নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে ধর্মের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। ধর্ম সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে। মানুষের মঙ্গলের কথা বলে। নৈতিক মূল্যবোধও সেই একই কথা বলে।
হিন্দুধর্মের শিক্ষায়, উপদেশে ও অনুশাসনে নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। জীবকে কষ্ট দিলে ঈশ্বরকে কষ্ট দেওয়া হয়। এ জীবসেবা হিন্দুধর্মের অঙ্গ, হিন্দুধর্মের শিক্ষা। আবার জীবসেবা একটি নৈতিক গুণ। একটি নৈতিক মূল্যবোধ।
অহিংসা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, শুচিতা বা দেহ-মনের পবিত্রতা এবং সৎপথে থাকা- ধর্মের এ পাঁচটি লক্ষণের মধ্য দিয়ে সুষ্পষ্ট ভাবেই নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে।
হিন্দুধর্মতত্ত্ব নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনের সহায়ক। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে প্রদত্ত ধর্মীয় উপাখ্যান সমূহ নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদাহরণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
হিন্দুধর্মের উপদেশ-অনুশাসন মেনে চললে এবং ধর্মীয় উপাখ্যান সমূহের দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে প্রয়োগ করলে জীবন হবে ধর্মীয় চেতনায় দীপ্ত এবং নৈতিক শিক্ষায় উজ্জ্বল। আর সে উজ্জ্বলতায় সমাজ হবে উদ্ভাসিত।
হিন্দুধর্মের নানা প্রতীকে, পূজার উপকরণেও রয়েছে নৈতিকতার প্রতীকী প্রকাশ। দুর্গাপূজার সময় সর্বতোভদ্রমন্ডল অঙ্কণে, হলুদ, আবির, বেলপাতাগুড়ো প্রভৃতি রঙ ব্যবহার করে সৌন্দর্য সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ ঘটে শিল্পচেতনার। 'স্বস্তিকা' চিহ্ন শান্তির প্রতীক। 'চক্র' ন্যায় বিচারের প্রতীক। অন্যায়কে ধ্বংস করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাহসের প্রয়োজন। চক্র সাহসের চিহ্ন। শঙ্খ মঙ্গলের প্রতীক। একসঙ্গে শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে আহ্বান জানানো হয় তোমরা এসো, এক হও, এক হয়ে মাঙ্গলিক কাজে অংশ নাও।
| একক কাজ: নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে হিন্দুধর্মের পাঁচটি প্রভাব লেখ। |
নতুন শব্দ: শুচিতা, প্রদত্ত, জাগ্রত, দীপ্ত, উদ্ভাসিত