ধর্ম
আমরা জানি যা ধারণ করে, তাকে ধর্ম বলে। মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, সমুদ্র-নদী, পাহাড়-পর্বত- মরুভূমি- সবকিছুকে ধর্ম ধারণ করে আছে। আবার ধর্ম শব্দটির একটি অর্থ ন্যায়বিচার ও জীবনাচরণের বিধি-বিধান। আমাদের ধর্ম মেনে চলতে হবে- এ কথার অর্থ হলো আমাকে জীবনাচরণের ক্ষেত্রে বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। ন্যায়বিচার করতে হবে। অন্যদিকে ধর্ম হলো কোনো জীব বা বস্তুর গুণ বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যেমন- আগুনের ধর্ম দহন করা। মানুষেরও নিজস্ব ধর্ম রয়েছে। তার নাম মনুষ্যত্ব বা মানবতা। এছাড়া যা থেকে মোক্ষলাভ হয়, তার নামও ধর্ম।
সুতরাং বলা যায়- যে বিশেষ গুণ, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয় এবং নিজের মোক্ষলাভ হয়, তার নাম ধর্ম।
'মনুসংহিতা' নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে- মানুষের ধর্মের বা মনুষ্যত্বের পাঁচটি বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। যেমন- অহিংসা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, দেহ ও মনে শুচি বা পবিত্র পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সৎপথে থাকা।
একক কাজ:
|
নৈতিকতা
যে-কাজ করলে মঙ্গল হয়, কারও কোনো ক্ষতি হয় না, সে কাজ হচ্ছে ভালো কাজ। যেমন, আমার যোগাসন করি। এতে আমাদের শরীর ও মনের উপকার হয়। আমাদের মঙ্গল হয়, কিন্তু অন্য কারও ক্ষতি হয় না। এটা ভালো কাজ।
আবার আমি অন্যের সঙ্গে সম্প্রীতির সম্পর্ক স্থাপন করলাম। সম্প্রীতির ভাব বজায় রেখে সমাজে চললাম। তা হলে কী হবে? তাহলে আমার এবং আমার পাশাপাশি সমাজের সকল মানুষের মঙ্গল হবে। এটা ভালো কাজ। অন্যদিকে মিথ্যা কথা বললে চরিত্র নষ্ট হয়, পাপ হয়। এতে অন্যের অমঙ্গল হয়। সুতরাং মিথ্যা কথা বলা মন্দ কাজ এবং মহাপাপ। আমরা এটা করব না।
কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ তা বিচার করার জ্ঞানকে বলে 'নীতি'। আর 'নৈতিকতা' বলতে বোঝায় ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য বুঝে ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ না করার মানসিকতা। নৈতিকতা একটি চারিত্রিক গুণ। নৈতিকতা একটি মূল্যবোধ।
| দলীয় কাজ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দুটি দলে ভাগ করে দেবেন। একটি দল একটি নৈতিক গুণের কথা বলবে। অন্যদল আরেকটি বলবে। এরকম পাঁচবার চলবে। প্রতিবারের জন্য ১ পয়েন্ট। যারা বেশি পয়েন্ট পাবে, তারা বিজয়ী হবে। |
নতুন শব্দ: দহন, সম্প্রীতি, উদ্বুদ্ধ, মূল্যবোধ, অনুশাসন, নৈতিকতা।