তোমরা এর মাঝে জেনে গেছ যে, ইনপুট ডিভাইস দিয়ে কম্পিউটারের ভেতর তথ্য উপাত্ত পাঠানো হয়। কম্পিউটার মেমোরি আর প্রসেসর দিয়ে সেই তথ্য উপাত্তের ওপর কাজ করে, যে ফলাফল পাওয়া যায় সেটা আউটপুট ডিভাইস দিয়ে বাইরের জগতে পাঠিয়ে দেয়। আগের পাঠগুলো থেকে তোমরা জেনে গেছ যে, মনিটর আর প্রিন্টার এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস।
তোমরা যারাই কম্পিউটার দেখেছ বা ব্যবহার করেছ কিংবা কম্পিউটারের ছবি দেখেছ তারা সবাই কম্পিউটারের মনিটরটিকে আলাদাভাবে চিনতে পার, কারণ সেটা দেখতে অনেকটা টেলিভিশনের মতো। কম্পিউটারের ভেতর যা কিছু ঘটে সেটাকে মনিটরে দেখানো যায়। তাই যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে তারা কম্পিউটারের মনিটরের ওপর চোখ রেখে কম্পিউটার ব্যবহার করে। তুমি যদি কম্পিউটারে কিছু লিখ তাহলে মনিটরে সেটা দেখতে পাবে-যদি কোনো ছবি আঁক, সেটাও তুমি দেখতে পাবে!
কোনো কিছু যখন কম্পিউটারের মনিটরে দেখা যায়, সেটা মোটেও স্থায়ী কিছু নয়-নতুন কিছু এলেই আগেরটা আর থাকে না। তাই যদি স্থায়ীভাবে কিছু সংরক্ষণ করতে হয়, তাহলে অন্য কিছুর দরকার হয়। আর তার জন্যে সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে প্রিন্টার। এই বইয়ের জন্যে যা কিছু লেখা হয়েছে, সবকিছু প্রথমে একটা প্রিন্টার ব্যবহার করে ছাপিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বই বা চিঠিপত্র ছাপানোর জন্য সাধারণ মাপের কাগজে প্রিন্ট করানো যায়। কিন্তু যদি কোনো বড়ো বড়ো বিজ্ঞাপন, পোস্টার, ব্যানার, বাড়ির নকশা ছাপাতে হয়, তাহলে আর সাধারণ প্রিন্টার ব্যবহার করা যায় না-তখন প্লটার ব্যবহার করতে হয়।
আমরা যে আউটপুট ডিভাইস ব্যবহার করে সব সময়েই কিছু একটা প্রিন্ট করে স্থায়ীভাবে রাখতে চাই তা নয়, অনেক সময় আমরা শব্দকেও আউটপুট হিসেবে পেতে চাই। যেমন আমরা হয়ত গান শুনতে চাই। কাজেই শব্দকে আউটপুট হিসেবে পাওয়ার জন্যে কম্পিউটারের সাথে স্পিকার লাগাতে পারি, তাই স্পিকারও হচ্ছে এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস।

মনিটরে আমরা দেখতে পাই, স্পিকারে শুনতে পাই। তাই কম্পিউটার আসলে বিনোদনের একটা বড়ো মাধ্যম হয়ে গেছে। কম্পিউটারের ছোটো মনিটরে এক সাথে একজন দেখতে পায়-অনেক সময়ই সেটা যথেষ্ট নয়। অনেক সময়ই এক সাথে অনেকের দেখার দরকার হয়। যখন কেউ বর্তা, আলোচনা বা সেমিনারে কোনো কিছু উপস্থাপন করে, কিংবা যদি আমরা ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা বা সিনেমা দেখতে চাই তখন মনিটরের দৃশ্যটি অনেক বড়ো করে দেখাতে হয়। এরকম কাজের জন্য মাল্টিমিডিয়া বা ভিডিও প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয়।
প্রজেক্টর মনিটরের দৃশ্যটি অনেক বড়ো করে বিশাল স্ক্রিনে দেখাতে পারে। একসময় কম্পিউটার মনিটর সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করত, তবে আজকাল মনিটরগুলো হয়ে গেছে পাতলা।
ইনপুট ডিভাইস নিয়ে আলোচনা করার সময় তোমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এমন কিছু কি হতে পারে যেটা একই সাথে ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইস দুটোই হতে পারে? অবশ্যই হতে পারে এবং এরকম যন্ত্র বা ডিভাইসের নাম হচ্ছে টাচস্ক্রিন! টাচস্ক্রিনের একটা স্ক্রিন আছে যেটা মনিটরের মতো কাজ করে এবং সেই স্ক্রিনে টাচ বা স্পর্শ করে তার ভেতর তথ্য পাঠানো যায়। আজকাল শুধু কম্পিউটারের জন্যে নয় মোবাইল টেলিফোনের পর্যন্ত টাচস্ক্রিন রয়েছে।

কিছু ডিভাইস ইনপুট ও আউটপুট উভয় হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন-টাচস্ক্রিন, পেনড্রাইভ, এসএসডি, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি।
| কাজ তোমরা কি নতুন কোনো একটা আউটপুট ডিভাইসের কথা কল্পনা করতে পার? যা দিয়ে দেখা বা শোনা ছাড়াও আমরা অন্য কিছু করতে পারি? |
Read more