সরস্বতী দেবীর পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি (পাঠ ৫)

দেব-দেবী ও পূজা-পার্বণ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

791

সরস্বতী দেবী বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে সরস্বতী বাগদেবী, বিরজা, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। সরস্বতীর বর্ণ চন্দ্রের কিরণের মতো শুভ্র। তাঁর হাতে আছে বীণা ও পুস্তক। রাজহংস তাঁর বাহন।
মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। দেবী সরস্বতী শুভ্র বসন পরিহিতা। সাদা পদ্ম ফুল তাঁর আসন। সাধারণত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজার আয়োজন করা হয়। সরস্বতী পূজা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে করা যায়। স্কুল-কলেজ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সাড়ম্বরে সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়। সাকার রূপে প্রতিমার মাধ্যমে সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়। পূজার পদ্ধতি হিসেবে পূজার মন্ডপ সাজানো, উপকরণ সংগ্রহ, সংকল্প গ্রহণ, আমন্ত্রণ জানানো বা প্রাণপ্রতিষ্ঠা, বসার আসন বা সিংহাসন সমর্পণ, পা ধোয়ার জন্য জল সমর্পণ, হাত ধোয়ার জল সমর্পণ, আচমন বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ শুদ্ধকরণ প্রভৃতি সাধারণ পূজাবিধি অনুসারে সম্পাদন করা হয়। সরস্বতী দেবীর পুষ্পাঞ্জলির জন্য লাল রঙের ফুলের প্রয়োজন হয়। পলাশ ফুল সরস্বতী দেবীর প্রিয় ফুল।

সরস্বতী দেবীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র:
ওঁ সরস্বত্যৈ নমো নিত্যং ভদ্রকাল্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।।
এষ সচন্দন-বিল্বপত্র-পুষ্পাঞ্জলিঃ ওঁ শ্রীশ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ

সরলার্থ: দেবী সরস্বতী, ভদ্রকালীকে নিত্য প্রণাম করি। প্রণাম জানাই বেদ, বেদাঙ্গ, বেদান্ত ইত্যাদি বিদ্যাস্থানকে এবং এ স্থানকে সর্বদা প্রণাম করি। এই চন্দন যুক্ত বিল্বপত্র ও পুষ্পের অঞ্জলি দিয়ে শ্রী শ্রী সরস্বতী দেবীকে প্রণাম জানাই।

প্রণাম মন্ত্র
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।

সরলার্থ: হে মহীয়সী বিদ্যাদেবী সরস্বতী, পদ্মফুলের মতো তোমার চক্ষু, তুমি বিশ্বরূপা। হে বিশাল চক্ষুধারণকারী দেবী, তুমি বিদ্যা দান কর। তোমাকে প্রণাম করি।

নতুন শব্দ: বেদান্ত, বেদাঙ্গ, বিশালাক্ষি, কমললোচন, মহাশ্বেতা, ব্রাহ্মী, আচমন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...