ঐশরাজ্যের বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে তোলার জন্য যীশু খ্রীষ্ট তাঁর বাণীতে নানা উপমা ব্যবহার করেছেন। ঐশরাজ্যের পূর্ণতা ও প্রকাশের জন্য তিনি বিভিন্ন আশ্চর্য বা অলৌকিক কাজগুলোকে চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর অলৌকিক কাজগুলোর মধ্য দিয়ে এই সত্য প্রকাশিত হয় যে তিনি পিতার কাছ থেকে এসেছেন। এই কাজগুলো তাঁর প্রতি আমাদের বিশ্বাস আরও গভীর করতে সহায়তা করে। তাঁর এইসকল আশ্চর্য কাজ তাঁর ঐশশক্তি ও ক্ষমতাকে প্রকাশ করে। এই জগতে ঐশরাজ্যের আগমনের অর্থ হচ্ছে মন্দতা বা শয়তানের পরাজয়। যীশু অপদূত তাড়ানোর মধ্য দিয়ে মানুষকে মন্দ আত্মার প্রভাব থেকে মুক্ত করেছেন। মন্দ আত্মার বিরুদ্ধে জয়লাভ প্রভু যীশু বিজয়ের পূর্বাভাস ঘোষণা করেছে। প্রভু যীশুর ক্রুশে মৃত্যুবরণের মধ্য দিয়ে ঐশরাজ্যের চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
| কাজ: প্রভু যীশুর একটি আশ্চর্য কাজ বেছে নাও। এর মধ্য দিয়ে কীভাবে ঐশরাজ্যের প্রকাশ ঘটে এবং কীভাবে যীশুর অলৌকিক কাজ করার ক্ষমতা প্রকাশ পায় তা খাতায় লিখ। |
ঐশরাজ্যের চাবি
ক্ষমতার বাহ্যিক চিহ্ন হলো চাবি। আমরা জানি, ঘর বা প্রতিষ্ঠানের চাবির দায়িত্ব যাকে-তাকে দেওয়া হয় না। যার সেই দায়িত্বজ্ঞান রয়েছে বা যে তা বহন করতে পারবে তাকেই সে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
প্রভু যীশু তার প্রচার জীবনে বারজন শিষ্যকে মনোনীত করেছেন যেন তাঁরা তাঁর সঙ্গে থাকেন এবং তাঁর প্রেরণকর্মে অংশগ্রহণ করেন। বারোজনের অন্যতম ছিলেন পিতর, যাঁকে তিনি পাথর বলে অভিহিত করেছেন এবং এই পাথরের ভিতের উপর তাঁর মণ্ডলী প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর হাতে ঐশরাজ্যের চাবি তুলে দিয়েছেন। পৃথিবীতে তিনি যা মুক্ত করবেন, স্বর্গেও তা মুক্ত করা হবে। আর পৃথিবীতে তিনি যা-কিছু ধরে রাখবেন তা স্বর্গেও ধরে রাখা হবে। প্রভু যীশু তাঁর মেষদের পালন করার দায়িত্বও পিতরকে দিলেন। পিতরের হাতে ঐশরাজ্যের চাবি প্রদান করা ও তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে পোপের দায়িত্ব পালনের কাজ ঐশরাজ্যের উপস্থিতির চিহ্নই আমাদের কাছে আজও প্রকাশ করে।