কাজ: নিচের শাস্ত্রাংশটি নিজ নিজ খাতায় লেখ এবং এক মিনিট নীরবে ধ্যান কর-এর মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদের কী বলতে চান। "তোমরা একে অন্যের প্রতি সহৃদয় হও, হও কোমলপ্রাণ। পরস্পরকে ক্ষমা করে নাও, যেমন খ্রীষ্টে তোমাদের |
এবার আমরা পর পর দুটি ঘটনার বিবরণ শুনব এবং এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা কী করতাম তা নিজ নিজ খাতায় লিখব।
১। প্রথম ঘটনা
আন্না ও নমিতা খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। আন্না তার বান্ধবী নমিতাকে খুব বিশ্বাস করত। সে একবার নমিতার সাথে খুব গোপন একটি বিষয় আলাপ করল। সে মনে করেছিল, এই বিষয়টি নমিতা কারো সাথে আলাপ করবে না। কিন্তু নমিতা তা গোপন না-রেখে অন্য একজন বান্ধবীর কাছে বলে দিল। নমিতা শুধু আন্নার কথাটাই বলেনি, একইসঙ্গে সে আরও কিছু কথা বানিয়ে যোগ করে দিল। আন্না মনে খুব দুঃখ পেল কারণ তার বান্ধবী কথাটা গোপন রাখবে বলে যে কথা দিয়েছিল তা রাখেনি। এতে নমিতার ওপর তার অনেক রাগও হলো। মনে মনে সে বলল, নমিতার সাথে সে আর কখনো কথা বলবে না।
| কাজ: ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করো: এরকম পরিস্থিতি তোমার নিজের হলে তুমি কী করতে তা তোমার খাতায় লিখ। |
২। দ্বিতীয় ঘটনা
একদিন ক্লাসে শিক্ষক দলীয় আলোচনা দিলেন। দলীয় আলোচনায় যাবার আগে সাগর তার হাতঘড়িটা খুলে টেবিলের উপর রেখেছিল। দলীয় আলোচনার জন্য সে অন্য এক জায়গায় বসেছিল। তার দল থেকে নিজের জায়গায় এসে সে ঘড়িটা আর খুঁজে পেল না। সে সবাইকে জিজ্ঞেস করল কিন্তু কেউই নিয়েছে বলে স্বীকার করল না। তাতে সাগরের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। পরদিন স্কুলে আসার আগে দ্বীপ সাগরের বাড়িতে গেল। সে সাগরের কাছে স্বীকার করল যে সে-ই ঘড়িটা নিয়েছিল। এই বলে সে ঘড়িটা ফেরত দিল আর খুব অনুতপ্ত চিত্তে ক্ষমা চাইল। সাগর খুব খুশি হয়ে বলল, "ভাই, তোমাকে আমি অবশ্যই ক্ষমা করি কারণ তুমি সাহস নিয়ে আমার কাছে এসে তোমার দোষ স্বীকার করেছ এবং ঘড়িটা ফেরত দিচ্ছ। আমি কথা দিচ্ছি, আমি সবই ভুলে যাব।" তাঁরা আবার বন্ধু হয়ে গেল।
| কাজ: সাগরের স্থলে তুমি হলে তুমি কী করতে, প্রত্যেকে নিজ নিজ খাতায় লিখ ও উপস্থাপন করো। |
মুক্তিদাতা যীশু আমাদেরকে নিজের আদর্শ দিয়ে ক্ষমার বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। এবার আমরা একটা শাস্ত্রাংশ শুনব। যীশু সমবেত লোকদেরকে বললেন: "তোমরা শুনেছ যে, প্রাচীনকালের মানুষদেরকে এই কথা বলা হয়েছিল: 'তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসবে আর তোমার শত্রুকে ঘৃণা করবে।' কিন্তু আমি তোমাদের বলছি: 'তোমরা তোমাদের শত্রুদের ভালোবাস; যারা তোমাদের নির্যাতন করে, তাদের মঙ্গল প্রার্থনা করো' (মথি ৫:৪৩)।
যীশুকে তাঁর শত্রুরা ধরে এনে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, বিনা দোষে দোষী সাব্যস্ত করেছে, নিজেরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতেও যীশু কোনো কথা বলেননি। তাঁর মধ্যে প্রতিশোধের কোনো ভাব ছিল না। তিনি বৃহৎ এক ক্রুশ বহন করে কালভেরি পর্বতের দিকে এগিয়ে গেছেন। তাঁর মুখে থুথু দেওয়া হয়েছে; তাঁকে চড়, ঘুষি, লাথি ও চাবুক মারা হয়েছে। ক্রুশে তাঁকে পেরেক দ্বারা বিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি তৃষ্ণার্ত হয়ে জল পান করতে চাইলে শত্রুরা তাঁকে সির্কা খেতে দিয়েছে। তবুও তিনি সব নীরবে সহ্য করেছেন। পিতার কাছে কাতর মিনতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, "পিতা, ওদের ক্ষমা কর! ওরা যে কী করছে, ওরা তা জানে না!" (লুক ২৩:৩৪)।
ঈশ্বরের ক্ষমা পেতে চাইলে আমাদেরও একে অপরকে ক্ষমা করতে হবে
| কাজ: দলে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করো। ১। তুমি যদি কাউকে কোনোদিন ক্ষমা করে থাক তা দলে অন্যদের সাথে সহভাগিতা করো। ২। কারও বিরুদ্ধে তোমার অন্তরে চাপা ক্ষোভ, রাগ বা প্রতিশোধের মনোভাব থাকলে তা তুমি কীভাবে জয় করতে পার এবং সত্যি সত্যি ক্ষমা করে দিতে পার? ৩। প্রার্থনা তোমাকে কীভাবে ক্ষমা করতে শেখাতে পারে? ৪। যীশু তোমাকে কীভাবে ক্ষমা করতে শেখাতে পারেন? |
আমরা পাপ করলেও যদি অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাই তবে আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। ঈশ্বর যা একবার ক্ষমা করেন তা আর কখনো মনে আনেন না। আমরাও যখন কারো অপরাধ ক্ষমা করি তখন যেন আর তা মনে না-আনি।
নিচের শাস্ত্রাংশগুলো নিয়ে ধ্যান করি:
পিতর এগিয়ে এসে যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন: "প্রভু, আমার ভাই আমার প্রতি বারবার অন্যায় করলে তাকে আমায় কতবার ক্ষমা করতে হবে? সাত সাতবার?” যীশু উত্তর দিলেন: "আমি বলছি, সাতবার কেন, বরং সত্তরগুণ সাতবার" (মথি ১৮:২১-২২)।
"তোমরা একে অন্যের প্রতি সহৃদয় হও, হও কোমলপ্রাণ। পরস্পরকে তোমরা ক্ষমা করে নাও, যেমন খ্রিষ্টে তোমাদের আশ্রয় দিয়ে পরমেশ্বরও তোমাদের ক্ষমা করেছেন" (এফেসীয় ৪:৩২)।
উপরে যে দুটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি তা আবার স্মরণ করি। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে উত্তর আগে দিয়েছিলাম তা আবার চিন্তা করি। যদি আমার মন্তব্য পরিবর্তন করতে চাই তা এখন করতে পারি।
| কাজ: নিচের প্রশ্নগুলো নিয়ে দলে আলোচনা কর ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করো: ১। আমি যদি আন্নার স্থানে থাকতাম তবে নমিতার সাথে আমি কেমন আচরণ করতাম? ২। আন্না ও সাগর যদি সত্যিই অন্তর থেকে ক্ষমা করে থাকে তবে তাদের অন্তরে তখন কী রকম অনুভূতি হয়েছিল? |
Read more