আদিম মানুষের শিল্পকলা (পাঠ: ৫ ও ৬)

চারু ও কারুকলার পরিচয় - চারু ও কারুকলা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2.2k

মানুষের আঁকা প্রথম ছবি

আদিম মানুষরাও ছবি আঁকত। আর তাদের আঁকা ছবি দেখেই আজ আমরা জানতে পেরেছি তাদের জীবন ধারনের কথা। ঘর-বাড়ি তাদের ছিল না। বানাতেও জানত না। থাকত তারা গুহায়। চাষবাস, ফসল ফলানে-এসব কিছুই জানত না। পশু শিকার করে, মাংস খেয়ে জীবন বাঁচাত। যে গুহায় বাস করত তারা দল বেঁধে, সে গুহার এবড়োখেবড়ো দেয়ালেই তারা ছবি এঁকেছে। অনেকগুলো গুহা ফ্রান্সে ও স্পেনে আবিষ্কৃত হয়েছে।
ঘর সাজাবার জন্য তারা ছবি আঁকত না। কারণ ঘরই বানাতে শেখেনি, ছবি টাঙাবে কী! তবে কেন আঁকত জান? ছবি আঁকা আদিম মানুষের কাছে ছিল একটা জাদু বিশ্বাসের মতো। জীবজন্তু শিকার করাই ছিল তাদের একমাত্র কাজ। তাই যেসব পশু তারা শিকার করত, তার ছবিই এঁকেছে। আবার পশুর গায়ে তীর, বর্শা, এসবও এঁকে দিয়েছে। এর অর্থ হলো, শিকার করার হাতিয়ার দিয়ে পশুটিকে শিকার করা হলো। শিকারে বের হবার আগে এসব ছবি এঁকে শিকারে বের হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, শিকারে আজ সফল হবই। সে যুগের বেশিরভাগ জীবজন্তু ছিল বাইসন, ম্যামথ ইত্যাদি।
তোমাদের নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করে, কী দিয়ে আদিম মানুষরা ছবি আঁকত? তুলি দিয়ে? রং পেত কোথায়? হ্যাঁ, আমাদের মতো তারা এত সুন্দর তুলি বানাতে জানত না। পশুর শক্ত হাড় সুচালো করে তা দিয়ে আঁচড় কেটে রেখা টানত। জীবজন্তুর পশম একসঙ্গে বেঁধে তুলি বানাত, আর রং তৈরি করত নানা রঙের মাটির সঙ্গে চর্বি মিশিয়ে। আর অবাক কাণ্ড-হাজার হাজার বছর পরও এসব ছবির রং, রেখা এখনো খুব সুন্দর ও অক্ষত রয়েছে।
আদিম মানুষ পশু শিকারের জন্য পাথরের তৈরি বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করত। একপর্যায়ে এসব হাতিয়ারের গায়ে আঁচড় কেটে তারা নানারকম ছবি ফুটিয়ে তুলত। এমনকি তারা মাছের মেরুদন্ডের কাঁটা, হাড়ের টুকরো ইত্যাদি দিয়ে গলার হার (মালা) তৈরি করত। সেখান থেকেই কারুশিল্পের শুরু। এভাবে আদিম মানবগোষ্ঠী চারু ও কারুশিল্পের সূচনা করেছিল।

কাজ: আদিম মানবগোষ্ঠীই চারু ও কারুশিল্পের সূচনা করেছিল-কথাটির ব্যাখ্যা লেখো।

নতুন শিখলাম: বাইসন, ম্যামথ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...