৬. ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান (Geography & Environment Science)

জীববিজ্ঞান (Biology) - সাধারণ বিজ্ঞান -

3
Please, contribute by adding content to ৬. ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান (Geography & Environment Science).
Content

পরিবেশ

আমরা যে স্থানে বাস করি যে স্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। বিজ্ঞানে পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বুঝানো হয়ে থাকে। পরিবেশকে ' অনিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Uncontrollable ) এবং 'নিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Controllable ) এ দু'ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো স্বাভাবিক ( Natural ) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দ্বিতীয়টি হলো কৃত্রিম (Artificial) পরিবেশ। ক. নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: এ পরিবেশ এমন সব বাহ্যিক ও বাস্তব উপাদান দ্বারা গঠিত , যা মানুষ খুব সামান্য পরিমাণেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সার্বিকভাবে এসব মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে; চন্দ্র , সূর্য, বায়ু, বৃষ্টি, পাহাড়-পর্বত , নদ-নদী, সাগর -মহাসাগর ,ঋতু এবং জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। খ. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশ: নিয়ন্ত্রণযাগ্য প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে এমন সব উপাদান যেসব মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যেমন : মানুষ বাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানিপ্রবাহকে বন্ধ করতে সক্ষম এবং বিরাট বন -জঙ্গল পরিষ্কার কিরে চাষাবাদযোগ্য জমিতে পরিণত করতে পারে। মানব সমাজের উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। ব্যক্তি ও দলের আচার-আচরণের উপরে ও এর প্রভাব প্রতিক্রিয়া ক্রিয়াশীল । পরিবেশ বিজ্ঞান: বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত সকল উপাদান তথা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে পরিবেশ বিজ্ঞান বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বাস্তুসংস্থান (Ecology)

বেঁচে থাকার তাগিদে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব সম্প্রদায় ও জড় পরিবেশের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের (Environment) অন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। বাস্তুসংস্থানের দুইটি উপাদান রয়েছে। যথা- জীব সম্প্রদায় এং জড় পরিবেশ। জড় পরিবেশই জীর সম্প্রদায়কে ধারণ করে রাখে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সঞ্জীৰ এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে বাস্ত্র গুহ (Ecosystem) বলে।

জীব উপাদান

জীবমন্ডল (Biosphere) হলো পৃথিবীর সমস্ত ইকোসিস্টেমের যোগফল। এটাকে বলা যেতে পারে পৃথিবীর জীবনের এলাকা। পৃথিৱীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক ১০০ কোটি বৎসর আগে। জীবমন্ডলের বিস্তৃতি ওপরে-নিচে ২০ কি.মি. ধরা হলেও মূলত অধিকাংশ জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায় হিমালয় শীর্মের উচ্চা থেকে ৫০০ মিটার নিচের সামুদ্রিক গভীরতার মধ্যেই। সমুদ্রতল থেকে ৮৩৭২ মিটার নিচে পুয়ের্টোরিকা ট্রেঞ্চে মাছ পাওয়া গেছে। পাখিরা সাধারণত ১৮০০ মিটার উঁচুতে উড়ে। রাপেল জাতীয় শকুন সমুদ্র তল থেকে ১১৩০০ মিটার উচুতে উড়তে পারে। জীবমণ্ডল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- উদ্ভিদকুল (flora) এবং প্রাণিকুল (fanua)। উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী ও বিয়োজক জীবের মাধ্যমে খাদ্যবস্ত স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় সবুজ উদ্ভিদে ফিরে আসে। এরূপ চক্রাকার স্থানান্তর হওয়া এ খাদ্য খদকের সম্পর্ককে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শৃঙ্খলের সুসংবদ্ধ বিন্যাসকে একরে খাদ্য জাল বলে। খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্য জলকে মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- উৎপাদক, খাদক বা ভক্ষক এবং বিয়োজক।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ভূতত্ত্ব বা ভূবিদ্যা (Geology)

ভূতত্ত্ব ভূবিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পৃথিবী, পৃথিবীর গঠন, পৃথিবী গঠনের উপাদানসমূহ, পৃথিবীর অতীত ইতিহাস এবং এর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভূতত্ত্ব শিক্ষা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব, অতীত আবহাওয়া ব্যাখ্যা করে ভবিষ্যতের জলবায় সম্পর্কে ধারণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর আকার ও আকৃতি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে জিওডেসি (Geodesy) বলে।

Content added By
Content updated By

পৃথিবীর গঠন উপাদান

পৃথিবী তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে লৌহ (৩২.১%), অক্সিজেন (৩০.১%), সিলিকন (১৫.১%), ম্যাগনেসিয়াম (১৩.৯%), সালফার (২.৯%), নিকেল (১.৮%), ক্যালসিয়াম (১.৫%), অ্যালুমিনিয়াম (১.৪%) এবং অন্যান্য (১.২%)।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure of the Earth)

জন্মের সময় পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভত হয়। এই সময় পৃথিবীর বাহিরের ভারী উপাদানগুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মন্ডল বলে।

ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর। যথা- অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অশুমণ্ডল (Lithosphere)

ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম, গড়ে ২০ কিমি। ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিমি পুরু। মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত। এ স্তরকে সিয়াল (Sial) বলে। সমুদ্র তলদেশের ভূত্বকের প্রধান উপাদান সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে একটি অত্যন্ত পাতলা স্তর আছে। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভূ-বিজ্ঞানী মোহোরোভিসিক ১৯০৯ সালে ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল পৃথককারী এ স্তরটি আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এ স্তরটি মোহোবিচ্ছেদ নামে পরিচিত।

গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়। অশ্বমণ্ডল নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে সর্বাপেক্ষা বেশি এবং মহাসাগরের নিচে সর্বাপেক্ষা কম। এর গভীরতা স্থান বিশেষ ৩০ হতে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।

Content added By
Content updated By

গরুমণ্ডল (Barysphere): অশ্বমণ্ডলের নিচের ২,৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রুরুস্তরকে গরুমণ্ডল বলে। গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এ অংশে রয়েছে-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ । গুরুমণ্ডলের স্তর: গুরুমণ্ডলের স্তর দুইভাগে বিভক্ত। যথা: ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল এবং খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল : ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ মণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট। খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল : এই মণ্ডলের প্রধান উপাদান আয়রন অক্সাইড,ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ থাকে। কেন্দ্রমণ্ডল (Centrospheres ) : গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। এ স্তরের পুরুত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার । এ স্তরের উপাদান হলো - লোহা , নিকেল, পারদ ও সিসা, তবে নিকেল ও লোহা এ স্তরের প্রধান উপাদান। কেন্দ্রমণ্ডলের তরল বহিরাবরণ প্রায় ২,২২৭ কিলোমিটার পুরু এবং কঠিন অন্তঃভাগ প্রায় ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু।

Content added By
Content updated By

কেন্দ্রমণ্ডল (Centrosphere)

গুরুমণ্ডলের ঠিক পরে রয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত এই মণ্ডল বিস্তৃত। এ স্তর প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা প্রায় ২.২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং একটি কঠিন অন্তঃভাগ আছে যা ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু। কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni), যা নিফে (NiFe) নামে পরিচিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গর্ত করে নিচে যেতে থাকলে তাপ ও চাপ উভয়ই বাড়বে। কেন্দ্রমণ্ডলের চাপ পৃথিবী পৃষ্ঠের বায়ুচাপের চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০° সেলিসিয়াস।

Content added By
Content updated By

খনিজ (Mineral)

কতকগুলো মৌলিক উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তাকে খনিজ বলে। খনিজ সাধারণত দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত। তবে কিছু কিছু খনিজ একটি মাত্র মৌল দ্বারাও গঠিত হতে পারে। একটি মাত্র মৌল দিয়ে গঠিত খনিজ হচ্ছে হীরা, সোনা, তামা, রুপা, পারদ ও গন্ধক। আবার সবচেয়ে কঠিন খনিজ হীরা এবং সবচেয়ে নরম খনিজ টেলক।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শিলা (Rock)

শিলা এক বা একাধিক খনিজের মিশ্রণ। শিলা গঠনকারী প্রতিটি খনিজের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। যদিও বেশির ভাগ শিলাই একাধিক খনিজ দ্বারা গঠিত হয়। সে ক্ষেত্রে খনিজ এবং শিলা একই পদার্থ। যেমন, ক্যালসাইট একটি খনিজ এবং শিলা হিসেবে এটি চুনাপাথর নামে পরিচিত।

শিলার প্রকারভেদ

উৎপত্তি অনুযায়ী ভূত্বকের শিলা তিন ধরনের। যথা-

১) আগ্নেয় শিলা

২) পাললিক শিলা

৩) রূপান্তরিত শিলা

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock)

পৃথিবীর শুরু থেকে যে সব শিলা উত্তপ্ত গলিত অবস্থা হতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়েছে, তাই আগ্নেয় শিলা। Igneous অর্থ আগুন। অগ্নিময় অবস্থা হতে এ শিলার সৃষ্টি হয়েছিল বলে একে আগ্নেয় শিলা বলে। আগ্নেয় শিলার অন্য নাম প্রাথমিক শিলা, অস্তরীভূত শিলা। আগ্নেয় শিলার উদাহরণ - গ্রানাইট, গ্যাব্রো, সায়েনাইট, ডায়োরাইট, পরফাইরি, টাফ, ব্রেসিয়া, রায়োলাইট, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডেসাইট, ব্যাথোলিখ, ল্যাকোলিথ, ডাইক, সিল প্রভৃতি।

পাললিক শিলা (Sedimentary Rock)

পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলার উদাহরণ -চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, ডোলোমাইট জিপসাম, ডায়াটম প্রভৃতি। পাললিক শিলায় স্তরায়ন, জীবাশ্মের উপস্থিতি, তরঙ্গ ছাপ, কর্দম ফাটল রয়েছে।

জীবাশ্ম (Fossil)

পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে নানাবিধ সামুদ্রিক জীবজন্তুর কঙ্কাল ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ প্রস্তরীভূত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। প্রস্তরীভূত প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবদেহকে জীবাশ্ম বলে। জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে ফসিওলজি বলে।

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock)

কোনো শিলায় তাপ, চাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এর খনিজ উপাদান ও বুনটের পরিবর্তন হয়ে যে নতুন শিলার সৃষ্টি হয় তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। আগ্নেয় বা পাললিক শিলা হতে পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি হয়।

প্রধান রূপান্তরিত শিলা হল -

১) নিস: গ্রানাইট থেকে নিস এর সৃষ্টি হয়।

২) স্লেট: শেল থেকে স্লেট এর সৃষ্টি হয়।

৩) মার্বেল: চুনাপাথর বা ডোলোমাইট থেকে সৃষ্টি হয়।

৪) কোয়ার্টাজাইট: কোয়ার্টজ, বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়।

৫) গ্রাফাইট: কয়লা থেকে সৃষ্টি হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মাটি

পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি। সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% ভাগ জৈব পদার্থ থাকে। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে মাটি ৫ প্রকার। যথা- পাহাড়ি মাটি, ল্যাটোসেলিক মাটি, পলল মাটি, জলাভূমি মাটি এবং কোষ মাটি। বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটি ৩ প্রকার। যথা - বেলে মাটি, দো-আঁশ মাটি, এঁটেল মাটি।

ক) বেলে মাটি: যে মাটিতে ৭০ ভাগ বা তার বেশি বালিকণা থাকে, তাকে বেলে মাটি বলে। মরুভূমি, চরাঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলে বেলে মাটি দেখা যায়। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম। এই মাটিতে জৈব পদার্থ নেই। তাই এ মাটি চাষের উপযোগী নয়।

খ) দো-আঁশ মাটি: যে মাটিতে বালি, পলি, কর্মকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে দো-আঁশ মাটি বলে। এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি, তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী। এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণক্ষমতা উভয়ই বেশি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি। কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়

মাটি

পানি ধারণক্ষমতা

পানি শোষণক্ষমতা

বেলে মাটিসর্বনিম্নসর্বোচ্চ
দো-আঁশ মাটিবেশিবেশি
এঁটেল মাটিসর্বোচ্চসর্বনিম্ন

গ) এঁটেল মাটি: যে মাটিতে ৪০-৫০% কর্মকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ। এই মাটিকে ভারি মাটিও বলা হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)

ভূপৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে বায়ুর আবরণ আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার। তবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭% ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বায়ুর চাপের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং ওপরের দিকে ঘনত্ব খুবই কম। বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে থাকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য।

বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ

উপাদানসমূহ

শতকরা পরিমাণ

উপাদানসমূহ

শতকরা পরিমাণ

নাইট্রোজেন (N2)৭৮.০১%নিয়ন (Ne)০.০০১৮%
অক্সিজেন (O2)২০.৭১%হিলিয়াম (He)০.০০০৫%
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO3)০.০৩%ক্রিপটন (Kr)০.০০০১১%
ওজোন (O3)০.০০০১%জেনন (Xe)০.০০০০৯%
আরগন (Ar)০.৮০%হাইড্রোজেন০.০০০০৫%
হাইড্রোজেন০.০০০০৫%নাইট্রাস অক্সাইড০.০০০০৫%
মিথেন০.০০০০২%জলীবাষ্প, ধুলিকণা-
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ুমণ্ডলীয় স্তর (Atmospheric Layer)

বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের বৈশিষ্ট্যের (যেমন, উষ্ণতা, চাপ, ঘনত্ব) ভিত্তিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে একে চারটি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা-

ক) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere) খ) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere) গ) মেসোমণ্ডল (Mesosphere) ঘ) তাপমণ্ডল (Thermosphere)

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)

ভূ-পৃষ্ঠের নিকটমত বায়ু স্তরকে বলে ট্রপোমণ্ডল। এ স্তরের গভীরতা মেরু এলাকায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।

ট্রপোবিরতি

ট্রপোমণ্ডলের সীমানা ওপরের দিকে হঠাৎ করে শেষ না হয়ে ধীরে ধীরে এর গুণাবলি পরিবর্তিত হয়ে পরবর্তী স্তর স্ট্রাটোমন্ডলের গুণাবলির সঙ্গে মিশে গেছে। ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।

স্ট্রাটোমণ্ডল ও স্ট্রাটোবিরতি

বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম স্ট্রাটোমণ্ডল যা ওপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ওজন (O3) স্তর বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে অবস্থিত। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে স্ট্রাটোবিরতি।

মেসোমণ্ডল ও মেসোবিরতি

স্ট্রাটোবিরতির ওপরের স্তর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে মেসোমণ্ডল বলে। এ স্তরের ওপরেই অবস্থান করে মেসোবিরতি।

তাপমণ্ডল

মেসোবিরতির ওপরের অংশ থেকে তাপমন্ডল শুরু হয়। তাপমণ্ডল মেসোমণ্ডল হতে উপরের দিকে যথাক্রমে আয়নোস্ফিয়ার, এক্রোস্ফিয়ার ও ম্যাগনিটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত। বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ারে।

মেরুজ্যোতি বা অরোরা

মেরু এলাকায় রাতের আকাশে উজ্জ্বল রঙিন আলোর দীপ্তি দৃশ্যমান হয়। এই বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যকে মেরুজ্যোতি বলে। মেরুজ্যোতির কারণ আবহাওয়ামণ্ডলের উচ্চতম স্তরে বৈদ্যুতিক বিচ্যুতি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to ওজোন স্তর ও গ্রিনহাউস প্রভাব (Ozone Layer & Greenhouse Effect).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আবহাওয়া ও জলবায়ু

আবহাওয়া : কোন স্থানের বাতাসের তাপ, উষ্ণতা , চাপ , আর্দ্রতা ,মেঘ, বৃষ্টি জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, বায়ু প্রবাহ প্রভৃতির দৈনন্দিন অবস্থাকে ঐ স্থানের আবহাওয়া বলে। জলবায়ু: কোন স্থানের ২০-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। মেটিওরোলজী হল আবহাওয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান। কোন স্থানের জলবায়ু নির্ভর করে - বিষুবরেখা হতে এর দূরত্ব : সাগর বা মহাসাগর হতে এর দূরত্ব: সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর দূরত্ব ইত্যাদির উপর । আর্দ্রতা : বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। আর্দ্রতা খুই প্রকার। যথা : ১. পরম আর্দ্রতা ২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা ।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
ক্রান্তীয় ও মৌসুমী জলবায়ু
উপক্রান্তীয় জলবায়ু
আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
পৃথিবীর তাপমাত্রা পরির্বতন
পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরির্বতন
নতুন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি
ঘন ঘন বন্যা এবং খরা হওয়া

বায়ুরতাপ

বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। সূর্য থেকে আগত এ শক্তি বায়ুমণ্ডল তাপীয় শক্তি বা গতিশক্তি আকারে ধারণ করে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা কমে যায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মি: উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়। অর্থাৎ প্রতি ১৬৫ মি: উচ্চতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে।

বায়ুতে থাকা তাপ কয়েকটা প্রক্রিয়ায় চলাচল করতে পারে-

পরিবহন – এই প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত - হয়।

পরিচলন – এই প্রক্রিয়ায় পানি ও - বায়ুমন্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয়।

বিকিরণ – এই প্রক্রিয়ায় সূর্যরশ্মি - বায়ুমন্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে এবং এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল

হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ুর চাপ (Atmospheric Pressure)

যে কোনো পদার্থের মত বায়ুর নিজস্ব ওজন আছে। বায়ুর এ ওজন জনিত কারণে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাই বায়ুর চাপ। ৪৫০ অক্ষাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠে ০০ উষ্ণতায় ৭৬ সেমি. বিশুদ্ধ পারদস্তম্ভের চাপকে আদর্শ বা স্বাভাবিক বায়ুমন্ডলীয চাপ বা এক ‘বার’ বলে। সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ – প্রতি বর্গইঞ্চিতে ১৪.৭২ পাউন্ড প্রতি বর্গসেন্টিমিটার প্রায় ১ কেজি অথবা প্রতি বর্গ সেমি. এ ১০.১৩ নিউটন। স্বাভাবিক বায়ুর চাপ ৩৪ ফুট পর্যন্ত পানিকে ধরে রাখতে পারে। সাধারণ পাম্প বায়ুর চাপ ব্যবহার করে পানিকে ওপরে তোলে। তাই সাধারণ পাম্পের পানিকে ৩৪ ফিুট (বা ১০.৩৬ মিটার) এর অধিক উচ্চতায় উঠানো যায় না।

বায়ুর চাপ নিম্নলিখিত নিয়ামকের ওপর নির্ভরশীল-

ক) উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সর্বাধিক। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমতে থাকে।

খ) উষ্ণতা: তাপে বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়, ফলে বায়ুর চাপ কমে। তাপ হ্রাস পেলে বায়ুর চাপ বাড়ে।

গ) জলীযবাষ্প: জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু শুষ্ক বায়ু অপেক্ষা হালকা। তােই বায়ু আর্দ্র হলে বায়ুর চাপ কম হয় পক্ষান্তরে বায়ু শুষ্ক থাকলে বায়ুর চাপ বেশি হয়

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ুর প্রবাহ

বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। সূর্য তেকে আগত এ শক্তি বায়ুমন্ডল তাপীয় শক্তি বা গতিশক্তি আকার ধারণ করে। উচ্চতা বৃদ্ধির ষাথে সাথে বায়ুমন্ডলীয তাপমাত্রা হ্রাস পায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মি. উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে বায়ুর আর্দ্রতা বেশি হয়। যদি জলীয়বাষ্প বায়ুতে কম পরিমাণে থাকে তবে বায়ুর আর্দ্রতা কম হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বারিমন্ডলের ধারণা

পৃথিবী পৃষ্ঠের ২৯.২% স্থলভূমি এবং ৭০.৮% জলভূমি। বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমন্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। সুতরাং বারিমন্ডল (Hydrosphere) বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সমুদ্র স্রোত (Ocean Current)

পৃথিবীর আবর্তন, নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র জলের লবণত্ব, ঘনত্ব ও উষ্ণতার পাথর্য্যের জন্য সমুদ্রের জল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়মিতভাবে সারাবছর নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়। সমুদ্র জলের এই গতিকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।

সমুদ্রস্রোত উৎপত্তির কারণ

১) বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারণ।

২) উষ্ণতার তারতম্য

৩) লবণাক্ততার তারতম্য

৪) বাষ্পীভবনের তারতম্য

৫) গভীরতার তারতম্য

৬) পৃথিবীর আবর্তন

৭) স্থলভাগের অবস্থান।

সমুদ্রস্রোত বেঁকে যাওয়ার কারণ

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে (আহ্নিক গতি)। এর ফলে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

জাহাজ চালনায় সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব

স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য বন্দরে পৌঁছানো যায়। তাই স্বল্পতম সময়ে ও সংক্ষিপ্ত পথে জাহাজ চালাতে নাবিকেরা সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করেন। পক্ষান্তরে স্রোতের প্রতিকূলে জাহাজ চালিয়ে যেতে অনেক বেশি সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। আবার শীতল স্রোতের গতিপথে জাহাজ চালানো বিপজ্জনক। কারণ, শীতল স্রোতের সঙ্গে অনেক হিমশৈল ভেসে আসে। এ প্রকার হিমশৈলের সঙ্গে আঘাত লাগলে জাহাজের ক্ষতি হয় এবং জাহাজ ডুবে যায়। টাইটানিক জাহাজ এভাবেই আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল।

সমুদ্রবন্দরের জন্য সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব

মধ্য অক্ষাংশ ও উচ্চ অক্ষাংশের সমুদ্রের পানি শীতকালে জমে যায়। ফলে তখন ঐ সব সাগরের ওপর দিয়ে শীতকালে বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতে পারে না। কিন্তু যেখানে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয়, সেখানে বন্দরগুলো শীতকালে বরফমুক্ত থাকে এবং সারা বছর জাহাজ চলাচল করতে পারে।

হিমপ্রাচীর (Cold Wall)

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত ল্যাব্রাডার স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে। কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরে হিমপ্রাচীরের সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। বিপরীতমুখী দুই সমুদ্রস্রোতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য এই অঞ্চলে প্রায়ই ঘন কুয়াশা ও প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়।

উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের সংমিশ্রণ

উষ্ণস্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। পক্ষান্তরে শীতল স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল ও শুদ্ধ হয়। এ বিপরীতধর্মী দুই বায়ুর সংমিশ্রণে মিলনস্থলে প্রায়ই কুয়াশা ও ঝড়তুফান লেগে থাকে।

শৈবাল সাগর (Sea Moss)

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের প্রান্ত দিয়ে বিভিন্ন স্রোত প্রবাহের ফলে পানির মধ্যে কোনো স্রোত থাকে না। স্রোতহীন এই পানিতে ভাসমান আগাছা ও শৈবাল সঞ্চিত হয়। একে শৈবাল সাগর বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

জোয়ার – ভাটা (Tide)

চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে, আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্র পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে।

জোয়ার-ভাঁটার সময়

সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘন্টা।

জোয়ার-ভাটার কারণ

১) পৃথিবীর ওপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ।

২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি বা কেন্দ্রবিমুখী শক্তি।

উল্লেখ্য, জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ চাঁদের আকর্ষণ।

জোয়ার-ভাটার ওপর সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণ

সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী সূর্য হতে গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্র অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাঁটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে যে, জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ভাগ।

জোয়ারের প্রকারভেদ

জোয়ারকে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

ক) মুখ্য জোয়ার খ) গৌণ জোয়ার গ) ভরা কটাল ঘ) মরা কটাল

মুখ্য জোয়ার

চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষণে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।

গৌণ জোয়ার

চন্দ্র পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

ভরা কটাল বা তেজ কটাল

পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তাই সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তিকে সাহায্যে করে। ফলে এই দুই সময়ে জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে উঠে। একে ভরা বা তেজ কটাল বলে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে তেজ কটাল হয়।

মরা কটাল

চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সুর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়। অষ্টমীর তিথিতে মরা কটাল হয়। একমাসে দুই বার তেজ কটাল এবং দুই বার মরা কটাল হয়ে থাকে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পরিবেশ দূষণ

মানুষের কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে পরিবেশের উপাদানে অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন হলো পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ দূষণ ৪ প্রকার। যথা- পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ এবং শব্ত দূষণ। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হলো মানুষ।

বায়ুদূষণ: গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মরনাক্সাইড গ্যাস থাকে। কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। ডিজেল পোড়ালে বাতাসে আসে সালফার-ডাই-অক্সাইড (SO2) গ্যাস। কলকারখানা অথবা যানবাহন হতে নির্গত কার্বন মনো-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড মূল ত বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। যান্ত্রিক পরিবহন ও শিল্পকারখানার দূষণ থেকে SMOG এর সৃষ্টি হয়। SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বায়ু। স্মোগ (SMOG) শব্দটি এসেছে SMOKE + FOG হতে।

শব্দ দূষণ: শব্দ ১-৬০ ডেসিবল পর্যন্ত সহনীয়, ৬০-১০০ ডেসিবল পর্যন্ত বিরক্তিকর এবং ১০০-১৬০ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর। শব্দ যদি একটি নির্দিষ্ট মাত্রা (৮০ ডেসিবল) ছাড়িয়ে যায় তখন তা দূষণের পর্যায়ে চলে আসে। শব্দ দূষণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, নিদ্রাহীনতা এবং চরম অবস্থায় মানসিক বৈকল্যের সুষ্টি হতে পারে। ১০৫ ডিবি এর বেশি মাত্রার শব্দ দূষণ হলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।

পানি দূষন: কচুরিপানা (Water hyacinth) পানি দূষণ কমাতে সহায়তা করে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Please, contribute by adding content to মহাসাগর ও সমুদ্রস্রোতের ধরণ (Oceans & Types of Currents).
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...