আবহাওয়া: আমরা রেডিও ও টেলিভিশনে আবহাওয়ার খবর শুনি। এ খবর থেকে দিনের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি তথ্য জানতে পাই। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আকাশ কেমন থাকবে সে তথ্যও জানতে পারি। আগাম এসব তথ্যকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে। সুতরাং কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) স্থানীয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দ্বারা প্রভাবিত হয়।
২) আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল।
৩) মাটির গুণাবলিতে তেমন প্রভাব ফেলে না।
৪) কোনো কোনো অঞ্চলে ফসলের পরিচর্যায় আবহাওয়া প্রভাব বিস্তার করে।
জলবায়ু: জলবায়ু পরিবর্তনের কথাটি আমরা প্রায়ই শুনতে পাই। জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে হয়। কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে। জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) জলবায়ু কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা।
২) জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল।
৩) মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে।
৪) কোনো কোনো অঞ্চলে ফসলের প্রকার ও জাত নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে।
| কাজ: আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য পয়েন্ট আকারে খাতায় লেখ এবং উপস্থাপন কর। |
এখন আমরা আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
আবহাওয়ার উপাদান:
১) বারিপাত : বায়ুমণ্ডল থেকে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত পানিকে বারিপাত বলে। বৃষ্টি, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির ইত্যাদি বারিপাতের অন্তর্ভুক্ত।
২) তাপমাত্রা : কোনো স্থানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কত গরম বা ঠাণ্ডা, তাই তাপমাত্রা।
৩) বায়ুর গতি : কোনো স্থানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বাতাস কত বেগে প্রবাহিত হচ্ছে, তাই বায়ুর গতি।
৪) বায়ুর দিক : বাতাস কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, সেটাই বায়ুর দিক।
৫) বায়ুর আর্দ্রতা : বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
৬) বায়ুর চাপ : ভূ-পৃষ্ঠের উপর বায়ু যে বল প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুর চাপ বলে।
৭) মেঘমালা : আকাশে মেঘের পরিমাণ।
৮) দৃষ্টিগ্রাহ্যতা : খালি চোখে যত দূর পর্যন্ত দেখা যায়, তাকে দৃষ্টিগ্রাহ্যতা বলে।
৯) সূর্যালোক : দিনে কত ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া যায় তার পরিমাণকে সূর্যালোক বলে।
জলবায়ুর উপাদান
১) সৌরবিকিরণ: পৃথিবীতে সব শক্তির উৎস হলো সৌরশক্তি। স্থান ও ঋতু ভেদে সৌরবিকিরণ প্রাপ্তির পার্থক্যের কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্য হয়ে থাকে। সৌরবিকিরণ পৃথিবী পৃষ্ঠকে উষ্ণ করে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া পানির বাষ্পীভবন, বায়ুর গতিশীলতা, মেঘমালা সৃষ্টি ইত্যাদি সৌরবিকিরণের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
২) বায়ুপুঞ্জ: বায়ু পুঞ্জীভূত আকারে নির্দিষ্ট পথে চলাচল করে। বায়ুপুঞ্জের উৎস স্থানের উপরও কোনো স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভর করে।
৩) বায়ুচাপ প্রক্রিয়া: বায়ুচাপের হ্রাস-বৃদ্ধি বৃষ্টিপাতের মৌসুমকে প্রভাবিত করে। বায়ুচাপ হ্রাস পেলে সাইক্লোন, মেঘ-বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। বায়ুচাপ বাড়লে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।
৪) সমুদ্রস্রোত: সমুদ্রস্রোত উপকূলবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতকে নিয়ন্ত্রণ করে। শীতল স্রোতের উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হয়ে এলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত কমে। স্রোত উষ্ণ হলে দুটোই বাড়ে।
৫) ভূমিবন্ধুরতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো স্থানের উচ্চতা ঐ স্থানের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ কমে।
নতুন শব্দ: আবহাওয়া, জলবায়ু, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান।
Read more