পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজে ক্ষমার গুরুত্ব (পাঠ ৬)

ধর্মীয় উপাখ্যানে নৈতিক শিক্ষা - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

238

ক্ষমা মহৎ গুণ। ক্ষমাশীল ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে সমাদৃত। শিশু ক্ষমার শিক্ষা পরিবারের মধ্য হতেই অর্জন করে থাকে। আমাদের পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন কাজে ক্ষমার গুরুত্ব অনেক। ক্ষমা মানুষকে মহৎ করে তোলে। পরিবারে ক্ষমার দৃষ্টান্ত পরস্পরের মধ্যে মানসিক দুরত্ব কমিয়ে দেয়। পারিবারিক জীবনে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে কেউ অন্যায় করে আবার কেউবা তা সহ্য করে। এ সহ্যবোধের মধ্য দিয়ে কেউ অন্যের রূঢ় আচরণে ক্ষুদ্ধ না হয়ে ক্ষমা করে দেয়। ক্ষমা করার এই গুণ পরিবারের অন্য সদস্যকেও প্রভাবিত করে। ক্ষমাবোধ আমাদের আচরণকে পরিশীলিত করে। ক্ষমাশীল সদস্যের প্রতি পরিবারের সকলের শ্রদ্ধাবোধ অধিক থাকে। আমাদের বিদ্যালয় পরিবেশেও ক্ষমার গুরুত্ব অধিক। বিদ্যালয়ে আমাদের বন্ধুদের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রেও কেউ অন্যায় করে আবার কেউবা অন্যায় না করে বন্ধুর অন্যায় আচরণ সহ্য করে। কেউ বন্ধুর অন্যায় আচরণ শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বন্ধুকে ক্ষমা করে দেয়। এতে বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। ক্ষমা শিক্ষার্থীর জীবন সুন্দর করে তোলে। আমাদের অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা ক্ষমাশীল। তাঁদের এই ক্ষমাশীল আচরণ দ্বারা আমরা নানাভাবে প্রভাবিত হই। ক্ষমার গুণ বিদ্যালয় পরিবেশকে সুন্দর করে তুলতে পারে। সমাজ জীবনেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমার গুরুত্ব অধিক। ক্ষমাশীল ব্যক্তি সমাজে সমাদৃত এবং শ্রদ্ধার পাত্র।

একক কাজ: পারিবারিক জীবনে ক্ষমার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...