একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ক্ষমা করার ফল সবসময়ই ইতিবাচক এবং ক্ষমা না করার ফল সব সময়ই নেতিবাচক। প্রথমে আমরা দেখি ক্ষমা করার সুফলগুলো।
ক্ষমার সুফল
কারো বিরুদ্ধে আক্রোশের মনোভাব থাকলে তা ক্ষমা করে দিলে অন্তরে যেসব ভালো ফল পাওয়া যায় সেগুলো হলো:
১। অন্তরে শান্তি বিরাজ করে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
২। মনের দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ বা অশান্তি, বৈরী মনোভাব কমে যায়।
৩। অন্যদের জন্য সহানুভূতি ও উদারতার জন্ম হয়।
৪। মানুষের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
৫। আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে উন্নতি করা যায় অর্থাৎ ঈশ্বরের সাথে সুন্দর সম্পর্ক গড়া সম্ভব হয়।
৬। রক্তচাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
৭। হতাশার ভাব কেটে যায়।
৮। কোনো রকম মাদকাসক্তির আশঙ্কা থাকে না।
৯। আদর্শবান মানুষ হিসেবে অন্যদের কাছে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
১০। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
১১। জীবনের প্রতিটি মূহূর্তকে শান্তি ও আনন্দে ভরে তোলা যায়।
ক্ষমা না করার কুফল
খুব ঘনিষ্ঠ বা যাকে আমরা খুব বিশ্বাস করি এরকম কেউ যদি আমাদেরকে কোনোভাবে আঘাত দেয় তবে নিশ্চয়ই আমরা খুব দুঃখ পাই ও রাগান্বিত হই। সেই রকম অনুভূতি যদি আমরা দিনের পর দিন মনের মধ্যে ধরে রাখি তবে আমাদের অন্তরে আক্রোশের মনোভাব বাসা বাঁধে।
১। আমরা তখন ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাই আর বৈরী মনোভাব পোষণ করি।
২। আমরা যদি আমাদের নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকে বেশি বাড়তে দেই তবে সেগুলো আমাদের ইতিবাচক অনুভূতিগুলোকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তখন আমাদের মনে তিক্ততা ও অন্যায্যতা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৩। যদি আমরা ক্ষমা করতে না চাই তবে আমরা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই।
৪। ক্ষমা না করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই মূল্য দিতে হয়। পরস্পরের সাথে আমাদের সম্পর্কে রাগের ভাব এসে যায়।
৫। আমরা মনের মধ্যে অতীতকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ফলে বাস্তবের আনন্দগুলোকে আমরা ভোগ করতে পারি না।
৬। আমাদের মনে হতাশা কাজ করতে থাকে। তখন আমাদের কাছে জীবনটা নিরানন্দ ও অর্থহীন হয়ে পড়ে।
৭। আধ্যাত্মিক জীবন আমাদের আর আকর্ষণ করে না। আমরা স্বর্গের পথ হারিয়ে ফেলি।
৮। অন্যদের সাথেও আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। আমরা একাকী হয়ে যাই।
৯। সকল কাজে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় ও সকলের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়।
| কাজ: একটি পুনর্মিলন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এতে করে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা দেওয়ার সুযোগ পাবে ও সকলেই ক্ষমার অভিজ্ঞতা বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারবে। |
Read more