খ্রীষ্ট প্রকৃত ঈশ্বর ও প্রকৃত মানব (পাঠ ৫)

ঈশ্বরের অদ্বিতীয় পুত্র যীশু খ্রীষ্ট - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

249

এই অধ্যায়ে আমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে ঈশ্বরের অদ্বিতীয় পুত্র হিসেবে জানতে পারব। ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে, যীশু খ্রীষ্ট ঈশ্বর থেকে মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনিই ঈশ্বর ও প্রভু। আমরা যীশু নামের অর্থ বুঝতে পেরেছি এবং খ্রীষ্ট হিসেবে তাঁর পরিচয় পেয়েছি। খ্রীষ্টের শিষ্য হিসেবে আমরা সবাই তা বিশ্বাস করি এবং স্বীকারও করি।

এই অধ্যায়ের দীর্ঘ আলোচনায় আমরা বুঝতে পেরেছি যে, যীশু ঈশ্বর, আবার তিনি মানুষ। যীশু ঈশ্বর থেকে মানুষ হয়েছেন। তিনি প্রকৃত ঈশ্বর ও প্রকৃত মানুষ। একজন মানুষের থাকে দেহ, মন ও আত্মা। দেহ-মন-আত্মর প্রকৃতি নিয়ে মানুষ জন্ম নেয় এবং পূর্ণাঙ্গ মানবীয় স্বভাবে বেড়ে ওঠে। মানুষকে ঈশ্বর সৃষ্টির অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে দিয়েছেন বুদ্ধি ও ইচ্ছাশক্তি, যা অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু বা প্রাণীর নেই। তাই মানুষ অন্যসব জীবজন্তু থেকে আলাদা।

নারীগর্ভে জন্ম নিয়ে যীশু দেহ-মন-আত্মার প্রকৃতি পেয়েছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ মানবীয় স্বভাবে বড়ো হয়েছেন। মানুষের হাসিকান্না, দুঃখবেদনা কিংবা আনন্দের সাথে তিনি একাত্ম হয়েছেন। তিনি আকারে- প্রকারে ও স্বভাবে সম্পূর্ণ মানুষ। যীশুর মানবীয় স্বভাব নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতভেদ ছিল। মণ্ডলীর পরিচালকগণ এবং পণ্ডিতগণ এই সত্য প্রকাশ করেছেন যে, যীশু ঈশ্বর থেকে আগত মানুষ।

যীশুর দুটি স্বভাব: মানবীয় ও ঐশ্বরিক। তিনি পূর্ণ ঈশ্বর ও পূর্ণমানুষ। মানবীয় দেহ, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি এবং তাঁর সকল কাজের জন্য তিনি প্রকৃত মানুষ। মানুষ হয়েও তিনি আলাদা। কারণ তিনি মানুষ ও ঈশ্বর। ঈশ্বরত্বে ও প্রভুত্বে তিনি সম্পূর্ণ ঈশ্বর। তিনি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপর কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়ে তিনি মানবজাতির পরিত্রাণ এনেছেন। তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা সকলে স্বর্গে যাবার সুযোগ পেয়েছি। যাঁরা বিশ্বাসের পথে চলে তাঁরা পায় নবজীবন। কারণ যীশুই পথ, সত্য ও জীবন।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...