বাংলাদেশের বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ অঞ্চল (পাঠ-৫)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কৃষিশিক্ষা - কৃষি ও জলবায়ু | NCTB BOOK
1.1k

বন্যা: বন্যা পানিজনিত সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশে চার ধরনের বন্যা দেখা যায়, যথা-

১) ঢল বন্যা: বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশ অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়। হঠাৎ করে এপ্রিল ও মে মাসে সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা সৃষ্টি হয়। এ বন্যার পানি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। হাওর এলাকার বোরো ধান পাকার সময় প্রায়ই ঢল বন্যায় ফসলহানি হয়ে থাকে।

২) বৃষ্টিজনিত বন্যা: অতিবৃষ্টির কারণে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এ বন্যা দেখা দেয়। দেশের উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

৩) নদীবাহিত বন্যা: বাংলাদেশের উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে সে পানি বাংলাদেশের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো পলি পড়ে ভরাট হওয়ায় এ বিপুল পরিমাণ পানি দ্রুত পরিবহন করতে পারে না। ফলে দেশের মধ্যাঞ্চল তথা পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা হয়। বিগত ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল।

৪) উপকূলীয় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা : বঙ্গোপসাগরে বড় ধরনের নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হয়। সাগরের লোনা পানি উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বেগে উঁচু হয়ে প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি করে। ফলে মানুষের জীবনহানিসহ ফসল, মাছ, গবাদি পশু- পাখি, ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন: বিগত সিডর ও আইলার কারণে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

খরা: শুষ্ক মৌসুমে ক্রমাগত ২০ দিন বা এর বেশি দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। খরার ফলে মাটিতে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় রসের ঘাটতি দেখা দেয়। এতে ফসলের ফলন ১৫-৯০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বাংলাদেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা অতি খরাপ্রবণ এলাকা।

কাজ: বাংলাদেশের মানচিত্রে বন্যাপ্রবণ, জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এবং অতি খরাপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত কর।

নতুন শব্দ: ঢল বন্যা, বৃষ্টিজনিত বন্যা, নদীবাহিত বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা, খরাপ্রবণ এলাকা।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...