দেব-দেবী ও পূজা-পার্বণ (পঞ্চম অধ্যায়)

হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

449

ঈশ্বরের সাকার রূপকে দেব-দেবী বলে। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা, কালী ইত্যাদি। এ সকল দেব- দেবী ঈশ্বরের বিশেষগুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। এই শক্তি বা গুণ লাভ করার জন্য আমরা দেব-দেবীর পূজা করি।

পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বা তাঁর কোনো রূপকে ফুল ও নানা উপকরণ দিয়ে স্তুতি করা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা। পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দ। অর্থাৎ যে উৎসবগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে, এমন ধরনের অনুষ্ঠানকে পার্বণ বলে অভিহিত করে থাকি। এ অধ্যায়ে দেব-দেবীর ধারণা, পূজা-পার্বণের ধারণা, পূজার গুরুত্ব, গণেশ দেব ও সরস্বতী দেবীর পূজা পদ্ধতি, পূজার শিক্ষা ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • দেব-দেবী সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • পূজা-পার্বণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • দেব-দেবীর পূজার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • গণেশ দেবের পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
  • গণেশ দেবের প্রণাম মন্ত্রসহ সরলার্থ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
  • জীবনাচরণে গণেশ দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
  • সরস্বতী দেবীর পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
  • সরস্বতী পূজার প্রণাম ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র সরলার্থসহ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সমাজ ও নিজ জীবনে সরস্বতী পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
  • গণেশ ও সরস্বতী পূজায় উদ্বুদ্ধ হব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

অনিতা রায় তার ঘরের পূজার আগেরদিন থেকেই বিভিন্ন জিনিসপত্র মেজে পরিষ্কার করতে থাকে। তার পরদিন তার ছেলে এগুলো সাজানো দেখে মাকে জিজ্ঞেস করে এগুলো কী? উত্তরে সে বলে এগুলো হচ্ছে পূজার উপকরণ।

ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তি যখন আকার পায়, তখন তাঁদের দেব-দেবী বলে। অর্থাৎ দেব-দেবীরা ঈশ্বরের সাকার রূপ। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ প্রভৃতি। তাঁরা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ বিশেষ শক্তি বা গুণের অধিকারী। ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু প্রতিপালন করেন এবং শিব ধ্বংস করে ভারসাম্য রক্ষা করেন। আবার সরস্বতী বিদ্যার দেবী, গণেশ সফলতার দেবতা। এরকম অনেক দেব-দেবী রয়েছেন।

এ সকল দেব-দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে আমরা তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের কাছ থেকে বিশেষ বিশেষ গুণ বা শক্তি প্রার্থনা করি। প্রার্থনায় দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হন। আমাদের মঙ্গল করেন।

পূজা
সাধারণ অর্থে পূজা বলতে প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে বোঝায়। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা সাকার উপাসনার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে দেব-দেবীর প্রশংসা বা শ্রদ্ধা করার জন্য তাঁদের সেবা, স্তুতি ও গুণকীর্তন করে প্রণাম করা হয়। নিবেদন করা হয় পুষ্প-পত্র, ধূপ-দীপ, জল, ফল ইত্যাদি নৈবেদ্য। জীবের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করা হয়। একত্রে এ বিষয়গুলোকে পূজা বলে।
পূজার আচরণগত দিক বলতে পূজা করার রীতি-নীতিকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ পূজা কীভাবে করতে হবে, কীভাবে প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে, কীভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে, কী কী উপাচারের প্রয়োজন হবে ইত্যাদি বিষয় পূজার আচরণগত দিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশ ও অঞ্চল ভেদে পূজা পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে। তবে পূজা করার মৌলিক দিকগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আবাহন, অর্থ প্রদান, ধ্যান, পূজামন্ত্র, পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র ইত্যাদি পূজার বিভিন্ন অঙ্গ। আমরা প্রতিদিন পূজা করি। আবার প্রতি সপ্তাহ, প্রতি মাস বা বছরের বিশেষ বিশেষ সময়েও বিভিন্ন দেব- দেবীর পূজার আয়োজন করে থাকি। দেব- দেবী অনুসারে পূজা পদ্ধতি ও মন্ত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে যে-কোনো দেব-দেবীর পূজা করার ক্ষেত্রে কতগুলো সাধারণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হয়। এই নিয়ম-নীতিগুলোকে সাধারণভাবে পূজাবিধি বলে।

পার্বণ
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যেসব পর্ব পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন, বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, করতাল,
কাঁসি, শঙ্খ ইত্যাদি; ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি।

একক কাজ : পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে এমন পাঁচটি আয়োজন সম্পর্কে লেখ।

নতুন শব্দ: নৈবেদ্য, উপাচার, অর্থ, পুষ্পাঞ্জলি, পার্বণ।

Content added By

পূজা
সাধারণ অর্থে পূজা বলতে প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে বোঝায়। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা সাকার উপাসনার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে দেব-দেবীর প্রশংসা বা শ্রদ্ধা করার জন্য তাঁদের সেবা, স্তুতি ও গুণকীর্তন করে প্রণাম করা হয়। নিবেদন করা হয় পুষ্প-পত্র, ধূপ-দীপ, জল, ফল ইত্যাদি নৈবেদ্য। জীবের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করা হয়। একত্রে এ বিষয়গুলোকে পূজা বলে।
পূজার আচরণগত দিক বলতে পূজা করার রীতি-নীতিকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ পূজা কীভাবে করতে হবে, কীভাবে প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে, কীভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে, কী কী উপাচারের প্রয়োজন হবে ইত্যাদি বিষয় পূজার আচরণগত দিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশ ও অঞ্চল ভেদে পূজা পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে। তবে পূজা করার মৌলিক দিকগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আবাহন, অর্থ প্রদান, ধ্যান, পূজামন্ত্র, পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র ইত্যাদি পূজার বিভিন্ন অঙ্গ। আমরা প্রতিদিন পূজা করি। আবার প্রতি সপ্তাহ, প্রতি মাস বা বছরের বিশেষ বিশেষ সময়েও বিভিন্ন দেব- দেবীর পূজার আয়োজন করে থাকি। দেব- দেবী অনুসারে পূজা পদ্ধতি ও মন্ত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে যে-কোনো দেব-দেবীর পূজা করার ক্ষেত্রে কতগুলো সাধারণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হয়। এই নিয়ম-নীতিগুলোকে সাধারণভাবে পূজাবিধি বলে।

পার্বণ
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যেসব পর্ব পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন, বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, করতাল,
কাঁসি, শঙ্খ ইত্যাদি; ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি।

একক কাজ : পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে এমন পাঁচটি আয়োজন সম্পর্কে লেখ।

নতুন শব্দ: নৈবেদ্য, উপাচার, অর্থ, পুষ্পাঞ্জলি, পার্বণ।

Content added By

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংগঠিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা-পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। সকলে মিলে যখন পূজা করা হয় তখন পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসবমুখর।
প্রতিমা আনয়ন, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, মন্দিরে পূজার সাজসজ্জা, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান প্রভৃতি আমাদের মনে সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের ভাব জাগ্রত হয়।
পূজা আমাদের আত্মাকে পবিত্র করে, মনকে সুন্দর করে এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করে। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেমন- ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ইত্যাদি। অনেকে স্মরণিকাও প্রকাশ করে থাকেন। পূজা-পার্বণ উপলক্ষে এসব আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়।
পূজা পার্বণে সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে উন্নত খাবার-দাবারের অয়োজন করা হয় এবং ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া হয়। ফলে পরিবারিক পুষ্টি সমস্যা সমাধানে পূজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিভিন্ন পূজায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের অংশবিশেষ প্রয়োজন হয় যা পূজা উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে শিশুরা শৈশব থেকেই বিভিন্ন ধরনের গাছ-পালার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং উদ্ভিদের গুণাগুণ সম্পর্কে অবহিত হয়।

দলগত কাজ: ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে দেব-দেবীর পূজার প্রভাব লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর।

নতুন শব্দ: আধ্যাত্মিক, উৎসবমুখর, সৌহার্দ্য, স্মরণিকা।

Content added By

গণেশ দেবের পরিচয়
গণেশ দেব সিদ্ধি বা সফলতার দেবতা। গণেশ দেব গণপতি, গজানন, হেরম্ব, বিনায়ক প্রভৃতি নামেও পরিচিত। গণেশের শরীর মানুষের মতো। তার ওপর গজ বা হাতির মাথা বসানো। এজন্য গণেশকে গজানন বলা হয়। তাঁর চার হাত, তিন চোখ। লম্বা তাঁর উদর, স্থূল বা মোটা তাঁর শরীর। তিনি একটু বেঁটে। গণেশের বাহন ইঁদুর।
দেবতা হিসেবে গণেশ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি সকল বাধা-বিপত্তি দূর করে মানুষের সকল প্রচেষ্টায় সফলতা দান করেন। এ কারণে যে-কোনো কাজ আরম্ভ করার পূর্বে দেবতা গণেশের পূজা করা হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নববর্ষে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধিদাতা হিসেবে গণেশের পূজা করেন।
গণেশ দেবের পূজা পদ্ধতি
দুর্গাপূজা ও বাসন্তীপূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থ তিথিতে বিশেষভাবে গণেশ দেবের পূজা করা হয়। এ ছাড়া যে কোনো পূজা করার আগে গণেশ দেবের পূজা করার রীতি রয়েছে। পূজা যথাযথভাবে সমাপ্ত করার জন্য পূজার উপকরণ সংগ্রহ করতে হয়। পূজা করার বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হয়। গণেশ পূজায় তুলসীপত্র নিষিদ্ধ।

গণেশ দেবের প্রণাম মন্ত্র

একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম্ ॥

সরল অর্থ: যিনি এক-দাঁত-বিশিষ্ট, যাঁর শরীর বিশাল, লম্বা উদর, যিনি গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী, সেই হেরম্বদেব গণেশকে প্রণাম জানাই।

গণেশ দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব
গণেশ দেবকে সিদ্ধিদাতা বলা হয়। এই সিদ্ধি শব্দটির অর্থ সাফল্য, পারদর্শিতা বা কৃতকার্যতা। আর সিদ্ধিদাতা শব্দটির অর্থ সফলতাদায়ক। গণেশ দেব আমাদের সফলতাদানের দেবতা। আমরা বিদ্যালাভ, ব্যবসাসহ সকল কর্মে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশায় গণেশ দেবের পূজা করি। এ পূজার শিক্ষা হলো ভক্তিতে সাফল্যলাভ। এই ভক্তির মূলে রয়েছে শুদ্ধতা, একাগ্রতা, সংযম ও শৃঙ্খলা। তাই আমাদের জীবনের সাফল্য, পারদর্শিতা বা কৃতকর্মে প্রয়োজন শুদ্ধমনে মঙ্গল কামনা, কর্মে একাগ্রতা, ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা। যারা গণেশ দেবের এ শিক্ষা নিজ কর্মে প্রয়োগ করেন তারাই সাফল্য লাভ করেন। হিন্দুধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষের প্রথম মাসের শুরুতেই গণেশ দেবের পূজা করেন। এই দেবের কৃপাতেই ব্যবসায় সফলতা অর্জিত হয়। ভক্তিভরে আমরা এই দেবের পূজা করি।

একক কাজ: গণেশ দেবের পূজার শিক্ষা তোমার জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করতে পার? ব্যাখ্যা কর।

নতুন শব্দ: সিদ্ধিদাতা, মহাকায়ং, লম্বোদরং, গজানন, হেরম্ব, বিঘ্ন।

Content added By

সরস্বতী দেবী বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে সরস্বতী বাগদেবী, বিরজা, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। সরস্বতীর বর্ণ চন্দ্রের কিরণের মতো শুভ্র। তাঁর হাতে আছে বীণা ও পুস্তক। রাজহংস তাঁর বাহন।
মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। দেবী সরস্বতী শুভ্র বসন পরিহিতা। সাদা পদ্ম ফুল তাঁর আসন। সাধারণত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজার আয়োজন করা হয়। সরস্বতী পূজা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে করা যায়। স্কুল-কলেজ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সাড়ম্বরে সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়। সাকার রূপে প্রতিমার মাধ্যমে সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়। পূজার পদ্ধতি হিসেবে পূজার মন্ডপ সাজানো, উপকরণ সংগ্রহ, সংকল্প গ্রহণ, আমন্ত্রণ জানানো বা প্রাণপ্রতিষ্ঠা, বসার আসন বা সিংহাসন সমর্পণ, পা ধোয়ার জন্য জল সমর্পণ, হাত ধোয়ার জল সমর্পণ, আচমন বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ শুদ্ধকরণ প্রভৃতি সাধারণ পূজাবিধি অনুসারে সম্পাদন করা হয়। সরস্বতী দেবীর পুষ্পাঞ্জলির জন্য লাল রঙের ফুলের প্রয়োজন হয়। পলাশ ফুল সরস্বতী দেবীর প্রিয় ফুল।

সরস্বতী দেবীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র:
ওঁ সরস্বত্যৈ নমো নিত্যং ভদ্রকাল্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।।
এষ সচন্দন-বিল্বপত্র-পুষ্পাঞ্জলিঃ ওঁ শ্রীশ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ

সরলার্থ: দেবী সরস্বতী, ভদ্রকালীকে নিত্য প্রণাম করি। প্রণাম জানাই বেদ, বেদাঙ্গ, বেদান্ত ইত্যাদি বিদ্যাস্থানকে এবং এ স্থানকে সর্বদা প্রণাম করি। এই চন্দন যুক্ত বিল্বপত্র ও পুষ্পের অঞ্জলি দিয়ে শ্রী শ্রী সরস্বতী দেবীকে প্রণাম জানাই।

প্রণাম মন্ত্র
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।

সরলার্থ: হে মহীয়সী বিদ্যাদেবী সরস্বতী, পদ্মফুলের মতো তোমার চক্ষু, তুমি বিশ্বরূপা। হে বিশাল চক্ষুধারণকারী দেবী, তুমি বিদ্যা দান কর। তোমাকে প্রণাম করি।

নতুন শব্দ: বেদান্ত, বেদাঙ্গ, বিশালাক্ষি, কমললোচন, মহাশ্বেতা, ব্রাহ্মী, আচমন।

Content added By

সরস্বতী বিদ্যার দেবী। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নিজেদের মনের অজ্ঞতা দূর করা এবং জ্ঞান বিকাশের জন্য বিদ্যাদেবী সরস্বতীর পূজা করেন। এর মধ্য দিয়ে জ্ঞান আহরণের আগ্রহ বেড়ে যায়। সামাজিক দিক থেকে সরস্বতী পূজার গুরুত্ব রয়েছে। স্কুল-কলেজের হিন্দুধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীরা এ দিনটি গভীর ভক্তিভরে উদযাপন করে থাকে। বিদ্যাদেবী সরস্বতীর কাছে বিনীতভাবে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে এবং প্রার্থনা করে মা যেন তাদের বিদ্যা দান করেন।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে সরস্বতী পূজার মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণির পূজারীরা বিভিন্ন পূজামন্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দেয়ার জন্য একত্রিত হন এবং নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন যা জ্ঞান বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অপরদিকে নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করেন এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এ সুসম্পর্ক সমাজকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতেও সহায়তা করে।
আধ্যাত্মিক দিক থেকে সরস্বতী পূজার মাধ্যমে পূজারীদের মধ্যে বিদ্যা অর্জনের একাগ্রতা ও মনোবল অনেকটা বৃদ্ধি পায় এবং তা একজন পূজারীর নৈতিকতাকে যেমন সমৃদ্ধ করে তেমনি ভবিষ্যতের স্বপ্ন অর্জনের শক্তি যোগায়।

একক কাজ: তুমি কীভাবে সরস্বতী পূজা উদ্যাপন করে থাকো।

নতুন শব্দ: সমৃদ্ধশালী, কুশল, মনোবল।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...