বাংলাদেশের কারুশিল্পের পরিচয় (পাঠ: ৫ ও ৬)

বাংলাদেশের লোকশিল্প ও কারুশিল্প - চারু ও কারুকলা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

650

লোকশিল্পের মতো বাংলাদেশের কারুশিল্পও আমাদের দেশের মানুষের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে। আমাদের প্রকৃতিতে সহজে পাওয়া যায় এমন কারুশিল্পের উপাদান হচ্ছে বাঁশ, বেত ও কাঠ। তাই বাঁশ, বেত ও কাঠের তৈরি কারুশিল্প আমাদের দেশে বিকাশ লাভ করেছে এবং এর শিল্পগুণ সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হচ্ছে। তাছাড়া মাটির তৈরি বিভিন্ন বাসনপত্র এবং তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র আমাদের কারুশিল্পের উজ্জ্বল নিদর্শন।

বাঙালি মেয়েদের সাজসজ্জায় অলংকারের ব্যবহার অতিপ্রাচীন। চমৎকার নকশা করা সোনা ও রূপার নানা ধরনের অলংকারও সুন্দর কারুশিল্প। বাংলাদেশের আদিবাসীদের ব্যবহার করা বিভিন্ন অলংকারও আমাদের কারুশিল্পের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। তাছাড়া তাঁতের শাড়ি বিশেষ করে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক ও কাতান শাড়ি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কারুশিল্প হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলস, সোরাই, পিতল ও কাঁসার থালা, গ্লাস, কলসি, গামলা, চিলমচি, পানের বাটা থেকে শুরু করে লোহার তৈরি দা, কুড়াল, খন্তা, কাস্তে, কড়াই, জাঁতী ইত্যাদি সবকিছুর গায়েই আঁচড় কেটে বা খোদাই করে ফুল, লতা, পাতা, পাখি ও নানা ধরনের নকশা আঁকা হয়। এগুলো সবই বাংলাদেশের কারুশিল্প।
নতুন শিখলাম: দারুশিল্প।

এছাড়া বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন আসবাব, চেয়ার, টেবিল, মোড়া, খাট, সাজি, ডালা, কুলা, মাছ ধরার চাঁই, পলো, ওঁচা, চোঁচ এবং আদিবাসীদের তৈরি নানারকম নকশা করা কাপড়, চাদর, কম্বল, বাঁশ ও বেতের টুকরি, মাথাল, শাঁখার চুড়ি, ঝিনুকের বোতাম, হাড়ের চিরুনি ইত্যাদি অসংখ্য জিনিস নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ভুবন।

কাজ:

১. তোমার বাড়িতে বা আশেপাশে ব্যবহার করা হয় এরকম কয়েকটি কারুশিল্পের নাম খাতায় লেখো এবং পাশে তার ছবি আঁকো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...