বিভিন্ন প্রাকৃতিক বনের ধারণা ও গুরুত্ব (পাঠ-২)

বনায়ন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

892

মানচিত্রে বাংলাদেশের বনভূমির অবস্থান ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ কর। বন্ধুর সাথে পর্যবেক্ষণ করে পাহাড়ি বন, গাজীপুর ও মধুপুরের শালবন এবং উপকূলীয় সুন্দরবন শনাক্ত কর। এসব বনকে কেন প্রাকৃতিক বন বলা হয় আলোচনা কর। বাস্তবে বা টেলিভিশনে এসব বন দেখে থাকলে সে সম্পর্কে বলো।
অবস্থান ও বিস্তৃতি অনুসারে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বন প্রধানত ৩ প্রকার, যথা- পাহাড়ি বন, সমতল ভূমির বন ও উপকূলীয় বন।

পাহাড়ি বন

বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মধ্যে পাহাড়ি বনের পরিমাণ সর্বাপেক্ষা বেশি। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এ বন অবস্থিত। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক বন পাহাড়ি বন বলে পরিচিত।
এসব পাহাড়ি বনে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, শিলকড়ই, গামার প্রভৃতি বৃক্ষ জন্মে। এসব মূল্যবান বৃক্ষ থেকে উন্নতমানের কাঠ পাওয়া যায়। পাহাড়ি বনে বহু রকমের বাঁশও জন্মায়। এই বনে হাতি, বানর, শূকর, ভালুক, বনমুরগি, হনুমান, অজগর, প্রভৃতি বন্য প্রাণী বাস করে। বিচিত্র ধরনের পাখি ও কীটপতঙ্গও এখানে রয়েছে।

সমতল ভূমির বন

বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লার সমতল এলাকায় যে প্রাকৃতিক বন রয়েছে, তা সমতল ভূমির বন হিসেবে পরিচিত। প্রধান বৃক্ষ শাল। তাই এ বনকে শালবন বলা হয়। শাল বৃক্ষ গজারি নামে পরিচিত।
এ বনে গজারি, ছাড়াও কড়ই, রেইনট্রি, জারুল প্রভৃতি বৃক্ষ জন্মে। নেকড়ে, বানর, সাপ, ঘুঘু, দোয়েল, শালিক প্রভৃতি জীবজন্ত এ বনে বাস করে। মানবসৃষ্ট কারণে সমতল ভূমির প্রাকৃতিক বন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। বনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এলাকার জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। সে কারণে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপকূলীয় বন

সমুদ্র উপকূলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বনকে উপকূলীয় বন বলা হয়। এ ছাড়া পরিকল্পিত উপায়ে সমুদ্র উপকূলে সামাজিক বন গড়ে তোলা হলেও তাকে উপকূলীয় বন বলে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় উপকূলীয় বন অবস্থিত। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সুন্দরবন নামে পরিচিত। প্রতিনিয়ত সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়। সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। এ বনের মোট আয়তন ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এ বন পৃথিবীর বৃহত্তম উপকূলীয় প্রাকৃতিক বন। এ বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরূপ।

এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি। এ ছাড়া পশুর, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ। এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। চিত্রা হরিণ, চিতাবাঘ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, ঘড়িয়াল, অজগর এবং নানা প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ এ বনে বাস করে। এ বনের বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহনির্মাণ, নিউজপ্রিন্ট তৈরি ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবছর এ বন থেকে প্রচুর পরিমাণ মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়।

কাজ: নিচের অসম্পূর্ণ চিত্রটি দিয়ে দলীয়ভাবে পোস্টার তৈরি কর ও শ্রেণিতে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: শালবন, উপকূলীয় বন, ম্যানগ্রোভ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি বন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...