কিছু দিনের মধ্যে শিল্পবিতানের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকার বেশ সাড়া পড়ে যায়। কচি-কাঁচার মেলা শিল্পবিতানের শিশুদের ও সারা দেশের শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রতিবছর নিয়মিত চিত্রপ্রদর্শনী ও আনন্দ মেলার আয়োজন করে। ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১ সালে ঢাকায় প্রেসক্লাবের মাঠে এই আনন্দ মেলা শিশুদের মাঝে বিপুল সাড়া জাগায়। এই আনন্দ মেলা ও চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে শিশুদের ছবি আঁকা বিষয়টি সারা দেশে গ্রামে-গঞ্জে, এমন কী পাহাড়ি দুর্গম এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। হাজার কয়েক ছবি আসত সারা দেশ থেকে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ও গ্রামের ছেলেমেয়েরা বেশ সুন্দর ছবি এঁকে পাঠাত।
১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর দিনটি ছিল কচি-কাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠার দিন। ঢাকা শহরের উৎসাহী শিশু- কিশোরদের আঁকা বেশ কিছু ছবি ও কারুকাজ সংগ্রহ করা হলো। দৈনিক 'ইত্তেফাক' অফিসের নিচতলায় দুটি কামরায় ছিল কচি-কাঁচার মেলার অফিস ও লাইব্রেরি কাকলি পাঠাগার। শিশুদের সংগ্রহ করা ছবি ও কারুকাজের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলো এই কচি-কাঁচার মেলার দুই কামরায়। উদ্বোধন করলেন পটুয়া কামরুল হাসান। এভাবে শিল্পবিতানের অর্থাৎ ছোটদের ছবি আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল বা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলো।
তাই বলা যায়, দুটি ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের শিশুদের চিত্রকলা চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়। একটি ১৯৫৬ সালের খেলাঘর আয়োজিত শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী এবং অন্যটি ১৯৫৮ সালে শিল্পবিতানের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে।
Read more