যেসব জিনিস সাধারণত কোনো কাজে লাগে না, ফেলে দেওয়া হয়, আমরা চেষ্টা করলে তা দিয়েও সুন্দর সুন্দর শিল্পকর্ম তৈরি করতে পারি। তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় কিন্তু হেলাফেলা করে তাকাই না বা নজরে পড়ে না, এমন সব জিনিস দিয়েও আমরা শিল্পকর্ম তৈরি করতে পারি। যেমন-ডিমের খোসা, মালা, ছোট-বড় নুড়ি পাথর, গাছের ছোটখাটো ডাল, গাছের পাতা, কাঠের টুকরা, ছেঁড়া বোর্ড, কাগজ ইত্যাদি। চারপাশে একটু ভালোভাবে তাকালে এমনি অনেক ফেলনা জিনিস পাব। একটু তাকালেই দেখবে ফেলনা জিনিসগুলো কত রকম কাজে লাগানো যায়। তাছাড়া নারিকেল পাতা, খেজুর পাতা ইত্যাদি দিয়েও নানারকম শিল্পকর্ম করতে পারি। আমরা কল্পনা, চিন্তাভাবনা এবং সুন্দর কিছু তৈরি করার ইচ্ছাটাকে ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে দেখি না! এমনি দু-একটি ফেলনা জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করার চেষ্টা করি।
ডিমের খোলস দিয়ে পুতুল
নিখুঁত একটি ডিম পরিষ্কার করে ধুয়ে নিই। হাঁসের ডিম হলেই ভালো, কারণ হাঁসের ডিমের খোলস একটু শক্ত হয়। ডিমের সরু মাথার ওপর দিকে খুব সাবধানে একটি ছিদ্র করি। ছিদ্রটির ব্যাস আধা ইঞ্চির বেশি না হলেই ভালো এবং ছিদ্রটি হবে সম্পূর্ণ গোল। ছিদ্র দিয়ে একটি কাঠি ঢুকিয়ে ডিমের ভেতরের কুসুম ও অন্য জিনিসগুলো আস্তে আস্তে বের করে আনি। খোলসে পানি ঢুকিয়ে ভেতরটা ভালো করে ধুয়ে খোলসটা শুকিয়ে নিই।
এবার এক খন্ড বোর্ড কাগজ নিয়ে ২৫ সেমি. ৩০ সেমি. ব্যাসের (১২.৭-১৫.২ ব্যাসার্ধ নিয়ে) একটি বৃত্ত আঁকি। বৃত্তের রেখা বরাবর কাঁচি দিয়ে কেটে বোর্ড দিয়ে একটি চাকতি তৈরি করি। এবার চাকতিটিকে সমান তিন ভাগ করি। এক খণ্ড তুলে নিয়ে চোখা মাথাটা সামান্য কেটে ফেলি, সোজা দুই কিনারা একটির ওপর অন্যটি তুলে ময়দার, লেই দিয়ে জোড়া দিই।

ডিমের খোসা ও কাগজ দিয়ে পুতুল তৈরি করি। আঠা দিয়ে জোড়া দিই। খেয়াল রাখব বোর্ড কাগজে সাদা মসৃণ পিঠ যেন বাইরের দিকে থাকে। জোড়া দিয়ে দেখি এক দিক চোখা, অপরদিক মোটা লম্বা চোঙার মতো একটা জিনিস তৈরি হয়ে গেল। এটির চোখা মাথাটি ডিমের খোলসের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে আঠা ও পাতলা সাদা কাগজ লাগিয়ে ভালো করে জোড়া দিই। ডিমের খোলসটি যেন চোঙার মাথায় সোজা হয়ে বসে যায়। আর জোড়ার কাগজ যেন ওপর থেকে চোখে না পড়ে। এবার ডিমের খোলসের ওপর পুতুলের চোখ, মুখ, নাক, চুল এবং বোর্ড কাগজের চোঙার উপর পুতুলের গলার মালা ও পোশাক এঁকে দিই। ফেলে দেয়ার জিনিস ডিমের খোলস দিয়ে সুন্দর একটা পুতুল হয়ে গেল।
Read more