ছবি আঁকার অনুশীলন (পঞ্চম অধ্যায়)

চারু ও কারুকলা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.5k

এ অধ্যায় অনুশীলন শেষে আমরা-

  • প্রকৃতির সাধারণ বিষয়গুলোর পর্যবেক্ষণ করতে পারব।
  • গাছ, ফুল, লতা-পাতার ছবি আঁকতে পারব।
  • দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস আঁকতে পারব।
  • প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে পারব।
  • বিভিন্ন উৎসবের ছবি আঁকতে পারব।
  • জ্যামিতিক নকশা আঁকতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তথ্য থেকে প্রশ্নের উত্তর দাও

তাসিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কতকগুলো পাতা, ফুল কুড়িয়ে এনে আঁকা শুরু করলো। সেখানে প্রতিটি পাতারই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

ছবি আঁকা একটি ব্যবহারিক কাজ, ইতঃপূর্বে ছবি আঁকার সাধারণ নিয়মকানুন আমরা ভালোভাবে জেনেছি যে, এবার এসব নিয়মকানুন ব্যবহার করে নিজের মনের মতো করে হাতেকলমে কাজ করার মাধ্যমে নতুন নতুন ছবি আঁকার দক্ষতা অর্জন করব। এভাবে ছবি আঁকার মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ সৃজনশীলতা প্রকাশ করব।
উপরের অঙ্কিত ফুলের চিত্রগুলো আঁকতে গিয়ে আমরা দেখলাম, বৃত্তের বহুবিধ ব্যবহার, বিশেষ করে গোলাকার বস্তু আঁকতে গেলে বৃত্তের ব্যবহার একটু বেশি হয়। এই গোলাকার আকৃতিকে আবার নানাভাবে আমরা দেখি। যখন আমরা কোনো গোল বস্তুকে উপর অথবা নিচ থেকে দেখব তখন কিন্তু গোলই দেখব। আবার যখন চোখ বরাবর আড়াআড়ি করে দেখব তখন কিন্তু আবার চ্যাপ্টা দেখব। এ বিষয়ে আমরা এখন জানব।

কাজ: নিজ নিজ খাতায় বৃত্তের ব্যবহার করে তোমার প্রিয় দুটি ফুল আঁকবে।
Content added By

পাঠ ১-এ আমরা ফুল আঁকার কিছু সাধারণ নিয়ম জেনেছিলাম। কিন্তু ফুল তো আর একা নয়, তার সাথে রয়েছে কান্ড, বৃতি, পাতা, কলি, কাঁটা ইত্যাদি। তাই আঁকার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কোন জিনিসটি কোন দিকে হেলে, দুলে আছে, তার আকার-আকৃতিই বা কেমন, আবার প্রতিটি ফুলের রয়েছে নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য, রং। তেমনি পাতার গঠনেও রয়েছে আলাদা আলাদা রূপ। এ সকল পাতা আঁকার সময়ও একটু গভীরভাবে দেখে নেব। প্রতিদিন যেসব পাতা আমরা দেখি, সেখান থেকে কয়েক প্রকারের পাতা সংগ্রহ করে ড্রইং খাতার উপর রেখে তা অনুশীলন করতে পারি।

কাজ: তোমার খাতায় ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ৩-৪টি পাতা অঙ্কন করে দেখাবে।
Content added By

যে সকল জিনিস আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে যে সকল জিনিসপত্র ছাড়া আমরা চলতে পারি না যেমন- থালা-বাসন, জগ, গ্লাস, হাঁড়ি-পাতিল, চেয়ার, টেবিল, বইপত্র ইত্যাদিকে আমরা দৈনন্দিনের ব্যবহার্য জিনিস বলতে পারি। এসব জিনিস আঁকতে গেলে আমাদের নানা প্রকার রেখা ব্যবহার করে এর আকার, আকৃতি, গঠন অবয়ব যতখানি সম্ভব নিখুঁত ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করতে হবে। এজন্য রেখাকে আমরা ছবি আঁকার মূল প্রাণশক্তি বলতে পারি।
রেখা সাধারণত দুই প্রকার-
১। সরল রেখা
২। বাঁকা রেখা

সরল রেখার সাহায্যে কতগুলো ব্যবহার্য জিনিসের প্রাথমিক আকার দেখব-

কাজ: সবাই নিজ নিজ ড্রইং খাতায় যেকোনো তিনটি ব্যবহারিক জিনিসের সরল রেখা দিয়ে তার কাঠামো তৈরি করে দেখাবে।
Content added By

পূর্ব পাঠে আমরা শুধু ব্যবহারিক জিনিসের সরল রেখা ব্যবহার করে তার কাঠামো তৈরি শিখেছিলাম এই পাঠে আমরা সেইসব কাঠামো থেকে জিনিসগুলোর আসল রূপ বাঁকা রেখার সমন্বয় করে আকার-আকৃতি ও গঠন নিখুঁতভাবে নিজেদের সৃজনশীলতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলব।

কাজ: প্রত্যেকে নিজ নিজ ড্রইং খাতায় তোমার ব্যবহার্য তিনটি জিনিসের সম্পূর্ণ ড্রইং এঁকে দেখাবে।
Content added By

প্রাকৃতিক দৃশ্যের অনুশীলনের পূর্বে আমরা প্রাকৃতিক বিশেষ করে যে ধরনের দৃশ্য আমরা আঁকতে চাই, সে সম্পর্কে নিজের ধারণাকে স্পষ্ট করে নিতে হবে। যেমন- বিশেষ কোনো ঋতুর ছবি আঁকতে হলে ঐ খঋতু সম্পর্কে প্রথমে ভালোভাবে জেনে তারপর ঐ বিষয়গুলোকে ছবিতে তুলে ধরতে হবে। নিচের ছবিগুলো দেখলে এ বিষয়ে তোমাদের ধারণা পেতে সহজ হবে।

Content added By

পূর্ব পাঠগুলোতে আমরা প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্য নিয়ে নানারকমের মজার মজার ছবি এঁকেছি। রং করে যেমন আনন্দ পেয়েছি, তেমন মাতৃভূমির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি।
এই পাঠে আমরা শিখব বিষয়ভিত্তিক ছবি। কোনো উৎসব, জাতীয় দিবসসমূহ, আমাদের সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য দিনগুলোকে ভিত্তি করে যে সকল ছবি আঁকা যায়, তাকে আমরা বিষয়ভিত্তিক ছবি বলতে পারি।
নানারকম উৎসবে আমরা বন্ধুদের নিয়ে, ভাইবোনদের নিয়ে অনেক আনন্দ করি। ঈদের দিন ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়ে বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি করা, ঘরে ঘরে সেমাই-জরদা খাওয়ার আনন্দ। আবার দুর্গাপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, নতুন জামা পরে বাবা-মার সাথে পূজামণ্ডপে গিয়ে আরতি নৃত্য দেখা আরও কত কী!
আবার বড়দিনের উৎসবের আনন্দ সান্তাক্লজের কাছ থেকে চকলেট নেয়ার, নতুন জামাকাপড় পরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া, বুদ্ধ পূর্ণিমায় প্যাগোডায় গিয়ে আনন্দ উৎসবের মাঝে নিজেদের মাঝে ভাববিনিময় করা, এইসব বিষয়গুলো আমরা এতদিন উপভোগ করেছি। এখন যদি এ সকল বিষয়ের উপর তোমাকে ছবি আঁকতে বলা হয়, তখন তুমি তোমার কল্পনার মাঝে যে ছবিটি আছে, তাকে বুদ্ধি খাটিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে ছবি আঁকতে চেষ্টা করবে। আবার শহিদদিবস, বিজয়দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ, বৈশাখী মেলা ইত্যাদি বিষয় নিয়েও ছবি আঁকা যেতে পারে।

কাজ: তোমার দেখা একটি উৎসবের ছবি এঁকে দেখাও।
Content added By

পূর্ব পাঠগুলোতে আমরা ছবি আঁকার নানা বিষয়, প্রাকৃতিক দৃশ্য, আবার অন্য কোনো বিষয়কে ভিত্তি করে ছবি আঁকা সম্বন্ধে জেনেছি।
এবার আমরা নকশা সম্পর্কে জানব। আমরা যে সকল পোশাক পরি তার বেশিরভাগ পোশাকে কোনো না কোনো নকশা করা কাজ আছে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে যে সকল আসবাবপত্র, যে সকল জিনিসপত্র প্রতিদিন ব্যবহার করি, দেখবে তার গায়ে সুন্দর সুন্দর নকশা আঁকা। গ্রামে ও শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদিতেও দেখবে অনেক চোখ জুড়ানো অলংকারণ। এছাড়াও গ্রাম কিংবা শহরের বৈশাখী মেলাসহ নানা প্রকার মেলায় যে সকল খেলনা, হাঁড়ি-পাতিল পাওয়া যায় তাতেও আছে নকশার প্রাচুর্য। উৎসবের দিনগুলোতে তো আমরা বাড়ির আঙিনায় আলপনা আঁকি। এসবই নকশা। এগুলো যেমন ফুল, পাখি, লতা-পাতা আবার বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার যেমন- বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ইত্যাদি ব্যবহার করেও নকশা আঁকা যায়।

Content added By

১. বৃত্ত ব্যবহার করে তোমার প্রিয় তিনটি ফুল ও পাতা এঁকে রং করো।
২. দৈনন্দিন ব্যবহার্য যেকোনো দুটি বস্তু এঁকে পেনসিলে আলো-ছায়া দেখাও।
৩. দৈনন্দিন ব্যবহার্য যেকোনো দুটি বস্তু এঁকে রং করো।
৪. গ্রীষ্মকালের একটি চিত্র তোমার মনের মতো এঁকে পোস্টার অথবা প্যাস্টেল রং দিয়ে আঁকো।
৫. শীতকালের একটি চিত্র এঁকে রং করো।
৬. বর্ষাকালের একটি চিত্র এঁকে রং করো।
৭. শরৎকালের প্রকৃতি নিয়ে একটা সুন্দর চিত্র তোমার মনের মতো করে আঁকো।
৮. হেমন্তকালের বাংলার প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য নিয়ে তোমার মনের মতো একটা ছবি এঁকে রং করো।
৯. ঋতুরাজ বসন্তের সৌন্দর্য নিয়ে তোমার মনের মতো একটা ছবি এঁকে রং করো।
১০. ধর্মীয় উৎসবের বর্ণনা দিয়ে মনের মতো একটা ছবি আঁকো।
১১. তোমার দেখা কোনো মেলার বর্ণনা দিয়ে একটা সুন্দর ছবি আঁকো।
১২. ফুল, লতা, পাতা দিয়ে ৬" x ৬" পরিমাপে একটা নকশা আঁকো।
১৩. বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ দিয়ে ৬" x ৬" পরিমাপে একটা নকশা আঁকো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...