মারীয়া খ্রীষ্টের মাতা এবং তিনি খ্রীষ্টমন্ডলীরও মাতা। খ্রীষ্ট ও পবিত্র আত্মার রহস্যে কুমারী মারীয়ার ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। মন্ডলীর রহস্যেও কুমারী মারীয়ার ভূমিকাটি বিবেচনা করা হয়। মারীয়া ঈশ্বর জননী, মুক্তিদাতার জননী। তাই যীশুর সাথে জড়িত সবকিছুর সাথে তিনিও জড়িত। যীশু মণ্ডলী স্থাপন করেছেন, তিনি মণ্ডলীর মস্তক। মারীয়া যীশুর মা, তাই তিনি মণ্ডলীরও মা। মণ্ডলীর জন্মদানে মারীয়ারও ভূমিকা আছে। বিশেষভাবে মণ্ডলীর জন্মদিন, পঞ্চাশত্তমী পর্বের দিনে যখন পবিত্র আত্মা নেমে এসেছিলেন তখন মা মারীয়া শিষ্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। আজ পর্যন্ত মারীয়া মন্ডলীর মাতা হিসেবে সর্বদা মণ্ডলীতে উপস্থিত আছেন।
১। ধন্যা কুমারী মারীয়ার প্রতি ভক্তি: খ্রীষ্টমণ্ডলীতে মা মারীয়ার প্রতি ভক্তি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। খ্রীষ্টমণ্ডলীর আদি থেকেই তিনি ঈশ্বরজননী বলেই সম্মানিত হয়ে আসছেন। মণ্ডলীর উপাসনায় মা মারীয়ার বিশেষ স্থান আছে। মারীয়ার পর্বগুলো পালন, রোজারী মালা প্রার্থনার প্রতি ভক্তি- এগুলো মা মারীয়ার প্রতি ভক্তির নিদর্শনস্বরূপ। মণ্ডলীর ভক্তজনেরাও তাদের বিপদে-আপদে বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করে থাকে। শুধু তাই নয় পৃথিবীর অনেক গির্জাঘর ও গ্রটো মা মারীয়ার নামে ও উদ্দেশ্যে নির্মিত ও নিবেদিত। মা মারীয়ার স্মরণে অনেক তীর্থস্থানও রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তজন মায়ের প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা নিবেদন করতে যায়। মায়ের প্রতি বিশ্বাসের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অনেক আশ্চর্য কাজ সাধিত হয়েছে ও হচ্ছে। জপমালা প্রার্থনা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থনা।
২। মারীয়া: খ্রীষ্টমণ্ডলীর অন্তিমকালের প্রতিকৃতি: ধন্যা কুমারী নিষ্কলঙ্কা। তাঁর সাথে মন্ডলী সংযুক্ত রয়েছে বলে মণ্ডলীও পবিত্রতা অর্জন করেছে। এখানে কোনো খুঁত নেই। তথাপি এই মন্ডলীর বিশ্বাসীগণ তাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাপ জয় করা ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই তারা তাদের দৃষ্টি মারীয়ার প্রতি নিবদ্ধ রেখে সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ মারীয়ার মধ্যে খ্রীষ্টমন্ডলী ইতোমধ্যেই সর্বপবিত্র।
৩। মারীয়া হলেন খ্রীষ্টমন্ডলীর বাস্তব রূপ : মারীয়া হচ্ছেন কুমারী। তাঁর কুমারীত্ব হচ্ছে তাঁর বিশ্বাসের চিহ্ন। এই বিশ্বাসের মধ্যে সন্দেহের কোনো স্থানই নেই। এই বিশ্বাস ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে তাঁর অখণ্ড আত্মদানের প্রতীক। তাঁর বিশ্বাসই তাঁকে ত্রাণকর্তার জননী হতে সক্ষম করেছে। সাধু আগস্টিন বলেন, "খ্রীষ্টের রক্তমাংসের দেহকে গর্ভে ধারণ করার জন্য মারীয়া ঠিকই ধন্যা, কিন্তু তিনি আরও অধিক ধন্যা, কেননা তিনি বিশ্বাসে খ্রীষ্টকে আলিঙ্গন করেছেন।" মারীয়া একই সময়ে কুমারী ও মা হয়ে, খ্রীষ্টমণ্ডলীর প্রতীক হয়েছেন। খ্রীষ্টমণ্ডলী সত্যিকারে বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐশবাণীকে গ্রহণ করে প্রকৃত মা হয়ে ওঠে। বাণীপ্রচার ও দীক্ষাস্নান প্রদানের মধ্য দিয়ে তিনি সন্তানদের জন্ম দেন। এই সন্তানগণ পবিত্র আত্মার শক্তিতে এবং পরমেশ্বর হতে এক নতুন এবং অবিনশ্বর জীবনে জন্মলাভ করে। তিনি নিজেই সেই কুমারী, যিনি তাঁর বরের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণ ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসে রক্ষা করেন।
| কাজ: তুমি কীভাবে মা মারীয়ার প্রতি ভক্তি নিবেদন করে থাক, তা দলে সহভাগিতা করো। |
গান করি
আমার এ প্রাণ পরম প্রভুর মহিমা গায়।
হৃদয় ভরে মোর ত্রাণকর্তার প্রেরণায়।।
এই দীনা দাসীকে ধন্যা করিলে, অসীম আনন্দ হৃদয়ে দিলে।।
গর্বিতকে তিনি করেন লজ্জানত, শক্তিমান সম্রাট হয় পরাজিত।
দীনগণ হয় সমাজে মহান, যুগে যুগে প্রভু ন্যায়বান।।