কলম দিয়ে আমরা লেখি। কলম দিয়ে ছবিও আঁকা যায়। ঝরনা কলমে কালো কালি ভরে তা দিয়ে সুন্দর ছবি আঁকা যায়। অন্য রঙের কালি দিয়েও ছবি আঁকা যায়। তবে শিল্পীরা কালো কালিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ছবি আঁকার জন্য বিশেষ এক ধরনের কালো কালি রয়েছে, যাকে সাধারণত বলে চাইনিজ ইঙ্ক। অতি প্রাচীনকাল থেকে চীন দেশের শিল্পীরা ছবি আঁকায় কালো কালি প্রচুর ব্যবহার করতেন। তবে এরকম কালো কালিকে ইন্ডিয়ান ইঙ্কও বলা হয়।
তুলিতে কালি লাগিয়ে অনেকেই ছবি আঁকেন। কালি দিয়ে আকা ছবি, কলম ও তুলির কারণে একটি আরেকটি থেকে ভিন্নতর হয়। ফেল্ট পেন বা সিগনেচার পেন নামে কিছু কলম দিয়ে সাদাকালো ও রঙিন ছবি আঁকা যায়। প্রায় একই বস্তু দিয়ে তৈরি মার্কিং পেন নামে যে কলম আছে তা দিয়েও ছবি আঁকা সম্ভব। বাঁশের সরু কঞ্চি ও খাগের কঞ্চি দিয়ে সরু ও মোটা কলম বানিয়ে কালিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে তা দিয়ে ছবি আঁকা যায়। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন খাগের কলম দিয়ে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করতেন। তাঁর বহু বিখ্যাত ড্রইং এভাবে আঁকা। গ্রামের ছেলেমেয়েরা অনায়াসে বাঁশের কঞ্চি ও খাগ জোগাড় করতে পারে।
তুলি
ছবি আঁকার জন্য তুলি হলো অন্যতম একটি হাতিয়ার। বিভিন্ন ধরনের রং, কাগজ ও ক্যানভাসের কারণে নানারকম তুলি তৈরি হয়ে থাকে। জলরং ও তেলরঙের জন্য আলাদা তুলি তৈরি হয়। কালি ও জলরঙের জন্য সাধারণত নরম ও কম শক্ত পশমের তুলি ব্যবহার হয়। তেলরং বা অস্বচ্ছ রঙের জন্য অপেক্ষাকৃত শক্ত পশমের তুলি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে তুলির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে শিল্পীর সুবিধা, স্বাচ্ছন্দ্য ও ইচ্ছার ওপর। তুলি সাধারণত পশুর পশম ও কৃত্রিমভাবে পশম তৈরি করে বানানো হয়। ছবি আঁকার সুবিধার জন্য তুলি সরু থেকে ধীরে ধীরে মোটার দিকে, ০ (শূন্য) নং থেকে ২০নং পর্যন্ত করা হয়ে থাকে। ১নং হলো বেশ সরু, তারপর ২নং ও ৩নং করে ২০টি পর্যায়ে তৈরি করা হয়। আবার খুবই সরু ও পাতলা তুলির জন্য ১নং এর নিচের ০ (শূন্য) ০০ (দ্বিগুণ শূন্য) ইত্যাদি ভাবেও তুলি তৈরি হয়ে থাকে।

ক্যানভাস, বোর্ড, ক্লিপ ও ইজেল
বোর্ড, ক্লিপ ছবি আঁকার জন্য অতি প্রয়োজনীয়। বোর্ডে কাগজ রেখে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে ছবি আঁকা সুবিধা। আর এই বোর্ডকে কেউ মেঝেতে বসে হাত রেখে, কেউ টেবিলে বসে আবার অনেকে ইজেলে রেখে ছবি আঁকে। তবে ইজেল ক্যানভাসে ছবি আঁকার জন্য সবচাইতে বেশি প্রয়োজনীয়। কে কীভাবে আঁকবে তা নির্ভর করে শিল্পীর সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর।

নতুন শিখলাম: চাইনিজ ইঙ্ক, ইন্ডিয়ান ইঙ্ক, ইজেল।