পৃথিবীর বার্ষিক গতি
পৃথিবীর গতি মূলত দুই প্রকার: আহ্নিক গতি (নিজ অক্ষে ঘূর্ণন) এবং বার্ষিক গতি (সূর্যের চারদিকে আবর্তন)।
পৃথিবীর আহ্নিক গতি (Diurnal Motion)
সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার ওপর পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এ গতিকে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি বলে। নিজ মেরুরেখার চারদিকে এক বার সম্পূর্ণ ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ২৪ ঘণ্টা। এ ২৪ ঘণ্টাকে 'একদিন' হিসেবে গণনা করা হয়। পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনের সময়কে সৌরদিন (Solar day) বলে।
আহ্নিক গতির বেগ (The speed of Earth's Rotation)
নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সবচেয়ে বেশি- ঘন্টায় ১,৬১০ কিলোমিটারের বেশি। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে এই গতিবেগ ক্রমশ কমতে থাকে। পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে এ গতিবেগ শূন্যের কাছাকাছি।
আহ্নিক গতির ফল (Effect of Diurnal Motion)
১) দিবারাত্রি সংঘঠন (Occurrence of day and night)
পর্যায়ক্রমে দিবারাত্রি সংঘঠিত হওয়া আহ্নিক গতির একটি ফল। আহ্নিক গতি না থাকলে পৃথিবীর অর্ধাংশে চিরকাল দিন ও বিপরীত অর্ধাংশে চিরকাল রাত থাকত। কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর একদিকে রাত, অপরদিকে দিন হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর একদিকে আলোকিত থাকে অপরদিকে অন্ধকার থাকে। পৃথিবীর এই আলোকিত অংশ ও অন্ধকার অংশের সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত (The Shadow circle) বলে। আহ্নিক গতি বা আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশে পৌঁছায় সে অংশে হয় প্রভাত (Morning)। আর যে অংশ আলোকিত অংশ থেকে ছায়াবৃত্ত অতিক্রম করে সবেমাত্র অন্ধকারে পৌঁছায় সে অংশে হয় সন্ধ্যা (Evening)। প্রভাতের কিছুক্ষণ পূর্বে যে ক্ষীর্ণ আলো দেখতে পাওয়া যায় তাকে বলা হয় ঊষা (Dawn)। আর সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে বলা হয় গোধূলি (Twilight)।
২) তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি (Temperature differences)
৩) সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাঁটা ও বায়ুপ্রবাহ (Ocean currents, Tide & ebb and wind circulation
জোয়ার-ভাঁটার সৃষ্টি হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতির সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
৪) সময় নির্ধারণ (Determining the time)
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
২১ জুন
১ ডিসেম্বর
২৩ মার্চ
১ জুন
পৃথিবীর বার্ষিক গতি (Annual Motion)
নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় এক বার আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট পথে বছরে এক বার সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসে। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পৃথিবীর এ পরিভ্রমণকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে। পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার। পৃথিবীর কক্ষপথের পরিধি ৯৩,৮০,৫১,৮২৭ কি.মি। নিজ কক্ষপথে এক বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। যে সময়ে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসে সে সময়কালকে বলা হয় এক সৌরবছর (Solar Year)।
বার্ষিক গতির বেগ (Speed of Revolution)
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গড় গতিবেগ- ১৮.৫ মাইল/ সেকেন্ড বা ৬৬,৫০০ মাইল/ঘন্টা অথবা ৩০ কি:মি:/সেকেন্ড বা ১,০৬,২৬০ কি:মি:/ ঘন্টা।
অনুসূর (Perihelion): পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষে সূর্যকে পরিক্রমণ করতে করতে জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখে এমন এক অবস্থানে পৌছায় যেখানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে। একে পৃথিবীর অনুসুর অবস্থান বলে।
অপসূর (Aphelion): পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষে সূর্যকে পরিক্রমণ করতে করতে ১ থেকে ৩ ৪ জুলাই তারিখে এমন এক অবস্থানে পৌঁছায় যেখানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। একে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান বলে।
বার্ষিক গতির ফল (Effects of Annual Motion)
১) ঋতু পরিবর্তন (Changes of seasons)
তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারা বছরকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এ প্রতিটি ভাগকে একটি ঋতু বলা হয়। এগুলো হল গ্রীষ্মকাল, শরৎকাল, শীতকাল ও বসন্তকাল।
২) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি (Fluction of day and night)
নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিবারাত্রি সমান থাকে। কিন্তু বার্ষিক গতির কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলোর্ধে দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। নিম্নে তা ছক আকারে দেওয়া হল-
তারিখ | উত্তর গোলার্ধ Northern Hemisphere | দক্ষিণ গোলার্ধ Southern Hemisphere | ||
| ২১ জুন | দীর্ঘতম দিন | ক্ষুদ্রতম রাত | ক্ষুদ্রতম দিন | দীর্ঘতম রাত |
| ২২ ডিসেম্বর | ক্ষুদ্রতম দিন | দীর্ঘতম রাত | দীর্ঘতম দিন | ক্ষুদ্রতম রাত |
| ২১ মার্চ | পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান | |||
| ২৩ সেপ্টেম্বর | পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান | |||
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
২১ জুন
১ ডিসেম্বর
২৩ মার্চ
১ জুন