যাজকীয় জীবনের গঠন ও যাজকাভিষেক (পাঠ ২)

ফাদার চার্লস যোসেফ ইয়াং - খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

230

১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে, ২১ বছর বয়সে চার্লস পবিত্র ক্রুশ সেমিনারিতে প্রবেশ করেন। তখন এই সেমিনারিটিকে ক্ষুদ্র সেমিনারি বলা হতো। এটি আমেরিকার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত ছিল। চালর্সের সব ক্লাস এই নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হতো। ফাদার ইয়াং আর্মি চ্যাপলেইন-এর কাজ করেছিলেন। এই কর্মদায়িত্ব নিঃসন্দেহে তাঁকে প্রাণবন্ত সশস্ত্রবাহিনীর ন্যায় শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনে প্রভাবিত করেছিল। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে তিনি একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত সেন্ট যোসেফ নভিশিয়েটে প্রবেশ করেন। প্রার্থনাশীল ও ঈশ্বরভক্ত চালর্স তাঁর নভিশিয়েট শেষ করে ১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দের ২ জুলাই প্রথম ব্রত গ্রহণ করেন। তাঁর ব্রতসংখ্যা ছিল চারটি: দরিদ্রতা, কৌমার্য, বাধ্যতা এবং বিদেশে বাণী প্রচার।

চার্লস তাঁর শিক্ষা ও যাজকীয় জীবনের গঠনকালে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলেন। তাঁর পরিচালকদের বেশিরভাগই ছিলেন নামকরা ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বিশেষ গুণে গুণান্বিত। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ফাদার টমাস ইরভিং। তিনি ছিলেন একজন অঙ্কবিশারদ ও অত্যন্ত ধৈর্যশীল মানুষ।

সেমিনারির বিগত দিনগুলো চার্লসের জন্য কঠিন ছিল বটে কিন্তু সেগুলো খুব আনন্দের মধ্য দিয়েই কেটেছে। ফাদার চার্লস যে. ইয়াং খেলাধুলা খুবই ভালোবাসতেন। শারীরিক উচ্চতা কিছুটা কম থাকায় তিনি ফুটবল ও বাস্কেটবল খেলতেন না। হাই স্কুলের শুরু থেকে একেবারে যাজকীয় অভিষেকের পূর্ব পর্যন্ত তিনি খেলেছেন টেনিস। খেলাধুলায় তিনি ছিলেন যেমন সক্রিয় তেমনি কাজেকর্মেও ছিলেন সমপরিমাণ সক্রিয়। একারণেই দেহে তিনি অফুরান শক্তি পেতেন এবং তাঁর দৈহিক গঠনও যথেষ্ট সুঠাম ছিল। যারা তাঁকে আগে কখনো দেখেনি তারা সবসময় তাঁকে তাঁর সঠিক বয়সের চাইতে অনেক কমবয়সী মনে করত। এভাবে যখনই কেউ তাঁকে বলত, তাঁর বয়স সঠিক বয়সের চাইতে কম মনে হয় তখন তিনি বলতেন: "আমি তো সবসময়ই ইয়াং"।

চার্লস মিশনারি হয়ে বিদেশে যাবেন, এই চিন্তা সেমিনারি জীবনের প্রস্তুতিকালে সর্বদা তাঁর মন জুড়ে থাকত। তাই তিনি অনবরত চেষ্টা করতেন নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন ও নানা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করার। এভাবে তিনি সবজান্তা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বাগানে শাকসব্জি লাগানো থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, পাইপলাইন মেরামত থেকে শুরু করে দালানে ইট বসানো, মিত্রিকাজ থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত সবকিছুই একটু একটু করে জানার চেষ্টা করেছেন। সেমিনার জীবনেও তিনি সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে এবং মাঝে মধ্যে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সেমিনারি অতিথি বক্তার-বক্তব্য শুনতে পেলে ভীষণ আনন্দ উপভোগ করতেন। যেসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে ভবিষ্যৎ পুরোহিত হিসেবে উপকারে আসবে এমনসব প্রোগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করতেন।

চার্লস ইয়াং-কে ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দে ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত ফরেন মিশন সেমিনারিতে পাঠানো হয়। ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দের ২৪ জুন একটি অসম্ভব স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছিল। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যাদলয় ক্যাম্পাসে সেদিন চার্লস ইয়াং তাঁর সতীর্থদের সাথে মিলে যাজকপদে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। এরপর তিনি সিরাকিউজে ফিরে গিয়েছিলেন; সেখানে তিনি তাঁর ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগটি উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দের জুন মাসে যাজক হয়ে ফাদার চার্লস যোসেফ ইয়াং, সিএসসি ঐ বছরেরই অক্টোবর মাসে মিশনারি কাজের জন্য পূর্ববঙ্গের উদ্দেশ্যে মাতৃভূমি ত্যাগ করেন। পূর্ববঙ্গের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার পূর্বে ফাদার ইয়াং তিন মাস সময় পেয়েছিলেন। ঐ সময়টুক তিনি ব্যয় করেছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত মিশনারিদের জন্য আর্থিক অনুদান সংগ্রহ করে। অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখে তাঁরা কয়েকজন মিলে পূর্ববঙ্গের জন্য স্বদেশভূমি ত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের দলে নটর ডেম কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল ফাদার জন হ্যারিংটনও ছিলেন। তাঁদের দলটি নিউইয়র্ক থেকে সামুদ্রিক জাহাজে করে রওনা দেন। ইতালির নেপল্স ও রোম এবং পরে বন্ধে ও কলকাতা হয়ে ঢাকায় পৌঁছেন ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ নভেম্বর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...