সহনশীলতা অর্জনের উপায় (পাঠ ৫)

ক্ষমা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

259

একটি প্রবাদবাক্য আমরা প্রায়ই উচ্চারণ করে থাকি, "যে সহে, সে রহে।" প্রবাদবাক্যটিতে সহনশীলতার জয় যে সুনিশ্চিত তা বুঝানো হয়েছে। সহনশীলতা একটি অর্জনযোগ্য মানবিক গুণ। আমরা নিম্নলিখিতভাবে চেষ্টা করলে সহনশীলতা অর্জন করতে পারি:
ক) ঈশ্বরভক্ত মানুষ হিসেবে নিয়মিত প্রার্থনা করে ও ঈশ্বরের পরিচালনায় বিশ্বস্ত থেকে।
খ) দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা ঠিক রেখে নিয়মিত খাবার গ্রহণ ও পরিমিত বিশ্রাম নিয়ে।
গ) মনের মধ্যে কোনো ধরনের রাগ ও হিংসা পোষণ না করে।
ঘ) কোনো কাজে বা পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে তার ভারসাম্য বজায় রেখে মোকাবেলা করে।
ঙ) কাজে জয় পেলে যথাসাধ্য স্বাভাবিক আচরণ করে এবং পরাজিত হলে তা মেনে নিয়ে।
চ) মহামনীষীদের জীবন ও কাজ অনুসরণ করে।
ছ) কোনো বিরোধের কারণে সম্পর্কের অবনতি হলে তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলে।
জ) সমাজে অবহেলিত ও গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য কাজ করে এবং সবসময় তাদের পাশে থেকে।
ঝ) বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিস ও প্রতিষ্ঠানে যেমন ব্যাংক থেকে সেবা নিতে বা ট্রেনে কিংবা বাসে টিকিট কাটার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নিয়ে।
ঞ) জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসলে, কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত হলে সরল ও নম্র মন নিয়ে তা গ্রহণ করে আমরা সহনশীলতা অর্জন করতে পারি।

'সবুরে মেওয়া ফলে' কথাটি প্রতিটি মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপেক্ষা করা, ধৈর্য ধরা, সহনশীল হওয়া সবই বিজয়ী হওয়ার উপায়। আমরা জানি বর্তমান পৃথিবীতে নানা প্রতিকূলতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জীবনের যে-কোনো কাজে ও পরিস্থিতিতে সহনশীল থেকে তা মোকাবেলা করে জয়ী হয়ে জীবনকে সাজানোর জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...