গৃহপালিত পশু-পাখি লালনপালন করে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। গৃহপালিত অধিকাংশ পশু- পাখির মাংস ও ডিম মানুষের নিকট খুব জনপ্রিয়। মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধা-মনন বিকাশের জন্য অন্যান্য খাবারের সাথে দৈনিক দুধ, ডিম ও মাংস খাওয়া আবশ্যক। গরুর দুধ সুষম খাদ্য। হাঁস-মুরগির ডিমও একটি পুষ্টিকর খাবার। এসব পুষ্টিকর খাবার আমাদের শরীরের আমিষের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবারে দুধ ও ডিম থাকা উচিত। মাংস, ডিম, দুধ, মিষ্টি, দই ইত্যাদি অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। বাজারে গৃহপালিত পশু-পাখি এবং এদের থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তাই আমাদের গৃহপালিত পশু-পাখির পারিবারিক খামার করা দরকার। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। খামারের অতিরিক্ত উৎপাদিত ডিম ও দুধ বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করা যাবে।

গরু ও মহিষ জমি চাষ, পরিবহন, শস্য মাড়াই, ঘানিটানা এবং শস্য নিড়ানির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গৃহপালিত পশু-পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কৃষি-জমির আগাছা, ফসলের উপজাত, রান্না ঘরের বর্জ্য এদের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। হাঁস-মুরগি পোকামাকড় ও ঝরে পড়া দানা শস্য খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। ভেড়ার পশম শীতবস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
কুকুর বিশ্বস্ত পোষা প্রাণী হওয়ায় পৃথিবীর সব দেশেই প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। দাঙ্গা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ঘোড়া ব্যবহার করে। উট, ঘোড়া, গাধাসহ অনেক পশু ভার বহন কাজে ব্যবহৃত হয়।

গরুর গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা জৈবসার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এগুলো মাছের খাদ্য তৈরিতে ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
| কাজ: গৃহপালিত পশু অথবা পাখি আমাদের কী কী উপকারে আসে তা দলগত আলোচনার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর। |
নতুন শব্দ: সুষম খাদ্য, পারিবারিক খামার, ঘানিটানা, উপজাত।
Read more