মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংগঠিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা-পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। সকলে মিলে যখন পূজা করা হয় তখন পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসবমুখর।
প্রতিমা আনয়ন, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, মন্দিরে পূজার সাজসজ্জা, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান প্রভৃতি আমাদের মনে সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের ভাব জাগ্রত হয়।
পূজা আমাদের আত্মাকে পবিত্র করে, মনকে সুন্দর করে এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করে। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেমন- ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ইত্যাদি। অনেকে স্মরণিকাও প্রকাশ করে থাকেন। পূজা-পার্বণ উপলক্ষে এসব আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়।
পূজা পার্বণে সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে উন্নত খাবার-দাবারের অয়োজন করা হয় এবং ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া হয়। ফলে পরিবারিক পুষ্টি সমস্যা সমাধানে পূজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিভিন্ন পূজায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের অংশবিশেষ প্রয়োজন হয় যা পূজা উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে শিশুরা শৈশব থেকেই বিভিন্ন ধরনের গাছ-পালার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং উদ্ভিদের গুণাগুণ সম্পর্কে অবহিত হয়।
| দলগত কাজ: ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে দেব-দেবীর পূজার প্রভাব লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর। |
নতুন শব্দ: আধ্যাত্মিক, উৎসবমুখর, সৌহার্দ্য, স্মরণিকা।
Read more