পৌষ্টিকতন্ত্র (Digestive System)

জীব বিজ্ঞান - সাধারণ বিজ্ঞান -

6.6k

পৌষ্টিকতন্ত্র (Digestive System)

মানুষের পৌষ্টিকনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত ৮-১০ মিটার লম্বা। ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine) এর দৈর্ঘ্য ৬-৭ মিটার। বৃহদ্রান্ত্র (Large intestine) এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার।

দাঁত (Teeth)

মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। কুকুরের মুখের দাঁতের সংখ্যা ৪৪। দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল।

উৎসেচক (Enzyme)

এনজাইম আমিষ জাতীয় পদার্থ। এক ধরনের প্রোটিন যা জীবদেহে অল্প পরিমাণ বিদ্যমান থেকে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু বিক্রিয়ার পর নিজেরা অপরিবর্তিত থাকে। মানুষের লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম থাকে।

Content added By
Content updated By

মুখবিবর

1.9k

মুখবিবর (Mouth Cavity)

মুখবিবর বা মুখগহ্বর (Mouth Cavity/Oral Cavity) হলো মানুষের পরিপাকনালীর প্রথম অংশ, যা ঠোঁট থেকে শুরু করে গলার ওরোফ্যারিনক্স পর্যন্ত বিস্তৃত । এটি যান্ত্রিক (চিবানো) ও রাসায়নিক (লালা) পরিপাক শুরু করে, কথা বলা, স্বাদ গ্রহণ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে । এর প্রধান উপাদানগুলো হলো দাঁত, জিহ্বা, তালু (শক্ত ও কোমল) এবং লালা গ্রন্থি ।

দাঁত, জিহ্বা, তালু প্রভৃতি মুখবিবরে থাকে। মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা ২০। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা ৩২টি। দাঁতের এনামেল দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশ।

Content added By
Content updated By

পাকস্থলী (Stomach)

1.9k

পাকস্থলী (Stomach)

পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত রসের পাচক রস। পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে, যা খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। প্যারাইটাল কোষ থেকে HCL নিঃসৃত হয়। পেপটিক আলসার হলো মানবদেহের পাচনতন্ত্রের অম্ল পরিবেশযুক্ত (অর্থাৎ পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তের ডিওডেনাম) অংশের ক্ষতজনিত একটি রোগ। পেপটিক আলসার রোগ নির্ণয়ে এন্ডোসকপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জারক রস রেনিন পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। প্রোটিন পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলিতে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ক্ষুদ্রান্ত

1.7k

ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine)

ক্ষুদ্রান্তের দৈর্ঘ্য ৬-৭ মিটার। ক্ষুদ্রান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- ডিওডেনাম. জেজুনাম এবং ইলিয়াম।

Content added By
Content updated By

বৃহদান্ত

1.6k

বৃহদান্ত্র (Large intestine)

বৃহদান্ত্র এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার। বৃহদান্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন এবং মলাশয়। সিকাম থেকে বহির্বৃদ্ধি রূপে উত্থিত, বদ্ধভাবে সমাপ্ত কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ন্যায় সরু থলের নাম অ্যাপেনডিক্স (Appendix)। অ্যাপেনডিক্স থাকে তলপেটে ডানদিকে। লম্বায় এটি ২-২০ সেমি. পর্যন্ত হতে পারে। অ্যপেনডিক্সের প্রদাহকে অ্যাপেনডিসাইটস (Appendicitis) বলে।

Content added By
Content updated By

যকৃত (Liver)

1.7k

যকৃত (Liver)

যকৃৎ বা লিভার (Liver) মেরুদণ্ডী ও অন্যান্য কিছু প্রাণীদেহে অবস্থিত একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। মানবদেহে মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এর রং লালচে খয়েরি। একে চলতি বাংলায় কলিজা বলে সচরাচর উল্লেখ করা হয়। যকৃৎ দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এর ওজন দেহের মোট ওজনের (৩-৫%)। এটি ২টি খণ্ডে বিভক্ত: ডান এবং বাম। প্রাণীদেহে বিপাক ও অন্যান্য কিছু শারীরবৃত্তীয় কাজে যকৃত প্রধান ভূমিকা পালন করে। গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ওষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্বিষকরণে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ভেড়ার যকৃৎ: (১) ডান লোব, (২) বাম লোব, (৩) কডেট লোব, (৪) কোয়াড্রেট লোব, (৫) পোর্টাল শিরা এবং হেপাটিক ধমনী, (৬) হেপাটিক লিম্ফ নোড, (৭) পিত্তাশয়।
মানব শরীরে যকৃতের অবস্থান (লাল)

মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎগ্রন্থি হল যকৃত (Liver)। যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস (Hepatitis) বলে। যকৃতের প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ভাইরাস। এই ভাইরাস পাঁচ ধরণের। যথা- Hepatitis A,B,C,D,E ।

ভাইরাসের নাম

ধরন

সংক্রমণের মাধ্যম

যকৃতের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

Hepatitis ARNAদূষিত খাবার, পানিx
Hepatitis BDNAযৌন, রক্ত
Hepatitis CRNAযৌন, রক্ত
Hepatitis Dযৌন, রক্ত
Hepatitis Eদূষিত খাবার, পানিx

রক্তের লোহিত কণিকা যকৃতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। যকৃতে বিলিরুবিনের কনজুগেশন হয়। যকৃতে প্রদাহ হলে বিলিরুনের কনজুগেশন বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। একে জন্ডিস বলে। জন্ডিস কোনো রোগ নয় এটি রোগের উপসর্গ মাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মি.গ্রা./ডেসিলিটার। পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী বিলিরুবিন। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস থাকলে নবজাতকের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়-

ক) Hepatitis B Immunoglobulin – HBIG (১ ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে

খ) Hepatitis B ভ্যাকসিন (৩টি ডোজ): জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে, ১ মাস এবং ৬ মাস বয়সে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পুষ্টি ও পরিপাক

1.4k

পুষ্টি ও পরিপাক (Nutrition & Digestive)

অধিকাংশ খাদ্যবস্তু বৃহৎ অণু হিসেবে গৃহীত হয়। এসব বৃহত্তর ও জটিল খাদ্যাণু পরিপাকতন্ত্রের উৎসেচক বা এনজাইম (এক ধরণের আমিষ জাতীয় পদার্থ) এর সহায়তায় দ্রবণীয়, ক্ষুদ্রতর, সরল ক্ষুদ্রাণুতে পরিণত হয়ে দেহে শোষিত ও আত্তীকরণের উপযোগী হয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ডায়রিয়া

1.3k

ডায়রিয়া (Diarrhoea)

বন্যার পর ডায়রিয়া অসুখের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ডয়রিয়ার মূল সমস্যা হল ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারনে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবন বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়। খাবার স্যালাইন (ORal Saline ORS) শরীরে পানি ও লবনের ঘাটতি পূরণ করে। ওর স্যালাইন হলো মুখে গ্রহনযোগ্য লবন ও গ্লোকোজ মিশ্রিত পানি। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি লবণ থাকে। আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট ওর স্যালাইন মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করা হয়। এবং এই দ্রবণ ফ্রিজে না রাখলেও প্রায় ১২ ঘন্টা নিরাপদ থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোডিয়াম ক্লোরাইডের ০.৯% জলীয় দ্রবণকে নরমাল স্যালাইন (Normal Saline) বলে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হরমোন

1.6k

হরমোন (Hormone)

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহের দূরবর্তী স্থানে পৌছে নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করে এবং ক্রিয়া শেষে নিজে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে হরমোন বলে। হরমোন (প্রাণরস) মানবদেহে রাসায়নিক দূত হিসেবে কাজ করে। এদের রাসায়নিক প্রকৃতি স্টেরয়েড, প্রোটিন বা ফেনলধর্মী।

হরমোন

উৎস

কাজ

গ্রোথ হরমোনপিটুইটারীবায়োটেকনোলজীর মাধ্যমে এই হরমোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
থাইরোক্যালসিটোনিন রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে।
ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনডিম্বাশয়মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে।
টেসটোস্টেরনশুক্রাশয়দাড়িগোফ গজায়।
গ্লুকাগনঅগ্ন্যাশয়ের অভ্যন্তরের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সযকৃতের গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
ইনসুলিন১৯২২ সালে জার্মানিতে ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়। ইনসুলিন এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেন রূপে জমা থাকে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে যকৃতে জমা রাখে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পায়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।
অ্যাডরিনালিনঅ্যাডরেনালভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় হরমোনের জন্য। একে আপদকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলা হয়।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বহুমূত্র (Diabetes)

1.4k

বহুমূত্র (Diabetes)

ইনসুলিন হরমোনের অভাব জনিত রোগ ডায়াবেটিস। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি না হয় (ইনসুলিন এর অভাব হয়) তখন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজের) পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা বা গ্লুকোজ প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত হওয়ার দরুণ যে রোগ হয় তাকে বহুমূত্র (Diabetes) বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। ঘন ঘন প্রসাব হওয়া এ রোগের লক্ষণগুলোর একটি। বহুমূত্র রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে। এ রোগের চিকিৎসায় ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়- কথাটি সত্য নয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গ্রন্থি (Gland)

2.8k

গ্রন্হি (Gland)

গঠনগত ও কার্যগতভাবে বিশেষিত যে কোষ বা কোষগুচ্ছ দেহের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, তাকে গ্রন্থি বলে। গ্রন্থি এক ধরনের রূপান্তরিত আবরণী কলা বা টিস্যু। গ্রন্থি দুই প্রকার। যথা- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন- পিটুইটারি, থাইরয়েড, থাইমাস, অ্যাড্রেনাল, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি। পিটুইটারী গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বা গ্রন্থিরাজ বলা হয়। কারণ পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা বেশি এবং অন্যান্য গ্রন্থির উপর এর প্রভাব বেশি।

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি যেমন-সিবেসিয়াস, সেরুমিনাস, স্তনগ্রন্থি, লালাগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয় ইত্যাদি। মানুষের শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থির হল যকৃত (Liver)। চোখের পানির উৎস ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...