শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পরিচয় (পাঠ ৫)

ধর্মগ্রন্থ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

237

মহাভারত আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। এ গ্রন্থটি আঠারোটি পর্ব নিয়ে সৃষ্টি। ভীষ্মপর্ব মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এই পর্বে মোট আঠারোটি অধ্যায় রয়েছে। মহাভারতের ভীষ্মপর্বের এই অধ্যায়সমূহ ২৫ থেকে ৪২ পর্যন্ত বিন্যস্ত, যাতে হস্তিনাপুর রাজ্যে সংঘটিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। আমরা অনেকেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কাহিনি ছোটদের মহাভারত পড়ে কিংবা টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক থেকে জেনেছি। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রাক্কালে অর্জুন যখন যুদ্ধ করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যে সকল উপদেশ দিয়েছিলেন, তারই গ্রন্থরূপ হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। এই গ্রন্থে সর্বমোট সাতশত শ্লোক রয়েছে। এ জন্য এ গ্রন্থের অপর নাম সপ্তশতী। এবার আমরা হস্তিনাপুরের কুরুক্ষেত্রে সংঘটিত যুদ্ধের কাহিনি থেকে আমাদের এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা ধারণালাভ করব।

ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু দুই ভাই। ধৃতরাষ্ট্র বড়, পাণ্ডু ছোট। ধৃতরাষ্ট্রের একশ ছেলে আর এক মেয়ে। যেমন- দুর্যোধন, দুঃশাসন ইত্যাদি ও মেয়ে দুঃশলা। পান্ডুর পাঁচ ছেলে- যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেব। কুরুবংশের নাম অনুসারে ধৃতরাষ্ট্রের সন্তানদের বলা হয় কৌরব। আর পান্ডুর নাম অনুসারে তার সন্তানদের বলা হয় পাণ্ডব। রাজ্য নিয়ে এই কুরু-পাণ্ডবের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন অবতাররূপে দ্বারকার রাজা ছিলেন। তিনি নিরস্ত্র অবস্থায় অর্জুনের রথের সারথি হয়েছিলেন। রথ যখন দুইপক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে রাখা হলো তখন অর্জুন স্বপক্ষ ও বিপক্ষ দলের নিকট আত্মীয়-স্বজনদের দেখে মুষড়ে পড়লেন। অতি নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। তিনি ঠিক করলেন যুদ্ধ করবেন না। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি প্রভৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন উপদেশ দেন।
সেই উপদেশ বাণীই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত হয়েছে। তাঁর উপদেশ শুনে অর্জুন যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ হন। উপলক্ষ অর্জুন হলেও গীতায় ভগবান যে উপদেশ দিয়েছেন, তা সকল কালের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

একক কাজ: পান্ডব ও কৌরবদের বংশধর চিহ্নিত কর।

নতুন শব্দ : সপ্তশতী, সারথি, উদ্বুদ্ধ, কুরু।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...