কোষ (Cell)
জীব দেহের গঠন ও কাজের এককের নাম হচ্ছে কোষ। ১৬৬৫ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কার করেন। কার্যপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা: দেহকোষ এবং জনন কোষ (উদাহরণ- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু)। নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা: আদিকোষ এবং প্রকৃত কোষ। কোনো কোনো জীব একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। এদেরকে বলা হয় এককোষী বা আদিকোষ জীব। যেমন: অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমোডিয়াম প্রভৃতি। কোনো কোনো জীব একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত। এদেরকে বলা হয় বহুকোষী জীব। যেমন: মানুষ, আম, জাম ইত্যাদি। প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ নিউরন। সবচেয়ে বড় কোষ উট পাখির ডিম। সবচেয়ে ছোট কোষ Mycoplasma golisepticum-নামক ব্যাকটেরিয়ার কোষ।

প্রাণিকোষ ও উদ্ভিদ কোষের পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য | প্রাণিকোষ (Animal Cell) | উদ্ভিদ কোষ (Plant Cell) |
| কোষ প্রাচীর | নেই। | সেলুলোজ নির্মিত |
| প্লাস্টিড | নেই। | থাকে |
| কোষ গহবর | নিম্নশ্রেণীর প্রাণী ব্যতীত থাকে না। | এক বা একাধিক |
| সেন্ট্রোসোম | সর্বদা থাকে। | সাধারণত থাকে না। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Questions Identify True and False from each question option and fill up the circle of "T" for True and "F" for False answer by ball point pen in the given answer sheet (OMR Sheet).
কোষের শ্রেণিবিভাগ
- কার্যপ্রণালীর উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা-
(১) দেহকোষ
(২) জনন কোষ : উদাহরণ- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। যথা-
(১) আদিকোষ : উদাহরণ- ব্যাকটেরিয়া।
(২) প্রকৃত কোষ : উদাহরণ- অ্যামিবা, মানবদেহের কোষসমূহ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোষপ্রাচীর (Cell wall)
জড় ও শক্ত যে প্রাচীর দিয়ে উদ্ভিদ কোষ পরিবেষ্টিত থাকে তাকে কোষপ্রাচীর বলে। প্রাণীকোষে কোষ প্রাচীর নেই। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক কার্বোহাইড্রেট দিয়ে গঠিত। প্রোটিন, লিপিড ও পলিমার দিয়ে ব্যাক্টেরিয়ার কোষপ্রাচীর গঠিত। উদ্ভিদ কোষে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেক্টোজ, লিগনিন, সুবেরিন প্রভৃতি কার্বহাইড্রেট দিয়ে কোষ প্রাচীর গঠিত।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
প্লাজমা মেমব্রেন থেকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন পর্যন্ত বিস্তৃত সঞ্জীব, দানাদার অর্ধতরল প্রোটপ্লাজমীয় পদার্থকে সাইটোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, প্লাস্টিড, গলজি বডি ইত্যাদি। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত অঙ্গাণুগুলোর মধ্যে প্লাস্টিড সবচেয়ে বড়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitocondria)
মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। আদিকোষ (যেমন- ব্যাকটেরিয়া)- তে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত। শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর অভ্যন্তরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে পাওয়ার হাউস বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রোটোপ্লাজম
ক্রোমোজোম
মাইটোকন্ড্রিয়া
নিউক্লিয়াস
রাইবোসোম (Ribosome)
অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার গায়ে, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়ানো অঙ্গাণুগুলোকে রাইবোসোম বলে। ১৯৫৫ সালে প্যালাডে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম এর প্রধান কাজ হল প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোসোম কে প্রোটিন ফ্যাক্টরী বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউক্লিয়াস (Nucleus)
১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। পেশী কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। প্রাণীর বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে বলা হয় সিনসাইড্রিয়াম। লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা ইত্যাদি কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক ও প্রাণশক্তি বলা হয়।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্লাস্টিড (Plastid)
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে প্লাস্টিড থাকে। প্রাণিকোষ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিড দুই প্রকার। যথা: লিউকোপ্লাস্ট এবং ক্রোমাটোপ্লাস্ট।
ক) লিউকোপ্লাস্ট: বর্ণহীন কারণ এতে রঞ্জক পদার্থ থাকে না। মূল, ভূমিম্নস্থ কাণ্ড যেসব অঙ্গে সূর্যালোক পৌঁছায় না, সেসব অঙ্গে লিউকোপ্লাস্ট থাকে।
খ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট: ক্রোমাটোপ্লাস্ট সবুজ বা অন্যান্য বর্ণের হয়। ক্রোমাটোপ্লাস্ট দুই প্রকার। যথা-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট: ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অণুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট: এর ভিতর সবুজ বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল থাকে না তবে অন্য বর্ণ থাকে। এটির জন্য পুষ্প রঙিন ও সুন্দর হয়। পাকা ফলের রং জ্যান্থোফিলের আধিক্যের কারণে হলুদ, ক্যারোটিন জন্য কমলা, লাইকোপিনের জন্য লাল হয়। এসব বর্ণকণিকার কোনটিই না থাকলে ফুলের বর্ণ সাদা হয়। টমেটো বা যে কোনো ফল বা সবজি প্রথম দিকে সবুজ থাকে ক্লোরোফিলের কারণে। এ সময় সামান্য পরিমাণে ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, লাইকোপিনও থাকে। ধীরে ধীরে নতুন করে ক্লোরোফিল তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, আর পূর্বেরগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে রঙিন ক্যারোটিন এবং জ্যান্থোফিল ইত্যাদির পরিমাণ বাড়তে থাকে। টমেটোতে বিদ্যমান ক্রমবর্ধিষ্ণু লাইকোপিন টমেটোকে ধীরে ধীরে লাল করে ফেলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্যারোটিন ও জ্যানহফিল থাকার কারণে
ক্লোরোফিল তৈরি বন্ধ হবার কারনে
বেশি পরিমাণে ক্লোরোফিল তৈরি হবার কারনে
ক ও খ উভয়ই
ক্লোরোফিল থাকার কারণে
সায়ানোফিল থাকার কারণে
জ্যান্থেফিলের উপস্থিতির কারণে
কোনোটিই নয়
কোষ বিভাজন (Cell Division)
যে প্রক্রিয়ায় একটি সজীব কোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে। যে কোষ বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ উৎপন্ন করে তাকে মাতৃকোষ বলে। মাতৃকোষ বিভাজনের ফলে যে নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে অপত্য কোষ বলে। শরীরে কোনো স্থানে কোষের দ্রুত, অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন হলে তাকে ক্যান্সার বলে। জীবদেহে তিন প্রকার কোষ বিভাজন ঘটে। যথা:
ক) অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-বিভাজন: নিউক্লিয়াসটির নিউক্লিয় সামগ্রী প্রথমে সরাসরি দুইটি অংশে বিভক্ত হয় এবং কোষটিও মধ্যভাগ বরাবর দুইভাগে বিভক্ত হয়। প্রোক্যারিওটিক কোষ যেমনঃ ব্যাকটেরিয়া, ঈস্টে এ বিভাজন দেখা যায়।
খ) মাইটোসিস: অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান। প্রতি বিভাজনে একটি মাতৃকোষ হতে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। দেহকোষে এ বিভাজন হয়।
গ) মিয়োসিস: অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক। প্রতি বিভাজন একটি মাতৃ কোষ হতে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়। শুধুমাত্র জনন মাতৃকোষে এ বিভাজন হয়।

নিষেক: পুরুষ ও স্ত্রী জননকোষ একীভবনের পর এগুলোর নিউক্লিয়াসের পরস্পর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে উৎপন্ন কোষকে গ্যামেট বলে। জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ব্লাস্টোসিস্টে প্রথিত হওয়াকে ইমপ্লানটেশন বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
কলা বা টিস্যু (Tissue)
একই উৎস থেকে উদ্ভূত এবং একই আকৃতির বা ভিন্ন আকৃতির কোষগুলো যখন মিলিতভাবে কোন নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে তখন এমনি সমষ্টিগত কোষকে একত্রে কলা বা টিস্যু বলে।
উদ্ভিদ টিস্যু
উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের কলা দেখা যায়। যথা- ভাজক কলা এবং স্থায়ী কলা।
ক) ভাজক কলা: যে কলার কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম, তাকে ভাজক কলা বলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে এ কলা অবস্থান করে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়।
খ) স্থায়ী কলা: যে কলার কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম, তাকে স্থায়ী কলা বলে। খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সঞ্চয়, খাদ্য- পানি - খনিজ লবণ পরিবহন, বিভিন্ন অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান ইত্যাদি স্থায়ী কলার কাজ। উদ্ভিদ জাইলেম কলার মাধ্যমে মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।

চিত্রঃ ভাজক কলা , স্থায়ী কলা
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
প্রাণী টিস্যু
প্রাণীটিস্যু( Animal Tissue) প্রধানত চার ধরণের হয়- আবরণী টিস্যু,যোজক টিস্যু,পেশি টিস্যু এবং স্নায়ু টিস্যু।
কলা গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি, অনুপস্থিতির ভিত্তিতে কলা প্রধানত চার প্রকার হয়। যথা- আবরণী কলা, যোজক কলা, পেশি কলা এবং স্নায়ু কলা।
ক) আবরণী কলা (Epithelial Tissue)
এই কলার কোষগুলো সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এই কলার মাতৃকা থাকে না। কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান ও কাজের প্রকৃতি ভেদে এ কলা তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
১) আঁইশাকার (Squamous)
২) ঘনাকার (Cuboidal)
৩) স্তম্ভাকৃতি (Columnar)
খ) যোজক কলা (Connective Tissue)
যোজক কলায় মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম। গঠন ও কাজের ভিত্তিতে যোজক কলা প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা- ফাইব্রাস, স্কেলেটাল এবং তরল যোজক কলা।
গ) পেশি কলা (Muscular Tissue)
ভ্রুণীয় মেসোডার্ম হতে উৎপন্ন সংকোচন প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের কলাকে পেশি কলা বলে। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ও চলন নিয়ন্ত্রণ করে এই কলা। অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি কলা তিন ধরনের। যথা- ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক এবং হৃদপেশি (Cardiac Tissue)।
১) ঐচ্ছিক পেশি টিস্যু: ঐচ্ছিক পেশি প্রাণির ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। এই পেশি অস্থিতন্ত্রে সংলগ্ন থাকে। যেমন- মানুষের হাড় ও পায়ের পেশিসমূহ।
২) অনৈচ্ছিক পেশি টিস্যু: এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণির ইচ্ছাধীন নয়। অনৈচ্ছিক পেশি প্রধানত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সঞ্চালনে অংশ নেয়। যেমন- অন্ত্রের ক্রমসংকোচন।।
৩) হৃদপেশি: মেরুদণ্ডী প্রাণিদের হৃৎপিণ্ড যে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত, তাকে কার্ডিয়াক পেশি বলে। হৃৎপিণ্ডের সকল হৃৎপেশি একত্রে সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
ঘ) স্নায়ু কলা (Nervous Tissue)
যে বিশেষ কলা দিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত তাকে স্নায়ু কলা বলে। স্নায়ু কলা যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more