উপকরণ অর্থ যা দিয়ে কোনো কিছু তৈরি করা হয়। উপকরণ এক বা একাধিক হতে পারে। যেমন-একজন কাঠমিস্ত্রি যখন চেয়ার, টেবিল, খাট ইত্যাদি তৈরি করে, তখন তার হাতুড়ি, বাটাল, করাত ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এগুলো তার উপকরণ। তেমনি ছবি আঁকতে গেলে আঁকিয়ের যে সমস্ত জিনিস প্রয়োজন, সেগুলোকে আমরা ছবি আঁকার উপকরণ বলব।
ছবি আঁকার বিভিন্ন রকম উপকরণ রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমের ছবিতে বিভিন্ন রকম উপকরণ ব্যবহার করা হয়। কাগজ, পেনসিল, কালি-কলম, তুলি, বোর্ড, কিপ, ইজেল, রং ইত্যাদি হলো ছবি আঁকার প্রাথমিক উপকরণ। এবার ছবি আঁকার উপকরণগুলো সম্পর্কে আমরা জানব।
কাগজ
ছবি আঁকার প্রধান একটি উপকরণ কাগজ। এই কাগজ মোটা, পাতলা, খসখসে, মসৃণ ও চকচকে জমিনের হয়ে থাকে। বেশি মোটা কাগজকে আমরা বোর্ড বলি। এই বোর্ডও খসখসে, মসৃণ হয় এবং বিভিন্ন রঙের ও মানের পাওয়া যায়। ছবি আঁকার জন্য সাধারণ মানের যে কাগজ বাংলাদেশে পাওয়া যায় বা যে কাগজটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকার জন্য সহজলভ্য তার নাম কার্ট্রিজ কাগজ। কার্ট্রিজ কাগজ মোটা পাতলা ২-৩টি মাত্রায় পাওয়া যায়। কার্ট্রিজ কাগজের রং ধবধবে সাদা নয়। একটু ঘোলাটে সাদা। এই কার্ট্রিজ কাগজে পেনসিল, কালি-কলম, জলরং ও প্যাস্টেল ছবি আঁকা যায়। আমাদের দেশে ছবি আঁকা শেখার জন্য প্রাথমিকভাবে এই কাগজটি বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ধবধবে সাদা খানিকটা মোটা অফসেট কাগজে কালি-কলমে ও পেনসিলে সুন্দরভাবে ছবি আঁকা যায়। এই কাগজে জলরঙে ছবি ভালো হয় না। জলরঙে ছবি আঁকার সবচেয়ে উপযুক্ত কাগজ হলো একটু মোটা ও খসখসে জমিনের। কার্ট্রিজ কাগজের খসখসে পৃষ্ঠায় সাধারণ মানের জলরং হবি আঁকা যায়। তবে জলরং মাধ্যমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কাগজ হ্যান্ডমেড কাগজ বা হাতে তৈরি কাগজ।

এখন মেশিনেও এ কাগজ তৈরি হয়। তবে নাম রয়ে গেছে হ্যান্ডমেড পেপার। এ কাগজে প্যাস্টেল রঙেও ছবি আঁকা যায়। আমাদের দেশে অন্যান্য যেসব কাগজ রয়েছে তা হলো আর্টকার্ড, আর্টপেপার, বক্সবোর্ড, পিচবোর্ড, নানান রঙের পাতলা মোটা কাগজ। সাধারণ লেখার এবং বই ছাপার কাগজ হলো নিউজপ্রিন্ট। আর্টকার্ড ও আর্টপেপার একমাত্র কালি-কলম ও তুলিতে ছবি আঁকার উপযোগী। এই কাগজ চকচকে ও মসৃণ। উন্নতমানের ছাপার জন্য এই কাগজ উপযোগী।
বক্সবোর্ড মোটা এবং একপিঠ সাদা রঙের ও মসৃণ হয়। আরেক পিঠ হয় হালকা ছাই রং বা বাদামি রঙের এবং সামান্য খসখসে। এ কাগজ সাধারণত ছবির মাউন্ট করা অর্থাৎ ছবির চারদিকে মার্জিন দিয়ে সুন্দরভাবে বাঁধাইয়ের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ কাগজের ছাই রং পিঠে প্যাস্টেলে ছবি আঁকা বেশ মজার। পিচবোর্ড খানিকটা মোটা ও শক্ত কাগজ। রং গাঢ় বাদামি এবং খাকি রঙেরও হয়ে থাকে। এতে প্যাস্টেল ঘষে ছবি আঁকা সম্ভব। বই বাঁধাই ও বিভিন্ন প্যাকেজিংয়ের জন্য বাক্স তৈরিতে যে খসখসে বোর্ড পাওয়া যায়, অনেক শিল্পীই বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকার জন্য এই বোর্ড ব্যবহার করে থাকেন।
রঙিন কাগজ রয়েছে নানা রঙের, মোটা, পাতলা, খসখসে ও মসৃণ। এই রঙিন কাগজে নানাভাবে ছবি আঁকা যায়। অনেক শিল্পী রঙিন কাগজ কেটে-ছিঁড়ে আঠা দিয়ে লাগিয়ে অনেক রকম ছবি তৈরি করেন। কাগজ কেটে, ছিঁড়ে যেসব ছবি তৈরি করা হয় তাকে বলে কোলাজ ছবি।
পেনসিল
ছবি আঁকার প্রধান একটি হাতিয়ার হলো পেনসিল। আমাদের সাধারণ লেখালেখির কাজে ব্যবহার করার জন্য আছে সাধারণ কিছু পেনসিল এবং ড্রইং করার জন্য বা ছবি আঁকার জন্য রয়েছে আলাদা কিছু পেনসিল। এসব পেনসিলের গায়ে লেখা থাকে HB, B, 1B, 2B, 3B, 4B, 5B, 6B ইত্যাদি। শক্ত শিষের পেনসিল সাধারণত লেখার কাজে ব্যবহার হয়। এসব পেনসিলে কাগজে গাঢ়ভাবে দাগ কাটে না। ধীরে ধীরে নরম ও গাঢ় কালো হতে হলে 2B, 3B, 4B, 5B এবং 6B তে যেয়ে পেনসিলের শিষ বেশ নরম হয় ও কাগজে কালো হয়ে দাগ কাটে। অনেক শিল্পীই পেনসিল দিয়ে সম্পূর্ণ ছবি আঁকেন। 2B, 4B, 6B-এই তিন মাত্রার পেনসিল দিয়ে অথবা যেকোনোটি দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি আঁকা সম্ভব।
নতুন শিখলাম: কোলাজ ছবি, বক্সবোর্ড, কার্ট্রিজ কাগজ, হ্যান্ডমেড কাগজ।