ছবি আঁকার সাধারণ নিয়ম, উপকরণ ও মাধ্যম (চতুর্থ অধ্যায়)

চারু ও কারুকলা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

5.3k

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-

  • ছবি আঁকার সাধারণ নিয়মগুলো বর্ণনা করতে পারব।
  • ছবি আঁকার প্রাথমিক উপকরণসমুহের নাম ও ব্যবহারবিধি ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যমের নাম উল্লেখ করতে পারব।
  • ছবি আঁকার মাধ্যম হিসেবে পেনসিল ও প্যাস্টেল রঙের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

ছবি আঁকতে আমরা সবাই পছন্দ করি। একেবারে যে ছোট্ট শিশু, তার হাতে যদি একটা কলম বা পেনসিল দেওয়া হয় তবে সেও কাগজে বা দেয়ালে আঁকিবুকি করে কিছু আকার-আকৃতি তৈরি করবে- সেটাই তার ছবি। তোমরাও এতদিন অনেক ছবি এঁকেছ, সেসব ছবিতে ঘর-বাড়ি, মানুষজন, নদী-নৌকা, মাছ-পাখি, সবই এঁকেছ। ইচ্ছেমতো তাতে রংও করেছ। সেসব ছবি নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর হয়েছে। তবে সঠিক ও নিখুঁতভাবে আঁকার জন্য আমাদের কিছু নিয়মকানুন জানতে হবে। সেগুলো মেনে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আঁকলে ছবি সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়। সেইসাথে নিজের চারপাশের প্রকৃতি, জীবজগৎ ও প্রতিদিনের ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রীকে গভীরভাবে দেখার ও আঁকার কায়দা রপ্ত করা প্রয়োজন।

Content added By

যে বিষয়ে ছবি আঁকবে তা নিয়ে প্রথমে একটু ভেবে নিতে হবে। যদি কোনো কিছু দেখে আঁকতে হয়, তবে বিষয়বস্তু ভালো করে দেখে নিয়ে কাগজে তা কেমন করে সাজাবে সেটা ঠিক করে নিতে হবে। সেটা হতে পারে একটি বিড়ালের ছবি, হতে পারে একটি পাতিল বা একটি গ্রামের দৃশ্য। একটিমাত্র বিষয় যদি হয় অর্থাৎ ধরা যাক একটি ফুলের ছবি অথবা একটি মুরগির ছবি আঁকা হবে। সেক্ষেত্রে ছবিটি এমনভাবে আঁকতে হবে যাতে ড্রইং করার পর এর কোনো অংশ কাগজের শেষ সীমানায় চলে না আসে। উপরে-নিচে, ডানে-বায়ে কাগজে কিছু জায়গা ছেড়ে দিয়ে মূল ড্রইংটি করতে হবে। যাতে এটি কাগজ অনুযায়ী খুব বড় বা খুব ছোট না হয়। আবার যদি বিষয় হয় গ্রামের দৃশ্য, তবে ভেবেচিন্তে দেখতে হবে কেমন করে সাজালে ভালো লাগবে। কারণ এখানে অনেক বিষয় মিলে একটি বিষয়। ঘরবাড়ি আছে, গাছপালা আছে, নদীর পাড়ে ফসলের মাঠ, তীরে নৌকা বাঁধা বা নদীতে ভাসমান পালতোলা নৌকা। আছে মানুষ ও পাখি। এ সবকিছু মিলেই তো গ্রাম। ছবিটি চার-পাঁচরকমভাবে সাজিয়ে দেখে নেয়া যায়, কোনটি বেশি সুন্দর লাগে। প্রয়োজনে দু-একটি বিষয় কাটছাঁট করাও যেতে পারে। অর্থাৎ আঁকিয়ে ছবিটির বিষয় তার দৃষ্টিতে যেভাবে সুন্দর মনে হবে সেভাবেই সাজাবে। কাগজে বিষয়বস্তুর সাজানো সুন্দর না হলে ছবিটি আকর্ষণীয় হবে না। তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাগজে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে ড্রইং করে নিতে হবে।

দূরত্ব ও অনুপাত

এবার দূরত্ব ও অনুপাত সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাক। এর আগে গ্রামের দৃশ্য সাজানোর আলোচনা করা হয়েছে। তাতে নদী, গাছপালা, মানুষ ও নৌকা রয়েছে। এখন মানুষ অনুপাতে নৌকা কত বড় হবে, তার সাথে গাছ থাকলে সেটা কত বড় হওয়া প্রয়োজন বা গাছের নিচে গরু কিংবা মানুষ থাকলে সেটা কত ছোট হবে তার সঠিক ধারণা থাকতে হবে। ছবিতে ছোট ও বড় বস্তুর তারতম্যকে অনুপাত বলে। একজন মানুষ আঁকলে শরীরের তুলনায় মাথা কতটুকু হবে বা হাত কতটুকু লম্বা হবে, পুরো শরীরে কোমর থেকে পা পর্যন্ত কতটুকু এবং কোমর থেকে কাঁধ পর্যন্ত কতটুকু সে অনুপাত সঠিক রেখে ছবি আঁকতে হয়। সে কারণে ভালোভাবে বিষয়বস্তু দেখে নিতে হবে। আবার নদীতে তিনটি নৌকা থাকলে বা একাধিক মানুষ থাকলে সামনের নৌকা থেকে পিছনের নৌকা এবং সামনের মানুষ থেকে পিছনের মানুষ, গাছপালা ইত্যাদি কতটুকু দূরে তা ঠিকমতো তুলে ধরতে হবে। কাছেরটির অনুপাতে দূরেরটি কতটুকু ছোট হবে তা ঠিকমতো আঁকতে পারলেই ছবির মধ্যে দূরত্ব বোঝানো যাবে। সেক্ষেত্রে ছবিতে রং দেবার সময়ও কাছের জিনিসের রং অপেক্ষা দূরের জিনিসের রং হবে হালকা।
ছবি যতই সুন্দর হোক না কেন অনুপাত ও দূরত্ব সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না গেলে কোনো অবস্থাতেই ছবি বাস্তবধর্মী হবে না। অনুপাতের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তুলনামূলকভাবে একটি জিনিস অপর একটি জিনিস হতে কত বড় বা ছোট তা নিরূপণ করা। অতএব, বাস্তবধর্মী ছবি আঁকার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত মূল্যবান।

নতুন শিখলাম: অনুপাত, বাস্তবধর্মী ছবি।

বিষয় সাজানো: ওপরে একই বিষয়ে চার রকমভাবে সাজানো হয়েছে। যেটি ভালো সেটি আঁকতে হবে। তবে ৩নং ছবি সবচেয়ে ভালো। তারপর ৪নং ১নং ও ২নং।

Content added || updated By

ছবি সাধারণত দুরকমভাবে হতে পারে। শুধু রেখাচিত্র বা ড্রইংভিত্তিক ছবি। আলপনা বা নকশা ও রেখাচিত্রের মধ্যেই পড়ে। এছাড়া অন্য যেভাবে ছবি আঁকা হয়, তাতে আলোছায়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে আলোছায়া ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে হয়। সূর্যের কারণে যেমন আমরা দিন-রাত্রি পাই, তেমনি একই কারণে আলোছায়ার ব্যাপার ঘটে। আলোছায়ার কারণেই বিভিন্ন বস্তুর গঠনগত পার্থক্য অর্থাৎ গোল, চৌকো বা অন্য যেকোনো আকৃতি আমাদের চোখে ধরা পড়ে। সূর্যের আলো যেদিকে থাকে তার উল্টে দিকে ছায়া বা অন্ধকার থাকা স্বাভাবিক। প্রকৃতিতে এই রূপের আবার পরিবর্তন ঘটে। যেমন- সকালে এরকম আলোছায়া, দুপুরে আরও বেশি আলোছায়া, বিকেলে নরম রোদ এবং ছায়াও নরম হয়।

কোনো বস্তুতে, প্রকৃতি, মানুষ বা প্রাণীর উপর যেদিক থেকে আলো পড়ে সে দিকের রং হয় উজ্জ্বল। বিপরীত দিকের রঙের সাথে ছায়া মিশে থাকে। আলো ও ছায়ার প্রতিফলন ভালো করে দেখলে বোঝা যায় একই গাছের পাতায় সবুজ রং রোদে যেমন উজ্জ্বল সবুজ, তেমনি সেই গাছের পাতা ছায়াতে গিয়ে অন্যরকম সবুজ হলেও সবুজের উজ্জ্বলতা হারাবে না। প্রতিটি বিষয়ের যেমন নিজস্ব রং আছে আর তাতে আলোছায়ার প্রয়োগও ঐ রঙের সাথে সমন্বয় করে করতে হবে। একই দৃশ্যে সামনের বিষয়ের রং পিছনের বিষয় থেকে উজ্জ্বল হবে। যত দূরের বিষয় ততই রং ফিকে হবে। এভাবে আলোছায়ার মাধ্যমে ছবির বিষয়বস্তুতে নিকটত্ব, দূরত্ব, পরিপ্রেক্ষিত, ওপর-নিচ ইত্যাদি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়। নতুবা ছবি প্রাণবন্ত হয় না ।

কেবল বই পড়ে রঙের ব্যবহার ভালোভাবে শেখা যাবে এমন বলা যায় না। শুধু রং কেন, এর আগে যতগুলো নিয়মের কথা জানলে তার কোনোটিই কিন্তু শুধু পড়ে শেখা যাবে না। ছবি আঁকা হাতেকলমে শেখার বিষয়। তাই তত্ত্বগত জ্ঞানকে হাতেকলমে প্রয়োগ করে শিখতে হবে। বারবার এঁকে, নানা রকম রং লাগিয়ে বিভিন্নরকম রঙের ব্যবহার রপ্ত করতে হয়। ছবি আঁকার বিভিন্নরকম রং আছে, তাদের ব্যবহারেরও নানারকম কৌশল আছে। ছবি আঁকার মাধ্যম নিয়ে আলোচনায় সে সম্পর্কে তোমরা জানতে পারবে। বিভিন্ন শেডের মধ্যে তিনটি রংকে প্রাথমিক রং বা মৌলিক রং (Primary Color) বলে।
এই তিনটি রং হচ্ছে-লাল, নীল ও হলুদ। এই তিনটি রং একটির সাথে অন্যটি মিশিয়ে আবার অনেক রঙের শেড তৈরি করা যায়। যেমন- হলুদ ও লাল মেশালে হয় কমলা রং। হলুদ ও নীল মেশালে পাওয়া যাবে সবুজ রং। লাল ও নীলে হয় বেগুনি। লাল ও নীলের অংশ তারতম্য করে মেশালে পাওয়া যাবে খয়েরি। এভাবে ঐ তিনটি মৌলিক রং দিয়ে অনেক রং তৈরি করা যায়। এগুলোকে মাধ্যমিক রং বা Secondary Color বলে। তবে একদম সাদা ও একদম কালো রঙের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক রঙের মিশ্রণে তৈরি করা সম্ভব নয়।
নতুন শিখলাম: প্রাথমিক রং, মাধ্যমিক রং।

কাজ: যেকোনো দুটি প্রাথমিক রং ব্যবহার করে একটি মাধ্যমিক রং তৈরি করো।
Content added By

উপকরণ অর্থ যা দিয়ে কোনো কিছু তৈরি করা হয়। উপকরণ এক বা একাধিক হতে পারে। যেমন-একজন কাঠমিস্ত্রি যখন চেয়ার, টেবিল, খাট ইত্যাদি তৈরি করে, তখন তার হাতুড়ি, বাটাল, করাত ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এগুলো তার উপকরণ। তেমনি ছবি আঁকতে গেলে আঁকিয়ের যে সমস্ত জিনিস প্রয়োজন, সেগুলোকে আমরা ছবি আঁকার উপকরণ বলব।

ছবি আঁকার বিভিন্ন রকম উপকরণ রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমের ছবিতে বিভিন্ন রকম উপকরণ ব্যবহার করা হয়। কাগজ, পেনসিল, কালি-কলম, তুলি, বোর্ড, কিপ, ইজেল, রং ইত্যাদি হলো ছবি আঁকার প্রাথমিক উপকরণ। এবার ছবি আঁকার উপকরণগুলো সম্পর্কে আমরা জানব।

কাগজ

ছবি আঁকার প্রধান একটি উপকরণ কাগজ। এই কাগজ মোটা, পাতলা, খসখসে, মসৃণ ও চকচকে জমিনের হয়ে থাকে। বেশি মোটা কাগজকে আমরা বোর্ড বলি। এই বোর্ডও খসখসে, মসৃণ হয় এবং বিভিন্ন রঙের ও মানের পাওয়া যায়। ছবি আঁকার জন্য সাধারণ মানের যে কাগজ বাংলাদেশে পাওয়া যায় বা যে কাগজটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকার জন্য সহজলভ্য তার নাম কার্ট্রিজ কাগজ। কার্ট্রিজ কাগজ মোটা পাতলা ২-৩টি মাত্রায় পাওয়া যায়। কার্ট্রিজ কাগজের রং ধবধবে সাদা নয়। একটু ঘোলাটে সাদা। এই কার্ট্রিজ কাগজে পেনসিল, কালি-কলম, জলরং ও প্যাস্টেল ছবি আঁকা যায়। আমাদের দেশে ছবি আঁকা শেখার জন্য প্রাথমিকভাবে এই কাগজটি বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ধবধবে সাদা খানিকটা মোটা অফসেট কাগজে কালি-কলমে ও পেনসিলে সুন্দরভাবে ছবি আঁকা যায়। এই কাগজে জলরঙে ছবি ভালো হয় না। জলরঙে ছবি আঁকার সবচেয়ে উপযুক্ত কাগজ হলো একটু মোটা ও খসখসে জমিনের। কার্ট্রিজ কাগজের খসখসে পৃষ্ঠায় সাধারণ মানের জলরং হবি আঁকা যায়। তবে জলরং মাধ্যমের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কাগজ হ্যান্ডমেড কাগজ বা হাতে তৈরি কাগজ।

এখন মেশিনেও এ কাগজ তৈরি হয়। তবে নাম রয়ে গেছে হ্যান্ডমেড পেপার। এ কাগজে প্যাস্টেল রঙেও ছবি আঁকা যায়। আমাদের দেশে অন্যান্য যেসব কাগজ রয়েছে তা হলো আর্টকার্ড, আর্টপেপার, বক্সবোর্ড, পিচবোর্ড, নানান রঙের পাতলা মোটা কাগজ। সাধারণ লেখার এবং বই ছাপার কাগজ হলো নিউজপ্রিন্ট। আর্টকার্ড ও আর্টপেপার একমাত্র কালি-কলম ও তুলিতে ছবি আঁকার উপযোগী। এই কাগজ চকচকে ও মসৃণ। উন্নতমানের ছাপার জন্য এই কাগজ উপযোগী।

বক্সবোর্ড মোটা এবং একপিঠ সাদা রঙের ও মসৃণ হয়। আরেক পিঠ হয় হালকা ছাই রং বা বাদামি রঙের এবং সামান্য খসখসে। এ কাগজ সাধারণত ছবির মাউন্ট করা অর্থাৎ ছবির চারদিকে মার্জিন দিয়ে সুন্দরভাবে বাঁধাইয়ের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ কাগজের ছাই রং পিঠে প্যাস্টেলে ছবি আঁকা বেশ মজার। পিচবোর্ড খানিকটা মোটা ও শক্ত কাগজ। রং গাঢ় বাদামি এবং খাকি রঙেরও হয়ে থাকে। এতে প্যাস্টেল ঘষে ছবি আঁকা সম্ভব। বই বাঁধাই ও বিভিন্ন প্যাকেজিংয়ের জন্য বাক্স তৈরিতে যে খসখসে বোর্ড পাওয়া যায়, অনেক শিল্পীই বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকার জন্য এই বোর্ড ব্যবহার করে থাকেন।
রঙিন কাগজ রয়েছে নানা রঙের, মোটা, পাতলা, খসখসে ও মসৃণ। এই রঙিন কাগজে নানাভাবে ছবি আঁকা যায়। অনেক শিল্পী রঙিন কাগজ কেটে-ছিঁড়ে আঠা দিয়ে লাগিয়ে অনেক রকম ছবি তৈরি করেন। কাগজ কেটে, ছিঁড়ে যেসব ছবি তৈরি করা হয় তাকে বলে কোলাজ ছবি।

পেনসিল

ছবি আঁকার প্রধান একটি হাতিয়ার হলো পেনসিল। আমাদের সাধারণ লেখালেখির কাজে ব্যবহার করার জন্য আছে সাধারণ কিছু পেনসিল এবং ড্রইং করার জন্য বা ছবি আঁকার জন্য রয়েছে আলাদা কিছু পেনসিল। এসব পেনসিলের গায়ে লেখা থাকে HB, B, 1B, 2B, 3B, 4B, 5B, 6B ইত্যাদি। শক্ত শিষের পেনসিল সাধারণত লেখার কাজে ব্যবহার হয়। এসব পেনসিলে কাগজে গাঢ়ভাবে দাগ কাটে না। ধীরে ধীরে নরম ও গাঢ় কালো হতে হলে 2B, 3B, 4B, 5B এবং 6B তে যেয়ে পেনসিলের শিষ বেশ নরম হয় ও কাগজে কালো হয়ে দাগ কাটে। অনেক শিল্পীই পেনসিল দিয়ে সম্পূর্ণ ছবি আঁকেন। 2B, 4B, 6B-এই তিন মাত্রার পেনসিল দিয়ে অথবা যেকোনোটি দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি আঁকা সম্ভব।

নতুন শিখলাম: কোলাজ ছবি, বক্সবোর্ড, কার্ট্রিজ কাগজ, হ্যান্ডমেড কাগজ।

Content added By

কলম দিয়ে আমরা লেখি। কলম দিয়ে ছবিও আঁকা যায়। ঝরনা কলমে কালো কালি ভরে তা দিয়ে সুন্দর ছবি আঁকা যায়। অন্য রঙের কালি দিয়েও ছবি আঁকা যায়। তবে শিল্পীরা কালো কালিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ছবি আঁকার জন্য বিশেষ এক ধরনের কালো কালি রয়েছে, যাকে সাধারণত বলে চাইনিজ ইঙ্ক। অতি প্রাচীনকাল থেকে চীন দেশের শিল্পীরা ছবি আঁকায় কালো কালি প্রচুর ব্যবহার করতেন। তবে এরকম কালো কালিকে ইন্ডিয়ান ইঙ্কও বলা হয়।

তুলিতে কালি লাগিয়ে অনেকেই ছবি আঁকেন। কালি দিয়ে আকা ছবি, কলম ও তুলির কারণে একটি আরেকটি থেকে ভিন্নতর হয়। ফেল্ট পেন বা সিগনেচার পেন নামে কিছু কলম দিয়ে সাদাকালো ও রঙিন ছবি আঁকা যায়। প্রায় একই বস্তু দিয়ে তৈরি মার্কিং পেন নামে যে কলম আছে তা দিয়েও ছবি আঁকা সম্ভব। বাঁশের সরু কঞ্চি ও খাগের কঞ্চি দিয়ে সরু ও মোটা কলম বানিয়ে কালিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে তা দিয়ে ছবি আঁকা যায়। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন খাগের কলম দিয়ে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করতেন। তাঁর বহু বিখ্যাত ড্রইং এভাবে আঁকা। গ্রামের ছেলেমেয়েরা অনায়াসে বাঁশের কঞ্চি ও খাগ জোগাড় করতে পারে।

তুলি

ছবি আঁকার জন্য তুলি হলো অন্যতম একটি হাতিয়ার। বিভিন্ন ধরনের রং, কাগজ ও ক্যানভাসের কারণে নানারকম তুলি তৈরি হয়ে থাকে। জলরং ও তেলরঙের জন্য আলাদা তুলি তৈরি হয়। কালি ও জলরঙের জন্য সাধারণত নরম ও কম শক্ত পশমের তুলি ব্যবহার হয়। তেলরং বা অস্বচ্ছ রঙের জন্য অপেক্ষাকৃত শক্ত পশমের তুলি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে তুলির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে শিল্পীর সুবিধা, স্বাচ্ছন্দ্য ও ইচ্ছার ওপর। তুলি সাধারণত পশুর পশম ও কৃত্রিমভাবে পশম তৈরি করে বানানো হয়। ছবি আঁকার সুবিধার জন্য তুলি সরু থেকে ধীরে ধীরে মোটার দিকে, ০ (শূন্য) নং থেকে ২০নং পর্যন্ত করা হয়ে থাকে। ১নং হলো বেশ সরু, তারপর ২নং ও ৩নং করে ২০টি পর্যায়ে তৈরি করা হয়। আবার খুবই সরু ও পাতলা তুলির জন্য ১নং এর নিচের ০ (শূন্য) ০০ (দ্বিগুণ শূন্য) ইত্যাদি ভাবেও তুলি তৈরি হয়ে থাকে।

ক্যানভাস, বোর্ড, ক্লিপ ও ইজেল

বোর্ড, ক্লিপ ছবি আঁকার জন্য অতি প্রয়োজনীয়। বোর্ডে কাগজ রেখে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে ছবি আঁকা সুবিধা। আর এই বোর্ডকে কেউ মেঝেতে বসে হাত রেখে, কেউ টেবিলে বসে আবার অনেকে ইজেলে রেখে ছবি আঁকে। তবে ইজেল ক্যানভাসে ছবি আঁকার জন্য সবচাইতে বেশি প্রয়োজনীয়। কে কীভাবে আঁকবে তা নির্ভর করে শিল্পীর সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর।

নতুন শিখলাম: চাইনিজ ইঙ্ক, ইন্ডিয়ান ইঙ্ক, ইজেল।

Content added By

রং ছাড়া ছবি আঁকার কথা চিন্তা করা যায় না, পেনসিল ও কালিতে ছবি আঁকলেও তা একটা রং হিসেবেই মনে করা হয়। তবে রঙিন ছবি বলতে আমরা বুঝি বিভিন্ন রকম রং দিয়ে আঁকা ছবি। ছবি আঁকার রং নানা রকম এবং বিভিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। জলরং এ ছবি আঁকার জন্য এই রং বাক্সে, টিউব আকারে, ছোট ছোট কেক ও পাউডার হিসেবে এবং পোস্টার রং কাচের কৌটায় পাওয়া যায়। পোস্টার রং জলরং থেকে একটু ভিন্ন মাধ্যম হলেও পোস্টার রং দিয়ে জলরঙের মতো ছবি আঁকা যায়। পাউডার রং পানিতে মিশিয়ে সহজেই ছবি আঁকা যায়। তবে সঙ্গে গাম বা আঠা মিশিয়ে নিয়ে হয়। অনেক শিল্পী অ্যারাবিক গাম বা আইকা গাম মিশিয়ে নেয়। প্যাস্টেল রং তিন রকম গুণের পাওয়া যায়। আরও আছে তেলরং। এটি তারপিন ও তিসির তেল মিশিয়ে আঁকতে হয়।

ছবির বিষয়

ছবির বিষয়বস্তু ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশে। একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখবে আমাদের প্রকৃতিতে, জীবন-যাপনে ও পরিবেশে ছড়িয়ে আছে অনেক ও অসংখ্য বিষয়। যে গ্রামে বাস করে, তার পক্ষে গ্রামের ছবি, যথা- ঘরবাড়ি, গাছপালা, পশুপাখি, মাঠ-ঘাট, নদী-নৌকা, গ্রামের জীবন-যাপন, মানুষজন, উৎসব, অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ইত্যাদি অনেক বিষয় নিয়েই ছবি আঁকা সম্ভব। আবার যে শহরে বাস করে, সে শহরের জীবন-যাপন, শহরের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, পার্ক, খেলাধুলা, শহরের অনুষ্ঠান, উৎসব ইত্যাদি নিয়ে অনেক বিষয়ে ছবি আঁকতে পারবে। শহরে চিড়িয়াখানা আছে। চিড়িয়াখানায় কত রকম জীব-জন্তু, পাখি থাকে। পশুপাখির মজার মজার সব কাণ্ডকারখানা, শুয়ে থাকা, বসে থাকা, খেলাধুলার নানারকম অঙ্গভঙ্গি-এমনি অনেক কিছু হতে পারে ছবি আঁকার বিষয়।

গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কুকুর-বেড়াল পোষা হয়। বনের পাখিও শখ করে অনেকেই পোষে। শহরের বাড়িতেও পোষা অনেক জীবজন্তু আছে। পোষা পশুপাখিকেও ছবি আঁকার বিষয় হিসেবে সহজেই গ্রহণ করা যায়। নামকরা শিল্পীদের অনেক বিখ্যাত ছবি আছে পশুপাখিকে বিষয় করে আঁকা। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কাক ও গরুকে বিষয় করে এবং কামরুল হাসান গরু, হাতি, ঘোড়া, শেয়াল, সাপ ও নানারকম পাখিকে বিষয় করে অনেক ছবি এঁকেছেন। প্রিয় যেকোনো মানুষ, মা-বাবা, নানা- নানি, দাদা-দাদি, ভাই-বোন এমনি অনেকের ছবি আঁকা যেতে পারে। তাছাড়া ইচ্ছে করলে নিজের প্রতিকৃতিও আঁকা যায়। পৃথিবীর প্রায় সব শিল্পীরাই কোনো না কোনো সময় নিজেকে বিষয় করে ছবি এঁকেছেন, এখনো আঁকেন।

যে বিষয় নিয়ে ছবি আঁকা হবে, সে বিষয় সম্পর্কে আঁকিয়ের ভালো ধারণা থাকতে হবে। গ্রামে যে কখনো যায়নি, নৌকা দেখেনি, নদী দেখেনি, সে কীভাবে গ্রামের ছবি আঁকবে। সুতরাং গ্রামের ছবি আঁকতে হলে ভালোভাবে গ্রামের ঘরবাড়ি, নৌকা-মাঝি, নদী, গাছপালা ইত্যাদি দেখতে হবে। শুধু বাইরের রূপটা দেখলেই চলবে না। ভেতরেও যে রূপ আছে তা তুলে ধরতে হবে। পরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে। গ্রামের জীবন-যাপন, মানুষজন এবং তাঁদের সহজ জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে ভাবতে হবে। শহর ও বন্দরের ছবি আঁকতে হলেও সেই বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-শুনে নিজের কল্পনা ও চিন্তাকে প্রকাশ করে ছবিকে সবদিক থেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়।

Content added By

ছবি আঁকার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তেলরং, জলরং, পোস্টার রং, অ্যাক্রেলিক রং, এনামেল রং, পেনসিল, কালি, প্যাস্টেল, রঙিন অক্সাইড, প্লাস্টিক রংসহ বহু রকম মাধ্যমে ছবি আঁকা হয়। শিল্পী তার সুবিধা ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো মাধ্যমেই একটি ভালো ছবি আঁকতে পারেন। জলরং, পোস্টার রং হলো পানি দিয়ে মিশিয়ে আঁকার রং। অ্যাক্রেলিক রঙেও পানি মিশিয়ে আঁকা যায়। এগুলোকে জল মাধ্যমের রং বলে। সে অর্থে রঙিন অক্সাইড বা প্লাস্টিক রংও ওয়াটার বেইস্ড রং। তবে অক্সাইডের সাথে পানি ও গাম মিশিয়ে আঁকতে হয়। এগুলো অস্বচ্ছ রং। জলরং হচ্ছে স্বচ্ছ রং। স্বচ্ছ মানে কাগজে একটি রঙের উপর আরেকটি রং প্রয়োগ করলে নিচের রংটিও দৃশ্যমান থাকে। দুটি রঙেরই আবেদন পাওয়া যায়। অন্যদিকে পোস্টার বা অ্যাক্রেলিক রং অস্বচ্ছভাবে ভারী করে প্রয়োগ করা চলে। আবার পাতলা করে গুলিয়ে স্বচ্ছ রং হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তবে জলরং, পোস্টার রং এগুলো সাধারণত কাগজেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অ্যাক্রেলিক ও অক্সাইড রং কাগজ, ক্যানভাস বা হার্ডবোর্ডেও ব্যবহার করা যায়।

কাজ: কাগজে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ রং শনাক্ত করো।

তেলরং, এনামেল রং এগুলো তেল দিয়ে মেশাতে হয়। এগুলোও অস্বচ্ছ রং অর্থাৎ একটি রঙের উপর আরেকটি রং প্রয়োগ করলে নিচের রংটি ঢেকে যায়। এছাড়া কালি-কলম ও কালি-তুলিতেও ছবি আঁকা যায়। এগুলো দিয়ে সাদা-কালো ছবি হয়। রঙিন কালিও পাওয়া যায়। তা দিয়ে জলরঙের মতো ছবি আঁকা যায়। আরও কিছু মাধ্যমে সাদা-কালো ছবি আঁকা যায়। যেমন- কাঠকয়লা, ক্রেয়ন ও কালো রঙের মার্কিং কলম। বাড়ির সাধারণ কাঠকয়লা দিয়েও আঁকা যেতে পারে। কিন্তু তা খুব একটা সুবিধার নয়। ছবি আঁকার জন্য একরকম নরম ও সরু কাঠি দিয়ে কয়লা তৈরি করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে পেনসিল ও প্যাস্টেল ব্যবহার করে ছবি আঁকা সুবিধাজনক।

Content added By

পেনসিল রং

এর আগে আমরা পেনসিল সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। সাধারণ কাঠ পেনসিল থেকে শুরু করে সাদাকালো ছবি আঁকার জন্য 1B, B, 2B, 3B, 4B, 6B ইত্যাদি নম্বরের ছবি আঁকার পেনসিল পাওয়া যায়। 1B থেকে 6B পর্যন্ত পেনসিল ধীরে ধীরে নরম ও গাঢ় কালো হয়ে থাকে। এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আলোছায়া প্রয়োগ করে যেকোনো বিষয়ে একটি সাদা-কালো ছবি আঁকা সম্ভব। যেখানে আলো বেশি, সেখানে হালকা অর্থাৎ B, 1B-এর পর আর একটু কম আলোতে 2B বা 3B এবং ছায়া যেখানে বেশি, সেখানে 4B এবং 6B নম্বরের পেনসিল ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে আলোছায়ার সঠিক প্রয়োগে সাদাকালো ছবি পেনসিল দিয়ে আঁকা সম্ভব। কাগজে পেনসিল চালনা করে শেড বা ছায়া দেবার জন্য বিভিন্ন কৌশল আছে। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তা হাতেকলমে শিখে নিতে হবে। পেনসিল দিয়ে এভাবে সাদা-কালোতে মানুষের প্রতিকৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য থেকে শুরু করে যেকোনো বস্তু বা বিষয়ের ছবি নিখুঁতভাবে আঁকা সম্ভব। একইভাবে রঙিন পেনসিল ব্যবহার করেও রঙিন ছবি আঁকা যায়। বাজারে বিভিন্ন রঙিন পেনসিল অনেক রঙে পাওয়া যায়। ১২ থেকে ৪৮ পর্যন্ত বিভিন্ন সংখ্যায় প্যাকেট করা হয়। কিছু কিছু রঙিন পেনসিল পানিতে ভিজিয়ে কাগজে ঘষলে জলরঙের মতো আবহ তৈরি হয়। তবে পেনসিলে ছবি আঁকার জন্য একটু মোটা ও খসখসে জমিনের কাগজ প্রয়োজন।

প্যাস্টেল রং

প্যাস্টেল রংকে বলা যায় রঙের কাঠি। এটিকে দুরকমভাবে পাওয়া যায়। মোম প্যাস্টেল ও চক প্যাস্টেল। রঙের কাঠি ঘষে ঘষে কাগজে লাগাতে হয়। কাগজটি হতে হবে একটু মোটা ও খসখসে জমিনের। প্যাস্টেল রঙের সুবিধা হলো এতে পানি, তেল বা আঠা মেশানোর প্রয়োজন হয় না। পেনসিল রং অপেক্ষা উজ্জ্বল হয় এর রং। তবে চক প্যাস্টেল যেহেতু খুব নরম ও আঁকার পরে রঙের পাউডার ছবি নাড়াচাড়ার কারণে ঝরে যেতে পারে বা মুছে যেতে পারে, তাই তরল ফিক্সাটিভ স্প্রে করে রংকে স্থায়ী করে নিতে হয়। এই তরল ফিক্সাটিভ শিশির মধ্যে রঙের দোকানে পাওয়া যায়। মোম প্যাস্টেল বা অয়েল প্যাস্টেলের প্যাকেটের গায়ে ইংরেজিতে 'Oil Pastel' লেখা থাকে। মোম বা অয়েল প্যাস্টেল ব্যবহার করে ছবি আঁকা অনেক বেশি সুবিধা। এটা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ রঙিন ছবি আঁকা সম্ভব। এটা স্থায়ী করার জন্য কোনো স্প্রে ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। একটি রঙের সাথে অন্য রং মেশানো সহজ।

Content added By

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. লাল, নীল ও হলুদ এই তিনটি রংকে কী বলে?
ক. মাধ্যমিক
খ. প্রাথমিক
গ. মিশ্র
ঘ. অস্বচ্ছ

২. কাছের জিনিস অপেক্ষা দূরের জিনিস কত ছোট হবে তার পরিমাপকে কী বলে?
ক. অনুকরণ
খ. অনুপাত
গ. আলোছায়া
ঘ. সীমারেখা

৩. হলুদ রং ও নীল রং মিলে কোন রং হয়?
ক. বেগুনি
খ. সবুজ
গ. গাঢ় হলুদ
ঘ. কমলা

৪. বাংলাদেশে ছবি আঁকার জন্য সাধারণ মানের সহজলভ্য কাজ কোনটি?
ক. নিউজ পেপার
খ. কার্ট্রিজ পেপার
গ. হ্যান্ডমেড পেপার
ঘ. পোস্টার পেপার

৫. অ্যাক্রেলিক রঙে ছবি আঁকার জন্য কী মেশাতে হয়?
ক. তেল
খ. গাম
গ. পানি
ঘ. অক্সাইড

রচনামূলক প্রশ্ন

১। ছবি আঁকার সাধারণ নিয়মগুলো বর্ণনা করো।

২। ছবি আঁকার বিভিন্ন রঙের ব্যবহার বর্ণনা করো।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১। ছবি আঁকার সাধারণ নিয়মগুলো কী কী?
২। ছবি আঁকার ৫টি প্রাথমিক উপকরণের ব্যবহারবিধি লেখো।
৩। প্রাথমিক রং ও মাধ্যমিক রং বলতে কী বোঝায়?
৪। ছবি আঁকার প্রাথমিক উপকরণের তালিকা তৈরি করো।
৫। ছবি আঁকার ৫টি মাধ্যমের নাম বলো।
৬। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে আলো-ছায়ার গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।
৭। ছবি আঁকার পেনসিল রঙের ব্যবহার লেখো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...