পাঠ: ৩ গাইড ও নোট

ষষ্ঠ শ্রেণি — মাধ্যমিক - চারু ও কারুকলা - বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস | NCTB BOOK
259

কিছু দিনের মধ্যে শিল্পবিতানের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকার বেশ সাড়া পড়ে যায়। কচি-কাঁচার মেলা শিল্পবিতানের শিশুদের ও সারা দেশের শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রতিবছর নিয়মিত চিত্রপ্রদর্শনী ও আনন্দ মেলার আয়োজন করে। ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১ সালে ঢাকায় প্রেসক্লাবের মাঠে এই আনন্দ মেলা শিশুদের মাঝে বিপুল সাড়া জাগায়। এই আনন্দ মেলা ও চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে শিশুদের ছবি আঁকা বিষয়টি সারা দেশে গ্রামে-গঞ্জে, এমন কী পাহাড়ি দুর্গম এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। হাজার কয়েক ছবি আসত সারা দেশ থেকে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ও গ্রামের ছেলেমেয়েরা বেশ সুন্দর ছবি এঁকে পাঠাত।

১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর দিনটি ছিল কচি-কাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠার দিন। ঢাকা শহরের উৎসাহী শিশু- কিশোরদের আঁকা বেশ কিছু ছবি ও কারুকাজ সংগ্রহ করা হলো। দৈনিক 'ইত্তেফাক' অফিসের নিচতলায় দুটি কামরায় ছিল কচি-কাঁচার মেলার অফিস ও লাইব্রেরি কাকলি পাঠাগার। শিশুদের সংগ্রহ করা ছবি ও কারুকাজের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলো এই কচি-কাঁচার মেলার দুই কামরায়। উদ্বোধন করলেন পটুয়া কামরুল হাসান। এভাবে শিল্পবিতানের অর্থাৎ ছোটদের ছবি আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল বা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলো।
তাই বলা যায়, দুটি ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের শিশুদের চিত্রকলা চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়। একটি ১৯৫৬ সালের খেলাঘর আয়োজিত শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী এবং অন্যটি ১৯৫৮ সালে শিল্পবিতানের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...