিক পদ্ধতিতে ও যত্ন সহকারে প্রাথমিক প্রতিবিধান দিতে পারে। পুরো চিকিৎসা করা প্রতিবিধানের উদ্দেশ্য নয় কারন প্রতিবিধানকারী চিকিৎসক নন। প্রতিবিধানকারী ডাক্তার আসার আগ পর্যন্ত বা হাসপাালে স্থানান্তর করার আগ পর্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করা, রোগীর অবস্থা যেন আরও খারাপ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
১. শরীরের কোন স্থান পুড়ে গেলে তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা।
২. শরীরের কোনো স্থান ভেঙ্গে গেলে ভাঙ্গা স্থান নড়াচড়া করলে ভাঙ্গা স্থানে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ জন্য ভাঙ্গা স্থান যাতে নড়াচড়া করতে না পারে সেজন্য ভাঙ্গা স্থান কাঠ বা বাঁশ দিয়ে বেধে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিয়েযেতে হবে।
ক) চামরা ছড়ে যাওয়া
হাতুড়ি, পাথর বা কোনো ভোঁতা জিনিসের আঘাতে বা খেলার সময় ছড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে করনীয়-
১) ছড়ে যাওয়া থেতলানো জায়গায় ঠাণ্ডা পানি বা বরফ লাগাতে হবে। পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বেঁধে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে পুনরায় ভিজিয়ে দিতে হব।
২) রক্ত বের হলে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। জীবাণুমুক্ত তুলা দিয়ে জমাট রক্ত মুছে অ্যান্টিসেপ্টিক মলম লাগাতে হবে।
খ) মাংসপেশিতে টান ধরা
খেলাধুলা করার সময় বা ভারী কোন জিনিস তোলার সময় মাংস পেশিতে টান লেগে মাংশপেশির আঁশ ছিড়ে ব্যথা অনুভূত হয় এবং চলতে গেলে কষ্ট হয়। এরূপ হলে আহত স্থানটিকে বিশ্রাম দিয়ে বরফ লাগাতে হবে। ২৪ ঘন্টা পর গরম পানিতে বোরিক এসিড পাউডারের কমপ্রেস প্রয়োগ করতে হবে।
গ) ফুলে যাওয়া
ফুটবল খেলার সময় বুটের আগাতে বক্সিং খেলার সময় মুষ্টির আঘাতে বা পড়ে গিয়ে আঘাত লাগলে ফোলা আস্তে আস্তে কমে যাবে।
ঘ) পুড়ে যাওয়া
সরাসরি আগুন বা পেট্রোল-এসিডের মতো রাসায়নিক পদার্থে পুড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা হবে নিম্নরূপ-
১) আক্রান্ত স্থান শীতল পানির প্রবাহমান ধারার (যেমন-ট্যাপের পানি) নিচে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখতে হবে। গা পুড়ে গেলে শাওয়ার বা গোছলের ঝরনার পানির নিচে দাঁড়াতে হবে। যদি সম্ভব না হয় তবে আক্রান্ত স্থান বালতির পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। সেটাও সম্ভব না হলে আক্রান্ত স্থানে পর্যাপ্ত পানি (গরম বা ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি নয়, সাধারণ তাপমাত্রার) ঢালতে হবে।
২) পোড়া অংশ শুকনো জীবাণুমুক্ত গজ বা ব্যান্ডেজ (তুলা নয়) দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে জীবাণুর সংক্রমণ না হয়।
৩) ব্যথানাশক ঔষধ দিতে হবে। যেমন- প্যারাসিটামল।
৪) জ্ঞন থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাবার স্যালাইন বা শরবত বা ডাবের পানি খেতে দিতে হবে।
৫) ডিম, টুথপেস্ট, মাখন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের মলম ব্যবহার করা যাবে না।
৬) পোড়ার মাত্রার রোগীর পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাই অল্প পুড়লেও একবার ডাক্তার দেখানো উচিত।
ঙ) হাড় ভাঙ্গা
১) হাত বা পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেলে বাঁশের চটা বা কাঠের টুকরা বা স্প্রীন্ট দিয়ে ভাঙ্গা জায়গাটি ব্যান্ডেজ বা এক টুকরা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিতে হবে যাতে ভাঙ্গা অংশ নড়াচড়া করতে না পারে।
২) হাতের হাড় ভেঙ্গে গেলে স্প্রীন্ট দেয়ার পর ব্যান্ডেজ বা কাপরের সাহায্যে হাতকে গলার সাথে ঝুলিয়ে দিতে হবে।
৩) কোমর বা মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলে আহত ব্যক্তির শরীরের নিচে সাবধানে একটি কাঠের তক্তা স্থাপন করতে হবে এবং ব্যক্তিটিকে কাঠের তক্তার সাথে ব্যান্ডেজ বা কাপড়ের টুকরা দিয়ে বেঁধে ফেলতে হবে (মাথা, বুক, কোমর, হাটু ও পায়ের পাতা বরাবর বাঁধন দিতে হবে) অতঃপর তক্তার দুইদিকে দড়ি ও বাঁশ বা কাঠের টুকরার সাহায্যে স্ট্রেচারের মত তৈরি করে রোগীকে দ্রুত অর্থোপেডিক্স (হাড় সংক্রান্ত) ডাক্তারের নিকট নিতে হবে।
চ) সাপের কামড়
সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ কিং কোবরা। বিষধর সাপের কামড়ে ক্ষতস্থানে পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ থাকে। বিষধর সাপ কাটলে প্রাথমিক করণীয়:
ক) কামড়ের স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা।
খ) উক্ত অঙ্গ যথাসম্ভব নিশ্চল রাখা কারণ বেশি নড়াচড়া করে বিষ তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
গ) কামড়ের স্থান হাতে বা পায়ে হলে কামড়ের স্থানের উপরে দড়ি বা কাপড় দিয়ে বাঁধা। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে বাধন যেন এত শক্ত না হয় যা পায়ে রক্ত সরবরাহে বাঁধা দেয়।
ঘ) দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
ছ) ওর স্যালাইন (Orsaline)
বন্যার পর ডায়রিয়া অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডায়রিয়ার মূল সমস্যা হল দেহ হতে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ জন্য ডায়রিয়া রোগীকে ওর-স্যালাইন (ORS) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওর স্যালাইনের (ORS) উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড ১.৩০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ক্লোরাইড ০.৭৫ মিলিগ্রাম। নরমান স্যালাইন সোডিয়াম ক্লোরোইডের ০.৯% জলীয় দ্রবণ।
বিবিধ:
১. আকুপাংচার হলো চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।
২. খোস-পাঁচড়া একটি চর্ম ও খুবই ছোঁয়াচে রোগ।
৩. ভায়াগ্রা একটি যৌন উত্তেজক ঔষধ। এর প্রকৃত নাম সিলডেনাফিল।
ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy)
ফিজিও (শারীরিক) এবং থেরাপি (চিকিৎসা) শব্দ দুটি মিলে ফিজিওথেরাপি বা শারীরিা চিকিৎসার সৃষ্টি। প্রাচীন গ্রিসে হিপোক্রোটাস ম্যাসেজ ও ম্যানুয়াল থেরাপি দ্বারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। এটি বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। বাত ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড়-হাটু-গোড়ালি ব্যথা, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, সেরিব্রাল পলসি (প্রতিবন্ধী শিশু), বার্ধক্য জনিত চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং পুনর্বাসন সেবায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অপরিসীম।
আকুপাংচার (Acupuncture)
আকুপাংচার ব্যথা ও রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত প্রচীন চৈনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ল্যাটিন শব্দ ‘আকুশ’ মানে সুঁচা, ‘পাংচার’ মানে ফোটানো। এই পদ্ধতিতে দেহের বিভিন্ন আকু-বিন্দুতে বিশেষ এক ধরনের সুঁচ, ভেদ করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেখে চিকিৎসা করা হয়। বিশেষ সুঁচালো আসলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে নিউরোট্রান্সমিটার নামের বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ও হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। এটি প্রথমে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আবিষ্কৃত হলেও পরে তা বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পায় নি।
চিকিৎসা পরিভাষা হলো এমন ভাষা যা মানবদেহের উপাদান , প্রক্রিয়া , অবস্থা , চিকিৎসা পদ্ধতি এবং চিকিৎসা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় ।
বিজ্ঞানের শাখা | আলোচ্য বিষয় |
| Osteology | হাড় বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Opthalmology | চোখ বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Oncology | টিউমার বা ক্যান্সার সংক্রান্ত বিজ্ঞান |
| Paediatrics | শিশুদের (Children) চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Psychology | মনো বিজ্ঞান। অবসেশন শব্দটি এই শাখার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত |
| Neurology | স্নায়ু সম্পর্কিত চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Dermatology | চর্ম বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান |
| Radiology | রঞ্জন রশ্মি সম্পর্কিত বিজ্ঞান |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology) হলো জীববিজ্ঞানের এমন একটি বিশেষ শাখা, যেখানে খালি চোখে দেখা যায় না এমন অণুজীব—যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং আর্কিয়া নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় । এই বিদ্যা অণুজীবের গঠন, জীবনপ্রক্রিয়া, বাস্তুতন্ত্র এবং মানুষের জীবনে (রোগ সৃষ্টি বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ) এদের ভূমিকা নিয়ে কাজ করে।
অনুজীব
অনুজীব বা জীবাণু বলতে সূক্ষ্মজীব বঝায়। মাটি, পানি, বায়ু এবং পরিবেশে এমন অনেক জীব রয়েছে যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। কেবলমাত্র অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এদের অস্তিত্ব বোঝা যায়। এ সব জীবকেই অনুজীব বলা হয়। ভাইরাস, রিকেটসিয়া, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি অনুজীবের অন্তর্ভুক্ত। এদের বেশির ভাগই পরজীবী এবং পোষক দেহ রোগ সৃষ্টি করে। যেসব জীবাণু রোগ সৃষ্টি করে তাদের প্যাথোজেনিক (Pathogenic) বলা হয়। প্রাণীদেহে জীবাণুজাত বিষ নিষ্ক্রিয়কারী রাসায়নিক পদার্থের নাম অ্যান্টিবডি।
ভাইরাস (Virus)
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। ভাইরাস হলো অতি আণুবীক্ষণিক, অকোষীয় রাসায়নিক বস্তু যা প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। ভাইরাসের দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই। পোষক দেহের অত্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করে। পোষক দেহের বাহিরে জড় পদার্থের ন্যায় আচরণ করে। জীব ও জড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী হল ভাইরাস। যে সকল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তাদেরকে বলা হয় ব্যাকটেরিওফাজ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভাইরাসঘটিত রোগ
ক) উদ্ভিদের দেহে রোগ
ভাইরাস তামাকের মোজাইক রোগ, ধানের টুংগ্রো রোগের জন্য দায়ী।
খ) প্রাণিদেহে রোগ
রোগের নাম | জীবাণুর নাম | সংক্রমণের মাধ্যম |
| গুটি বসন্ত (Smallpox) | Variola | বায়ু |
| জল বসন্ত (Chickenpox) | Varicella | বায়ু |
| ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu) | Influenza Virus | বায়ু |
| হংকং ভাইরাস | SARS Virus | বায়ু |
| হাম | Measles Virus | বায়ু |
| মাম্পস | Mumps virus | বায়ু |
| পোলিও | Polio myelitis | দূষিত খাদ্য, পানি |
| জন্ডিস (Jaundice) | Hepatitis Virus. | যৌন, রক্ত, দূষিত খাদ্য, পানি |
| এইডস (AIDS) | HIV Virus | যৌন, রক্ত |
| বার্ড ফ্লু (Bird Flu) | H5N1 | হাস, মুরগী, কবুতর, পাখি |
| সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) | H1N1 | শুকর |
| জলাতঙ্ক (Street Virus) | Rabies virus | কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বানরসহ অধিকাংশ হিংস্র প্রাণীর কামড় |
| ইবোলা (Ebola) | Ebolavirus | বানর, বাদুড় |
| ডেঙ্গু | Dengue Virus - DENV | এডিস মশা |
| হার্পিস* | Herpes simplex | ছোয়াচে |
| মুরগীর রানীক্ষেত বা নিউক্যাসেল | Avulavirus Paramyxoviridae |
*হার্পিস রোগের চিকিৎসায় অ্যাসিক্লোভার (Acyclover) নামক ঔষধ ব্যবহৃত হয়।
নিপাহ ভাইরাস (Nipah Virus)
নিপাহ ভাইরসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৯ সালে। এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কিছু বিষয় অনুসরণ করা উচিত। যথা-
(১) খেজুরের কাঁচা রস পান না করা।
(২) গাছ থেকে যে কোন ধরনের আংশিক ফল ভক্ষণ না করা
(৩) ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধৌত করা
(৪) আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসলে পানি দিয়ে হাত ভালভাবে ধৌত করতে হবে।
ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)
মধ্য আফ্রিকার উত্তরাংশে কঙ্গো উপত্যকায় প্রবাহিত ইবোলা নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ইবোলা ভাইরাস-এর লক্ষণ জ্বর, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা এবং মাথা ধরা। ইবোলা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ লাইবেরিয়া।
সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস (Swine Flu Virus)
সোয়াইন ফ্লুতে সর্বপ্রথম আক্রান্ত হয় মেক্সিকোর শিশু এদগার হার্নান্দেজ। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী সনাক্ত করা হয় ১৮ জুন ২০০৯ সালে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সোয়াইন ফ্লুর নাম পরিবর্তন করে রাখে Influenza A.
ইনফুয়েঞ্জা (Influenza)
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সুপ্তবস্থা (Incubation Period) অত্যন্ত কম।
SARS (Severe acute respiratory syndrome)
২০০২ সালে চীনে সর্বপ্রথম সার্স ভাইরাস ধরা পড়ে।
এইডস (AIDS)
মানবদেহে HIV (Human Immunodeficiency Virus) এর আক্রমণে এইডস (AIDS-Acquired Immune Deficiency Syndrome) রোগ হয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকণিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) লোপ পায়। HIV সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায় হলো এইডস। মানবদেহে HIV ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডস এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রোগের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। পেনিসিলিন বা অন্য কোনো এন্টিবায়োটিক দ্বারাই AIDS রোগ সারানো সম্ভব নয় অর্থাৎ এইডস-এর এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা নেই। ফলে এইডস-এর পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। রক্ত সঞ্চালন, যৌন সংগমের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রামিত হয়। গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে। স্তনদুগ্ধ পানের মাধ্যমে আক্রান্ত মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এইডস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এইডস প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। প্রতি বছর ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। ১৯৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের প্রথম 'এইডস' রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি এইডস আক্রান্ত রোগী আছে।
পোলিও (Polio)
পোলিও ভাইরাস স্নায়ুকে আক্রমণ করে।
ডেঙ্গুজ্বর (Dengue Fever)
ডেঙ্গু ফিভার ভাইরাস Flavivirus জিনের Flaviviridae পরিবারের একটি RNA ভাইরাস। ডেঙ্গুজ্বর ভাইরাসের বাহক মশা এডিস এজিপটাই (Aedes aegypti)। উচ্চজ্বর, পেশী-হাড়-মাথা ব্যথা, র্যাশ, শরীরের বিভিন্ন স্থান হতে রক্তপাত হওয়া ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ।
ভেক্টর: যে সকল প্রাণী এক মানবদেহ থেকে অন্য মানবদেহে রোগ জীবাণু বহন করে নিয়ে যায় তাদেরকে ভেক্টর বলে। যেমন; মশা একটি ভেক্টর।
বাহক | রোগ | বাহক | রোগ |
| এডিস মশা | ডেঙ্গু জ্বর | কিউলেক্স মশা | ফাইলেরিয়া বা গোদ |
| অ্যানোফিলিস মশা | ম্যালেরিয়া | বাদুড় | নিপাহ |
জিকা ভাইরাস (Zika Virus)
পশ্চিম গোলার্ধে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাস জিকা। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, ফলে বনের নামানুসারে এই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি একটি মশাবাহিত ভাইরাস। এই ভাইরাসটি এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখ লাল, ত্বক লাল লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ভাইরাসঘটিত রোগের প্রতিষেধক
রোগের নাম | টীকার আবিষ্কারক | দেশ | সময়কাল (খ্রি.) |
| জলাতঙ্ক | লুই পাস্তুর | ফ্রান্স | ১৮৮৫ |
| পোলিও | জোনাস সক[*] | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯৫৪ |
| বসন্ত | এডওয়ার্ড জেনার | যুক্তরাজ্য | ১৭৯৬ |
[*]১৯৯৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের La Jolla শহরে মারা যান।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কলেরা
ম্যালেরিয়া
প্লেগ
গুটি বসন্ত
ব্যাকটেরিয়া (Bacteria)
ব্যাকটেরিয়া অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। নিউক্লিয়াস আদি প্রকৃতির (Prokaryotic) অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত। সিউডো নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম থাকে, যদিও এটি তেমন সুগঠিত নয়। এতে হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। জলে-স্থলে বাতাসের সর্বত্র অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া আছে। আমাদের অস্ত্র Escherichia coli ব্যাকটেরিয়া থাকে।
যে সকল ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বাঁচতে পারে না, তাদের অ্যারোবিক ব্যাকটেরিয়া বলে। যে সকল ব্যাকটেরিয়া বায়ুর উপস্থিত ছাড়া বাঁচ থাকতে পারে, তাদের অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া বলে।
বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন। ব্যাকটেরিয়া আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষীয় আণুবীক্ষণিক জীব। যে সকল ব্যাক্টেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বাচতে পারে না, তাদের অ্যারোবিক ব্যাকটেরিয়া বলে। যে সকল ব্যক্টেরিয়া বায়ুর উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে, তাদের অ্যানারোবিক ব্যাক্টেরিয়া বলে। যে সব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের প্যাথজেনিক (Pathogenic) বলা হয়। প্রাণিদেহে জীবাণুজাত বিষ নিষ্ক্রিয়কারী রাসায়নিক পদার্থের নাম অ্যান্টিবডি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যাক্টেরিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব
শীম জাতীয় উদ্ভিদে Rhizobium ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনকে নাইট্রেটে পরিণত করে। আমাদের অন্তে Escherichia coli ব্যাকটেরিয়া থাকে। শুকনো মাধ্যমে খাবার সংরক্ষণ করা যায় কারণ পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না। নিষ্পিষ্ট মসলায় লবণ মিশিয়ে অনেকদিন রাখা যায় কারণ লবণ পচনকারী জীবাণুর বংশ বিস্তার রোধ করে।
পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization)
দুধে ল্যাক্টোজ থাকে। দুধের ব্যাক্টোরিয়া ল্যাক্টোজকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে। ফলে দুধ টক হয়। দুধকে জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পাস্তরায়ন বলে। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর এ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। আবিষ্কারকের নামানুসারে এ পদ্ধতির নামকরণ করা হয়েছে পাস্তুরায়ন। আমরা দইয়ের সাথে এক ধরনের প্রচুর ব্যাক্টেরিয়া খাই।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ
ব্যাকটেরিয়া গরু মহিষের যক্ষ্মা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, ইদুরের প্লেগ এবং মুরগীর কলেরা ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে। ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদের গমের টুন্ডুরোগ, ধানের ব্লাইট, আখের আঠাঝড়া রোগ, টম্যাটোর ক্যাংকার, আলুর পচা রোগ, ভূট্টার বোটা পচা রোগ ইত্যাদি সৃষ্টি করে।
ব্যাকটেরিয়া মানুষের বহুবিধ রোগ সৃষ্টি করে। যেমন:
রোগের নাম | রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম | রোগ বিস্তারের মাধ্যম |
| যক্ষ্মা | Mycobacterium tuberculosis | বায়ু |
| নিউমোনিয়া | Streptococcus pneumoniae | বায়ু |
| ডিপথেরিয়া | Corynebacterium diptheriae | বায়ু |
| হুপিংকাশি | Bordetella pertussis | বায়ু |
| মেনিনজাইটিস | Neisseria meningitidis | বায়ু |
| গনোরিয়া | Neisseria gonorrhoeae | যৌন |
| সিফিলিস | Treponema pallidum | যৌন |
| টাইফয়েড | Salmonella typhi | খাদ্য, পানি |
| প্যারাটাইফয়েড | Salmonella paratyphi | খাদ্য, পানি |
| কলেরা | Vibrio cholerae | খাদ্য, পানি |
| রক্ত আমাশয় | Shigella dysenteriae | খাদ্য, পানি |
| কুন্ঠ / লেপ্রোসি | Mycobacterium leprae | দীর্ঘদিন রোগীর সংস্পর্শে |
| ধনুষ্টংকার | Clostirdium tetani | ক্ষতস্থান দিয়ে |
| প্রেগ | Yersenia pestis | ইদুর |
| অ্যানথ্রাক্স | Bacillus anthracis |
- রবার্ট কচ যক্ষ্মা এবং কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
- ডিপথেরিয়া রোগে দেহের গলা আক্রান্ত হয়।
- অ্যানথ্রাক্স শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ হতে।
ব্যাকটেরিয়া হতে প্রতিষেধক তৈরি করা হয়। যেমন-
রোগ | টীকার নাম | টীকার আবিষ্কারক |
| যক্ষ্মা | B.C.G | ক্যালসাট ও গুয়েচিন |
| ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার | D.P.T | |
| ধনুষ্টংকার | T.T |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
টাইফয়েড
যক্ষ্মা
কলেরা
ম্যালেরিয়া
জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) হলো এমন একটি ভৌত বা রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, স্পোর) এবং প্রিয়ন সহ সমস্ত ধরনের জীবনকে ধ্বংস বা অপসারণ করে কোনো বস্তুকে সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত করে । এটি সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় । প্রধান পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অটোক্লেভ (উচ্চ তাপ ও চাপ), শুষ্ক তাপ, রাসায়নিক, বিকিরণ এবং পরিস্রাবণ অন্তর্ভুক্ত ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শৈবাল
ব্যাকটেরিয়া
ছত্রাক
ভাইরাস
জীনতত্ত্ব (Genetics)
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতিনীতি (অর্থ্যাৎ বংশানুক্রমিক গুণাবলীর উৎপত্তি, প্রকৃতি, বৃদ্ধির সময় ও তাদের আচরণ) সম্পর্কে আলোচিত হয়, সে শাখাকে জীনতত্ত্ব বলে বা জেনেটিক্স বলে। উইলিয়াম বেটসন সর্বপ্রথম ‘জেনেটিক্স' শব্দটি প্রয়োগ করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বংশগতি (Heredity)
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক মেন্ডেলকে জেনেটিক্স বা বংশগতির জনক বলা হয়। গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ৩৪ প্রকারের মটরশুটি গাছ পরীক্ষা করেন এবং অবশেষে বংশগতির দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন, যা মেন্ডেলের সূত্র নামে অভিহিত।
| মেন্ডেলের.. | অন্য নাম | অনুপাত |
| প্রথম সূত্র | পৃথকীকরণ সূত্র বা Law of Segaration | ৩ : ১ |
| দ্বিতীয় সূত্র | স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র বা Independent Assortment | ৯ : ৩ : ৩ : ১ |
মা ও বাবার কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততি পেয়েই থাকে।মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলা হয়। বংশগতি একটি রক্ষণশীল প্রক্রিয়া। একই পূর্বপুরুষ থেকে সৃষ্ট সন্তানদের মধ্যে আকৃতি, গঠন-প্রকৃতি ও শারীরবৃত্তীয় সাদৃশ্য থাকলেও প্রত্যেকেরই কিছু স্বাতন্ত্র্য ও পার্থক্য থাকে। এ পার্থক্যগুলোকে পরিবৃত্তি (Variation) বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্রোমোজোম (Chromosome)
নিউক্লিয়াসের ভিতর অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত যে সব তম্ভর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে ক্রোমোসোম বলে। ১৮৮৮ সালে বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার (Waldeyer) কোষ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় প্রাপ্ত দণ্ডাকার গঠনের ক্রোমাটিনের নাম দেন ক্রোমোসোম। ক্রোমোসোমকে জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। ক্রোমোসোমে DNA, RNA, প্রোটিন প্রভৃতি থাকে। ক্রোমোসোম দুই প্রকার। যথা: (ক) অটোসোম, (খ) সেক্স- ক্রোমোসোম।
যে সকল ক্রোমোসোম জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অটোসোম বলে। আবার যে ক্রোমোসোম জীবের যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে। মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোসোম থাকে। মানুষের দেহকোষে যে একই ধরনের ২২ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে, তাদের অটোসোম বলে। মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম একজোড়া। পুরুষের দেহে XY সেক্স ক্রোমোসোম থাকে আর মহিলার দেহে XX সেক্স ক্রোমোসোম থাকে। ধান গাছে ১২ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। কুনোব্যাঙ এর ১১ জোড়া এবং গরুর থাকে ৩০ জোড়া।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acids)
নিউক্লিওটাইডের পলিমারকে নিউক্লিক এসিড বলে। নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথা- DNA (Deoxiribonucleic Acid) এবং RNA (Ribonucleic Acid)
নিউক্লিওটাইড: নিউক্লিক এসিড এর মনোমার। যেমন; ATP, ADP, AMP, GTP ইত্যাদি।
| নিউক্লিওটাইড | নাইট্রোজেন বেস + পেন্টোজ সুগার + ফসফেট গ্রুপ |
| নিউক্লিওসাইড | নাইট্রোজেন বেস + পেন্টোজ সুগার |
নাইট্রোজেন বেস প্রধানত দুই ধরনের যথা:
| পিউরিন বেস | অ্যাডিনিন, গুয়ানিন |
| পাইরিমিডিন বেস | সাইটোসিন, থাইমিন, ইউরাসিল |
ডি.এন.এ ও আর.এন.এ (D.N.A & R.N.A)
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA। এটি নিউক্লিয়াসে থাকে। Restriction enzyme এর সাহায্যে প্লাজমিড ডি.এন.এ কে ছেদন করা হয়। ওয়াটসন ও ক্রিক দুজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ১৯৫৩ সালে মানুষের বংশগতির ধারক ডিএনএ অণুর আণবিক গঠন আবিষ্কার করেন। ডিএনএ অণু আবিষ্কারের জন্য তাঁরা ১৯৬৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। ওয়াটসন ও ক্রিক সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন যে ডিএনএ অণু দ্বিসূত্রক এবং হেলিক্যাল (সর্পিল) আকৃতি বিশিষ্ট।
| নিউক্লিক এসিড | DNA | RNA |
| পিউরিন বেস | অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন | |
| পাইরিমিডিন বেস | সাইটোসিন ও থাইমিন | সাইটোসিন ও ইউরাসিল |

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জেনেটিক কোড
জেনেটিক ইনফরমেশনের মূল একক অনুলিপন। ড. হরগোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড (কৃত্রিম জীন) আবিষ্কার করেন। উন্নতজাতের শস্যবীজ উদ্ভাবনে 'জেনেটিক ম্যাপ' ব্যবহৃত হয়। দুটো প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাতকে সংকর বলে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
Genetic Engineering অর্থ হলো জীন প্রকৌশল। প্রাণী ও উদ্ভিদের বংশ বিস্তার বিষয়ক বিজ্ঞান জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
প্রোটিন সংশ্লেষণ
প্রোটিন সংশ্লেষণ হলো কোষের রাইবোসোমে ডিএনএ-র (DNA) জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন বা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরির জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া। এটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়: নিউক্লিয়াসে ডিএনএ থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন এবং সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোমে mRNA-র কোড অনুযায়ী প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন (অনুবাদ) বলা হয় ।
ট্রান্সলেশন (Translation): mRNA অণং নিউক্লিয়াস থেকে রাইবোজোমে স্থানান্তরিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যামাইনেো এসিড উৎপাদন করে। tRNA তে নিউক্লিয়োটাইডের ৩টি ট্রিপলেট থাকে যা mRNA এর কোডনের সম্পূরক। একে অ্যান্টিকোডন (anticodon) বলা হয়। অ্যামিনো অ্যাসিড tRNA এর মাধ্যমে পলিপেপটাইড চেইন এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মিউটেশন (Mutation)
কোন জীবের এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের আকস্মিক বংশগত পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। জীনের DNA এর নিউক্লিওটাইড অনুক্রমের স্থায়ী পরিবর্তনের কারণে মিউটেশন হয়। মিউটেশন দুই রকমের। যথা -
ক) স্বতঃস্ফুর্ত (Spontaneous): সূর্যের বিভিন্ন রশ্মি (আল্টাভায়োলেট রে), বিভিন্ন পারমাণবিক রশ্মি (গামা রে, বিটা রশ্মি), অধিক তাপমাত্রা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবন করলে স্বতঃস্ফূর্ত মিউটেশন হতে পারে। স্বতঃস্ফুর্ত মিউটেশনের হার অত্যন্ত কম।
খ) আবিষ্ট (Induced): মিউটাজেনিক এজেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে আবিষ্ট মিউটেশন ঘটানো হয়। উদ্ভিদে জেনেটিক ভেরিয়েশন সৃষ্টি করে প্রজনন কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ ধরনের মিউটেশন ঘটানোর প্রয়োজন পড়ে।
জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology)
যে প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব এর উদ্ভাবন বা উক্ত জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা যায়, সে প্রযুক্তিকে জৈব প্রযুক্তি বলে । এটি DNA transplant মেথডে করা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
টিস্যু কালচার প্রযুক্তি (Tissue Culture)
সাধরণভাবে উদ্ভিদ টিস্যুকালচার বলতে উদ্ভিদের যেকোন বিভাজনক্ষম অঙ্গ থেকে (যেমন: শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচিপাতা ইত্যাদি) বিছিন্ন কোন টিস্যু সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত মিডিয়ামে কালচার (আবাদ) করাকেই বোঝায়। এরূপ কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে উল্লিখিত টিস্যু থেকে নতুন চারা উদ্ভিদ উৎপাদন করা টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রাথমিক উদ্দেশ্য।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পিসিআর (PCR= Polymerase Chain Reaction)
পিসিআর বা পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া একটি বায়োকেমিক্যাল প্রযুক্তি যার মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে এক বা কয়েক কপি ডিএনএ কে লাখো বা কোটি গুণে উৎপাদন করা যায়। ১৯৮৩ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ক্যারি মুলিস বলেন যে চেইন রি-অ্যাকশন মানে একটি ধাপে যে পরিমাণ ডিএনএ কপি তৈরি হবে পরবর্তী ধাপে সেগুলোই ব্যবহুত হবে কপি তৈরির উপাদান হিসেবে। তিনি দেখান যে, এক কপি ডিএনএ হতে পিসিআর পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখো বা কোটি ডিএনএ কপি তৈরি সম্ভব।
ক্লোনিং (Cloning)
কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে। ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন। সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম 'ডলি'। ৫ জুলাই, ১৯৯৬ ডলির জন্ম হয়। আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ ডলি মারা যায়। বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম টেট্রা। ২৬ ডিসেম্বর ২০০২ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ক্লোন মানব শিশু 'ইড' (কন্যা সন্তান) এর জন্ম হয়। WHO মানব শিশু ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
টেস্ট টিউব শিশু (Test Tube Baby)
যে সকল দম্পতি কোনো কারণে সন্তান জন্ম দিতে পারে না, সেই দম্পতির স্ত্রীর ডিম্বাণু শরীর থেকে বের করে এনে স্বামীর শুক্রাণুর সাথে টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে নিষিক্ত করে ২/৩ দিন পর নিষিক্ত ডিম্বাণু ও শুক্রাণু স্ত্রীর জরায়ুতে স্থান করা হলে যে শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে। বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউন ইংল্যান্ডের ওল্ডহেম শহরের কারশো নামক হাসপাতালে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করে। ২০০১ সালের ৩০ মে বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব শিশু 'হিরা, মনি ও মুক্তা' এর জন্ম হয়। বাংলাদেশের মোঃ আবু হানিফ ও ফিরোজা বেগম টেস্ট টিউবের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সন্তান ধারণ করেন। টেস্ট টিউব বেবি' পদ্ধতির জনক রবার্ট এডওয়ার্ডস।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নৃবিজ্ঞান (Anthropology)
আক্ষরিক অর্থে নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ বিষয়ক বিজ্ঞান। কিন্তু মানুষ বিষয়ক অন্যান্য বিজ্ঞানের চেয়ে এর পরিধি ব্যাপকতর। লক্ষ কোটি বছরের মানুষের বিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের গবেষণাও এর আওতায় পড়ে। নৃবিজ্ঞানের প্রধান শাখা হলো দৈহিক নৃবিজ্ঞান। দৈহিক নৃবিজ্ঞানের একটি উপশাখায় পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব ও পরবর্তীকালে তাদের শারীরিক বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিবর্তন (Evolution)
ইংরেজ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin) সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ "The Origin of Species" এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
বিবর্তন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রম পরিবর্তনকে বুঝায়। কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জীনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারা বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। জিনের পরিব্যক্তির মাধ্যমে জীবের নির্দিষ্ট কোনো বংশধরে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটতে পারে বা পুরানো বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদিও এক প্রজন্মে জীবের বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন হয়, তা খুব সামান্য। কিন্তু কালক্রমে জীবগোষ্ঠীতে সেই পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য হয়ে দেখা দেয়, এবং এমনকি একসময় তা নতুন প্রজাতি উদ্ভবের কারণও হয়ে দাড়াতে পারে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খাদ্য হলো শরীরের শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান। পুষ্টি হলো খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক ও শোষণের মাধ্যমে শরীরের বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জৈবিক প্রক্রিয়া । সুস্থ জীবনের জন্য শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ এবং পানির সুষম মিশ্রণ জরুরি। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করে ।
খাদ্য (Food)
যে সকল দ্রব্য গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, তাপ উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তাকেই খাদ্য বলে। খাদ্য শরীরে শক্তি জোগায়। খাদ্যের উপাদান ৬ টি। যথা: শর্করা, আমিষ, চর্বি (স্নেহ), ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। যে খাদ্যের মধ্যে শর্করা, চর্বি বা স্নেহ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি এই ছয়টি উপাদান শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণমত ঠিক অনুপাতে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১। দুধকে মোটামুটিভাবে একটি সম্পূর্ণ বা আদর্শ খাদ্য বলা যায়। আমাদের দেশে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের গড়ে দৈনিক ২৫০০ ক্যালরি শক্তি প্রয়োজন।
খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমম্বয়ে গঠিত। এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। কেবল একটি উপাদান নিয়ে গঠিত এমন খাদ্যবস্তর সংখ্যা খুবই কম। উপাদান অনুযায়ী খাদ্য বস্তকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) শর্করা বা শ্বেতসার-শক্তি উৎপাদন করে।
২) আমিষ বা প্রোটিন-ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে।
৩) চর্বি বা স্নেহ-তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।
এছাড়া তিন প্রকার অন্যান্য উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। যথা-
১) ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ -রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্দি, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
২) খনিজ লবণ-বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৩) পানি-দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে।
সতর্কতা: খাদ্য তিন প্রকার। খাদ্য উপাদান ছয় প্রকার।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সুষম খাদ্য (Balanced Diet)
সুষম খাদ্য বলতে বুঝায় ৬টি উপাদানবিশিষ্ট পরিমাণ মতো খাবার যা ব্যক্তিবিশেষের দেহের চাহিদা মেটায়। যে শর্ত পালনে খাবার সুষম হয় সেগুলো হলো-
সুষম খাদ্য হলো এমন আহার, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৬টি পুষ্টি উপাদান—শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি ।
১. প্রতি বেলার খাবারে আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ এই তিনটি শ্রেণির খাবার অন্তর্ভুক্ত করে খাদ্যের ছয়টি উপাদানের অন্তর্ভুক্তিকরণ নিশ্চিতকরণ। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১।
২) দৈনিক ক্যালরি ৬০-৭০% শর্করা, ১০% আমিষ ও ৩০-৪০% স্নেহ জাতীয় পদার্থ থেকে গ্রহণ করা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জাঙ্ক ফুড (Junk food)
জাঙ্ক ফুড হচ্ছে এক ধরনের কৃত্রিম খাদ্য, যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেট ইত্যাদি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আদিক্য থাকে। ফলে তা স্বাস্হের জন্যে ক্ষতিকর। যেমন- আলুর চিপস, বার্গার, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়, কৃত্রিম বিভিন্ন ফলের রস, চকলেট ইত্যাদি। এ সব খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ খুবই কম বা নেই বললেই চলে।উচ্চমাত্রায় মিষ্টিযুক্ত শস্য দানা, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়, তাও জাঙ্ক ফুড। যেমন-ফ্রুট লুপস।
শর্করা (Carbohydrate)
কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেনের (O) সমন্বয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য গঠিত। কার্বোহাইড্রেটে C, H, O-এর অনুপাত ১ : ২ : ১। শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে জীব প্রধানত শক্তি পায়। চাল, আটা, আলু, মিষ্টি আলু, ভূট্টা, চিনি, গুড়, মধু, সবজি ইত্যাদি শর্করা সমৃদ্ধ খাদ্য। দুধের শ্বেতসার বা শর্করাকে বলা হয় ল্যাকটোজ। গ্লুকোজের রাসায়নিক সংকেত C6H12O6 গ্লুকোজের স্কুলসংকেত CH2O। ইক্ষুচিনি বা বিটাচিনির রাসায়নিক নাম সুক্রোজ।
কার্বহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ
রাসায়নিক গঠন অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
| মনোস্যাকারাইড | এক অণু বিশিষ্ট শর্করা। যেমন: গ্লুকোজ (C6H12O6), ফ্রুক্টোজ, গ্যালাকটোজ |
| ডাইস্যাকারাইড | দুই অণু বিশিষ্ট শর্করা। যেমন: সুক্রোজ, ল্যাক্টোজ, ম্যালটোজ ইত্যাদি। সুক্রোজকে ইক্ষুচিনি বা বিটচিনি বলা হয়। ১ অণু সুক্রোজ = ১ অণু গ্লুকোজ + ১ অণু ফ্রুক্টোজ |
| পলিস্যাকারাইড | বহু অণু বিশিষ্ট শর্করা। যেমন: গ্লাইকোজেন, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আমিষ (Protein)
এক বা একাধিক পলিপেপটাইড সম্বলিত বৃহদাকার সক্রিয় জৈব রাসায়নিক পদার্থকে প্রোটিন (আমিষ) বলে। মাছ, মাংস, ডিম (ডিমের সাদা অংশে এলবুমিন নামক প্রোটিন থাকে), দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (ছানা, পনির ইত্যাদি), শিম, বরবটির বীজ, বিভিন্ন প্রকার ডাল জাতীয় খাদ্য। শুটকী মাছে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন বিদ্যমান থাকে। মসুরের ডালে গরুর মাংস অপেক্ষা অধিক প্রোটিন থাকে। প্রোটিনের মূল উপাদান চারটি। যথা: কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন। Natural Protein-এর কোড নাম Protein P-49। কোলাজেন এক ধরনের প্রোটিন। প্রোটিন 'কেসিন' এর উপস্থিতির জন্য দুধের রঙ সাদা হয়। আমিষ দেহকোষের গঠন ও পুনরুজ্জীবন ঘটায় -ফলে দেহের ক্ষয়পূরণ এবং বৃদ্ধিসাধন করে। দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি আমিষ থেকে তৈরি হয়। আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর এবং মেরাসমাস রোগ হয়। এ রোগে পেশী এবং মেদ ক্ষয় হয়।
অ্যামিনো এসিড (Amino acid)
যে সকল অ্যামাইনো এসিড দেহের অভ্যন্তরে তৈরি হয় না কিন্তু বিভিন্ন প্রোটিন তৈরির জন্য অপরিহার্য, তাদের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড বলে। আমিষ অ্যামিনো এসিড এর জটিল যৌগ। অ্যামিনো এসিড দুই প্রকার। যথা: অনাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড এবং আবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড। আবশ্যকীয় (Essential) অ্যামিনো এসিডের সংখ্যা দশটি। যথা: ভ্যালিন, লিউসিন, আইসো লিউসিন, ফিনাইল এলানিন, লাইসিন, থ্রিয়োনিন, মিথিয়োনিন, ট্রিপটোফেন, আরজিনিন ও হিস্টিডিন। খেসারি ডালে BOAA নামক এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে যা 'ল্যাথারাইজম' রোগের জন্য দায়ী।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্নেহপদার্থ (Lipid)
লিপিড হল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ তবে এদের অণুতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত ১ : ২: ১ নয়। স্নেহজাতীয় পদার্থ দেহের তাপ ও কর্মশক্তি বাড়ায়। স্নেহ জাতীয় পদার্থ তেলে দ্রবণীয় কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয়। সয়াবিন, সরিষা তৈল, তিল, বাদাম, নারিকেল, ঘি, মাখন, পনির, ডিমের কুসুম, মাছের তেল, দুধ ইত্যাদি স্নেহ বা চর্বি সমৃদ্ধ খাবার। কোলেস্টেরল এক ধরনের অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে কোলেস্টেরল ধমনী গাত্রের অভ্যন্তরে জমা হতে থাকে একে Atherosclerosis বলে। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার (যেমন- খাসির মাংস, গরুর মাংস, মগজ, কলিজা, ডিমের কুসুম ইত্যাদি) খাওয়া উচিত নয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভিটামিন (Vitamin)
আমাদের খাদ্যে এমন কিছু জৈব পদার্থ আছে যা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অভি প্রয়োজনীয়। এ প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থগুলোকে খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন বলে। পোল্যান্ডের বিজ্ঞানী ক্যাসিমির ফ্রাঙ্ককে ভিটামিনের আবিষ্কারক বলা হয়। ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যেমন: ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে।
ভিটামিন দুই প্রকার। যথা-
(ক) তেলে দ্রবণীয় ভিটামিন: Vit-A, Vit-D, Vit -E, Vit -K.
(খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: Vit-B Complex, Vit -C. সবুজ তরিতরকারীতে সবচেয়ে বেশি খনিজ লবণ ও ভিটামিন থাকে। শাক তেল দিয়ে রান্না করতে বলা হয় কারণ শাকের ভিটামিন তেলে দ্রবীভূত হয়। মানুষের শরীরে Vit -D, Vit 12 -B3, Vit -B12 এবং Vit-K. তৈরি হয়। মানবদেহের অভ্যন্তরে বিটা-ক্যারোটিন হতে Vit -A তৈরি হয়।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত ভিটামিন হলো- ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২। চা পাতায় ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স থাকে।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স | অভাবজনিত রোগ |
| ভিটামিন বি-১ | বেরিবেরি |
| ভিটামিন বি-২ | ঠোঁটের কোণ ও মুখের চারদিকে ঘা |
| ভিটামিন বি-১২ | রক্তশূন্যতা |
| ফলিক এসিড | রক্তশূন্যতা |
ভিটামিন - সি (Vitamin C)
ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড। লেবু, টমেটো, আম, আমলকি, আনারস, পেঁপে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক, অঙ্কুরিত ছোলা ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি। আমাদের দেশে ভিটামিন 'সি'-সমৃদ্ধ সবচেয়ে লাভজনক ফল কাজী পেয়ারা। ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই। তাপে এই ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি হয়। এ রোগে মাড়ি ফুলে যায় এবং মাড়ি থেকে রক্ত ও পুঁজ পড়ে। ভিটামিন- সি এর অভাবে সহজে সর্দি-কাশি এবং চর্মরোগ হয়।
ভিটামিন এ (Vitamin A)
দুধ, মাখন, ডিম, ছোট মাছ (যেমন- মলা, ঢেলা ইত্যাদি), কড মাছ, গাজর, পাকা আম ইত্যাদিতে ভিটামিন এ বিদ্যমান। পাকা আমে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন- এ থাকে। ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। XN - রাতকানা রোগ বোঝানোর প্রতীক।
ভিটামিন ই (Vitamin -E)
Vit -E এর উৎস হলো বাঁধাকপি, পালং শাক, লেটুস, অঙ্কুরিত ছোলা, মটরশুটি, তৈলবীজ। এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অকালে গর্ভপাত ঘটে।
ভিটামিন ডি ((Vitamin - D)
ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য, মাছের তেল ভিটামিন ডির প্রধান উৎস। সূর্যকিরণ হতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। সূর্যকিরণের অতি-বেগুনী রশ্মি (UV-ray) ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পরিশোষণে স্নেহ জাতীয় পদার্থ অপরিহার্য। ভিটামিন ডি অস্থি এবং দন্ত গঠনে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি এর অভাবে ছোটদের রিকেটস এবং বড়দের অস্টিওম্যালাশিয়া রোগ হয়।
ভিটামিন কে (Vitamin -K)
Vit -K এর উৎস বাঁধাকপি, টমেটো, সয়াবিন, পালং শাক, দুগ্ধজাত দ্রব্য। মানবদেহের অন্ত্রের অভ্যন্তরের ব্যাকটোরিয়া ভিটামিন-কে তৈরি করে। রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর-II, VII, IX, X তৈরিতে সাহায্য করে। এজন্য ভিটামিন কে এর অভাবে ক্ষতস্থান হতে রক্ত পড়া বন্ধ হতে চায় না।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খনিজ লবণ (Minerals)
দেহ গঠনে ও অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণে খনিজ লবণ অপরিহার্য। মানবদেহে ৪% খনিজ লবণ থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে লোহার পরিমাণ ২-৬ গ্রাম। কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান উপাদান লৌহ বিদ্যমান থাকে। লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা রোগ হয়। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস মানুষের হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস দুধ, ডিম, মাছের কাটা, বাদাম, চুন ইত্যাদি। মানুষের শরীরে বেশির ভাগ ফসফেট রয়েছে হাড়ে। ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম পেশীর সংকোচনে সাহায্য করে। ডাব সবচেয়ে বেশি পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার।
আয়োডিন (Iodine)
সামুদ্রিক উদ্ভিদ (যেমন: শৈবাল), সামুদ্রিক মাছ (যেমন: সামুদ্রিক ইলিশ) ইত্যাদি আয়োডিনের প্রধান উৎস। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়। আয়োডিনের অভাব দূরীকরণে বর্তমান খাবার লবণের সাথে আয়োডিন মেশানো হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পানি (water)
পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহে পানির পরিমাণ ৫০-৬৫% (গড়ে ৫৭-৬০%)। প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ ৭০-৯০ ভাগ। মানবদেহে প্রতিদিন ২ লিটার পানির প্রয়োজন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খাদ্য সংরক্ষণ (Food Preservation)
খাদ্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণাগুণ ঠিক রেখে খাদ্যদ্রব্যকে উচ্চতাপে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- মুডি খই, আমসত্ত্ব ইত্যাদি। আবার খাদ্যদ্রব্য উচ্চতাপে জীবাণু ধ্বংস করে বদ্ধ পাত্রে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- মাছ, মাংস, সবজি, ফল, টিনজাত গুড়াদুধ ইত্যাদি। শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় কারণ পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না। ধান বা চাল, গম, ডাল ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু মাংস, মাছ, তরকারি, ফল ইত্যাদিতে পানি বেশি থাকায় শুধু রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। তাই এগুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। বরফ জমানো ঠাণ্ডায় খাদ্যে জীবাণু জন্মায় না। মাছ, মাংস, মটরশুঁটি, গাজর, টমেটো, তেঁড়স ইত্যাদি এভাবে পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ফ্রিজের ঠাণ্ডায় সবজি, ফল ও বীজ বেশ কিছুদিন ভালো থাকে। লবণ, চিনি, সিরকা ও তেলের মধ্যে পচনকারী জীবাণু জন্মাতে পারে না। তাই এসবের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- নোনা ইলিশ, মাছ, জলপাই, বড়ই, মটরশুঁটি ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবেশ
আমরা যে স্থানে বাস করি যে স্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। বিজ্ঞানে পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বুঝানো হয়ে থাকে। পরিবেশকে ' অনিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Uncontrollable ) এবং 'নিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Controllable ) এ দু'ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো স্বাভাবিক ( Natural ) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দ্বিতীয়টি হলো কৃত্রিম (Artificial) পরিবেশ। ক. নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: এ পরিবেশ এমন সব বাহ্যিক ও বাস্তব উপাদান দ্বারা গঠিত , যা মানুষ খুব সামান্য পরিমাণেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সার্বিকভাবে এসব মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে; চন্দ্র , সূর্য, বায়ু, বৃষ্টি, পাহাড়-পর্বত , নদ-নদী, সাগর -মহাসাগর ,ঋতু এবং জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। খ. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: নিয়ন্ত্রণযাগ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে এমন সব উপাদান যেসব মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যেমন : মানুষ বাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানিপ্রবাহকে বন্ধ করতে সক্ষম এবং বিরাট বন -জঙ্গল পরিষ্কার কিরে চাষাবাদযোগ্য জমিতে পরিণত করতে পারে। মানব সমাজের উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। ব্যক্তি ও দলের আচার-আচরণের উপরে ও এর প্রভাব প্রতিক্রিয়া ক্রিয়াশীল । পরিবেশ বিজ্ঞান: বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত সকল উপাদান তথা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে পরিবেশ বিজ্ঞান বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাস্তুসংস্থান (Ecology)
বেঁচে থাকার তাগিদে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব সম্প্রদায় ও জড় পরিবেশের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের (Environment) অন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। বাস্তুসংস্থানের দুইটি উপাদান রয়েছে। যথা- জীব সম্প্রদায় এং জড় পরিবেশ। জড় পরিবেশই জীর সম্প্রদায়কে ধারণ করে রাখে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সঞ্জীৰ এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্ত্র গুহ (Ecosystem) বলে।
জীব উপাদান
জীবমন্ডল (Biosphere) হলো পৃথিবীর সমস্ত ইকোসিস্টেমের যোগফল। এটাকে বলা যেতে পারে পৃথিবীর জীবনের এলাকা। পৃথিৱীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। জীবমন্ডলের বিস্তৃতি ওপরে-নিচে ২০ কি.মি. ধরা হলেও মূলত অধিকাংশ জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায় হিমালয় শীর্মের উচ্চা থেকে ৫০০ মিটার নিচের সামুদ্রিক গভীরতার মধ্যেই। সমুদ্রতল থেকে ৮৩৭২ মিটার নিচে পুয়ের্টোরিকা ট্রেঞ্চে মাছ পাওয়া গেছে। পাখিরা সাধারণত ১৮০০ মিটার উঁচুতে উড়ে। রাপেল জাতীয় শকুন সমুদ্র তল থেকে ১১৩০০ মিটার উচুতে উড়তে পারে। জীবমণ্ডল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- উদ্ভিদকুল (flora) এবং প্রাণিকুল (fanua)। উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও বিয়োজক জীবের মাধ্যমে খাদ্যবস্ত স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় সবুজ উদ্ভিদে ফিরে আসে। এরূপ চক্রাকার স্থানান্তর হওয়া এ খাদ্য খদকের সম্পর্ককে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের সুসংবদ্ধ বিন্যাসকে একরে খাদ্য জাল বলে। খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্য জলকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- উৎপাদক, খাদক বা ভক্ষক এবং বিয়োজক।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভূতত্ত্ব বা ভূবিদ্যা (Geology)
ভূতত্ত্ব ভূবিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পৃথিবী, পৃথিবীর গঠন, পৃথিবী গঠনের উপাদানসমূহ, পৃথিবীর অতীত ইতিহাস এবং এর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভূতত্ত্ব শিক্ষা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব, অতীত আবহাওয়া ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যতের জলবায় সম্পর্কে ধারণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর আকার ও আকৃতি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে জিওডেসি (Geodesy) বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পৃথিবীর গঠন উপাদান
পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে লৌহ (৩২.১%), অক্সিজেন (৩০.১%), সিলিকন (১৫.১%), ম্যাগনেসিয়াম (১৩.৯%), সালফার (২.৯%), নিকেল (১.৮%), ক্যালসিয়াম (১.৫%), অ্যালুমিনিয়াম (১.৪%) এবং অন্যান্য (১.২%)।
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure of the Earth)
জন্মের সময় পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভত হয়। এই সময় পৃথিবীর বাহিরের ভারী উপাদানগুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মন্ডল বলে।
ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। যথা- অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অশুমণ্ডল (Lithosphere)
ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম, গড়ে ২০ কিমি। ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিমি পুরু। মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত। এ স্তরকে সিয়াল (Sial) বলে। সমুদ্র তলদেশের ভূত্বকের প্রধান উপাদান সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে একটি অত্যন্ত পাতলা স্তর আছে। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভূ-বিজ্ঞানী মোহোরোভিসিক ১৯০৯ সালে ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল পৃথককারী এ স্তরটি আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এ স্তরটি মোহোবিচ্ছেদ নামে পরিচিত।
গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়। অশ্বমণ্ডল নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে সর্বাপেক্ষা বেশি এবং মহাসাগরের নিচে সর্বাপেক্ষা কম। এর গভীরতা স্থান বিশেষ ৩০ হতে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
গরুমণ্ডল (Barysphere): অশ্বমণ্ডলের নিচের ২,৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রুরুস্তরকে গরুমণ্ডল বলে। গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ । গুরুমণ্ডলের স্তর: গুরুমণ্ডলের স্তর দুইভাগে বিভক্ত। যথা: ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল এবং খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল : ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ মণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট। খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল : এই মণ্ডলের প্রধান উপাদান আয়রন অক্সাইড,ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ থাকে। কেন্দ্রমণ্ডল (Centrospheres ) : গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। এ স্তরের পুরুত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার । এ স্তরের উপাদান হলো - লোহা , নিকেল, পারদ ও সিসা, তবে নিকেল ও লোহা এ স্তরের প্রধান উপাদান। কেন্দ্রমণ্ডলের তরল বহিরাবরণ প্রায় ২,২২৭ কিলোমিটার পুরু এবং কঠিন অন্তঃভাগ প্রায় ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু।
কেন্দ্রমণ্ডল (Centrosphere)
গুরুমণ্ডলের ঠিক পরে রয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এই মণ্ডল বিস্তৃত। এ স্তর প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা প্রায় ২.২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি কঠিন অন্তঃভাগ আছে যা ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু। কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni), যা নিফে (NiFe) নামে পরিচিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গর্ত করে নিচে যেতে থাকলে তাপ ও চাপ উভয়ই বাড়বে। কেন্দ্রমণ্ডলের চাপ পৃথিবী পৃষ্ঠের বায়ুচাপের চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০° সেলিসিয়াস।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
খনিজ (Mineral)
কতকগুলো মৌলিক উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তাকে খনিজ বলে। খনিজ সাধারণত দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত। তবে কিছু কিছু খনিজ একটি মাত্র মৌল দ্বারাও গঠিত হতে পারে। একটি মাত্র মৌল দিয়ে গঠিত খনিজ হচ্ছে হীরা, সোনা, তামা, রুপা, পারদ ও গন্ধক। আবার সবচেয়ে কঠিন খনিজ হীরা এবং সবচেয়ে নরম খনিজ টেলক।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শিলা (Rock)
শিলা এক বা একাধিক খনিজের মিশ্রণ। শিলা গঠনকারী প্রতিটি খনিজের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। যদিও বেশির ভাগ শিলাই একাধিক খনিজ দ্বারা গঠিত হয়। সে ক্ষেত্রে খনিজ এবং শিলা একই পদার্থ। যেমন, ক্যালসাইট একটি খনিজ এবং শিলা হিসেবে এটি চুনাপাথর নামে পরিচিত।
শিলার প্রকারভেদ
উৎপত্তি অনুযায়ী ভূত্বকের শিলা তিন ধরনের। যথা-
১) আগ্নেয় শিলা
২) পাললিক শিলা
৩) রূপান্তরিত শিলা
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock)
পৃথিবীর শুরু থেকে যে সব শিলা উত্তপ্ত গলিত অবস্থা হতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে, তাই আগ্নেয় শিলা। Igneous অর্থ আগুন। অগ্নিময় অবস্থা হতে এ শিলার সৃষ্টি হয়েছিল বলে একে আগ্নেয় শিলা বলে। আগ্নেয় শিলার অন্য নাম প্রাথমিক শিলা, অস্তরীভূত শিলা। আগ্নেয় শিলার উদাহরণ - গ্রানাইট, গ্যাব্রো, সায়েনাইট, ডায়োরাইট, পরফাইরি, টাফ, ব্রেসিয়া, রায়োলাইট, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডেসাইট, ব্যাথোলিখ, ল্যাকোলিথ, ডাইক, সিল প্রভৃতি।
পাললিক শিলা (Sedimentary Rock)
পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলার উদাহরণ -চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, ডোলোমাইট জিপসাম, ডায়াটম প্রভৃতি। পাললিক শিলায় স্তরায়ন, জীবাশ্মের উপস্থিতি, তরঙ্গ ছাপ, কর্দম ফাটল রয়েছে।
জীবাশ্ম (Fossil)
পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে নানাবিধ সামুদ্রিক জীবজন্তুর কঙ্কাল ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ প্রস্তরীভূত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। প্রস্তরীভূত প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবদেহকে জীবাশ্ম বলে। জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে ফসিওলজি বলে।
রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock)
কোনো শিলায় তাপ, চাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এর খনিজ উপাদান ও বুনটের পরিবর্তন হয়ে যে নতুন শিলার সৃষ্টি হয় তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। আগ্নেয় বা পাললিক শিলা হতে পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়।
প্রধান রূপান্তরিত শিলা হল -
১) নিস: গ্রানাইট থেকে নিস এর সৃষ্টি হয়।
২) স্লেট: শেল থেকে স্লেট এর সৃষ্টি হয়।
৩) মার্বেল: চুনাপাথর বা ডোলোমাইট থেকে সৃষ্টি হয়।
৪) কোয়ার্টাজাইট: কোয়ার্টজ, বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়।
৫) গ্রাফাইট: কয়লা থেকে সৃষ্টি হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাটি
পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি। সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% ভাগ জৈব পদার্থ থাকে। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে মাটি ৫ প্রকার। যথা- পাহাড়ি মাটি, ল্যাটোসেলিক মাটি, পলল মাটি, জলাভূমি মাটি এবং কোষ মাটি। বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটি ৩ প্রকার। যথা - বেলে মাটি, দো-আঁশ মাটি, এঁটেল মাটি।
ক) বেলে মাটি: যে মাটিতে ৭০ ভাগ বা তার বেশি বালিকণা থাকে, তাকে বেলে মাটি বলে। মরুভূমি, চরাঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলে বেলে মাটি দেখা যায়। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম। এই মাটিতে জৈব পদার্থ নেই। তাই এ মাটি চাষের উপযোগী নয়।
খ) দো-আঁশ মাটি: যে মাটিতে বালি, পলি, কর্মকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে দো-আঁশ মাটি বলে। এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি, তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী। এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণক্ষমতা উভয়ই বেশি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি। কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়
মাটি | পানি ধারণক্ষমতা | পানি শোষণক্ষমতা |
| বেলে মাটি | সর্বনিম্ন | সর্বোচ্চ |
| দো-আঁশ মাটি | বেশি | বেশি |
| এঁটেল মাটি | সর্বোচ্চ | সর্বনিম্ন |
গ) এঁটেল মাটি: যে মাটিতে ৪০-৫০% কর্মকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ। এই মাটিকে ভারি মাটিও বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
ভূপৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে বায়ুর আবরণ আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার। তবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭% ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বায়ুর চাপের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং ওপরের দিকে ঘনত্ব খুবই কম। বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে থাকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য।
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ
উপাদানসমূহ | শতকরা পরিমাণ | উপাদানসমূহ | শতকরা পরিমাণ |
| নাইট্রোজেন (N2) | ৭৮.০১% | নিয়ন (Ne) | ০.০০১৮% |
| অক্সিজেন (O2) | ২০.৭১% | হিলিয়াম (He) | ০.০০০৫% |
| কার্বন ডাই অক্সাইড (CO3) | ০.০৩% | ক্রিপটন (Kr) | ০.০০০১১% |
| ওজোন (O3) | ০.০০০১% | জেনন (Xe) | ০.০০০০৯% |
| আরগন (Ar) | ০.৮০% | হাইড্রোজেন | ০.০০০০৫% |
| হাইড্রোজেন | ০.০০০০৫% | নাইট্রাস অক্সাইড | ০.০০০০৫% |
| মিথেন | ০.০০০০২% | জলীবাষ্প, ধুলিকণা | - |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অক্সিজেন
নাইট্রোজেন
হাইড্রোজেন
কার্বনডাই অক্সাইড
বায়ুমণ্ডলীয় স্তর (Atmospheric Layer)
বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের বৈশিষ্ট্যের (যেমন, উষ্ণতা, চাপ, ঘনত্ব) ভিত্তিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে একে চারটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা-
ক) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere) খ) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere) গ) মেসোমণ্ডল (Mesosphere) ঘ) তাপমণ্ডল (Thermosphere)
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটমত বায়ু স্তরকে বলে ট্রপোমণ্ডল। এ স্তরের গভীরতা মেরু এলাকায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
ট্রপোবিরতি
ট্রপোমণ্ডলের সীমানা ওপরের দিকে হঠাৎ করে শেষ না হয়ে ধীরে ধীরে এর গুণাবলি পরিবর্তিত হয়ে পরবর্তী স্তর স্ট্রাটোমন্ডলের গুণাবলির সঙ্গে মিশে গেছে। ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
স্ট্রাটোমণ্ডল ও স্ট্রাটোবিরতি
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম স্ট্রাটোমণ্ডল যা ওপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ওজন (O3) স্তর বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে অবস্থিত। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে স্ট্রাটোবিরতি।
মেসোমণ্ডল ও মেসোবিরতি
স্ট্রাটোবিরতির ওপরের স্তর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে মেসোমণ্ডল বলে। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে মেসোবিরতি।
তাপমণ্ডল
মেসোবিরতির ওপরের অংশ থেকে তাপমন্ডল শুরু হয়। তাপমণ্ডল মেসোমণ্ডল হতে উপরের দিকে যথাক্রমে আয়নোস্ফিয়ার, এক্রোস্ফিয়ার ও ম্যাগনিটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত। বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ারে।
মেরুজ্যোতি বা অরোরা
মেরু এলাকায় রাতের আকাশে উজ্জ্বল রঙিন আলোর দীপ্তি দৃশ্যমান হয়। এই বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে মেরুজ্যোতি বলে। মেরুজ্যোতির কারণ আবহাওয়ামণ্ডলের উচ্চতম স্তরে বৈদ্যুতিক বিচ্যুতি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আবহাওয়া ও জলবায়ু
আবহাওয়া : কোন স্থানের বাতাসের তাপ, উষ্ণতা , চাপ , আর্দ্রতা ,মেঘ, বৃষ্টি জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, বায়ু প্রবাহ প্রভৃতির দৈনন্দিন অবস্থাকে ঐ স্থানের আবহাওয়া বলে। জলবায়ু: কোন স্থানের ২০-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। মেটিওরোলজী হল আবহাওয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান। কোন স্থানের জলবায়ু নির্ভর করে - বিষুবরেখা হতে এর দূরত্ব : সাগর বা মহাসাগর হতে এর দূরত্ব: সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর দূরত্ব ইত্যাদির উপর । আর্দ্রতা : বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। আর্দ্রতা খুই প্রকার। যথা : ১. পরম আর্দ্রতা ২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
হাইড্রোমিটার
ওডোমিটার
রেডিওমিটার
হাইগ্রোমিটার
বায়ুরতাপ
বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। সূর্য থেকে আগত এ শক্তি বায়ুমণ্ডল তাপীয় শক্তি বা গতিশক্তি আকারে ধারণ করে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা কমে যায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মি: উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়। অর্থাৎ প্রতি ১৬৫ মি: উচ্চতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে।
বায়ুতে থাকা তাপ কয়েকটা প্রক্রিয়ায় চলাচল করতে পারে-
পরিবহন – এই প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত - হয়।
পরিচলন – এই প্রক্রিয়ায় পানি ও - বায়ুমন্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয়।
বিকিরণ – এই প্রক্রিয়ায় সূর্যরশ্মি - বায়ুমন্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে এবং এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল
হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
২৫° সেঃ
২৬° সেঃ
২৭° সেঃ
৩০° সেঃ
বায়ুর চাপ (Atmospheric Pressure)
যে কোনো পদার্থের মত বায়ুর নিজস্ব ওজন আছে। বায়ুর এ ওজন জনিত কারণে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাই বায়ুর চাপ। ৪৫০ অক্ষাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠে ০০ উষ্ণতায় ৭৬ সেমি. বিশুদ্ধ পারদস্তম্ভের চাপকে আদর্শ বা স্বাভাবিক বায়ুমন্ডলীয চাপ বা এক ‘বার’ বলে। সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ – প্রতি বর্গইঞ্চিতে ১৪.৭২ পাউন্ড প্রতি বর্গসেন্টিমিটার প্রায় ১ কেজি অথবা প্রতি বর্গ সেমি. এ ১০.১৩ নিউটন। স্বাভাবিক বায়ুর চাপ ৩৪ ফুট পর্যন্ত পানিকে ধরে রাখতে পারে। সাধারণ পাম্প বায়ুর চাপ ব্যবহার করে পানিকে ওপরে তোলে। তাই সাধারণ পাম্পের পানিকে ৩৪ ফিুট (বা ১০.৩৬ মিটার) এর অধিক উচ্চতায় উঠানো যায় না।
বায়ুর চাপ নিম্নলিখিত নিয়ামকের ওপর নির্ভরশীল-
ক) উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সর্বাধিক। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমতে থাকে।
খ) উষ্ণতা: তাপে বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়, ফলে বায়ুর চাপ কমে। তাপ হ্রাস পেলে বায়ুর চাপ বাড়ে।
গ) জলীযবাষ্প: জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু শুষ্ক বায়ু অপেক্ষা হালকা। তােই বায়ু আর্দ্র হলে বায়ুর চাপ কম হয় পক্ষান্তরে বায়ু শুষ্ক থাকলে বায়ুর চাপ বেশি হয়
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বায়ুর প্রবাহ
বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। সূর্য তেকে আগত এ শক্তি বায়ুমন্ডল তাপীয় শক্তি বা গতিশক্তি আকার ধারণ করে। উচ্চতা বৃদ্ধির ষাথে সাথে বায়ুমন্ডলীয তাপমাত্রা হ্রাস পায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মি. উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে বায়ুর আর্দ্রতা বেশি হয়। যদি জলীয়বাষ্প বায়ুতে কম পরিমাণে থাকে তবে বায়ুর আর্দ্রতা কম হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বারিমন্ডলের ধারণা
পৃথিবী পৃষ্ঠের ২৯.২% স্থলভূমি এবং ৭০.৮% জলভূমি। বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমন্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। সুতরাং বারিমন্ডল (Hydrosphere) বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সমুদ্র স্রোত (Ocean Current)
পৃথিবীর আবর্তন, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র জলের লবণত্ব, ঘনত্ব ও উষ্ণতার পাথর্য্যের জন্য সমুদ্রের জল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়মিতভাবে সারাবছর নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। সমুদ্র জলের এই গতিকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
সমুদ্রস্রোত উৎপত্তির কারণ
১) বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারণ।
২) উষ্ণতার তারতম্য
৩) লবণাক্ততার তারতম্য
৪) বাষ্পীভবনের তারতম্য
৫) গভীরতার তারতম্য
৬) পৃথিবীর আবর্তন
৭) স্থলভাগের অবস্থান।
সমুদ্রস্রোত বেঁকে যাওয়ার কারণ
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে (আহ্নিক গতি)। এর ফলে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
জাহাজ চালনায় সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব
স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য বন্দরে পৌঁছানো যায়। তাই স্বল্পতম সময়ে ও সংক্ষিপ্ত পথে জাহাজ চালাতে নাবিকেরা সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করেন। পক্ষান্তরে স্রোতের প্রতিকূলে জাহাজ চালিয়ে যেতে অনেক বেশি সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। আবার শীতল স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো বিপজ্জনক। কারণ, শীতল স্রোতের সঙ্গে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। এ প্রকার হিমশৈলের সঙ্গে আঘাত লাগলে জাহাজের ক্ষতি হয় এবং জাহাজ ডুবে যায়। টাইটানিক জাহাজ এভাবেই আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল।
সমুদ্রবন্দরের জন্য সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব
মধ্য অক্ষাংশ ও উচ্চ অক্ষাংশের সমুদ্রের পানি শীতকালে জমে যায়। ফলে তখন ঐ সব সাগরের ওপর দিয়ে শীতকালে বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতে পারে না। কিন্তু যেখানে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয়, সেখানে বন্দরগুলো শীতকালে বরফমুক্ত থাকে এবং সারা বছর জাহাজ চলাচল করতে পারে।
হিমপ্রাচীর (Cold Wall)
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত ল্যাব্রাডার স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে। কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরে হিমপ্রাচীরের সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। বিপরীতমুখী দুই সমুদ্রস্রোতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য এই অঞ্চলে প্রায়ই ঘন কুয়াশা ও প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়।
উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের সংমিশ্রণ
উষ্ণস্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। পক্ষান্তরে শীতল স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল ও শুদ্ধ হয়। এ বিপরীতধর্মী দুই বায়ুর সংমিশ্রণে মিলনস্থলে প্রায়ই কুয়াশা ও ঝড়তুফান লেগে থাকে।
শৈবাল সাগর (Sea Moss)
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের প্রান্ত দিয়ে বিভিন্ন স্রোত প্রবাহের ফলে পানির মধ্যে কোনো স্রোত থাকে না। স্রোতহীন এই পানিতে ভাসমান আগাছা ও শৈবাল সঞ্চিত হয়। একে শৈবাল সাগর বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জোয়ার – ভাটা (Tide)
চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে, আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্র পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে।
জোয়ার-ভাঁটার সময়
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘন্টা।
জোয়ার-ভাটার কারণ
১) পৃথিবীর ওপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ।
২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি বা কেন্দ্রবিমুখী শক্তি।
উল্লেখ্য, জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ চাঁদের আকর্ষণ।
জোয়ার-ভাটার ওপর সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণ
সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী সূর্য হতে গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্র অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাঁটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে যে, জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ভাগ।
জোয়ারের প্রকারভেদ
জোয়ারকে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যেমন-
ক) মুখ্য জোয়ার খ) গৌণ জোয়ার গ) ভরা কটাল ঘ) মরা কটাল
মুখ্য জোয়ার
চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষণে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।
গৌণ জোয়ার
চন্দ্র পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।
ভরা কটাল বা তেজ কটাল
পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তাই সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তিকে সাহায্যে করে। ফলে এই দুই সময়ে জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে উঠে। একে ভরা বা তেজ কটাল বলে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে তেজ কটাল হয়।
মরা কটাল
চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সুর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়। অষ্টমীর তিথিতে মরা কটাল হয়। একমাসে দুই বার তেজ কটাল এবং দুই বার মরা কটাল হয়ে থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবেশ দূষণ
মানুষের কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে পরিবেশের উপাদানে অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন হলো পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ দূষণ ৪ প্রকার। যথা- পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ এবং শব্ত দূষণ। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হলো মানুষ।
বায়ুদূষণ: গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মরনাক্সাইড গ্যাস থাকে। কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। ডিজেল পোড়ালে বাতাসে আসে সালফার-ডাই-অক্সাইড (SO2) গ্যাস। কলকারখানা অথবা যানবাহন হতে নির্গত কার্বন মনো-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড মূল ত বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। যান্ত্রিক পরিবহন ও শিল্পকারখানার দূষণ থেকে SMOG এর সৃষ্টি হয়। SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বায়ু। স্মোগ (SMOG) শব্দটি এসেছে SMOKE + FOG হতে।
শব্দ দূষণ: শব্দ ১-৬০ ডেসিবল পর্যন্ত সহনীয়, ৬০-১০০ ডেসিবল পর্যন্ত বিরক্তিকর এবং ১০০-১৬০ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। শব্দ যদি একটি নির্দিষ্ট মাত্রা (৮০ ডেসিবল) ছাড়িয়ে যায় তখন তা দূষণের পর্যায়ে চলে আসে। শব্দ দূষণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, নিদ্রাহীনতা এবং চরম অবস্থায় মানসিক বৈকল্যের সুষ্টি হতে পারে। ১০৫ ডিবি এর বেশি মাত্রার শব্দ দূষণ হলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।
পানি দূষন: কচুরিপানা (Water hyacinth) পানি দূষণ কমাতে সহায়তা করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
০.১০ মিলিগ্রাম
০.০০১ মিলিগ্রাম
০.০১ মিলিগ্রাম
০.০১ মিলিগ্রাম
আধুনিক বিজ্ঞান হলো পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে ভৌত বিশ্ব ও প্রকৃতির কার্যকারণ খোঁজার বর্তমান প্রক্রিয়া, যা প্রধানত প্রাকৃতিক, সামাজিক ও প্রথাগত—এই তিন শাখায় বিভক্ত । গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক মনে করা হয়, কারণ তিনি পরীক্ষামূলক পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন । এটি প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে জীবনযাত্রাকে আমূল পরিবর্তন করেছে এবং মহাবিশ্বের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করছে ।
মহাবিশ্ব
মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হলো স্থান ও কালের সমষ্টি এবং এর ভেতরে থাকা সব পদার্থ, শক্তি, নক্ষত্র, ছায়াপথ ও ভৌত নিয়মের সমন্বয়। বর্তমান বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে, যাকে বিগ ব্যাং বলা হয়। সেই সময় থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
আমরা যে অংশটি পর্যবেক্ষণ করতে পারি, তাকে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব বলা হয়, যার ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। মহাবিশ্বের মোট আকার ঠিক কত বড়, তা এখনও অজানা।
মহাবিশ্বের উপাদানগুলো হলো—
ডার্ক এনার্জি (≈ ৬৮%): মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করে
ডার্ক ম্যাটার (≈ ২৭%): অদৃশ্য পদার্থ, যা মহাকর্ষীয় প্রভাব ফেলে
সাধারণ পদার্থ (≈ ৫%): তারা, গ্রহ, গ্যাস, আমরা যা দেখতে পাই
মহাবিশ্বে রয়েছে শত শত বিলিয়ন ছায়াপথ, প্রতিটিতে কোটি কোটি নক্ষত্র। আমাদের সূর্য একটি সাধারণ নক্ষত্র, যা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অংশ।
জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy)
জ্যোতির্বিজ্ঞান বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যাতে মহাবিশ্বে অবস্থিত সকল বিচ্ছিন্ন এবং অবিচ্ছিন্ন বস্তসমূহের উৎপত্তি, বিবর্তন, গঠন, দূরত্ব এবং গতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ জ্যোতির্বিজ্ঞান মাহাবিশ্বে ভ্রাম্যমাণ জ্যোতিষ্ক বিষয়ক বিজ্ঞান। জ্যোতিষ্কসমূহের ইংরেজি নাম Heavenly bodies বা Astronomical bodies বা স্বর্গীয় বস্তু। প্রাচীনকালে মানুষেরা আকাশকেই স্বর্গ মনে করতো, তাই আকাশে বিদ্যমান সববস্তুকে স্বর্গীয় বস্তু বলতো। জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্র এক নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী (Astronomer) আর জ্যোতিষশাস্ত্রবিশারদকে বলে জ্যোতিষী (Astrologer) বলে।
জ্যোতির্বিদ (Astronomer)
টলেমি
টলেমি (Ptolemy) ৯০ খ্রিস্টাব্দে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত রোমান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Almagest' |
গ্যালিলিও
গ্যালিলিও ছিলেন একজন ইতালীয় পদার্থবিদ, জ্যোর্তিবিদ এবং গণিতবিদ। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নতি সাধন যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্যালিলিও কে 'আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক' বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বিশ্বতত্ত্ব বা ভৌত সৃষ্টিতত্ত্ব হল জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার একটি শাখা, যা দিয়ে মূলত মহাবিশ্বের বৃহদাকার কাঠামো, এর গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কিত মৌলিক প্রশ্নের অধ্যয়ন করা হয়। আধুনিক ভৌত সৃষ্টিতত্ত্বের শুরু হয় বিংশ শতাব্দীতে, মূলত আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব এবং দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তুসমূহের উন্নততর ভৌত পর্যবেক্ষণের ব্যাপক উন্নতিসাধনের সঙ্গে।
মহাবিস্ফোরণ (Big bang)
১৫ শত কোটি বৎসর পূর্বে মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু সংকুচিত অবস্থায় একটি বিন্দুর মত ছিল ঠিক যেন একটি অতি-পরমাণু (Superatom)। আজ থেকে ১৫ শত কোটি বৎসর পূর্বে এই অতি-পরমাণুর মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে, পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তু চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছুটতে থাকে। এসব পুঞ্জ থেকেই তৈরি হয়েছে ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি। আদি এই বিস্ফোরণকে বলা হয় 'বিগ ব্যাঙ' - বাংলায় একে বলা যেতে পারে "মহাবিস্ফোরণ” বা "বৃহৎ বিস্ফোরণ”। বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি, লেমেটার (G. Lemaitre) 'বিগ ব্যাঙ' তত্ত্বের প্রবক্তা। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "A Brief History of Time" পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে 'বিগ ব্যাঙ' এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জ্যোতিষ্কমণ্ডলী (Luminaries)
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় বস্তু শক্তি যে অঞ্চলে ভাসমান অবস্থায় বিন্যস্ত তার নাম মহাকাশ। মহাকাশে রয়েছে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ, উল্কা, নীহারিকা, পালসার, কৃষ্ণবামন, কৃষ্ণগহবর প্রভৃ তি। এগুলোকে জ্যোতিষ্ক বলে। জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার। যথা নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ এবং উল্কা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ছায়াপথ (Milky Way)
মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা এবং বিশাল বাষ্পকুণ্ড নিয়ে জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর যে দল সৃষ্টি হয়েছে, তাকে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ বলে। মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি রয়েছে। একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ (Milky Way) বলে। রাতের অন্ধকার আকাশে উত্তর-দক্ষিণে উজ্জ্বল দীপ্ত দীর্ঘপথের মত যে তারকারাশি দেখা যায় তাই ছায়াপথ। একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। কোনো ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে যে সময়ের প্রয়োজন হয়, তাকে কসমিক ইয়ার বলে। আমাদের ছায়াপথের কসমিক ইয়ার হলো ২০ কোটি আলোকবর্ষ। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ছায়াপথের নাম ম্যাজিলানিক ক্লাউডস। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ২ লক্ষ আলোকবর্ষ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সৌরজগতের গ্রহ
সূর্যের ৮টি গ্রহ আছে। সূর্য হতে দূরত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলো যেভাবে সাজানো রয়েছে সেগুলো নিচে বর্ণনা করা হল। যথা- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট প্লটো মর্যাদা হারায়। প্লটোকে বর্তমানে ‘বামন গ্রহ’ (dwarf planet) এর মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে সৌরজগতের পাঁচটি বামন গ্রহ আছে। যথা- সেরেস, প্লুটো, হাউমিয়া, মেকমেক এবং এরিস। পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য সকল গ্রহ, এবং, উপগ্রহের নাম গ্রিক যা রোমনি দেবতার নাম হতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রহ (planet)
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মহাকাশে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারিদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পথে পরিক্রমণ করে। এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই। এরা নক্ষত্র থেকে আলো এবং তাপ পায়। এরা তারার মত মিটমিট করে জ্বলে না। এ সব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন: পৃথিবী সৌরজগতের একটি গ্রহ।
বুধ: বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং দ্রুততম গ্রহ। এটি সবচেয়ে কম সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যকে এর প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
শুক্র: সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ শুক্র। শুক্রগ্রহে কার্বন-ডাই অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল থাকায় তা তাপ ধরে রাখে পক্ষান্তরে বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। এজন্য বুধ অপেক্ষা সূর্য হতে দূরবতী হওয়া সত্ত্বেও শুক্র গ্রহের তাপমাত্রা অধিক। শুকতারা ও সন্ধ্যাতারার কথা আমরা শুনেছি। শুকতারা বা সন্ধ্যা তারা আসলে কোনো তারা নয়। শুক্রগ্রহ ভোরের আকাশ শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যা তারা নাামে পরিচিত। নক্ষত্রের মতে জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি। পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। একে পৃথিবীর ‘জমজ গ্রহ’ বলা হয়।পৃথিবী: পৃথিবী একটি অভিগত গোলক। অভিগত গোলক অর্থ উত্তর দক্ষিণে সামান্য চাপা এবং পূর্ব-পশ্চিমে সামান্য স্ফীত। আহ্নিক গতির জন্য পৃথিবীর আকৃতি এরূপ হয়েছে। পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র সূর্য। সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্দ্র। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯৩ মিলিয়ন মাইল বা ১৫ কোটি কি.মি.। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮.৩২ মিনিট বা ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৫০০ সে.।
মঙ্গল: মঙ্গল গ্রহের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লাল আয়রন অক্সাইড (যাকে মরিচা বলা হয়) বিদ্যমান। পৃথিবী থেকে এই গ্রহটি দেখতে লালচে দেখায়। এজন্য মঙ্গলকে অনেক সময় ‘লাল গ্রহ’ বলেও অভিহিত করা হয়। গ্রহের বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইড (৯৫.৯৭%)। গ্রহটি সূর্যকে ৬৮৭ দিনে আবর্তন করে।
বৃহস্পতি: সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। সবচেয়ে বড় গ্রহ বলে একে ‘গ্রহরাজ’’ বলা হয়। আয়তনে বৃহস্পতি পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
শনি: সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এটি গ্যাসের তৈরি বিশাল এক গোলক। শনিকে ঘিরে আছে হাজার হাজার বলয়।
ইউরেনাস: ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। একে ‘সবুজ গ্রহ’ও কম হয়।
নেপচুন: সৌরজগতের গ্রহসমূহের মধ্যে সূর্যকে প্রদিক্ষণ করতে নেপচুনের সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।
বামন গ্রহ (Dwarf planet)
বামন গ্রহ হলো সৌরজগতের এক ধরনের জ্যোতিষ্ক যা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন কর্তৃক সজ্ঞায়িত হয়েছে। এই সংজ্ঞাটি বর্তমানে কেবল সৌরজগতের জন্যই প্রযোজ্য। বামন গ্রহ হলো যাদের (১) ভর গ্রহের সমান কিন্তু গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয় (২) সূর্যকে সরাসরি প্রদক্ষিণ করে, নিজস্ব আকৃতি পাবার মতো অভিকর্ষের মালিক (৩) কিন্তু কক্ষপথকে অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা বা স্বাতন্ত্র্য করতে পারেনি। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারায়। প্লুটোকে বর্তমানে 'বামন গ্রহ' (dwarf planet) এর মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে সৌরজগতের পাঁচটি বামন গ্রহ আছে। যথা- প্লুটো (Pluto), সেরেস (Ceres), হাউমিয়া (Haumea), মেকমেক (Makemake) এবং এরিস (Eris)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বুধ
শুক্র
বৃহস্প্রতি
শনি
উপগ্রহ (Satellite)
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যে জ্যোতিষ্ক বা বস্তু গ্রহকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তাদের উপগ্রহ বলে। এদের নিজস্ব আলো ও তাপ নেই। উপগ্রহ দুই ধরনের, যথা- স্বাভবিক উপগ্রহ এবং কৃত্রিম উপগ্রহ। প্রাকৃ তিক কারণে সৃষ্ট উপগ্রহকে স্বাভবিক উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র স্বাভবিক উপগ্রহ। মহাশূন্য পাড়ি দেওয়ার জন্য মানব সৃষ্ট উপগ্রহ কৃত্রিম উপগ্রহ বলে। 'স্যাটেলাইট' বলতে এখন কৃত্রিম উপগ্রহকেই বোঝায়। যেমন- স্পুটনিক-ও, ভস্টক-১ ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পি-৩
পি-৪
পি-৫
পি-৬
ধূমকেতু (Comet)
মহাকাশে মাঝে মাঝে এক প্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। এ সব জ্যোতিষ্ক কিছু দিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এ সব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলা হয়। নক্ষত্রের চারপাশে দীর্ঘপথে এগুলো পরিভ্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে প্রথমে অস্পষ্ট মেঘের আকারে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৫ বা ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে। হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে (১৯৮৬ + ৭৬) = ২০৬২ সালে। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ধূমকেতু লাইনিয়ার। বিগত শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু 'হেলবপ'। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এলান হেল ও টমাস বপ ১৯৯৫ সালে ২৩ জুলাই এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
২০৫০
২০৬০
২০৫২
২০৬২
উল্কা (Meteor)
মহাশূন্যে অজস্র 'জড়পিণ্ড ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিগুলো মাধ্যাকর্ষণ বলের আকর্ষণে প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সংগে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে। এগুলোকে উল্কা বলে। ধুমকেতুর সূর্যের কাছাকাছি এসে পড়লে এর প্রচণ্ড উত্তাপ এবং সৌরঝড়ের কারণে সম্মুখভাগ ও অন্তঃস্থল গলে গিয়ে পেছনের দিকে ধূমকেতুর লেজ-এ ছড়িয়ে পড়ে। এই 'লেজ'-এর মধ্যে থাকে অসংখ্য পাথরের টুকরো, ধূলিকণা ও গ্যাস। কোনো ধূমকেতুর অংশবিশেষ কক্ষপথ হতে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠলে তাকে উল্কা বৃষ্টি বলে। ১৬-২২ জুলাই, ১৯৯৪ ধুমকেতু শুমেকার লেভী-৯ কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বৃহস্পতির কক্ষপথে চলে আসে এবং ১২টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে বৃহস্পতি গ্রহে আঘাত হানে।
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic ray)
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে, তাদের সমষ্টিকে মহাজাগতিক রশ্মি বলে। বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
আলোক বর্ষ (Light Year)
জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের একক হিসেবে আলোক বর্ষ, পারসেক ব্যবহৃত হয়। শূন্যস্থানে আলো একবছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
১ আলোকবর্ষ = ৯.৪৬১ ১০১২ কিলোমিটার
দূরত্বের সবচেয়ে বড় একক পারসেক। ১ পারসেক = ৩.২ আলোকবর্ষ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সৌরজগৎ (Solar System)
সৌরজগৎ বলতে সূর্য ও মহাজাগতিক জ্যোতির্কবিষয়ক বস্তুসমূহকে বুঝায়। সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার গঠিত হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অব্দে জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টর্কাস (Aristarchus) প্রথম প্রস্তাব করেন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করিতেছে কিন্তু অ্যারিস্টর্কাস এর কথা মানুষ বিশ্বাস করেনি। সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং পৃথিবী সূর্যের চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিতেছে' ষোড়শ শতাব্দীতে নিকোলাস কোপার্নিকাস (Nicolaus Copernicus) গাণিতিক মডেলসহ এ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা Heliocentrism নামে পরিচিত।
সূর্য (Sun)
সূর্যের ব্যাস ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিমি. এবং ভর প্রায় ১.৯৯ ০১০১৩ কেজি। আয়তনে সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ বা ১.৩ মিলিয়ন গুণ এবং চাঁদের চেয়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ গুণ বড়। সূর্য প্রচণ্ড রকম উত্তপ্ত একটি নক্ষত্র। এর কেন্দ্রভাগের উত্তাপ প্রায় ১৫০,০০০,০০০° সে. এবং পৃষ্ঠভাগের তাপমাত্রা প্রায় ৬,০০০° সে.। সূর্যের উপাদানসমূহের শতকরা সংযুক্তি: হাইড্রোজেন ৯১.২%, হিলিয়াম ৮.৭% ও অন্যান্য ০.১%। সূর্যের নিজ অক্ষের উপর এক বার আবর্তন করতে ২৫ দিন সময় লাগে। একে সূর্যের আবর্তনকাল বলে। সূর্যপৃষ্ঠের যে সব স্থানের তাপমাত্রা এর পাশ্ববর্তী স্থান অপেক্ষা কম, পৃথিবী থেকে সে স্থানগুলো কালো দেখায়, তাদের সৌরকলঙ্ক বলে। সৌর কলঙ্কগুলোকে সর্বপ্রথম গ্যালিলিও আবিষ্কার করেন। সৌর ঝলক হল সূর্য থেকে উৎক্ষিপ্ত চার্জযুক্ত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। সূর্য সাধারণত প্রতি ৩-৪ বছরে একবার কয়েকটন পরিমাণ চার্জযুক্ত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম আলোর ঝলকানিসহ মহাশূন্যে ছুঁড়ে দেয় যা ৫ কোটি কিমি. জুড়ে বিস্তৃত হয়। সৌর ঝলকের কারণে পৃথিবীতে বেশকিছু সমস্যা বিশেষ করে চৌম্বক ক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে টেলিফোন সংযোগ এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সৌরজগতের গ্রহ
সূর্যের ৮টি গ্রহ আছে। সূর্য হতে দূরত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলো যেভাবে সাজানো রয়েছে সেগুলো নিচে বর্ণনা করা হল। যথা-
| 1 | বুধ (Mercury) | রোমান বাণিজ্য দেবতার নামানুসারে |
| 2 | শুক্র (Venus) | রোমান ভালবাসা এবং সৌন্দর্যের দেবীর নামানুসারে |
| 3 | পৃথিবী (Earth) | পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য সকল গ্রহ এবং উপগ্রহের নাম গ্রিক যা রোমান দেবতার নাম হতে নেওয়া হয়েছে |
| 4 | মঙ্গল (Mars) | রোমান যুদ্ধদেবতার নামানুসারে |
| 5 | বৃহস্পতি (Jupiter) | রোমান দেবতাদের রাজার নামানুসারে |
| 6 | শনি (Saturn) | রোমান কৃষি দেবতার নামানুসারে |
| 7 | ইউরেনাস (Uranus) | রোমান স্বর্গের দেবতার নামানুসারে |
| 8 | নেপচুন (Neptune) | রোমান সমুদ্র দেবতার নামানুসারে |
সৌরজগতের উপগ্রহ
সৌরজগতের সর্বমোট ৪৯ টি উপগ্রহ আছে। শনির সর্বাধিক ২২টি উপগ্রহ আছে। বুধ ও শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর ১টি, মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ১৬টি, ইউরেনাসের ৫টি, নেপচুনের ২টি এবং প্লুটোর ১টি উপগ্রহ রয়েছে। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ বৃহস্পতির গ্যানিমেড এবং সবচেয়ে ছোট উপগ্রহ বৃহস্পতির লেডা।
গ্রহ | উপগ্রহ |
| পৃথিবী | পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম চাঁদ। পৃথিবী হতে চাঁদের দূরত্ব গড়ে ২,৩৮,৪৩৭মাইল বা ৩,৮১,৫০০ কিমি.। আলোর গতিতে চললে পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌছাতে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগবে। আয়তন এবং ব্যাসে পৃথিবী চাঁদের চেয়ে যথা-ক্রমে ৫০ গুণ এবং ৪ গুণ বড়। পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা। শান্ত সাগর চাঁদে অবস্থিত। |
| মঙ্গল | উপগ্রহগুলোর ফোবোস এবং ডিমোস। |
| বৃহস্পতি | উপগ্রহগুলোর মধ্যে লো, ইউরোপা, গ্যানিমেড ও ক্যালিস্টো প্রধান। |
| শনি | শনির প্রধান উপগ্রহ টাইটান, হুয়া, ডাইওন, ক্যাপিটাস, টেথ্রিস। |
| ইউরেনাস | উপগ্রহগুলোর নাম - মিরিন্ডা, এরিয়েল, আম্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন। |
| নেপচুন | উপগ্রহগুলোর নাম ট্রাইটন ও নেরাইড। |
| প্লুটো | উপগ্রহের নাম ক্যারন। |
উপগ্রহগুলোর আকারের ক্রম: গ্যানিমেড > টাইটান > ক্যালিস্টা > লো > চাঁদ > ...... > লেডা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সূর্যগ্রহণ
চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। অমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয় ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লালমনিরহাটে
পঞ্চগড়
দিনাজপুর
ঠাকুরগাঁও
চন্দ্রগ্রহণ
আমরা সবাই জানি, চাঁদ যেমন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তেমন পৃথিবীও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এইভাবে একটা সময় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় আসে।যখন এই সরলরেখায় পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ার জন্য চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে চাঁদকে তখন কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় না। অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন একে সংক্ষেপে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
এই সময় পৃথিবী, সূর্যকে আংশিক ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে আংশিক দেখা যায় না একে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলে। আর পৃথিবী সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে পুরোপুরি দেখা যায় না একে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বলে। চাঁদের তুলনায় পৃথিবীর ব্যাস অনেক বেশি হওয়ায়, পৃথিবীর ঐ ব্যাসের পথ অতিক্রম করতে চাঁদের অনেকটা সময় লাগে। এই জন্য সূর্যগ্রহনের স্থায়ীত্ত্ব কয়েক মিনিট হলেও চন্দ্রগ্রহণের স্থায়ীত্ত্ব ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কৃত্রিম উপগ্রহের মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস
স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের আবিষ্কার ও মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস খুব একটা পুরোনো নয়। ষাটের দশকে প্রথমবারের মতো এ গৌরব অর্জন করে তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রও মহাকাশের উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম হয়। এরপর একে একে ফ্রান্স, জাপান, চীন ও ভারতসহ ৫৬টি দেশ মহাকাশ জয় করে১৯৫৭ সালের চৌঠা অক্টোবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট স্পুটনিক- ১। রাশিয়ার তৈরি এ কৃত্রিম উপগ্রহের মহাকাশ জয়ের মধ্যদিয়ে রচিত হয় আধুনিক বিজ্ঞানের নতুন এক অধ্যায়। একই বছরের দোসরা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামের আরো একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় রাশিয়া।
পরের বছর এক্সপ্লোরার-১ নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মধ্যদিয়ে মহাকাশ জয়ের দ্বিতীয় দেশের গৌরব অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ১৯৬৫ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম হয় ফ্রান্স। ১৯৭০ সালে একই গৌরব অর্জন করে জাপান।
ওই বছরেই ডং ফ্যাং হং-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় চীন। পরের বছর ব্ল্যাক অ্যারো রকেটে প্রোসপেরো এক্স-৩ নামের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে ব্রিটেন। এছাড়া, ১৯৮০ সালে রোহিনী নামের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ যাত্রা শুরু করে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশের আগে সবশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয় কোস্টারিকার নাম।
উইকিপিডিয়ার হিসেবে বলছে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫০টিরো বেশি দেশ থেকে কয়েক হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে পৃথিবীর মাত্র ১০টি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম।
এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইসরাইল, ইউক্রেন এবং ইরান। বর্তমানে মহাকাশে সচল রয়েছে ১০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট। এর ৫০ ভাগই উৎক্ষেপণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তালিকায় শীর্ষে ভারত। গেল বছর একদিনে ১০৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে ইতিহাস গড়ে দেশটি। এর আগে ২০১৪ সালে রাশিয়া এক সঙ্গে ৩৭টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল। এছাড়া, গেল বছর ৫ মে ''দক্ষিণ এশিয়া কৃত্রিম উপগ্রহ'' নামে একটি যৌথ প্রকল্পও শুরু করে ভারত।
যার অংশীদার, পাকিস্তান বাদে সার্কের বাকি সদস্য দেশগুলো। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলেও এখনও অনেক পিছিয়ে নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং মিয়ানমার। বঙ্গবন্ধু/বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইটের মালিকানায় এখন বাংলাদেশ।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, তথ্যের আদান-প্রদান, সম্প্রচার, বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজের দিক নির্দেশনা এবং সামরিক কাজ তথা পরমাণু অস্ত্রের পর্যবেক্ষণ, রাডার নিয়ন্ত্রণ এবং শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মহাশূন্যে পর্যটন
মহাশূন্যে পর্যটন বা মহাকাশ পর্যটন হলো বিনোদন, ভ্রমণ বা শখের বশে ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণ করা । ২০০১ সালে ডেনিস টিটোর যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই খাতটি বর্তমানে SpaceX, Blue Origin ও Virgin Galactic এর মতো কোম্পানিগুলোর সুবাদে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে । এটি প্রধানত অরবিটাল (কক্ষপথ), সাব-অরবিটাল ও চন্দ্র পর্যটন নামে পরিচিত ।
মহাশূন্যযানের নাম
মহাশূন্যযানের নাম | সাফল্যের প্রকৃতি |
স্পুটনিক-I Sputnik-I | মহাশূন্যযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছে ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর। এই যাত্রার সূচনা করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাশূন্যে স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। এটি মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম কৃ ত্রিম উপগ্রহ। স্পুটনিক শব্দের অর্থ Fellow Travellers (ভ্রমণসঙ্গী)। |
স্পুটনিক-II Sputnik-II | জীবন্ত প্রাণী বহনকারী প্রথম মহাশূন্যযান। সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মিত এ মহাশূন্যযানের যাত্রী ছিল লাইকা (Laika) নামের একটি কুকুর। |
| স্কোর [Score] | মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। |
| লুনা-২ [Luna-2] | চন্দ্রপৃষ্ঠকে স্পর্শকারী প্রথম মহাশূন্যযান। |
| লুনা-৩ [Luna-3] | প্রথম উপগ্রহ যা চাঁদের অদৃশ্যমান অংশের ছবি পাঠায়। |
ভস্টক-১ Vostok-1 | মানুষ নিয়ে যাওয়া প্রথম মহাশূন্য যাত্রা। পৃথিবীর প্রথম মহাশূন্যচারী মানুষ হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন (Yuri Gagarin)। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল তিনি পৃথিবীকে পরিক্রমণ করেন। |
স্টক-৬ Stock-6 | প্রথম মহিলা মহাশূন্যচারীবাহী মহাশূন্যযান। এই মহিলা ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেলানটিনা তেরেসকোভা (valentina tereshkova)। ১৯৬৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি মহাশূন্য যাত্রা করেন। |
ইনটেলসেট-১ Intelset-I | বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। পরবর্তীতে উপগ্রহটির নামকরণ করা হয় Early Bird. |
ভেনেরা-৩ Venera -3 | শুক্র গ্রহে অবতরণকারী প্রথম মহাশূন্যযান। ১৯৬৫ সালের ১৬ নভেম্বর এটি শুক্রগ্রহে অবতরণ করে। |
লুনা-১ Luna-9 | প্রথম সফলভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণকারী (Soft landing) মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। |
সয়োজ-৪ [Soyoge-4] | প্রথম পরীক্ষামূলক স্পেস স্টেশন। |
অ্যাপোলো-১১ Apollo-11 | অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান। এই অভিযানে অংশ নেন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডুইন অল্ড্রিন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানব হিসেবে চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখেন। এ সময় তিনি বিখ্যাত একটি মন্তব্য করেন, "This is a small step for (a) man but a giant leap for mankind". (এটি একটি মানুষের জন্য ক্ষুদ্র পদক্ষেপ কিন্তু মানব জাতির জন্য বিশাল অগ্রযাত্রা)। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। |
মারস-২ [Mars-2] | মঙ্গলগ্রহে অবতরণকারী প্রথম মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। (Space Probe) |
পায়োনিয়ার Pioneer | প্রথম মহাশূন্য অনুসন্ধানীযান যা বৃহস্পতি গ্রহে খুব নিকট হতে ছবি তুলতে সক্ষম হয়। |
ল্যান্ডসেট-১ Land set-1 | রিমোট সেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ। |
| অ্যাপোলো-সায়োজ টেস্ট প্রজেক্ট | আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম উপগ্রহ। |
ভয়েজার Voyager | বৃহস্পাতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন এবং প্লুটোর কক্ষপথে প্রেরিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাশূন্যযান। |
| ভাইকিং [Viking] | মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠানো মার্কিন মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। |
| গ্যালিলিও [Galileo] | পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতির একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। |
পাথ ফাইন্ডার Pathfinder | 'পাথ ফাইন্ডার' হল মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রেরিত একটি মার্কিন নভোযান। 'পাথ ফাইন্ডারের সাথে পাঠানো রোবটের নাম 'সোজার্নার'। রোবটটিকে পাঠানো হয়েছিল মঙ্গলগ্রহের শিলারাশি পরীক্ষা ও চিত্র প্রেরণের জন্য। |
চন্দ্রযান-১ Chandrayaan-1 | প্রথম ভারতীয় চন্দ্রযান হিসাবে ২০০৮ সালের ১৪ নভেম্বর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে। |
মহাশূন্যে প্রথম ……..
প্রথম মহাশূন্যচারী | মানব | মানবী |
| নাম | ইউরি গ্যাগারিন | ভেলেনাটনা তেরেসকোভা |
| দেশ | সোভিয়েত ইউনিয়ন | সোভিয়েত ইউনিয়ন |
| মহাশূন্যযানের নাম | ভস্টক-১ | ভস্টক-৬ |
| সময়কাল | ১২ এপ্রিল, ১৯৬১ | ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লিং হাইপেং
লিউ বোমিং
ঝাই ঝিগ্যাং
ইয়াং লিওই
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
National Aeronautics and Space Administration (NASA)
Introduction ভূমিকা | US Space Research Research Agency মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা |
| Formed (প্রতিষ্ঠাকাল) | 29 July, 1958 |
Headquarters সদর দপ্তর | Washington DC, USA ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র |
Rocket launch site উৎক্ষেপণ কেন্দ্র | Cape Canaveral, Florida ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরালে (পূর্ব নাম কেপ কেনেডি) |
European Space Agency (ESA)
| পরিচিতি | ইউরোপের ১৮টি দেশের সম্মিলিত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। |
| Formed (প্রতিষ্ঠাকাল | 1975 AD. |
| Headquarters (সদর দপ্তর) | Paris, France প্যারিস, ফ্রান্স। |
| Membership (সদস্যপদ) | ২৩টি ইউরোপীয় দেশ ESA-এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ (২৩টি): |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
National Aeronautics and Space Authority
National Aeronautics and Space Administration
National Aeronautics and Space Agency
National Aeronautics and Space Agreement
পৃথিবীর বার্ষিক গতি
পৃথিবীর গতি মূলত দুই প্রকার: আহ্নিক গতি (নিজ অক্ষে ঘূর্ণন) এবং বার্ষিক গতি (সূর্যের চারদিকে আবর্তন)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পৃথিবীর আহ্নিক গতি (Diurnal Motion)
সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার ওপর পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এ গতিকে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি বলে। নিজ মেরুরেখার চারদিকে এক বার সম্পূর্ণ ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ২৪ ঘণ্টা। এ ২৪ ঘণ্টাকে 'একদিন' হিসেবে গণনা করা হয়। পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনের সময়কে সৌরদিন (Solar day) বলে।
আহ্নিক গতির বেগ (The speed of Earth's Rotation)
নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সবচেয়ে বেশি- ঘন্টায় ১,৬১০ কিলোমিটারের বেশি। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে এই গতিবেগ ক্রমশ কমতে থাকে। পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে এ গতিবেগ শূন্যের কাছাকাছি।
আহ্নিক গতির ফল (Effect of Diurnal Motion)
১) দিবারাত্রি সংঘঠন (Occurrence of day and night)
পর্যায়ক্রমে দিবারাত্রি সংঘঠিত হওয়া আহ্নিক গতির একটি ফল। আহ্নিক গতি না থাকলে পৃথিবীর অর্ধাংশে চিরকাল দিন ও বিপরীত অর্ধাংশে চিরকাল রাত থাকত। কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর একদিকে রাত, অপরদিকে দিন হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর একদিকে আলোকিত থাকে অপরদিকে অন্ধকার থাকে। পৃথিবীর এই আলোকিত অংশ ও অন্ধকার অংশের সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত (The Shadow circle) বলে। আহ্নিক গতি বা আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশে পৌঁছায় সে অংশে হয় প্রভাত (Morning)। আর যে অংশ আলোকিত অংশ থেকে ছায়াবৃত্ত অতিক্রম করে সবেমাত্র অন্ধকারে পৌঁছায় সে অংশে হয় সন্ধ্যা (Evening)। প্রভাতের কিছুক্ষণ পূর্বে যে ক্ষীর্ণ আলো দেখতে পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ঊষা (Dawn)। আর সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে বলা হয় গোধূলি (Twilight)।
২) তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি (Temperature differences)
৩) সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাঁটা ও বায়ুপ্রবাহ (Ocean currents, Tide & ebb and wind circulation
জোয়ার-ভাঁটার সৃষ্টি হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতির সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
৪) সময় নির্ধারণ (Determining the time)
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পৃথিবীর বার্ষিক গতি (Annual Motion)
নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় এক বার আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট পথে বছরে এক বার সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসে। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পৃথিবীর এ পরিভ্রমণকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে। পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার। পৃথিবীর কক্ষপথের পরিধি ৯৩,৮০,৫১,৮২৭ কি.মি। নিজ কক্ষপথে এক বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। যে সময়ে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসে সে সময়কালকে বলা হয় এক সৌরবছর (Solar Year)।
বার্ষিক গতির বেগ (Speed of Revolution)
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গড় গতিবেগ- ১৮.৫ মাইল/ সেকেন্ড বা ৬৬,৫০০ মাইল/ঘন্টা অথবা ৩০ কি:মি:/সেকেন্ড বা ১,০৬,২৬০ কি:মি:/ ঘন্টা।
অনুসূর (Perihelion): পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষে সূর্যকে পরিক্রমণ করতে করতে জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখে এমন এক অবস্থানে পৌছায় যেখানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে। একে পৃথিবীর অনুসুর অবস্থান বলে।
অপসূর (Aphelion): পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষে সূর্যকে পরিক্রমণ করতে করতে ১ থেকে ৩ ৪ জুলাই তারিখে এমন এক অবস্থানে পৌঁছায় যেখানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। একে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান বলে।
বার্ষিক গতির ফল (Effects of Annual Motion)
১) ঋতু পরিবর্তন (Changes of seasons)
তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারা বছরকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এ প্রতিটি ভাগকে একটি ঋতু বলা হয়। এগুলো হল গ্রীষ্মকাল, শরৎকাল, শীতকাল ও বসন্তকাল।
২) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি (Fluction of day and night)
নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিবারাত্রি সমান থাকে। কিন্তু বার্ষিক গতির কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলোর্ধে দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। নিম্নে তা ছক আকারে দেওয়া হল-
তারিখ | উত্তর গোলার্ধ Northern Hemisphere | দক্ষিণ গোলার্ধ Southern Hemisphere | ||
| ২১ জুন | দীর্ঘতম দিন | ক্ষুদ্রতম রাত | ক্ষুদ্রতম দিন | দীর্ঘতম রাত |
| ২২ ডিসেম্বর | ক্ষুদ্রতম দিন | দীর্ঘতম রাত | দীর্ঘতম দিন | ক্ষুদ্রতম রাত |
| ২১ মার্চ | পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান | |||
| ২৩ সেপ্টেম্বর | পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান | |||
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পৃথিবীর কাল্পনিক রেখা সমূহ
পৃথিবীর অবস্থান, সময় ও জলবায়ু নির্ধারণের জন্য ভৌগোলিকরা পৃথিবী পৃষ্ঠে কতগুলো কাল্পনিক রেখা কল্পনা করেছেন, যার প্রধান দুটি প্রকার হলো অক্ষরেখা (পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত) ও দ্রাঘিমারেখা (উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত) । প্রধান কাল্পনিক রেখাগুলো হলো নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উ), মকরক্রান্তি (২৩.৫° দ), সুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° উ) এবং কুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° দ) ।
বিষুবরেখা (Tropic/Equator)
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এ রেখাকে বলা হয় বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা। বিষুবরেখা নিরক্ষবৃত্ত, মহাবৃত্ত, গুরুবৃত্ত প্রভৃতি নামেও পরিচিত। নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে। বিষুবরেখা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরভাগ, আফ্রিকার মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। বিষুব রেখার উপর অবস্থিত দেশসমূহ- ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, গ্যাবন, কঙ্গো, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, উগান্ডা, কেনিয়া, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া এবং কিরিবাতি।
অক্ষাংশ (Latitude)
নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে উত্তর অক্ষাংশ এবং দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ বলে। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০°; উত্তর মেরু বা সুমেরুর অক্ষাংশ ৯০° উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা কুমেরুর অক্ষাংশ ৯০° দক্ষিণ।
অক্ষাংশ নির্ণয় পদ্ধতি:
অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
১) ধ্রুবতারার সাহায্যে
২) সেক্সট্যান্ট যন্ত্র ও সূর্যের অবস্থান থেকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা (Line of latitude)
অক্ষ রেখা, বা, অক্ষ বৃত্ত হচ্ছে পৃথিবীর পূর্ব–পশ্চিমকে পূর্ণভাবে আবৃত করে রাখা বিমূর্ত কতগুলো বৃত্তরেখা যা একই অক্ষাংশের সকল স্থানকে (উচ্চতা উপেক্ষা করে) সংযুক্ত করে।
নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক মেরুর কৌণিক দূরত্ব ৯০°। এ কোণকে ডিগ্রি ও মিনিটে ভাগ করে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে সমাক্ষরেখা বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দ্রাঘিমারেখা (Lines of longitude) বা মধ্যরেখা (Meridian):
নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্রিনিচ মান মন্দিরের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল মধ্যরেখা বলে। মূল মধ্যরেখার দ্রাঘিমা ০° ।
দ্রাঘিমা (Longitude):
গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে বা পশ্চিমে যে কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।
দ্রাঘিমা নির্ণয়ের পদ্ধতি: ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের দ্রাঘিমা দুই ভাবে নির্ণয় করা যায়:
১) স্থানীয় সময়ের পার্থক্য
২) গ্রিনিচের সময়ের মাধ্যমে।
যে স্থানটির অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০°:
যেখানে নিরক্ষরেখা ও মূল মধ্যরেখা পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে সেখানে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০°। এ স্থানটি গিনি উপসাগরে অবস্থিত।
সমাক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য
সমাক্ষরেখা (Parallels) | দ্রাঘিমারেখা (Meridians) |
| ১. রেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল | ১. রেখাগুলো সমান্তরাল নয় |
| ২. রেখাগুলো পূর্ণবৃত্ত | ২. রেখাগুলো অর্ধবৃত্ত |
| ৩. রেখাগুলোর দৈর্ঘ্য সমান নয়; অক্ষাংশ বাড়লে সমাক্ষরেখার পরিধি কমে | ৩. প্রত্যেক দ্রাঘিমা রেখার দৈর্ঘ্য সমান |
| ৪. রেখাগুলো পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত | ৪. রেখাগুলো উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত |
| ৫. সর্বোমোট সমাক্ষরেখা ১৮১ টি | ৫. সর্বমোট দ্রাঘিমারেখা ৩৫৯টি |
| ৬. সর্বোচ্চ অক্ষাংশ ৯০° | ৬. সর্বোচ্চ দ্রাঘিমা ১৮০° |
স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়
স্থানীয় সময়: কোনো স্থানের সূর্য যখন মাথার উপর থাকে, তখন ঐ স্থানে মধ্যাহ্ন এবং সময় দুপুর ১২টা ধরা হয়। এ মধ্যাহ্ন সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান ৪ মিনিট। কোনো স্থান গ্রিনিচের পূর্বে হলে তার স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা বেশি হবে এবং পশ্চিমে হলে স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় থেকে কম হবে।
প্রমাণ সময়: প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয়, সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে। অনেক বড় দেশ হলে সে দেশে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে। বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী। ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date line)
যে রেখা অতিক্রম করলে দিন এবং তারিখের পরিবর্তন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। এ রেখা অতিক্রম করে পূর্ব থেকে পশ্চিমে গেলে একদিন বিয়োগ করতে হয়; পক্ষান্তরে পশ্চিমে থেকে পূর্বে গেলে একদিন যোগ করতে হয়। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা মূলত ১৮০° দ্রাঘিমারেখা হলেও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি আঁকাবাঁকা। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা সম্পূর্ণভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর অবস্থিত।


১৮০° রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ, অ্যালিউসিয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে বেরিং প্রণালীতে ১২° পূর্ব, অ্যালিউসিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৭° পশ্চিম এবং ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের কাছে ১১° পূর্ব দিকে বাঁকানো। রেখাটি আঁকাবাঁকা না করলে এক দ্বীপের দুই পার্শ্বে সময়ের পার্থক্য হত একদিন। স্থানীয় লোকদের সময়ের হিসেবে অসুবিধা দূর করার জন্য রেখাটি আঁকাবাঁকা করে শুধু জলভাগের ওপর দিয়ে টানা হয়েছে।
প্রতিপাদ স্থান (Antipode)
ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে। প্রতিপাদ স্থান নির্ণয় করার জন্য ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানা হয়। ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে ভূপৃষ্ঠের বিপরীত পাশে এসে পৌছায়, সেই বিন্দুই পূর্ব বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান। প্রতিপাদ স্থান দুইটির মধ্যে সময়ের পার্থক্য ১২ ঘন্টা। ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।
কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of cancer)
২৩° ৩০' উত্তর অক্ষাংশ রেখাকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি রেখা। রেখাটি উত্তর আমেরিকার দক্ষিণভাগ, আফ্রিকার উত্তর ভাগ এবং এশিয়ার দক্ষিণাংশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যে সকল দেশের উপর দিয়ে রেখাটি অতিক্রম করেছে, সেগুলো হলো- মেক্সিকো, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ (যুক্তরাষ্ট্র), বাহামা, পশ্চিম সাহারা, মৌরিতানিয়া, মালি, আলজেরিয়া, নাইজার, চাঁদ, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ভারত, বাংলাদেশ (মধ্যভাগ দিয়ে), মায়ানমার, চীন এবং তাইওয়ান।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of capricon)
২৩° ৩০' দক্ষিণ অক্ষাংশ রেখাকে বলা হয় মকরক্রান্তি রেখা। রেখাটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ ভাগ, আফ্রিকার দক্ষিণভাগ এবং ওশেনিয়া মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যে সকল দেশের উপর দিয়ে রেখাটি অতিক্রম করেছে, সেগুলো হলো- ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি, টোঙ্গা, ফিজি, অস্ট্রেলিয়া, মাদাগাস্কার, মোজাম্বিক, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, কুক দ্বীপপুঞ্জ (নিউজিল্যান্ড), নিউ ক্যালিডোনিয়া (ফ্রান্স)।
সুমেরুবৃত্ত (Arctic circle): ৬৬° ৩৩' উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরুবৃত্ত।
কুমেরুবৃত্ত (Antarctic circle): ৬৬° ৩৩' দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরুবৃত্ত।
পৃথিবীর মেরু অঞ্চল (Polar region of the earth): ২ টি। যথা-
ক) উত্তর মেরু (North pole): আর্কটিক সাগরে অবস্থিত।
খ) দক্ষিণ মেরু (South pole): এন্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন, যা মানুষ, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, খরা, নদীভাঙন, এবং সুনামি ইত্যাদি এর প্রধান উদাহরণ । এসব দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন বা ভূ-গর্ভস্থ প্রক্রিয়ার কারণে ঘটে, যা আর্থ-সামাজিক জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সুনামি (Tsunami)
সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি মূলত জাপানি শব্দ; এর অর্থ পোতাশ্রয় ঢেউ। সমুদ্র তলদেশে প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে, কিংবা অন্য কোনো কারণে, ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি (Tsunami) নামে পরিচিত। সুনামি উপকূলীয় শহর ও অন্যান্য লোকালয়ে আকস্মিক ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামির ঢেউয়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭০০-৮০০ কি.মি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)
ঘূর্ণিঝড় হল উষ্ণ কেন্দ্রীয় লঘুচাপ, যার চারদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রচণ্ডভাবে ঘুরতে থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাসার্ধ সাধারণত ৫০০-৬০০ কিলোমিটার প্রর্যন্ত হতে পারে। হালকা বাতাস ও হালকা মেঘ দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র 'অয়ন' নামে পরিচিত। 'অয়ন' এর ব্যাসার্ধ ২০-১৫০ কিলোমিটার প্রর্যন্ত হতে পারে। কেন্দ্রের চারদিকে ঘুর্ণায়মান বাতাসের গতি ঘন্টায় ৬২ থেকে ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বা তার বেশি হতে পারে।
একটি পূর্নাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় প্রবাহিত হওয়ার সময় যে সব এলাকার ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে সে সব এলাকায় তিন ধরনে প্রভাব বিস্তার করে। এ তিন ধরনের প্রভাব হচ্ছে: প্রবল বাতাস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভূমিকম্প
ভূত্বকের নিচে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ভূপৃষ্ঠে যে কম্পন অনুভূত হয়, তাকে ভূমিকম্প বলে। ভূমিকম্প মাপার ক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্বব্যাপী রিখটার স্কেল ব্যবহৃত হয়, তবে সংশোধিত মার্কলি স্কেলও স্বীকৃত। রিখটার স্কেলে ১ মাত্রার ভূমিকম্প হলো সর্বনিম্ন মাত্রা, আর সর্বোচ্চ মাত্রা হলো ১০। পৃথিবীর ইতিহাসে মারাত্মক সব ভূমিকম্প নথিভুক্ত করা হয়েছে। টেকটনিক প্লেট ছাড়াও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতেও ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকের উপরে থাকা স্থাপনা কম্পন সহ্য করতে না পারলে ভেঙ্গে পড়ে। সমুদ্রে ভূকম্পন হলে পানিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে, ফলে সংঘটিত হয় সুনামি ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more


