তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় সেরকম যন্ত্রপাতির কথা আলোচনা করতে গিয়ে আমরা এই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের কথা আলোচনা করেছি। এখন আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয় এরকম আরও কিছু যন্ত্রপাতির কথা আলোচনা করব।
ল্যান্ডফোন এবং মোবাইল ফোন: একসময় ফোনে কথাবার্তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর
জন্য বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হতো এবং তারের ভেতর দিয়ে আমাদের কথাবার্তাগুলো বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে আসা-যাওয়া করত। যেহেতু বৈদ্যুতিক তার দিয়ে সংকেত পাঠাতে হতো তাই টেলিফোনে সব সময়ই তারের সংযোগ রাখতে হতো এবং আমরা সেগুলোকে বলি ল্যান্ডফোন।
প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার কারণে আমরা ইচ্ছা করলে তার দিয়ে না পাঠিয়ে বেতার বা ওয়্যারলেস সংকেত পাঠাতে পারি। যেহেতু তারের সাথে এই ফোনের সংযোগ রাখার প্রয়োজন নেই, তাই আমরা ইচ্ছে করলেই এই ফোনগুলোকে পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারি। সেজন্য এই ফোনকে আমরা বলি মোবাইল (ভ্রাম্যমাণ!) ফোন। এই ফোনের দাম অনেক কমে এসেছে তাই দেশের সাধারণ মানুষেরাও এখন এটা ব্যবহার করতে পারে।
শুধু যে মোবাইল ফোনের দাম কমেছে তা নয়, মোবাইল ফোন এখন ধীরে ধীরে স্মার্টফোন হয়ে দাঁড়িয়েছে! এই ফোন দিয়ে আমরা ছবি তুলতে পারি, গান শুনতে পারি, রেডিও শুনতে পারি, জিপিএস দিয়ে পথেঘাটে চলাফেরা করতে পারি, গেম খেলতে পারি এমনকি ইন্টারনেট পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারি! কাজেই আমরা অনুমান করতে পারি, ভবিষ্যতে এই মোবাইল টেলিফোন অনেক সময়ই কম্পিউটারের কাজগুলো করতে পারবে!

মডেম: মডেম হলো এমন একটি যন্ত্র যা তোমার কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলিকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করে। এটি ডিভাইসগুলি থেকে ডিজিটাল সিগন্যালগুলিকে এনালগ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে, যা টেলিফোন লাইন বা কেবলের মাধ্যমে প্রেরণ করা যায় ।
স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ: আমরা যদি পৃথিবীর এক পৃষ্ঠ থেকে অন্য পৃষ্ঠে তথ্য পাঠাতে চাই তাহলে অনেক সময় উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী থেকে মহাকাশের দিকে মুখ করে থাকা এন্টেনা দিয়ে তথ্যগুলো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়। স্যাটেলাইট সিগন্যালটি গ্রহণ করে আবার অন্যদিকে পাঠিয়ে দেয়। টেলিভিশনের অসংখ্য চ্যানেল এভাবে সারা পৃথিবীতে বিতরণ করা হয়। ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে প্রেরণ করা হয়। নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৫৭তম দেশ।

অপটিক্যাল ফাইবার: একসময় পৃথিবীর সব তথ্যই পাঠানো হতো তারের ভেতর বৈদ্যুতিক সংকেত অথবা তারবিহীন ওয়্যারলেস সংকেত হিসেবে। এখন সারা পৃথিবীতেই তথ্য উপাত্ত পাঠানোর জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে সেটি হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তি। অপটিক্যাল ফাইবার আসলে কাচের অত্যন্ত স্বচ্ছ তন্তু, সেটি চুলের মতো সরু এবং এর ভেতর দিয়ে আলোর সংকেত হিসেবে তথ্য এবং উপাত্ত পাঠানো যায়। আলোর সংকেতের জন্য লেজারের আলো ব্যবহার করা হয়। তোমরা শুনে অবাক হবে এই আলো কিন্তু চোখে দেখা যায় না। একটি অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে এক কোটি টেলিফোন লাইনের সমান তথ্য পাঠানো যায়; কাজেই সেটি সারা পৃথিবীতেই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

| কাজ অপটিক্যাল ফাইবার, মডেম, কম্পিউটার ব্যবহার করে কীভাবে একটা কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য পাঠানো যায় তার একটি ছবি আঁক। |
Read more