মানবজাতির পতন ও ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি থেকেই শুরু হয়েছে মুক্তির পরিকল্পনা। সাপের বেশ ধরে আসা শয়তানকে ঈশ্বর বলেছিলেন: "তোমার ও নারীর বংশের মধ্যে, তোমার বংশ ও তার বংশের মধ্যে আমি এক শত্রুতা জাগিয়ে তুলব, তার বংশের মানুষ তোমার মাথায় আঘাত হানবে আর তুমি তাদের পায়ের গোড়ালিতে ছোবল মারবে।" এই প্রতিশ্রুাতির মধ্যে এক নারীর কথা ও তাঁর বংশের কথা উল্লেখ আছে।
মারীয়া ছিলেন নাজারেথের এক কুমারী কন্যা। জাতিতে তিনি ছিলেন ইহুদি। তাঁর বাবা ছিলেন যোয়াকিম এবং মা আন্না। জন্মের পূর্ব থেকেই মারীয়াকে তাঁর বাবা ও মা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেছিলেন। আর ঈশ্বর তাঁর পুত্রের জননী হবার জন্য মারীয়াকে নিষ্পাপ অবস্থায় পৃথিবীতে এনেছিলেন।
একদিন ঈশ্বর মারীয়ার কাছে স্বর্গদূত গাব্রিয়েলকে পাঠালেন। মারীয়া ছিলেন যোসেফ নামক দাউদ বংশীয় একজনের বাগদত্তা। স্বর্গদূত তাঁর কাছে এসে বললেন: "প্রণাম মারীয়া। পরম আশিসধন্যা তুমি! প্রভু তোমার সঙ্গেই আছেন!" এই কথা শুনে মারীয়া খুব বিচলিত হলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন, এমন সম্ভাষণের অর্থ কী? স্বর্গদূত তখন মারীয়াকে বললেন: "ভয় পেয় না, মারীয়া! তুমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছ। শোন, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রের জন্ম দেবে। তাঁর নাম রাখবে যীশু। তিনি মহান হয়ে উঠবেন, পরাৎপরের পুত্র বলে পরিচিত হবেন। প্রভু ঈশ্বর তাঁকে দান করবেন তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন। যাকোব-বংশের ওপর তিনি চিরকাল রাজত্ব করবেন; অশেষ হবে তাঁর রাজত্ব।"
মারীয়া তখন দূতকে বললেন: "তা কী করে হবে? আমি যে কুমারী?" উত্তরে দূতটি বললেন: "পবিত্র আত্মা এসে তোমার ওপর অধিষ্ঠান করবেন, পরাৎপরের শক্তিতে আচ্ছাদিত হবে তুমি। তাই এই যাঁর জন্ম হবে, সেই পবিত্রজন ঈশ্বরের পুত্র বলেই পরিচিত হবেন। আর দেখ, তোমার আত্মীয় এলিজাবেথ, সে-ও বৃদ্ধবয়সে একটি পুত্রকে গর্ভে ধারণ করেছে। লোকে যাকে কথ্যা বলে ডাকত, তাঁরই এখন ছয় মাস চলছে। কারণ ঈশ্বরের অসাধ্য কিছুই নেই।!" মারীয়া তখন বললেন: "আমি প্রভুর দাসী। আপনি যা বলছেন, আমার তাই হোক!" (লুক:১:২৬-৩৮)।
| কাজ: মারীয়ার কাছে দূত-সংবাদের ঘটনাটি অভিনয় করে দেখাও। অভিনয় শেষে দূতের বন্দনা প্রার্থনাটি একসঙ্গে বলো। |
বাইবেলের এই অংশটুকু পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই স্বর্গদূতের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মারীয়ার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পাঠালেন। মুক্তিদাতার মা হবার জন্য তিনি মারীয়াকে আহ্বান জানালেন। আর মারীয়া প্রথমে বিচলিত হলেও ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। তিনি পুরোপুরিভাবে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সঁপে দিলেন। তিনি বললেন, "আমি প্রভুর দাসী! আপনি যা বলছেন, আমার তাই হোক!"
নাজারেথের কুমারী কন্যা মারীয়া অতি সাধারণভাবেই জীবনযাপন করছিলেন। আর দশটি সাধারণ মেয়ের মতোই মারীয়া যোসেফকে নিয়ে ঘর করার স্বপ্ন দেখছিলেন। কারণ যোসেফের সাথে তাঁর বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়েছিল। মারীয়া ও যোসেফের মধ্যে বাগ্দান হয়েছিল। আর ঠিক সেই সময় দূতের এই সংবাদ তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল। তারপর অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান গর্ভে ধারণ করার বিষয়টিও যে অসম্ভব তা নিয়েও মারীয়া গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে পুরোপুরিভাবে ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিলেন। কারণ ঈশ্বরের প্রতি তাঁর ছিল গভীর আস্থা ও বিশ্বাস। তিনি ছিলেন অতি পবিত্র, ধার্মিক ও ঈশ্বরভক্ত নারী। ঈশ্বরের যে-কোনো ইচ্ছা পালনে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও উন্মুক্ত। নিজেকে তিনি ঈশ্বরের দাসী বলেছেন। স্বর্গদূত যখন তাঁকে বললেন যে ঈশ্বরের কাছে সবই সম্ভব, তখন মারীয়া তাঁর জীবনে ঈশ্বরের যে-কোনো ঘটনাই ঘটতে দিতে রাজি হলেন। এতে তাঁর কী হবে, সমাজের লোকেরা কী ভাববে বা বলবে এ ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি চিন্তা করেননি। তাঁর পুরো জীবন দিয়ে তিনি শুধু ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করবেন এটাই ছিল তাঁর একান্ত ইচ্ছা।
| কাজ: তোমার জীবনে তুমি কীভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন কর তা দলের সাথে সহভাগিতা করো। |