যে বিষয়ে ছবি আঁকবে তা নিয়ে প্রথমে একটু ভেবে নিতে হবে। যদি কোনো কিছু দেখে আঁকতে হয়, তবে বিষয়বস্তু ভালো করে দেখে নিয়ে কাগজে তা কেমন করে সাজাবে সেটা ঠিক করে নিতে হবে। সেটা হতে পারে একটি বিড়ালের ছবি, হতে পারে একটি পাতিল বা একটি গ্রামের দৃশ্য। একটিমাত্র বিষয় যদি হয় অর্থাৎ ধরা যাক একটি ফুলের ছবি অথবা একটি মুরগির ছবি আঁকা হবে। সেক্ষেত্রে ছবিটি এমনভাবে আঁকতে হবে যাতে ড্রইং করার পর এর কোনো অংশ কাগজের শেষ সীমানায় চলে না আসে। উপরে-নিচে, ডানে-বায়ে কাগজে কিছু জায়গা ছেড়ে দিয়ে মূল ড্রইংটি করতে হবে। যাতে এটি কাগজ অনুযায়ী খুব বড় বা খুব ছোট না হয়। আবার যদি বিষয় হয় গ্রামের দৃশ্য, তবে ভেবেচিন্তে দেখতে হবে কেমন করে সাজালে ভালো লাগবে। কারণ এখানে অনেক বিষয় মিলে একটি বিষয়। ঘরবাড়ি আছে, গাছপালা আছে, নদীর পাড়ে ফসলের মাঠ, তীরে নৌকা বাঁধা বা নদীতে ভাসমান পালতোলা নৌকা। আছে মানুষ ও পাখি। এ সবকিছু মিলেই তো গ্রাম। ছবিটি চার-পাঁচরকমভাবে সাজিয়ে দেখে নেয়া যায়, কোনটি বেশি সুন্দর লাগে। প্রয়োজনে দু-একটি বিষয় কাটছাঁট করাও যেতে পারে। অর্থাৎ আঁকিয়ে ছবিটির বিষয় তার দৃষ্টিতে যেভাবে সুন্দর মনে হবে সেভাবেই সাজাবে। কাগজে বিষয়বস্তুর সাজানো সুন্দর না হলে ছবিটি আকর্ষণীয় হবে না। তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাগজে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে ড্রইং করে নিতে হবে।
দূরত্ব ও অনুপাত
এবার দূরত্ব ও অনুপাত সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাক। এর আগে গ্রামের দৃশ্য সাজানোর আলোচনা করা হয়েছে। তাতে নদী, গাছপালা, মানুষ ও নৌকা রয়েছে। এখন মানুষ অনুপাতে নৌকা কত বড় হবে, তার সাথে গাছ থাকলে সেটা কত বড় হওয়া প্রয়োজন বা গাছের নিচে গরু কিংবা মানুষ থাকলে সেটা কত ছোট হবে তার সঠিক ধারণা থাকতে হবে। ছবিতে ছোট ও বড় বস্তুর তারতম্যকে অনুপাত বলে। একজন মানুষ আঁকলে শরীরের তুলনায় মাথা কতটুকু হবে বা হাত কতটুকু লম্বা হবে, পুরো শরীরে কোমর থেকে পা পর্যন্ত কতটুকু এবং কোমর থেকে কাঁধ পর্যন্ত কতটুকু সে অনুপাত সঠিক রেখে ছবি আঁকতে হয়। সে কারণে ভালোভাবে বিষয়বস্তু দেখে নিতে হবে। আবার নদীতে তিনটি নৌকা থাকলে বা একাধিক মানুষ থাকলে সামনের নৌকা থেকে পিছনের নৌকা এবং সামনের মানুষ থেকে পিছনের মানুষ, গাছপালা ইত্যাদি কতটুকু দূরে তা ঠিকমতো তুলে ধরতে হবে। কাছেরটির অনুপাতে দূরেরটি কতটুকু ছোট হবে তা ঠিকমতো আঁকতে পারলেই ছবির মধ্যে দূরত্ব বোঝানো যাবে। সেক্ষেত্রে ছবিতে রং দেবার সময়ও কাছের জিনিসের রং অপেক্ষা দূরের জিনিসের রং হবে হালকা।
ছবি যতই সুন্দর হোক না কেন অনুপাত ও দূরত্ব সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না গেলে কোনো অবস্থাতেই ছবি বাস্তবধর্মী হবে না। অনুপাতের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তুলনামূলকভাবে একটি জিনিস অপর একটি জিনিস হতে কত বড় বা ছোট তা নিরূপণ করা। অতএব, বাস্তবধর্মী ছবি আঁকার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত মূল্যবান।
নতুন শিখলাম: অনুপাত, বাস্তবধর্মী ছবি।

বিষয় সাজানো: ওপরে একই বিষয়ে চার রকমভাবে সাজানো হয়েছে। যেটি ভালো সেটি আঁকতে হবে। তবে ৩নং ছবি সবচেয়ে ভালো। তারপর ৪নং ১নং ও ২নং।