তোমাদের পড়াশোনা করার জন্যে নিশ্চয়ই অনেক লেখালেখি করতে হয়। খাতার পৃষ্ঠায় কিংবা কাগজে তোমরা পেনসিল বা কলম দিয়ে সেগুলো লিখ। যার হাতের লেখা ভালো, সে একটু গুছিয়ে লিখতে পারে তার খাতাটা দেখতে হয় সুন্দর। যার হাতের লেখা ভালো না, গুছিয়ে লিখতে পারে না, কাটাকাটি হয়, তারটা দেখতে তত সুন্দর হয় না।
কিন্তু মাঝেমধ্যে তোমাদের নিশ্চয়ই সুন্দর করে লেখার দরকার হয়, স্কুল ম্যাগাজিন বের করছ কিংবা কোনো অতিথিকে মানপত্র দিচ্ছ, কিংবা কোনো একটা জাতীয় প্রতিযোগিতায় রচনা জমা দিচ্ছ-তখন তোমরা কী করবে? এক সময় কিছু করার ছিল না- বড়োজোর কষ্ট করে টাইপরাইটারে লিখতে হতো। এখন কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করে লিখে প্রিন্টারের মাধ্যমে খুব সুন্দর করে ছাপিয়ে নেওয়া যায়। লেখালেখির জন্যে যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে তার নাম হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসর। লেখালেখি করতে হলেই শব্দ বা ওয়ার্ড লিখতে হয়, সুন্দর করে লিখতে হলে শব্দগুলোকে সাজাতে হয় গোছাতে হয়- আর এটা হচ্ছে এক ধরণের প্রক্রিয়া- যার ইংরেজি হচ্ছে প্রসেসিং (processing)। দুটি মিলে হয় ওয়ার্ড প্রসেসিং, আর যে সফটওয়্যার ওয়ার্ড প্রসেসিং করে সেটা হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসর।
ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কী কী করা যায়, সেটা তোমরা নিজেরাই পরের পাঠে বের করে ফেলতে পারবে। তোমরা যখন সত্যিকারের কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কিছু একটা লিখবে তখন আরও খুঁটিনাটি বিষয় জেনে যাবে, যেগুলো বই পড়ে বুঝা সহজ হয় না। তারপরও ওয়ার্ড প্রসেসর নিয়ে দু-একটি কথা না বললেই নয়। প্রথমত, সাধারণ লেখালেখি বা টাইপরাইটারের সাথে ওয়ার্ড প্রসেসরের সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসরে এডিটিং বা পরিবর্তন করা যায়। টাইপরাইটারে কিছু একটা লেখার পর আমরা যদি দেখি কিছু একটা ভুল হয়ে গেছে তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। ভুলটা শুদ্ধ করতে হলে আবার পুরোটা গোড়া থেকে টাইপ করতে হয়। ওয়ার্ড প্রসেসরে ভুল শুদ্ধ করার মতো সহজ কাজ আর কিছুই হতে পারে না। শুধু ভুল নয় ইচ্ছে করলেই যেকোনো পরিবর্তন করা যেতে পারে, পুরাতন অংশ বাদ দিয়ে দেওয়া যায়, নতুন অংশ যোগ দেওয়া যায়।
লেখালেখির সাথে ওয়ার্ড প্রসেসরের দ্বিতীয় বড়ো পার্থক্যটি হচ্ছে সংরক্ষণ। হাতে লেখা কাগজ সংরক্ষণ করা খুব সহজ নয়। কোথায় রাখা হয়েছে মনে থাকে না। দরকারের সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে পাওয়া গেলেও হয়তো দেখা যায় উইপোকা খেয়ে ফেলেছে। ওয়ার্ড প্রসেসরে এগুলোর কোনো ভয় নেই। লেখালেখি করে একটা ফাইল হিসেবে হার্ডড্রাইভে রেখে দেওয়া যায়। দরকার হলে একটা পেনড্রাইভে বা সিডিতে কপি করে রাখা যায়। আরও বেশি সাবধান হলে অন্য কোনো কম্পিউটারেও কপি সংরক্ষণ করা যায়।
যেহেতু ওয়ার্ড প্রসেসর সবার জন্যে প্রয়োজনীয় আর খুব জনপ্রিয় সফটওয়্যার তাই সফটওয়্যারের সব বড়ো কোম্পানিই চমৎকার সব ওয়ার্ড প্রসেসর তৈরি করছে। যেমন, মাইক্রোসফট কোম্পানির মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সেরকম একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। কেউ যদি টাকা না দিয়ে বিনামূল্যে ওয়ার্ড প্রসেসর সংগ্রহ করতে চায় তাহলে তার জন্যেও সফটওয়্যার আছে আর সেটি হলো ওপেন অফিস রাইটার।
কাজেই তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, কাগজ আবিষ্কার করে একদিন মানুষের সভ্যতার একটা নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল। হাজার বছর পর আজ কাগজ ছাড়াও লেখা সম্ভব এবং সেটা দিয়ে সভ্যতার আরেকটা নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ড প্রসেসর

এক নজরে ওয়ার্ড প্রসেসরের কাজ

| কাজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি দল তৈরি কর। একদল যুক্তি দাও-ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে কী লাভ? অন্য দল যুক্তি দাও-কেন এখনও কাগজের ব্যবহার রাখতে হবে? কাদের যুক্তি ভালো সেটা লক্ষ কর। |
Read more