আইসিটি ব্যবহারে ঝুঁকি ও সতর্কতা অবলম্বনের পন্থা (পাঠ ৪ ও ৫)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

4.8k

দুধ খুব পুষ্টিকর খাবার। শিশুদের নিয়মিত দুধ খাওয়া ভালো। কিন্তু আমরা যদি একটা দুধের ড্রামে একটা শিশুকে ফেলে দিই তাহলে এই দুধের ড্রামেই তার ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। যার অর্থ একটা জিনিস খুব ভালো হলেও সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হলে সেটাও তোমার জন্যে বিপদ হয়ে যেতে পারে। কম্পিউটারের বেলাতেও সেটা সত্যি!
কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছে আমাদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্যে, এটা সেভাবেই ব্যবহার করা উচিত কিন্তু আমরা যদি এটাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে শুরু করি, তাহলে সেটা বিপদের কারণ হতে পারে।
কম্পিউটার ব্যবহার করতে একটু বুদ্ধিমত্তার দরকার হয়। তাই অনেক বাবা-মা তাদের খুব ছোটো বাচ্চাকে এটা নিয়ে খেলতে দেন। অনেক সময়েই দেখা যায়, কিছু ছোটো শিশু কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে গেছে এবং দিনরাত কম্পিউটার গেম খেলছে। এটা তার জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। যেই বয়সে মাঠে বন্ধুবান্ধবের সাথে ছোটাছুটি করে খেলার কথা, সেই সময়ে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা থেকে মানসিক অসুস্থতা অনেক বেশি বিপজ্জনক।

অনেক বেশি সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে শারীরিক সমস্যাও শুরু হয়ে যেতে পারে। পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, আঙুলে ব্যথা, চোখের সমস্যা- এরকম হতে শুরু করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই!
আরেকটু বড়ো তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কম্পিউটারে ভিন্ন এক ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একজন মানুষ অন্যজনের সাথে আজকাল কম্পিউটার ব্যবহার করে সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে। সাধারণ খোঁজখবর নেওয়ার জন্যে এটি সহজ একটা পথ হলেও প্রায় সময়ই দেখা যায় অনেকেই এটাকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করে এটিই বুঝি সত্যিকারের সামাজিক সম্পর্ক। তাই মানুষের সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্কটার কথা তারা ভুলে যায়। এই ছেলেমেয়েগুলো অনেক সময়েই অসামাজিক মানুষ হয়ে বড়ো হতে থাকে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে অনেক নতুন প্রযুক্তি। তাই আমরা এখনো তার পুরো ক্ষমতাটা বুঝে উঠতে পারিনি। একদিকে আমরা তার ভালো কিছু করার ক্ষমতাটা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের অজান্তে এটা যেন আমাদের ক্ষতি করতে না পারে সেটাও দেখতে হবে।
তোমরা যারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিজের জীবনে ব্যবহার করবে, তারা সব সময়ই মনে রেখো, তোমরা যেন প্রযুক্তিটাকে ব্যবহার কর, প্রযুক্তি যেন কখনই তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে।

কাজ-(পাঠ-৪)
যাদের অনেক বেশি সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয় তাদের জন্যে ডাক্তারগণ এক ধরনের পিঠে ব্যায়াম বের করেছেন, তোমরা ইচ্ছে করলে এই ব্যায়ামটা করে দেখতে পার।

  • সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অথবা বসে দুই বাহু সামনের দিকে প্রসারিত করে নিচে ও ওপরে কয়েকবার ঝাঁকাও।
  • হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ কর এবং খুলে দাও। এভাবে ১০ বার অনুশীলন কর।
  • এক হাতের আঙুলগুলোকে অপর হাতের আঙুলে প্রবেশ করে শক্ত করে ধরে কয়েকবার সামনে-পিছনে কর।
  • সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড় ডানদিকে কাত করে কয়েক সেকেন্ড রেখে সোজা হও। আবার বাম দিকে কাত করে কয়েক সেকেন্ড রেখে সোজা হও। এরূপ কয়েকবার অনুশীলন কর।
  • ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে চিবুক বুকের সাথে লাগাও এবং কয়েক সেকেন্ড অবস্থান করে পিছনের দিকে যতটুকু পার নিচু কর। এটি কয়েকবার অনুশীলন কর।

কাজ-(পাঠ-৫)
ওপরের ছবিটিতে আইসিটি ব্যবহারে কী কী ভুল করা হয়েছে বের কর।

  • তোমরা নিজেরা আরও কিছু ভুল সংযোজন করে আরেকটা ছবি আঁক।
  • একটি পূর্ণ শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা এ কাজটি করবে।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...