আদিম মানুষের পর কয়েক হাজার বছর কেটে গেছে। পৃথিবীর কত উত্থান-পতন হয়েছে। কত জাতি, কত সভ্যতা এসেছে, আবার বিলীনও হয়ে গেছে। সব সভ্যতার কথা আমরা না জানলেও অনেক সভ্যতার কথা আমরা জানি। আর এই জানার উৎস হচ্ছে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, কারুশিল্প। তাদের বই-পুস্তক হয়তো বিলীন হয়ে গিয়েছে, ভাষা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু ধ্বংসাবশেষে যেসব চিত্র, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায় তা থেকেই পণ্ডিতরা বের করতে পারেন সে যুগের মানুষের চাল-চলন, সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাস।
উদাহরণস্বরূপ: অ্যাশিরিও সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, মায়া সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা প্রভৃতি।
কারণ, চিত্রকলা বা শিল্পকলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ভাষা বা পৃথিবীর ভাষা অর্থাৎ এক দেশের বা এক যুগের চিত্রকলা বা শিল্পকলা অন্য দেশের লোকের কয়েক যুগ পরেও বুঝতে কষ্ট হয় না। মনে করো, আফ্রিকার জিম্বাবুয়ের একটি ছেলে তোমাকে একটি ছবি এঁকে পাঠাল। ছবিটি পেয়ে তোমার খুব ভালো লাগল এবং তুমি খুবই আনন্দিত। কারণ ছবিটি বুঝতে তোমার কষ্ট হয়নি। কিন্তু সেই ছেলেটি তার ভাষায় তোমার অনেক প্রশংসা করে বা গুণগান গেয়ে তোমাকে চিঠি লিখল। তুমি তার এক বর্ণ বুঝলে না কারণ তুমি জিম্বাবুয়ের ভাষা জানো না। কিন্তু একই ছেলের আঁকা ছবি বুঝতে তোমার কোনো কষ্টই হয়নি।
| কাজ: পাঁচ-ছয়জনের দল গঠন করে প্রতি দল নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আদিম মানুষের ছবি আঁকার কারণ সম্পর্কে ১০টি বাক্য লেখো। |